সূরা আল-হাক্কাহ (আয়াত: 34)
হরকত ছাড়া:
ولا يحض على طعام المسكين ﴿٣٤﴾
হরকত সহ:
وَ لَا یَحُضُّ عَلٰی طَعَامِ الْمِسْکِیْنِ ﴿ؕ۳۴﴾
উচ্চারণ: ওয়ালা-ইয়াহদ্দু ‘আলা- তা‘আ-মিল মিছকীন।
আল বায়ান: আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৪. আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না,
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর না সে মিসকীনকে খাবার খাওয়াতে উৎসাহ দিত,
আহসানুল বায়ান: (৩৪) এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না; [1]
মুজিবুর রহমান: এবং অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করতনা।
ফযলুর রহমান: এবং মিসকীনকে খাওয়াতে উৎসাহ দিত না।
মুহিউদ্দিন খান: এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না।
জহুরুল হক: "আর সে উৎসাহ দেখাত না গরীবদের খাবার দিতে,
Sahih International: Nor did he encourage the feeding of the poor.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৪. আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৪) এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না; [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, ইবাদত ও আনুগত্য দ্বারা না আল্লাহর হক আদায় করত, আর না সেই অধিকারগুলো আদায় করত যা বান্দাদের আপোসে একে অপরের প্রতি আরোপিত হয়। বুঝা গেল যে, ঈমানদার বান্দার মাঝে এই গুণের সমষ্টি পাওয়া যায় যে, সে আল্লাহর অধিকারের সাথে সাথে সৃষ্টির অধিকারও আদায় করে থাকে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৫-৩৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা ডান হাতে আমলনামা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের আলোচনার পর বাম হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আলোচনা নিয়ে এসেছেন। তারা আখিরাতে যে আফসোস করবে ও তাদের জন্য যে শাস্তির ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে তার বিবরণও এখানে আলোচনায় স্থান পেয়েছে। জাহান্নামের শিকলের বিবরণ দিতে গিয়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যদি আকাশ হতে একটি বড় পাথর নিক্ষেপ করা হয় তবে তা এক রাতে পৃথিবীতে এসে পড়বে। কিন্তু ওটাকেই যদি জাহান্নামীকে বাঁধার শৃংখলের একমাথা হতে নিক্ষেপ করা হয় তবে তা অন্য মাথায় পড়তে ৪০ বছর লেগে যাবে। (আহমাদ হা. ৬৮৫৬, তিরমিযী হা. ২৫৮৮ সনদ সহীহ)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. যাদের বাম হাতে আমলনামা প্রদান করা হবে তাদের হায় হুতাশের শেষ থাকবে না।
২. জাহান্নামী ব্যক্তির ক্ষমতা, সন্তান-সন্ততি ও সহায়-সম্পদ কোন উপকারে আসবে না।
৩. জাহান্নামে যাওয়ার কারণ জানলাম ও তার শাস্তির বিবরণ জানলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৫-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর
এখানে পাপীদের অবস্থার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, কিয়ামতের মাঠে যখন তাদেরকে তাদের আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে তখন তাদের অবস্থা হবে অত্যন্ত শোচনীয় ও দুঃখপূর্ণ। তারা ঐ সময় বলবেঃ ‘হায়! যদি আমাদেরকে আমাদের আমলনামা দেয়াই না হতো তবে কতইনা ভাল হতো! যদি আমাদেরকে আমাদের হিসাব অবহিতই না করা হতো! হায়! যদি ম্যই আমাদের সবকিছু শেষ করে দিতো তবে কতই না আনন্দের কথা হতো! যদি আমরা এই দ্বিতীয় জীবনই লাভ না করতাম। দুনিয়ায় যে মৃত্যুকে তারা অত্যন্ত ভয় করতো, সেই দিন ঐ মৃত্যুই তারা কামনা করবে। তারা আরো বলবেঃ আমাদের ধন-সম্পদ ও ক্ষমতা-প্রতাপ আজ আমাদের কোন কাজেই আসলো না। অর্থাৎ এগুলো আমাদের উপর হতে আল্লাহর আযাব সরাতে পারলো না। কোন সাহায্যকারীও আমাদের সাহায্যের জন্যে এগিয়ে আসলো না। আজ আমরা আমাদের বাঁচার কোন পথই খুঁজে পাচ্ছি না।
আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিবেনঃ তাদেরকে ধর ও তাদের গলদেশে বেড়ি পড়িয়ে দাও। তাদেরকে এ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ কর।
