সূরা আত-তাহরীম (আয়াত: 3)
হরকত ছাড়া:
وإذ أسر النبي إلى بعض أزواجه حديثا فلما نبأت به وأظهره الله عليه عرف بعضه وأعرض عن بعض فلما نبأها به قالت من أنبأك هذا قال نبأني العليم الخبير ﴿٣﴾
হরকত সহ:
وَ اِذْ اَسَرَّ النَّبِیُّ اِلٰی بَعْضِ اَزْوَاجِهٖ حَدِیْثًا ۚ فَلَمَّا نَبَّاَتْ بِهٖ وَ اَظْهَرَهُ اللّٰهُ عَلَیْهِ عَرَّفَ بَعْضَهٗ وَ اَعْرَضَ عَنْۢ بَعْضٍ ۚ فَلَمَّا نَبَّاَهَا بِهٖ قَالَتْ مَنْ اَنْۢبَاَکَ هٰذَا ؕ قَالَ نَبَّاَنِیَ الْعَلِیْمُ الْخَبِیْرُ ﴿۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযআছাররান্নাবিইয়ুইলা-বা‘দিআযওয়া-জিহী হাদীছান ফালাম্মা-নাব্বাআত বিহী ওয়া আজহারাহুল্লা-হু আলাইহি ‘আররাফা বা‘দাহূওয়াআ‘রাদা ‘আম বা‘দিন ফালাম্মা-নাব্বাআহা-বিহী কা-লাত মান আম্বাআকা হা-যা- কা-লা নাব্বাআনিয়াল ‘আলীমুল খাবীর।
আল বায়ান: আর যখন নবী তার এক স্ত্রীকে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন; অতঃপর যখন সে (স্ত্রী) অন্যকে তা জানিয়ে দিল এবং আল্লাহ তার (নবীর) কাছে এটি প্রকাশ করে দিলেন, তখন নবী কিছুটা তার স্ত্রীকে অবহিত করল আর কিছু এড়িয়ে গেল। যখন সে তাকে বিষয়টি জানাল তখন সে বলল, ‘আপনাকে এ সংবাদ কে দিল?’ সে বলল, ‘মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩. আর স্মরণ করুন—যখন নবী তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে জানিয়ে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নবীর কাছে তা প্ৰকাশ করে দিলেন, তখন নবী এ বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করলেন এবং কিছু এড়িয়ে গেলেন।(১) অতঃপর যখন নবী তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে এটা জানাল? নবী বললেন, আমাকে জানিয়েছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর- যখন নবী তার স্ত্রীদের কোন একজনকে গোপনে একটি কথা বলেছিল। অতঃপর সে স্ত্রী যখন তা (অন্য একজনকে) জানিয়ে দিল, তখন আল্লাহ এ ব্যাপারটি নবীকে জানিয়ে দিলেন। তখন নবী (তার স্ত্রীর কাছে) কিছু কথার উল্লেখ করল আর কিছু কথা ছেড়ে দিল। নবী যখন তা তার স্ত্রীকে জানাল তখন সে বলল, ‘আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিল?’’ নবী বলল, ‘‘আমাকে জানিয়ে দিলেন যিনি সর্বজ্ঞাতা, ওয়াকিফহাল।’’
আহসানুল বায়ান: (৩) (স্মরণ কর,) নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। [1] অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল[2] এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করল এবং কিছু অব্যক্ত রাখল,[3] যখন নবী তা তার সেই স্ত্রীকে জানাল, তখন সে বলল, ‘কে আপনাকে এটা অবহিত করল?’[4] নবী বলল, ‘আমাকে অবহিত করেছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।’ [5]
মুজিবুর রহমান: যখন নাবী তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিল, অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নাবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন তখন নাবী এই বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করল এবং কিছু অব্যক্ত রাখল। যখন নাবী তা তার সেই স্ত্রীকে জানালো তখন সে বললঃ কে আপনাকে এটা অবহিত করল? নাবী বললঃ আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যখন নবী তার কোন এক স্ত্রীকে (হাফ্সাকে) গোপনে একটি কথা বলেছিল। সে যখন (অন্যকে: আয়েশাকে) তা বলে দিল এবং আল্লাহ নবীর কাছে তা প্রকাশ করে দিলেন, তখন নবী তার কতকটা জানিয়ে দিল আর কতকটা (জানানো) থেকে বিরত থাকল। সে যখন তা ঐ স্ত্রীকে (হাফ্সাকে) জানালো তখন সে বলল, “আপনাকে এটা কে জানিয়েছে?” (জবাবে) সে বলল, “যিনি সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে জানিয়েছেন।”
মুহিউদ্দিন খান: যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর স্ত্রী যখন তা বলে দিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বললেন এবং কিছু বললেন না। নবী যখন তা স্ত্রীকে বললেন, তখন স্ত্রী বললেনঃ কে আপনাকে এ সম্পর্কে অবহিত করল? নবী বললেন,ঃ যিনি সর্বজ্ঞ, ওয়াকিফহাল, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন।
জহুরুল হক: আর স্মরণ করো! নবী তাঁর স্ত্রীদের কোনো একজনের কাছে গোপনে একটি সংবাদ দিয়েছিলেন; -- কিন্ত তিনি যখন তা বলে দিলেন, এবং আল্লাহ্ তাঁর কাছে এটি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁকে তার কতকটা জানিয়েছিলেন এবং চেপে গিয়েছিলেন অন্য কতকটা। তিনি যখন তাঁকে তা জানিয়েছিলেন তখন তিনি বললেন -- "কে আপনাকে এ কথা বললে?" তিনি বলেছিলেন -- "আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সেই সর্বজ্ঞাতা, চির-ওয়াকিফহাল।"
Sahih International: And [remember] when the Prophet confided to one of his wives a statement; and when she informed [another] of it and Allah showed it to him, he made known part of it and ignored a part. And when he informed her about it, she said, "Who told you this?" He said, "I was informed by the Knowing, the Acquainted."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩. আর স্মরণ করুন—যখন নবী তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে জানিয়ে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নবীর কাছে তা প্ৰকাশ করে দিলেন, তখন নবী এ বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করলেন এবং কিছু এড়িয়ে গেলেন।(১) অতঃপর যখন নবী তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে এটা জানাল? নবী বললেন, আমাকে জানিয়েছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ সেই স্ত্রী যখন গোপন কথাটি অন্য স্ত্রীর গোচরীভূত করে দিলেন এবং আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে অবহিত করে দিলেন, তখন তিনি সেই স্ত্রীর কাছে গোপনে কথা ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ করলেন, কিন্তু পূর্ণ কথা বললেন না। এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভদ্রতা। তিনি দেখলেন সম্পূর্ণ কথা বললে সে অধিক লজ্জিত হবে। কোন স্ত্রীর কাছের গোপন কথা বলা হয়েছিল এবং কার কাছে ফাঁস করা হয়েছিল, পবিত্র কুরআনে তার বর্ণনা আসেনি। অধিকাংশ বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে গোপন কথা বলা হয়েছিল। তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে তা ফাঁস করে দেন। [দেখুন: বুখারী: ৪৯১৩, মুসলিম: ১৪৭৯]
