আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 120)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 120)



হরকত ছাড়া:

وذروا ظاهر الإثم وباطنه إن الذين يكسبون الإثم سيجزون بما كانوا يقترفون ﴿١٢٠﴾




হরকত সহ:

وَ ذَرُوْا ظَاهِرَ الْاِثْمِ وَ بَاطِنَهٗ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَکْسِبُوْنَ الْاِثْمَ سَیُجْزَوْنَ بِمَا کَانُوْا یَقْتَرِفُوْنَ ﴿۱۲۰﴾




উচ্চারণ: ওয়া যারূ জা-হিরাল ইছমি ওয়া বা-তিনাহূ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াকছিবূনাল ইছমা ছাইউজযাওনা বিমা-কা-নূইয়াকতারিফূন।




আল বায়ান: আর তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ ত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা পাপ অর্জন করে, তাদেরকে অচিরেই প্রতিদান দেয়া হবে, তারা যা অর্জন করে তার বিনিময়ে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২০. আর তোমরা প্রকাশ্য এবং প্রচ্ছন্ন পাপ বর্জন কর; নিশ্চয় যারা পাপ অর্জন করে অচিরেই তাদেরকে তারা যা অর্জন করে তার প্রতিফল দেয়া হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ বর্জন কর, যারা পাপ অর্জন করে তারা তাদের অর্জনের যথোচিত প্রতিফল পাবে।




আহসানুল বায়ান: (১২০) তোমরা প্রকাশ্য এবং গোপন পাপ বর্জন কর। যারা পাপ করে, তাদের পাপের সমুচিত শাস্তি তাদেরকে দেওয়া হবে।



মুজিবুর রহমান: তোমরা প্রকাশ্য পাপ কাজ পরিত্যাগ কর এবং পরিত্যাগ কর গোপনীয় পাপ কাজও। যারা পাপ কাজ করে তাদেরকে অতি সত্ত্বরই তাদের মন্দ কাজের প্রতিফল দেয়া হবে।



ফযলুর রহমান: তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন (সবরকম) পাপ ছেড়ে দাও। যারা পাপ কামাই করে তারা শিগগিরই তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে।



মুহিউদ্দিন খান: তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে।



জহুরুল হক: আর পরিহার করো প্রকাশ্য পাপ ও তার গোপনীয়গুলোও। নিঃসন্দেহ যারা পাপ অর্জন করে তাদের প্রতিফল দেওয়া হবে তারা যা উপার্জন করে থাকে তার দ্বারা।



Sahih International: And leave what is apparent of sin and what is concealed thereof. Indeed, those who earn [blame for] sin will be recompensed for that which they used to commit.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১২০. আর তোমরা প্রকাশ্য এবং প্রচ্ছন্ন পাপ বর্জন কর; নিশ্চয় যারা পাপ অর্জন করে অচিরেই তাদেরকে তারা যা অর্জন করে তার প্রতিফল দেয়া হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১২০) তোমরা প্রকাশ্য এবং গোপন পাপ বর্জন কর। যারা পাপ করে, তাদের পাপের সমুচিত শাস্তি তাদেরকে দেওয়া হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৬-১২১ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীবাসী সম্পর্কে বলেন যে, তাদের অধিকাংশই পথভ্রষ্ট। কারণ তারা ধারণার অনুসারী। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ الْأَوَّلِيْنَ) ‏



“আর তাদের পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছিল পূর্ববর্তীদের অধিকাংশই।”(সূরা সাফফাত ৩৭:৭১)



অন্যত্র তিনি বলেন:



(وَمَآ أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِيْنَ)‏



“তুমি যতই আকাক্সক্ষা কর না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাসী নয়।”(সূরা ইউসুফ ১২:১০৩)



তাই আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলছেন, তুমি যদি অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ কর তাহলে তারা তোমাকে তাদের মত পথভ্রষ্ট করে ফেলবে।



অতএব সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি হতে পারে না। সত্যের পক্ষে একজন থাকলেও সত্যের পথই অবলম্বন করা উচিত। সুতরাং সত্যের মাপকাঠি হল কুরআন ও সহীহ হাদীস।



১১৮-১২১ নং আয়াতের শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, কিছু মানুষ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করল। অতঃপর বলল: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা যা হত্যা করি তা খাব আর আল্লাহ তা‘আলা যা হত্যা করেন তা খাব না? তখন



(فكلوا مما ذكر.......لمشركون)



নাযিল হয়। (তিরমিযী, হা: ৩০৬৯, সহীহ।)



ইবনু আব্বাস থেকে অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (শয়তানরা) বলে: আল্লাহ তা‘আলা যা জবাই করে দেন তা খাও না আর নিজেরা যা জবাই কর কেবল তা খাও? তখন



(وَإِنَّ الشَّيٰطِيْنَ لَيُوْحُوْنَ إِلٰٓي أَوْلِيَآئِهِمْ)



নাযিল হয়। (নাসাঈ হা: ৪৪৩৭, সনদ সহীহ)



(فَكُلُوْا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)