হযরত মিনহাল ইবনে আমর (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা’আলার এই হুকুম শোনা মাত্রই সত্তর হাজার ফেরেশতা এরূপ একজন পাপীর দিকে বেগে ধাবিত হবে, অথচ এই ফেরেশতাদের মাত্র একজনকে যদি আল্লাহ পাক নির্দেশ দেন তবে একজনকে তো দূরের কথা, সত্তর হাজার লোককে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারেন।
ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন যে, চার লক্ষ ফেরেশতা তার দিকে ধাবিত হবেন। সে তাদেরকে বলবেঃ আমার সাথে তোমাদের সম্পর্ক কি? তারা উত্তরে বলবেনঃ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তোমার প্রতি রাগান্বিত বলে সবাই তোমার প্রতি রাগান্বিত।
হযরত ফুয়েল ইবনে আইয়ায (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলার এই ফরমান জারী হওয়া মাত্রই সত্তর হাজার ফেরেশতা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে তার দিকে দৌড়িয়ে যাবেন। প্রত্যেকেই একে অপরের আগে যেতে চাইবেন এবং সর্বাগ্রে তার গলদেশে বেড়ি পরিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করবেন। তারপর তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়া হবে। অতঃপর পুনরায় তাকে শৃঙ্খলিত করা হবে সত্তর হস্ত দীর্ঘ এক শৃখলে। এই শৃঙ্খলের একটি কড়া হযরত কা'ব আহবার (রাঃ)-এর উক্তি অনুসারে সারা পৃথিবী-পূর্ণ লোহার সমান হবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও হযরত ইবনে জুরায়েজ (রঃ) বলেন যে, এটা হবে ফেরেশতাদের হাতের মাপে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই শৃঙ্খল তার দেহে পরিয়ে দেয়া হবে। পায়খানার দ্বার দিয়ে ভরে মুখ দিয়ে বের করে নেয়া হবে। তাকে এমনিভাবে আগুনে ভাজা হবে যেমনভাবে কাবাব ভাজা হয়। এটাও বর্ণিত আছে যে, তার দেহের পিছন দিয়ে এই শৃঙ্খল পরানো হবে এবং নাকের দুই ছিদ্র দিয়ে তা বের করে নেয়া হবে, ফলে সে পায়ের ভরে দাড়াতে পারবে না।
মুসনাদে আহমাদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যদি আকাশ হতে একটি বড় পাথর নিক্ষেপ করা হয় তবে তা এক রাত্রে পৃথিবীতে এসে পড়বে। কিন্তু ওটাকেও যদি জাহান্নামীকে বাঁধবার শৃংখলের এক মাথা হতে নিক্ষেপ করা হয় তবে তা অন্য মাথায় পড়তে চল্লিশ বছর লেগে যাবে।” (এ হাদীসটি জামে তিরমিযীতেও রয়েছে এবং ইমাম তিরমিযী এটাকে ‘হাসান’ বলেছেন)
মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ সে মহান আল্লাহে বিশ্বাসী ছিল না এবং অভাবগ্রস্তকে অনুদানে উৎসাহিত করতো না। অর্থাৎ না সে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করতো, না তার মাখলূকের হক আদায় করে তাদের উপকার করতো। মাখলূকের উপর আল্লাহর হক এই যে, তারা তাঁর, একত্ববাদে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না। আর বান্দাদের একের অপরের উপর হক এই যে, একে অপরের সাথে সদাচরণ করবে এবং সহানুভূতি দেখাবে। ভাল কাজে একে অপরকে সাহায্য করবে। এ জন্যেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এ দুটো হককে একই সাথে বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেছেনঃ “তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর ও যাকাত দাও।” নবী করীম (সঃ) ইন্তেকালের সময় এ দুটোকে এক সাথে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ “তোমরা নামাযের হিফাজত করবে ও অধীনস্তদের সাথে সদাচরণ করবে।”
এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ অতএব এই দিন তাদের কোন সুহৃদ থাকবে। এমন কোন নিকটতম আত্মীয় ও সুপারিশকারী থাকবে না যে তাকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারে। আর তার জন্যে ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত কোন খাদ্য থাকবে না। কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, (আরবি) হলো জাহান্নামীদের নিকৃষ্ট খাদ্য। রাবী (রঃ) ও যহহাক (রঃ) বলেন যে, ওটা জাহান্নামের একটি বৃক্ষ। সম্ভবতঃ এরই আর একটি নাম হচ্ছে যাকূম। আর (আরবি)-এর অর্থ এও করা হয়েছে যে, ওটা হলো জাহান্নামীদের দেহ হতে প্রবাহিত রক্ত ও পানি। হযরত আলী ইবনে আবী তালহা (রাঃ) বলেছেন যে, (আরবি) হলো জাহান্নামীদের (ক্ষত নিঃসৃত) পূঁজ।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।