কোন কোন বর্ণনায় আছে, গোপন কথা ফাঁস করে দেয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা করেন; কিন্তু আল্লাহ তা'আলা জিবরীল আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করে তাকে তালাক থেকে বিরত রাখেন এবং বলে দেন যে, হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা অনেক সালাত আদায় করে এবং অনেক সাওম পালন করে। তার নাম জান্নাতে আপনার স্ত্রীগণের তালিকায় লিখিত আছে। [মুস্তাদরাকে হাকিম: ৪/১৬, ৬৭৫৩, ৪/১৭, ৬৭৫৪, আত-তাবাকাতুল কুবরা লি ইবনে সা'দ: ৮/৮৪, তাবরানী; ১৮/৩৬৫, ৯৩৪, বুগইয়াতুল বাহিস: ২/৯১৪]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩) (স্মরণ কর,) নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। [1] অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল[2] এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করল এবং কিছু অব্যক্ত রাখল,[3] যখন নবী তা তার সেই স্ত্রীকে জানাল, তখন সে বলল, ‘কে আপনাকে এটা অবহিত করল?”[4] নবী বলল, ‘আমাকে অবহিত করেছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” [5]
তাফসীর:
[1] সেই গোপন কথা ছিল মধু অথবা মারিয়া (রাঃ) কে হারাম করে নেওয়ার কথা যা তিনি (সাঃ) হাফসা (রাঃ) কে বলেছিলেন।
[2] অর্থাৎ, হাফসা (রাঃ) সে কথা আয়েশা (রাঃ)র কাছে গিয়ে বলে দিলেন।
[3] অর্থাৎ, হাফসা (রাঃ) কে বললেন যে, তুমি আমার গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছ। তবে স্বীয় সম্মান ও মহত্ত্বের দিকে লক্ষ্য করে সমস্ত কথা খুলে বললেন না।
[4] যখন নবী (সাঃ) হাফসাকে বললেন যে, তুমি আমার গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছ, তখন তিনি (হাফসা) আশ্চর্যান্বিতা হলেন। কারণ, তিনি আয়েশা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কাউকেও এ কথা বলেননি এবং আয়েশা (রাঃ) যে এ কথা রসূল (সাঃ)-কে বলে দেবেন সে আশঙ্কাও তাঁর ছিল না। কেননা, তিনিও এই (ফন্দি আঁটার) কাজে তাঁর শরীক ছিলেন।
[5] এ থেকে বুঝা যায় যে, কুরআন ছাড়া অন্য বিষয়ের অহীও তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। (আরো বুঝা যায় যে, তিনি গায়বের খবর জানতেন না।)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ :
التحريم শব্দটি حرم ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল। অর্থ হল : হারাম করা, নিষিদ্ধকরণ বা অবৈধকরণ ইত্যাদি। এ সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত لِمَ تُحَرِّمُ ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল থেকেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া সূরাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক একটি হালালকৃত বস্তুকে হারাম করে নিয়েছিলেন, সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূরাটি নাযিল হয়েছে।
সূরার শুরুতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্ত্রীদের মাঝে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের প্রতি হালাল জিনিস না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তিরস্কার করলেন, তারপর মু’মিনদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সপরিবারে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার ও একনিষ্ঠ তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরার শেষে কাফির ও মু’মিনদের জন্য চারজন নারীর দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে।
শানে নুযূল :
এ সূরাটির শুরুর কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণের ব্যাপারে বেশ কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন :
(১) আয়িশাহ (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন। আসর সালাত আদায় শেষে স্ত্রীদের ঘরে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করতেন। (সহীহ বুখারী হা. ৬৬৯১)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে : একদা তিনি যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)-এর কাছে মধু পান করেন এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। (আয়িশাহ (রাঃ) বলছেন) আমি ও হাফসাহ (রাঃ) স্থির করলাম আমাদের দুজনের যে ঘরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসবেন, সে-ই তাঁকে বলব : আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? (মাগাফীর এক প্রকার গাছের মিষ্টি আটা যা খেলে মুখে একপ্রকার গন্ধ সৃষ্টি হয়) তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী তা-ই করলেন। তারা বললেন : আমরা আপনার মুখে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি বললেন : না, বরং আমি যয়নব বিনতে জাহাশের ঘরে মধু পান করেছি। আমি শপথ করে বলছি : আর কখনো মধু পান করব না। তুমি এ ব্যাপারটি অন্য কাউকে জানাবে না। তখন এ সূরার প্রথম দিকের কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯১২)
(২) একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফসাহ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন, তখন হাফসাহ (রাঃ) বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মারিয়া কিবতী একত্রে তার ঘরে। (মারিয়া ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্রীতদাসী, তার গর্ভে ইবরাহীম জন্ম গ্রহণ করেছিল) মারিয়া বের হওয়ার পর তিনি প্রবেশ করলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হাফসার চেহারায় আত্মমর্যাদার ছাপ দেখতে পেলেন তখন তিনি বললেন : তুমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে সংবাদ জানাবে না। আমি তোমার সাথে কথা দিচ্ছি আমি কখনো তার কাছে যাব না। তখন এ সূরা অবতীর্ণ হয়। (সহীহ নাসায়ী, আলবানী ৩/৮৩১ হাকেম ৩২/৪৯৩)
আবার কেউ কেউ বলেছেন : যে মহিলা নিজেকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিল তার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর) ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন : প্রথমত এ ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে বলিষ্ঠ করে। দ্বিতীয়ত : একই সময়ে উভয় ঘটনার প্রেক্ষিতে এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)।
