সূরা আল-হাক্কাহ (আয়াত: 50)
হরকত ছাড়া:
وإنه لحسرة على الكافرين ﴿٥٠﴾
হরকত সহ:
وَ اِنَّهٗ لَحَسْرَۃٌ عَلَی الْکٰفِرِیْنَ ﴿۵۰﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইন্নাহূলাহাছরাতুন ‘আলাল কা-ফিরীন।
আল বায়ান: আর এটি নিশ্চয় কাফিরদের জন্য এক নিশ্চিত অনুশোচনার কারণ।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫০. আর এ কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে,
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর এ কুরআন কাফিরদের জন্য অবশ্যই দুঃখ ও হতাশার কারণ হবে (যখন কুরআনে বর্ণিত শাস্তি তাদেরকে ঘিরে ধরবে)।
আহসানুল বায়ান: (৫০) আর এই কুরআন নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীদের জন্য আফসোসের কারণ হবে। [1]
মুজিবুর রহমান: এবং এই কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে।
ফযলুর রহমান: আর কাফেরদের জন্য তো এটা একটি অনুতাপের কারণ।
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ।
জহুরুল হক: আর নিঃসন্দেহ এটি অবিশ্বাসীদের জন্য বড় অনুতাপের বিষয়।
Sahih International: And indeed, it will be [a cause of] regret upon the disbelievers.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫০. আর এ কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫০) আর এই কুরআন নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীদের জন্য আফসোসের কারণ হবে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন এ ব্যাপারে অনুতপ্ত হয়ে বলবে যে, ‘কতই না ভাল হত, যদি আমরা কুরআনকে মিথ্যা মনে না করতাম।’ অথবা এই কুরআনই তাদের আফসোস ও অনুতাপের কারণ হবে। যখন তারা ঈমানদারদেরকে কুরআন (পাঠ ও আমল করার) প্রতিদান পেতে দেখবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৪-৫২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
কাফির-মুশরিকদের সামনে আল্লাহ তা‘আলার কালাম কুরআন তেলাওয়াত করা হলে তারা বলে এটা একটি সুস্পষ্ট জাদু। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন জাদুকর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন
(وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَا۬ءَهُمْ لا إِنْ هٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ )
“আর কাফিরদের কাছে যখন এ সত্য (কুরআন) আসল তখন তারা বলল- এটা প্রকাশ্য জাদু ব্যতীত আর কিছুই নয়।।” (সূরা সাবা ৩৪:৪৩)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَمَّا جَا۬ءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَّإِنَّا بِه۪ كٰفِرُوْنَ )
“যখন তাদের নিকট সত্য আসল তখন তারা বললো- এটা তো জাদু এবং আমরা অবশ্যই এর প্রতি অস্বীকার জ্ঞাপন করি।”
মূলত কাফিরদের এসব কথা দ্বারা উদ্দেশ্য- নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসব নিজের পক্ষ থেকে তৈরি করে এনেছেন।
আল্লাহ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শিখিয়ে দিচ্ছেন, বলে দাও, যদি আমি নিজের পক্ষ থেকে তৈরি করে আনতাম তাহলে আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে তোমরা আমাকে রক্ষা করতে পারতে না। যেমন তিনি বলেন, যদি সে নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিত, তবে অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, এবং কেটে দিতাম তার হৃৎপিণ্ডের শিরা। অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না, যে তার থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারে। (সূরা হাক্কাহ ৬৯ : ৪৪-৪৭)
(وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ)
অর্থাৎ এ কুরআন মুত্তাকীদের জন্য উপদেশবাণী। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًي وَشِفَا۬ءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًي)