‘তোমরা তাঁর নিদর্শনে বিশ্বাসী হলে যা আল্লাহর নাম নিয়ে (জবেহ করা) হয়েছে তা হতে খাও।’যেসব জন্তু আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে জবেহ করা হয় তা খাওয়া মুসলিমদের জন্য তিনি বৈধ করে দিয়েছেন। আর যা জবেহ করার সময় তাঁর নাম নেয়া হয়নি তা হারাম করেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَا تَأْكُلُوْا مِمَّا لَمْ يَذْكُرِ اسْمُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)



‘যাতে আল্লাহর নাম নিয়ে (জবেহ করা) হয়নি তার কিছুই তোমরা খেও না।’



তাই কোন শিকার ধরে নিয়ে আসার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাণী প্রেরণ করলে অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পাঠাতে হবে। আর যদি এমন এলাকা থেকে কোন জবেহকৃত প্রাণী বা গোশত আসে যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়েছে কি না তা জানা যায়নি, তা হলে ‘বিসমিল্লাহ’বলে খাওয়া বৈধ হবে। (সহীহ বুখারী হা: ৫৫০৭)



যা হারাম তা আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিয়েছেন। তবে কেউ নিরুপায় হয়ে হারাম খেতে বাধ্য হলে তাও তার জন্য জায়েয রয়েছে। এ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল পাপের কাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّـيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ)



“বল:‎ নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা।”(সূরা আ‘রাফ ৭:৩৩)



নাউয়াস বিন সামআন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বলেন: গুনাহ হল তা-ই যা করলে তোমার মনে খটকা লাগে এবং তুমি এটা অপছন্দ কর যে, মানুষ তা জেনে ফেলবে। (সহীহ মুসলিম হা: ৬৬৮০, তিরমিযী হা: ২৩৮৯)



(وَإِنَّه۫ لَفِسْقٌ)



‘তা অবশ্যই পাপ’ অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে যে পশুকে আল্লাহ তা‘আলার নাম ছাড়া বা কোন দেব দেবীর নামে জবেহ করা হয়েছে তা খাওয়া ফাসেকী বা হারাম কাজ।



ইবনু আব্বাস (রাঃ) এই অর্থই করেছেন। তিনি বলেন: যে ভুলে যায় তাকে ফাসিক বলা হয় না।



ইমাম বুখারী (রহঃ)-ও এ মত পোষণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন: মুসলিমদের জবেহ করা পশু উভয় অবস্থাতেই হালাল, আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে যবাই করুক আর ভুলবশতঃ নাম ছাড়াই জবাই করুক।



(وَإِنَّه۫ لَفِسْقٌ)



বলতে তিনি আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যের নামে জবেহ করাকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ অন্যের নামে জবেহ করলে খাওয়া হারাম হয়ে যাবে।



(وَإِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ)



“যদি তোমরা তাদের কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হবে” অর্থাৎ তাদের কথা শুনে মৃত জন্তু খাওয়া হালাল করে নাও, তাহলে তোমরাও মুশরিক হয়ে যাবে। সুতরাং আয়াত প্রমাণ করে- আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন তা হালাল করে নিলে মুশকিরক হয়ে যাবে।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি নয় বরং সত্যের মাপকাঠি হচ্ছে কুরআন ও সহীহ হাদীস।

২. আল্লাহ তা‘আলার ভাষায় অধিকাংশ মানুষ পথভ্রষ্ট।

৩. যা আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে জবেহ করা হবে কেবল তা-ই খাওয়া মুসলিমদের জন্য বৈধ।

৪. প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার পাপ মুসলিমদেরক পক্ষে বর্জন করা আবশ্যক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ইরশাদ হচ্ছে- তোমরা প্রকাশ্য ও গোপনীয় সমস্ত পাপকার্য পরিত্যাগ কর। মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা ঐ পাপকার্যকে বুঝানো হয়েছে যা কার্যে পরিণত করার নিয়ত কোন আমলকারী করেছে। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা গোপনীয় ও প্রকাশ্য এবং কম বেশী গুনাহের কাজ বঝানো হয়েছে । সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, প্রকাশ্য পাপ হচ্ছে লজ্জাহীনা নারীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা, আর গোপনীয় পাপকার্য হচ্ছে গুপ্তভাবে অসতী নারীদের সাথে কুকার্যে লিপ্ত হয়ে পড়া। ইকরামা (রঃ) বলেন যে, প্রকাশ্য পাপকার্য হচ্ছে বিবাহ-নিষিদ্ধ নারীদেরকে বিয়ে করা। কিন্তু সঠিক কথা এই যে, আয়াতটি আম বা সাধারণ । এটা কোন পাপকার্যকেই নির্দিষ্ট করে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, “হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাও আমার প্রতিপালক সর্ব প্রকারের নির্লজ্জতাপূর্ণ কাজকে হারাম করে দিয়েছেন, সেগুলো প্রকাশ্যভাবেই হাক বা গোপনীয়ভাবেই হাক। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেন, যারা পাপের কাজ করে, তাদেরকে সত্বরই তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হবে, সেই কাজ প্রকাশ্যভাবেই হাক বা গোপনীয়ভাবেই হাক। নুওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে (আরবী) এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “যাতে তোমার অন্তরে খটকা লাগে এবং তুমি এটা পছন্দ কর না যে, লোকের কাছে তা প্রকাশ হয়ে পড়ুক তাই (আরবী) বা গুনাহ।” (এই হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) নুওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।