১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
স্ত্রীর সন্তুটি হাসিলের জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক হালাল বস্তুকে হারাম হিসাবে গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে নিন্দা করেছেন। পরবর্তীতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর শপথের কাফফারা দিয়ে ফিরে আসলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ক্ষমা করে নিন্দার বাণী তুলে নিয়েছেন। যার প্রমাণ বহন করেছে আয়াতের শেষাংশ
(وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ)
‘আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
এ আয়াত প্রমাণ করছে কেউ যদি হালাল জিনিস নিজের ওপর হারাম করে নেয় তাহলে তা হারাম হবে না। কারণ হালাল হারামের বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। এ আয়াত আরো প্রমাণ করছে যে, কোন ব্যক্তি, শাসক বা যে কেউ হোক তার ভয়ে বা সন্তুষ্টি লাভের জন্য হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করে নেয়া যাবে না।
(قَدْ فَرَضَ اللّٰهُ)
অর্থাৎ কাফফারা আদায় করে সেই কাজ করার অনুমতি প্রদান করেছেন যে কাজ না করার জন্য তিনি শপথ করেছিলেন। এ বিধান সকল মু’মিনের জন্য। কাফফারার বিধান সূরা মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
(تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ)
বা শপথ থেকে মুক্তি লাভের উপায় হল শপথের কাফফারা আদায় করা।
(وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ) ‘
যখন নাবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন’ অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন : “কতক স্ত্রী” দ্বারা উদ্দেশ্য হাফসাহ (রাঃ)। তার কাছে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারিয়াকে হারাম করে নেয়া বা মধু খাওয়া হারাম করে নেয়ার কথা গোপন রেখেছিলেন এবং তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু হাফসাহ (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলে দিলেন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাদের বলে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন। হাফসাহ (রাঃ)-এর সম্মানের দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা সব কথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানাননি। (তাফসীর মুয়াস্সার)
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে হাদীস বলা হয়েছে। সুতরাং হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে বুঝায় আবার কুরআনকেও বুঝায়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(اللّٰهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيْثِ)
‘আল্লাহ অতি উত্তম হাদীস (কুরআন) নাযিল করেছেন’ (সূরা যুমার ৩৯-২৩)
(عَرَّفَ بَعْضَھ۫ وَاَعْرَضَ عَنْۭ بَعْضٍ)
‘তখন নাবী এই বিষয়ে কিছু প্রকাশ করলেন এবং কিছু গোপন রাখলেন’ মুকাতিল (রহঃ) বলেন : হাফসাহ (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ) কে যা বলেছিল নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কিছু হাফসাহকে জানিয়ে দিলেন, তা হল মারিয়ার ব্যাপারটা।
(إِنْ تَتُوْبَآ إِلَي اللّٰهِ)
‘যদি তোমরা উভয়ে (অনুতপ্ত হয়ে) আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর’ এখানে দু’জন স্ত্রী বলতে আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এ আয়াতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন্ দু’জন স্ত্রীর ব্যাপারে বলা হয়েছে তা উমার (রাঃ)-এর কাছে জানতে সর্বদা অনুপ্রাণিত ছিলাম। একদা উমার (রাঃ) হাজ্জ করতে যান, আমিও হাজ্জ করতে গেলাম। পথিমধ্যে তিনি (প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য) আলাদা হন, আমিও পাত্র সাথে নিয়ে তাঁর সাথে আলাদা হলাম। তিনি শৌচকার্য শেষে আমার কাছে আসলেন, আমি তাঁর হাতে পানি ঢাললাম। তিনি অযু করলেন। অতঃপর আমি বললাম : হে আমীরুল মু’মিনুন! সে দু’জন নারী কারা, যাদের কথা আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতে বলেছেন? উমার (রাঃ) বললেন : তোমার জন্য আশ্চর্য, আমি গোপন করব না, তারা হলেন, আয়িশাহ (রাঃ) ও হাফসাহ (রাঃ)। (সহীহ বুখারী হা. ৮৯)
(فَقَدْ صَغَتْ قُلُوْبُكُمَا)
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যে আদব ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি যে তাক্বওয়া অবলম্বন করার প্রয়োজন ছিল তা থেকে তোমাদের অন্তর দূরে সরে গেছে। (তাফসীর সা‘দী)।
(وَإِنْ تَظَاهَرَا)
এখানেও আল্লাহ তা‘আলা আয়িশাহ (রাঃ) ও হাফসাহ (রাঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেন : যদি তোমরা উভয়ে এমন কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কষ্টকর এবং এর ওপর বহাল থাক তাহলে জেনে রেখো আল্লাহ তা‘আলা, জিবরীল (আঃ) ও সৎমু’মিনগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহায্যকারী। এখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদেরকে এরূপ কাজের জন্য সতর্ক করছেন এবং ভীতি প্রদর্শন করছেন যে, তোমাদের চেয়ে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরো উত্তম স্ত্রী দানে সক্ষম।
(عَسٰي رَبُّه۫ٓ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبْدِلَهُ)
‘যদি নাবী তোমাদের সকলকে ত্বালাক দেয়.... ” উমার (রাঃ) বলেন : নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সতর্ক করার জন্য তাঁর সহধর্মিণীগণ একত্রিত হয়েছিল। আমি তাদেরকে বললাম : যদি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবত তাঁকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্ত্রী দেবেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯১৬, সহীহ মুসলিম হা. ২৩৯৯)
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীদেরকে ত্বালাক দেননি। যদি দিতেন তাহলে আয়াতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নারীদেরকে পেতেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীরা যখন এ ভয়ের বাণী শুনলেন তখন তারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে ধাবিত হতে লাগলেন এবং উত্তম মু’মিনা নারীদের মধ্যে শামিল হয়ে গেলেন। (তাফসীর সা‘দী)।