‘বল: মু’মিনদের জন্য এটা পথ-নির্দেশ ও ব্যাধির প্রতিকার; কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন হবে তাদের জন্য অন্ধত্ব।’ (সূরা মু’মিন ৪১ : ৪৪)
দীন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা করে দেওয়ার পরেও এক শ্রেণির মানুষ থাকবে যারা কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। কুরআন, ইসলাম ও রাসূল কোন কিছুই তারা মানবে না, এটা আল্লাহ তা‘আলা ভাল করেই জানেন। কাফিরদের এ মিথ্যা প্রতিপন্ন করাটা আখিরাতে আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ তা‘আলার এ কথা শত ভাগ সত্য। অবশ্যই এরূপ ঘটবে এতে কোন সন্দেহ নেই। অতএব হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তুমি তোমার প্রভুর নামে তাসবীহ পাঠ কর।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা বানিয়ে যদি আল্লাহ তা‘আলার নামে চালিয়ে দিতেন তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ছাড়তেন না।
২. কিয়ামতের দিন কাফিররা কুরআন মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে বড়ই আফসোস করবে কিন্তু এ আফসোস তাদের কোনই উপকারে আসবে না।
৩. سبحان ربي العظيم
দ্বারা তাসবীহ করা শরীয়তসম্মত। আর রুকুতে এ তাসবীহ পড়ার নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণ রয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৪-৫২ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ হে কাফির ও মুশরিকদের দল! তোমাদের কথা হিসেবে সত্যিই যদি আমার রাসূল (সঃ) এরূপই হতো, অর্থাৎ আমার রিসালাতের মধ্যে কিছু কম বেশী করতো বা আমি যে কথা বলিনি সেই কথা আমার নামে চালিয়ে দিতো তবে অবশ্যই তৎক্ষণাৎ আমি তাকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিতাম অর্থাৎ আমার ডান হাত দ্বারা তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং তার ঐ শিরা কেটে ফেলতাম যার উপর হৃদয় লটকানো রয়েছে। এমতাবস্থায় আমার এবং তার মাঝে এমন কেউ আসতে পারতো না যে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতো। সুতরাং ভাবার্থ এই দাড়ালো যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সত্যবাদী, পবিত্র ও সুপথগামী ছিলেন। এ কারণেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাবলীগের এ মহান দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করেছিলেন। আর নিজের পক্ষ হতে বহু মু'জিযা এবং তাঁর সত্যবাদিতার বড় বড় নিদর্শন তাঁকে প্রদান করেছিলেন।
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই কুরআন অবশ্যই মুত্তাকীদের জন্যে এক উপদেশ। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “(হে নবী সঃ!) তুমি বলে দাও যে, এই কুরআন মুমিনদের জন্যে হিদায়াত ও শিফা (অন্তর রোগের প্রতিষেধক), আর বে-ঈমানদের কর্ণে তো বধিরতা ও চক্ষে অন্ধত্ব রয়েছে (তারা দেখেও দেখে না এবং শুনেও শুনে)।” (৪১:৪৪)
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা আরোপকারী রয়েছে। অর্থাৎ এভাবে স্পষ্ট বর্ণনার পরেও এমন কতকগুলো লোক রয়েছে যারা কুরআনকে অবিশ্বাস করেই চলেছে। এই অবিশ্বাস ঐ লোকদের জন্যে কিয়ামতের দিন অনুশোচনার কারণ হবে। অথবা ভাবার্থ হচ্ছেঃ এই কুরআনই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে। যেমন আল্লাহ পাক অন্য জায়গায়
বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এভাবেই আমি পাপীদের অন্তরে এটা অবতীর্ণ করি যে, তারা ওর উপর ঈমান আনয়ন করে না।”(২৬:২০০-২০১) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তাদের মাঝে ও তাদের প্রবৃত্তির মাঝে পর্দা ফেলে দেয়া হয়েছে।”(৩৪:৫৪)
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয়ই এটা সম্পূর্ণরূপে সত্য খবর। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।
অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ অতএব, হে নবী (সঃ)! এই কুরআন অবতীর্ণকারী মহান প্রতিপালকের নামের তুমি পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।