قٰنِتٰتٍ অর্থ : যারা সর্বদা আনুগত্য করে চলে।
تَآئِبٰتٍ অর্থ : আল্লাহ তা‘আলা যা অপছন্দ করে থাকেন তা থেকে তাওবা করে।
(ثَيِّبٰتٍ وَّأَبْكَارًا)
অর্থাৎ কতক হবেন স্বামীহীনা আবার কতক হবেন কুমারী।
সুতরাং মু’মিনা নারীদের এমন কিছু করা উচিত নয় যার দ্বারা তাদের স্বামী কষ্ট পায়, বরং সর্বদা স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং তার আনুগত্য করতে হবে। যেমন হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
المرأة إذا صلت خمسها، وصامت شهرها، وأحصنت فرجها، وأطاعت بعلها، فلتدخل من أي أبواب الجنة شاءت
একজন মহিলা যখন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করবে, নিজের সতীত্বের হেফাযত করবে এবং স্বামীর আনুগত্য করবে সে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। (আবূ নাঈম তার হুলিয়্যাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আলবানী সহীহ বলেছেন।)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কেউ যদি কোন হালাল বস্তুকে শপথ করার মাধ্যমে হারাম করে নেয় তাহলে তা হারাম হবে না, শুধু শপথের কাফফারা দিয়ে দিলেই হবে।
২. স্ত্রীদের খুশি করার জন্য কোন হারাম কাজে জড়িত হওয়া বৈধ নয়।
৩. অত্র আয়াতকে কেন্দ্র করে ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ বলেছেন : যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে- তুমি আমার ওপর হারাম কিন্তু ত্বালাকের নিয়্যাত না করে তাহলে হারাম হবে না। শুধু কাফফারা দিলেই হবে।
৪. আল্লাহ তা‘আলার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা জানতে পারলাম।
৫. উমার (রাঃ)-এর মর্যাদা জানতে পারলাম।
৬. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে হাদীস বলা হয় এর প্রমাণ কুরআনের এ সূরায় পেলাম।
৭. স্ত্রীলোকদের দুর্বলতা ও সতীনদের প্রতি ঈর্ষা থাকা স্বাভাবিক।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১-৫ নং আয়াতের তাফসীর
এই সূরাটির প্রাথমিক আয়াতগুলোর শানে নুযূলের ব্যাপারে সুফাসসিরদের উক্তি নিম্নরূপঃ
কেউ কেউ বলেন যে, এটা হযরত মারিয়াহ্ (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন। সুনানে নাসাঈতে এই রিওয়াইয়াতটি বিদ্যমান রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কথার পরিপ্রেক্ষিতে এটা ঘটেছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এক দাসী সম্পর্কে এ কথা বলেছিলেন। ফলে এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়।
তাফসীরে ইবনে জারীরে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর কোন এক স্ত্রীর ঘরে উম্মে ইবরাহীম (রাঃ)-এর সাথে কথাবার্তা বলেছিলেন। তখন তাঁর ঐ স্ত্রী তাঁকে বলেনঃ “তোমার ঘরে ও আমার বিছানায় এ কাজ কারবার?” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “আমি তাকে আমার উপর হারাম করে নিলাম।” তখন তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! হালাল কিভাবে আপনার উপর হারাম হয়ে যাবে?” জবাবে তিনি বলেনঃ “আমি শপথ করছি যে, এখন হতে তার সাথে কোন প্রকারের কথাবার্তা বলবো না।” ঐ সময় এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। হযরত যায়েদ (রঃ) বলেনঃ এর দ্বারা জানা গেল যে, তুমি আমার উপর হারাম’ এ কথা কেউ বললে তা বাজে বলে প্রমাণিত হবে। হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছিলেনঃ “তুমি আমার উপর হারাম। আল্লাহর কসম! আমি তোমার সাহচর্যে থাকবো না।”
হযরত মাসরূক (রঃ) বলেন যে, হারাম করার ব্যাপারে তো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং তাঁকে তাঁর কসমের কাফফারা আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়। তাফসীরে ইবনে জারীরে রয়েছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “এ দু’জন স্ত্রী কে ছিলেন?” উত্তরে হযরত উমার বলেনঃ “তারা হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)। উম্মে ইবরাহীম কিবতিয়্যাহ (রাঃ)-কে কেন্দ্র করেই ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। হযরত হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে তাঁর পালার দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) হযরত মারিয়াহ্ কিবতিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হন। এতে হযরত হাফসা (রাঃ) দুঃখিতা হন যে, তাঁর পালার দিনে তাঁরই ঘরে ও তাঁরই বিছানায় তিনি মারিয়াহ্ (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হলেন! রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলে ফেলেনঃ “আমি তাকে আমার উপর হারাম করে নিলাম। তুমি এই ঘটনা কারো কাছে বর্ণনা করো না।” এতদসত্ত্বেও হযরত হাফসা (রাঃ) ঘটনাটি হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সামনে প্রকাশ করে দেন। আল্লাহ্ তা'আলা এই খবর স্বীয় নবী (সঃ)-কে জানিয়ে দেন এবং এই আয়াতগুলো নাযিল করেন। নবী (সঃ) কাফফারা আদায় করে স্বীয় কসম ভেঙ্গে দেন এবং ঐ দাসীর সঙ্গে মিলিত হন। এই ঘটনাটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই ফতওয়া দেন যে, কেউ যদি বলেঃ “আমি অমুক জিনিস আমার উপর হারাম করে নিলাম” তবে তার উচিত কসম ভেঙ্গে দিয়ে কাফফারা আদায় করা। একটি লোক তাঁকে এই মাসআলা জিজ্ঞেস করে যে, সে তার স্ত্রীকে নিজের উপর হারাম করে নিয়েছে।
তখন তিনি তাকে বলেনঃ “তোমার স্ত্রী তোমার উপর হারাম নয় (তুমি কাফফারা আদায় করে কসম ভেঙ্গে দাও)।” সবচেয়ে কঠিন কাফফারা তো হলো আল্লাহ্ পথে গোলাম আযাদ করা। ইমাম আহমাদ (রঃ) এবং বহু ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদের ফতওয়া এই যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রী, দাসী অথবা খাওয়া পরার কোন জিনিসকে নিজের উপর হারাম করে নেয়, তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যায়। ইমাম শাফিয়ী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, শুধু স্ত্রী বা দাসীকে নিজের উপর হারাম করে নিলে কাফফারা ওয়াজিব হয়, অন্য কোন জিনিস নিজের উপর হারাম করে নিলে কাফফারা ওয়াজিব হয় না। যদি হারাম করা দ্বারা তালাকের নিয়ত করে তবে অবশ্যই তালাক হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে দাসীকে হারাম করার কথা দ্বারা যদি আযাদ করে দেয়ার নিয়ত করে তবে ঐ দাসী অবশ্যই আযাদ হয়ে যাবে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই আয়াত ঐ নারীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যিনি স্বীয় নফসকে নবী (সঃ)-এর নিকট হিবা বা দান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এটা গারীব উক্তি। সম্পূর্ণ সঠিক কথা এই যে, এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার কারণ ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিজের উপর মধুকে হারাম করে নেয়া।
সহীহ্ বুখারীতে এই আয়াতের ক্ষেত্রে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) হযরত যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)-এর ঘরে মধু পান করতেন এবং এই কারণে তিনি তার ঘরে কিছুক্ষণ বিলম্ব করতেন। এই জন্যে হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ) পরস্পর পরামর্শ করেন যে, তাঁদের মধ্যে যাঁরই কাছে নবী (সঃ) আসবেন তিনি যেন তাকে বলেনঃ “আপনার মুখ হতে মাগাফীরের (গেঁদ বা আঠা জাতীয় জিনিস যাতে দুর্গন্ধ রয়েছে) গন্ধ আসছে, সম্ভবতঃ আপনি মাগাফীর খেয়েছেন!” সুতরাং তারা এ কথাই বলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “আমি যায়নাব (রাঃ)-এর ঘরে মধু পান করেছি। এখন আমি শপথ করছি যে, আর কখনো আমি মধু পান করবো না। সুতরাং তোমরা এ কথা কাউকেও বলবে না।” ইমাম বুখারী (রঃ) এ হাদীসটিকে কিতাবুল ঈমান ওয়ান নুযূর-এর মধ্যেও কিছু বৃদ্ধি সহকারে আনয়ন করেছেন। তাতে রয়েছে যে, এখানে দু'জন স্ত্রী দ্বারা হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। আর চুপে-চুপে কথা বলা দ্বারা বুঝানো হয়েছে ‘আমি মধু পান করেছি' এই উক্তিটি। তিনি কিতাবুত তালাকের মধ্যে এ হাদীসটি আনয়ন করে বলেন যে, মাগাফীর হলো গঁদের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত একটি জিনিস যা ঘাসে জন্মে থাকে এবং তাতে কিছুটা মিষ্টতা রয়েছে।
কিতাবুত তালাকে এ হাদীসটি হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে এই শব্দে বা ভাষায় বর্ণিত আছেঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) মিষ্টি ও মধু খুব ভালবাসতেন। আসরের নামাযের পর তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট যেতেন এবং কাউকেও নিকটে করে নিতেন। একদা তিনি হযরত হাফসা (রাঃ)-এর নিকট গমন করেন এবং অন্যান্য দিন তাঁর কাছে যতক্ষণ অবস্থান করতেন, সেই দিন তদপেক্ষা বেশীক্ষণ অবস্থান করেন। এতে আমার মনে নিজের মর্যাদাবোধ জেগে উঠলো। তত্ত্ব নিয়ে জানলাম যে, তাঁর কওমের একটি স্ত্রীলোক এক মশক মধু তার কাছে উপঢৌকন স্বরূপ পাঠিয়েছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে ঐ মধুর শরবত পান করিয়েছেন। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর ঘরে এতোটা বিলম্ব করেছেন। আমি মনে মনে বললাম যে, ঠিক আছে, কৌশল করে আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এটা হতে ফিরিয়ে দিব। সুতরাং আমি হযরত সাওদাহ্ বিনতু যামআহ্ (রাঃ)-কে বললামঃ তোমার ঘরে যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আসবেন এবং তোমার নিকটবর্তী হবেন তখন তুমি তাকে বলবেঃ “আজ কি আপনি মাগাফীর খেয়েছেন?” তিনি জবাবে বলবেনঃ “না।” তখন তুমি বলবেঃ তাহলে এই গন্ধ কিসের?” তিনি। তখন বলবেনঃ “হাফসা (রাঃ) মধু পান করিয়েছেন।” তুমি তখন বলবেঃ “সম্ভবতঃ মৌমাছি ‘আরফাত’ নামক কণ্ঠকযুক্ত গাছ হতে মধু আহরণ করেছে।” আমার কাছে যখন আসবেন তখন আমিও তাই বলবো। হে সফিয়া (রাঃ)! তোমার কাছে যখন আসবেন তখন তুমিও তাই বলবে।” হযরত সাওদাহ (রাঃ) বলেনঃ “যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার ঘরে আসলেন, তখন তিনি দরজার উপরই ছিলেন, তখন আমি ইচ্ছা করলাম যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) আমাকে যা বলতে বলেছেন তাই বলে দিই, কেননা, আমি তাকে খুবই ভয় করতাম। কিন্তু ঐ সময় আমি নীরব থাকলাম। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার কাছে আসলেন তখন আমি ঐ কথাই বলে দিলাম। তারপর তিনি হযরত সফিয়া (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনিও ঐ কথাই বলেন। এরপর হযরত হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে মধু পান করাতে চাইলে তিনি বলেনঃ “আমার এর প্রয়োজন নেই।” হযরত সাওদা (রাঃ) তখন বলতে লাগলেনঃ “আফসোস! আমরা এটাকে হারাম করিয়ে দিলাম!” আমি (আয়েশা রাঃ) বললামঃ চুপ থাকো।
সহীহ মুসলিমে এটুকু বেশী রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দুর্গন্ধকে খুবই ঘৃণা করতেন। এজন্যেই ঐ স্ত্রীগণ বলেছিলেনঃ “আপনি মাগাফীর খেয়েছেন কি?” কেননা, মাগাফীরেও কিছুটা দুর্গন্ধ রয়েছে। যখন তিনি উত্তর দিলেন যে, না, তিনি মাগাফীর খাননি। বরং মধু খেয়েছেন, তখন তাঁরা বললেনঃ “তাহলে মৌমাছি ‘আরফাত' গাছ হতে মধু আহরণ করে থাকবে, যার গাঁদের নাম হলো, মাগাফীর এবং ওরই ক্রিয়ার প্রভাবে এই মধুতে মাগাফীরের গন্ধ রয়েছে। এই রিওয়াইয়াতে (আরবি) শব্দ রয়েছে, জাওহারী (রঃ) যার অর্থ করেছেন (আরবি) অর্থাৎ খেয়েছে। মৌমাছিকেও (আরবি) বলা হয় এবং (আরবি) হালকা শব্দকে বলা হয়। পাখী যখন চঞ্চু দ্বারা কোন খাদ্য খায় তখন তার চঞ্চুর শব্দ শোনা যায়, ঐ সময় আরবরা বলেঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি পাখীর চঞ্চুর শব্দ শুনেছি।” একটি হাদীসে রয়েছেঃ “জান্নাতীরা পাখীর হালকা ও মিষ্টি শব্দ শুনতে পাবে।” এখানেও আরবী (আরবি) শব্দ রয়েছে।
আসমাঈ' (রঃ) যিনি হযরত শু'বা (রাঃ) -এর মজলিসে ছিলেন, বলেন যে, হযরত শু’বা (আরবি) শব্দটি (আরবি) অর্থাৎ দ্বারা পড়েন। তখন হযরত আসমাঈ’ (রঃ) বলেন যে, ওটা (আরবি) দ্বারা হবে। তখন হযরত শুবা (রঃ) তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেনঃ “এ ব্যক্তি এটা আমার চেয়ে বেশী জানেন। এটাই সঠিক হবে। তোমরা এটা সংশোধন করে নাও।” এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। মোটকথা, মধু পান করানোর ঘটনায় দু’টি নাম বর্ণিত আছে। একটি হযরত হাফসা (রাঃ)-এর নাম এবং অপরটি হযরত যায়নাব (রাঃ)-এর নাম। এই ব্যাপারে যারা একমত হয়েছিলেন তাঁরা হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)। তাহলে খুব সম্ভব ঘটনা দু'টো হবে। তবে এই দুজনের ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে কিছু চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
পরস্পর এই প্রকারের পরামর্শ গ্রহণকারিণী ছিলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)। এটা এ হাদীস দ্বারাও জানা যাচ্ছে যা মুসনাদে আহমাদে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি (হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ) বলেনঃ বহু দিন হতে আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, ……(আরবি)–এ আয়াতের মধ্যে যে দু’জন স্ত্রীর বর্ণনা রয়েছে তাঁদের নাম হযরত উমার (রাঃ)-এর কাছে জেনে নিবো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর এই খলীফা যখন হজ্বের সফরে বের হলেন তখন আমিও তার সাথে বের হলাম। পথে এক জায়গায় খলীফা উমার (রাঃ) রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের দিকে চললেন। আমি তখন পানির পাত্র নিয়ে তার পিছনে পিছনে গেলাম। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূর্ণ করে ফিরে আসলেন। আমি পানি ঢেলে ঢেলে তাঁকে অযু করালাম। সুযোগ পেয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! ……… (আরবি) এই আয়াতে যে দুই জনকে সম্বোধন করা হয়েছে তাঁরা কারা? তিনি জবাবে বললেনঃ “হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! এটা বড়ই আফসোসের বিষয়!” যুহরী (রঃ) বলেন যে, হযরত উমার (রাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর এ প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করলেন। কিন্তু ওটা গোপন করা বৈধ ছিল না বলে তিনি উত্তর দেনঃ “এর দ্বারা হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।” অতঃপর হযরত উমার (রাঃ) ঘটনাটি বর্ণনা করতে শুরু করেন। তিনি বলেনঃ “আমরা কুরায়েশরা আমাদের নারীদেরকে আমাদের আওতাধীনে রাখতাম। কিন্তু মদীনাবাসীদের উপর তাদের নারীরা আধিপত্য করতো। যখন আমরা হিজরত করে মদীনায় আসলাম তখন আমাদের নারীরাও তাদের দেখাদেখি। আমাদের উপর প্রাধান্য লাভের ইচ্ছা করে। আমি মদীনা শরীফের উপরের অংশে হযরত উমাইয়া ইবনে যায়েদের বাড়ীতে অবস্থান করতাম। একদা আমি আমার স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে কিছু বলতে লাগলাম। তখন সে উল্টিয়ে আমাকেও জবাব দিতে শুরু করলো। তার এই আচরণ আমার নিকট খুবই খারাপ বোধ হলো। আমি মনে মনে বললামঃ এই ধরনের নতুন আচরণ কেন? আমাকে বিস্মিত হতে দেখে সে বললোঃ “আপনি কি চিন্তা করছেন? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রীরাও তাকে জবাব দিয়ে থাকে। কোন কোন সময় তো তারা সারা দিন ধরে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলাও বন্ধ রাখে।” তার এই কথা শুনে আমি অন্য এক সমস্যায় পড়লাম। সরাসরি আমি আমার কন্যা হাফসা (রাঃ)-এর বাড়ীতে গেলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে জবাব দিয়ে থাকো এবং মাঝে মাঝে সারা দিন তার সাথে কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখো এটা কি সত্য? সে উত্তরে বললোঃ “হ্যাঁ, এটা সত্য বটে।” আমি তখন বললামঃ যারা এরূপ করে তারা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তোমরা কি ভুলে যাচ্ছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর অসন্তুষ্টির কারণে এরূপ নারীর উপর স্বয়ং আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন? সাবধান! আগামীতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কোন জবাব দিবে না এবং তাঁর কাছে কিছুই চাইবে না। কিছু চাইতে হলে আমার কাছেই চাইবে। আয়েশা (রাঃ)-কে দেখে তুমি তার প্রতি লোভ বা হিংসা করবে না। সে তোমার চেয়ে ভাল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিকট অধিকতর প্রিয়।
হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! আমার প্রতিবেশী একজন আনসারী ছিলেন। আমরা উভয়ে পালা ভাগ করে নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর খিদমতে আমি একদিন হাযির হতাম এবং একদিন তিনি হাযির হতেন। আমি আমার পালার দিনের সমস্ত হাদীস, আয়াত ইত্যাদি শুনে তাঁকে এসে শুনাতাম এবং তিনি তার পালার দিন সবকিছু আমাকে এসে শুনাতেন। আমাদের মধ্যে এ কথাটি ঐ সময় মশহর হয়ে গিয়েছিল যে, গাসসানী বাদশাহ্ আমাদের উপর আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। একদা আমার সঙ্গী তাঁর পালার দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর কাছে গিয়েছিলেন! ইশার সময় এসে তিনি আমার দরজার উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডাক দিতে লাগলেন। আমি উদ্বেগের সাথে বের হয়ে বললামঃ খবর ভাল তো? তিনি উত্তরে বললেনঃ “আজ তো একটা কঠিন ব্যাপার ঘটে গেছে।” আমি বললামঃ গাস্সানী বাদশাহ কি পৌঁছে গেছে? তিনি জবাবে বললেনঃ “এর চেয়েও কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছে।” আমি জিজ্ঞেস করলামঃ কি হয়েছে, বলুন না? তিনি বললেনঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন।” আমি তখন বললামঃ আফসোস! হাফসা (রাঃ) তো ধ্বংস হয়ে গেল! আমি পূর্ব হতেই এটার আশংকা করছিলাম। ফজরের নামায পড়েই কাপড়-চোপড় পরে আমি সরাসরি হাফসা (রাঃ)-এর বাড়ীতে হাযির হলাম। দেখলাম যে, সে কাঁদছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কি তোমাদেরকে তালাক দিয়ে ফেলেছেন? সে জবাব দিলোঃ “এ খবর তো বলতে পারছি না। তবে তিনি আমাদের হতে পৃথক হয়ে নিজের কক্ষে অবস্থান করছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখি যে, একজন হাবশী গোলাম পাহারা দিচ্ছে। আমি তাকে বললামঃ যাও, আমার জন্যে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা কর। সে গেল এবং ফিরে এসে বললোঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কোন উত্তর দিলেন না।” আমি তখন সেখান হতে ফিরে এসে মসজিদে গেলাম। দেখলাম যে, মিম্বরের পাশে সাহাবীদের একটি দল বসে রয়েছেন এবং কারো কারো চক্ষু দিয়ে তো অশ্রু ঝরছে! আমি অল্পক্ষণ সেখানে বসে থাকলাম। কিন্তু আমার মনে শান্তি কোথায়? আবার উঠে দাঁড়ালাম এবং ঐ গোলামের কাছে গিয়ে অনুমতি চাইতে বললাম। গোলাম এবারও এসে খবর দিলো যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন উত্তর দেননি। আবার আমি মসজিদে চলে গেলাম। সেখান হতে আবার ফিরে আসলাম এবং পুনরায় গোলামকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইতে বললাম। গোলাম আবার গেল এবং ঐ একই জবাব দিলো। আমি ফিরে যাচ্ছিলাম এমন সময় গোলাম আমাকে ডাক দিলো এবং বললোঃ “আপনাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।” আমি প্রবেশ করে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি বস্তার উপর হেলান লাগিয়ে বসে আছেন। যার দাগ তার দেহ মুবারকে পড়ে গেছে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি কি আপনার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে ফেলেছেন? তিনি মাথা উঠিয়ে আমার দিকে চেয়ে বললেনঃ “না।” আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার! হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কথা এই যে, আমরা কুরায়েশরা আমাদের স্ত্রীদেরকে আমাদের আজ্ঞাধীনে রাখতাম। কিন্তু মদীনাবাসীদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রাধান্য লাভ করে আছে। এখানে এসে আমাদের স্ত্রীরাও তাদের দেখাদেখি তাদেরই আচরণ গ্রহণ করে নিয়েছে। তারপর আমি আমার স্ত্রীর ঘটনাটিও বর্ণনা করলাম এবং তার একথাটিও বর্ণনা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রীরাও এরূপ করে থাকেন। তারপর আমি আমার একথাটিও বর্ণনা করলাম যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ যে অসন্তুষ্ট হয়ে যাবেন এবং এর ফলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে এ ভয় কি তাদের নেই? আমার কথা শুনে তিনি মুচকি হাসলেন। তারপর আমি আমার হাফসা (রাঃ)-এর কাছে যাওয়া, তাকে আয়েশা (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা পোষণ না করার উপদেশ দেয়ার কথা বর্ণনা করলাম। এবারও তিনি মুচকি হাসলেন। এরপর আমি বললামঃ অনুমতি হলে আরো কিছুক্ষণ আপনার এখানে অবস্থান করতাম। তিনি অনুমতি দিলে আমি বসে পড়লাম। অতঃপর আমি মাথা উঠিয়ে ঘরের চতুর্দিকে লক্ষ্য করে দেখি যে, তিনটি শুষ্ক চামড়া ছাড়া আর কিছুই নেই। তাঁর খাস দরবারের এ অবস্থা দেখে আমার খুবই দুঃখ হলো। আমি আরয করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! দু'আ করুন যেন আল্লাহ তা'আলা আপনার উম্মতের উপর প্রশস্ততা দান করেন। দেখুন তো পারসিক ও রোমকরা আল্লাহর ইবাদত করে না, অথচ তারা দুনিয়ার কত বেশী নিয়ামতের মধ্যে ডুবে রয়েছে? আমার একথা শোনা মাত্রই তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বলতে লাগলেনঃ “হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি তো, সন্দেহের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে। এই কওমের জন্যে দুনিয়ার এই নিয়ামতরাশি কল্যাণকর নয়। তাদেরকে এগুলো তাড়াতাড়ি করে দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হয়েছে।” আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন!
ব্যাপারটা ছিল এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণে শপথ করেছিলেন যে, এক মাসকাল তিনি তাদের সাথে মিলিত হবেন না। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তাম্বীহ করেন।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী এবং সুনানে নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে)
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “বছর ধরে আমি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম যে, হযরত উমার (রাঃ)-কে এই দুইজন স্ত্রীর নাম জিজ্ঞেস করবো। কিন্তু হযরত উমার (রাঃ)-এর অত্যন্ত প্রভাবের কারণে তাঁকে জিজ্ঞেস করার সাহস হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হজ্ব পালন করে প্রত্যাবর্তনের পথে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।” তারপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন যা উপরে বর্ণিত হলো।
সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, তালাকের প্রসিদ্ধির ঘটনাটি পর্দার আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ঘটেছিল। তাতে রয়েছে যে, হযরত উমার (রাঃ) যেমন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাকে বুঝিয়ে এসেছিলেন, তেমনিভাবে হযরত আয়েশা (রাঃ)-কেও বুঝিয়েছিলেন। তাতে এও রয়েছে যে, যে গোলামটি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে পাহারা দিচ্ছিল তার নাম ছিল আবূ রিবাহ (রাঃ)। তাতে এও আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেছিলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি আপনার স্ত্রীদের ব্যাপারে এতো চিন্তিত হচ্ছেন কেন? যদি আপনি তাদেরকে তালাকও দিয়ে দেন তবে আপনার সাথে রয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, হযরত জিবরাঈল (আঃ), হযরত মীকাঈল (আঃ), আমি, হযরত আবূ বকর (রাঃ) এবং সমস্ত মু'মিন।” হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলারই সমস্ত প্রশংসা, আমি এই প্রকারের কথা যে বলছিলাম, আমি আশা করছিলাম যে, আমার কথার সত্যতায় তিনি আয়াত নাযিল করবেন। হলোও তাই। আল্লাহ তা’আলা (আরবি) এই আয়াত এবং (আরবি) এই আয়াত অবতীর্ণ করেন। যখন আমি জানতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর স্ত্রীদেরকে তালাক দেননি তখন আমি মসজিদে গিয়ে দরজার উপর দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে সকলকে জানিয়ে দিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর পবিত্র স্ত্রীদেরকে তালাক দেননি। এ ব্যাপারেই আল্লাহ তা'আলা ... (আরবি)-এই আয়াতটি নাযিল করেন। অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে কোন নিরাপত্তা বা ভয়ের খবর পৌঁছে তখন তারা তা প্রচার করতে শুরু করে দেয়। যদি তারা এই খবর রাসূলুল্লাহ (সঃ) অথবা জ্ঞানী ও বিদ্বান মুসলমানদের নিকট পৌঁছিয়ে দিতো তবে নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে যারা তাহকীককারী তারা ওটা বুঝতে পারতো।” হযরত উমার (রাঃ) আয়াতটি এই পর্যন্ত পাঠ করে বলেনঃ এই বিষয়ের তাহকীককারীদের মধ্যে আমিও একজন।” আরো বহু বুযুর্গ মুফাসসির হতে বর্ণিত আছে যে, দ্বারা হযরত আবূ বকর (রাঃ) এবং হযরত উমার (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ হযরত উসমানেরও (রাঃ) নাম উল্লেখ করেছেন এবং কেউ কেউ আবার হযরত আলী (রাঃ)-এর নামও নিয়েছেন। একটি দুর্বল হাদীসে মারফূ’’রূপে শুধু হযরত আলী (রাঃ)-এর নাম রয়েছে। কিন্তু এর সনদ দুর্বল এবং সম্পূর্ণরূপে মুনকার।
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রীদের মধ্যে মর্যাদাবোধ জেগে উঠেছিল। আমি তখন তাদেরকে বললামঃ যদি নবী (সঃ) তোমাদেরকে পরিত্যাগ করেন তবে তার প্রতিপালক সম্ভবতঃ তাকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং আমার ভাষাতেই আল্লাহ পাক তা নাযিল করেন।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) এটা পূর্বেই গত হয়েছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বহু ব্যাপারে কুরআনের আনুকূল্য করেছেন। যেমন পর্দার ব্যাপারে, বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে এবং মাকামে ইবরাহীমকে কিবলাহ নির্ধারণ করার ব্যাপারে।
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “আমি যখন উম্মাহাতুল মু'মিনীন ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মধ্যে মন কষাকষির খবর পেলাম তখন আমি তাদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকে বললামঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে আপোষ করে নাও, অন্যথায় তিনি যদি তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবতঃ তাকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী দান করবেন। অবশেষে আমি উম্মাহাতুল মু'মিনীনের শেষ জনের কাছে গেলাম। তখন সে বললোঃ “হে উমার (রাঃ)! আমাদেরকে উপদেশ দানের জন্যে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) কি যথেষ্ট নন যে, আপনি আমাদেরকে উপদেশ দিতে আসলেন?` আমি তখন নীরব হয়ে গেলাম। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ...- (আরবি) এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন।” (এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) ) সহীহ বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যে স্ত্রীটি হযরত উমার (রাঃ)-কে এই উত্তর দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ)।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবি) আল্লাহ তা'আলার এই উক্তি সম্পর্কে তিনি বলেনঃ “ঘটনা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। যখন হাফসা (রাঃ) দেখেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত মারিয়াহ (রাঃ)-এর সাথে মশগুল রয়েছেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-কে বলেনঃ “তুমি এ খবর হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জানাবে না। আমি তোমাকে একটি সুসংবাদ দিচ্ছি। তা এই যে, আমার ইন্তেকালের পর আমার খিলাফত হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর পর তোমার আব্বা লাভ করবেন। কিন্তু হযরত হাফসা (রাঃ) এ খবর হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জানিয়ে দেন। তখন হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “এ খবর আপনার কাছে কে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত।” হযরত আয়েশা (রাঃ) তখন বলেনঃ “আমি আপনার দিকে তাকাবো যে পর্যন্ত না আপনি মারিয়াহ (রাঃ)-কে আপনার উপর হারাম করবেন।” তখন তিনি হযরত মারিয়াহ (রাঃ)-কে নিজের উপর হারাম করেন। ঐ সময় আল্লাহ তা'আলা .. (আরবি)-এই আয়াত অবতীর্ণ করেন।” [এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম তিবরানী (রঃ)]
(আরবি)-এর একটি তাফসীর তো এই যে, তারা হবে রোযা পালনকারিণী। একটি মারফূ’ হাদীসেও এই শব্দের এই তাফসীরই এসেছে যে হাদীসটি সূরায়ে বারাআতের এই শব্দের তাফসীরে গত হয়েছে যে, এই উম্মতের সিয়াহাত হলো রোযা রাখা। দ্বিতীয় তাফসীর এই যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হিজরতকারিণীগণ। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই বেশী উত্তম। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদের মধ্যে কেউ হবে অকুমারী এবং কেউ হবে কুমারী। যাতে মন খুশী থাকে।
মু’জামে তিবরানীতে রয়েছে যে, ইবনে ইয়াযীদ (রঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে স্বীয় নবী (সঃ)-কে যে ওয়াদা দিয়েছেন তাতে বেওয়া বা অকুমারী দ্বারা হযরত আসিয়া (রাঃ) কে বুঝানো হয়েছে যিনি ফিরাউনের স্ত্রী ছিলেন এবং কুমারী দ্বারা হযরত মরিয়ম (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে যিনি হযরত ইমরানের কন্যা ছিলেন।
হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করেন। ঐ সময় হযরত খাদীজাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আসেন। তখন হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত খাদীজাহ (রাঃ)-কে সালাম দিয়েছেন এবং বলেছেন, তাঁকে সুসংবাদ দেয়া হচ্ছে জান্নাতের একটি ঘরের, যেখানে না আছে গরম এবং না আছে কোন কষ্ট, আর না আছে কোন শোরগোল। যা ছিদ্রকৃত মুক্তা দ্বারা নির্মিত। যার ডানে-বামে মরিয়ম বিনতু ইমরান (রাঃ) এবং আসিয়া বিনতু মাযাহেম (রাঃ)-এর ঘর রয়েছে।
অন্য একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, হযরত খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বলেনঃ “হে খাদীজাহ (রাঃ)! তোমার সতীনদেরকে আমার সালাম জানিয়ে দিবে।” হযরত খাদীজাহ (রাঃ) তখন বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার পূর্বেও কি আপনি কাউকেও বিয়ে করেছিলেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা মরিয়ম বিনতু ইমরান (রাঃ), ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া (রাঃ) এবং মূসা (আঃ)-এর বোন কুলসুম (রাঃ) এই তিনজনকে আমার নিকাহতে দিয়ে রেখেছেন।” (এ হাদীসটি দুর্বল)
হযরত আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বলেছেনঃ “তুমি কি জান যে, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে আমার বিবাহ ইমরানের কন্যা মরিয়ম (রাঃ), মূসা (আঃ)-এর ভগ্নী কুলসুম (রাঃ), এবং ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়ার (রাঃ) সাথে দিয়ে রেখেছেন? তিনি উত্তরে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনাকে মুবারকবাদ।” (এ হাদীসটি আবূ ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এটাও দুর্বল হাদীস এবং সাথে সাথে মুরসালও বটে)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।