সূরা আত-তাহরীম (আয়াত: 10)
হরকত ছাড়া:
ضرب الله مثلا للذين كفروا امرأة نوح وامرأة لوط كانتا تحت عبدين من عبادنا صالحين فخانتاهما فلم يغنيا عنهما من الله شيئا وقيل ادخلا النار مع الداخلين ﴿١٠﴾
হরকত সহ:
ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا لِّلَّذِیْنَ کَفَرُوا امْرَاَتَ نُوْحٍ وَّ امْرَاَتَ لُوْطٍ ؕ کَانَتَا تَحْتَ عَبْدَیْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَیْنِ فَخَانَتٰهُمَا فَلَمْ یُغْنِیَا عَنْهُمَا مِنَ اللّٰهِ شَیْئًا وَّ قِیْلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدّٰخِلِیْنَ ﴿۱۰﴾
উচ্চারণ: দারাবাল্লা-হু মাছালালিলল্লাযীনা কাফারুমরাআতা নূহিওঁ ওয়ামরাআতা লূতিন কানাতা-তাহতা ‘আবদাইনি মিন ‘ইবা-দিনা-ছা-লিহাইনি ফাখা-নাতা-হুমা-ফালাম ইউগনিয়া-‘আনহুমা-মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া কীলাদ খুলান্না-রা মা‘আদ্দা-খিলীন।
আল বায়ান: যারা কুফরি করে তাদের জন্য আল্লাহ নূহের স্ত্রীর ও লূতের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেন; তারা আমার বান্দাদের মধ্য হতে দু’জন সৎবান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা উভয়ে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, অতঃপর আল্লাহর আযাব হতে রক্ষায় নূহ ও লূত তাদের কোন কাজে আসেনি। বলা হল, ‘তোমরা উভয়ে প্রবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ কর।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. যারা কুফরী করে, আল্লাহ্ তাদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন নূহের স্ত্রী ও লুতের স্ত্রীর, তারা ছিল আমাদের বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নূহ ও লুত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারলেন না এবং তাদেরকে বলা হল, তোমরা উভয়ে প্ৰবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্ৰবেশ কর।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফুরীর নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’নেককার বান্দার অধীনে। কিন্তু তারা দু’জনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারল না। তাদেরকে বলা হল, ‘‘তোমরা দু’জন জাহান্নামে প্রবেশ কর (অন্যান্য) প্রবেশকারীদের সঙ্গে।’’
আহসানুল বায়ান: (১০) আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত উপস্থিত করেছেন; [1] তারা ছিল আমার দাসদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ দাসের অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল,[2] ফলে তারা (নূহ ও লূত) তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারল না[3] এবং তাদেরকে বলা হল, ‘জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও তাতে প্রবেশ কর।’[4]
মুজিবুর রহমান: আল্লাহ কাফিরদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত উপস্থিত করছেন; তারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সংকল্প পরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারলনা এবং তাদেরকে বলা হলঃ জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও তাতে প্রবেশ কর।
ফযলুর রহমান: কাফেরদের জন্য আল্লাহ নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর উদাহরণ দিচ্ছেন। তারা আমার দুই নেককার বান্দার অধীনে ছিল। কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে তারা দুঞ্চজন (নূহ ও লূত) তাদের দুঞ্চজনকে (স্ত্রীদ্বয়কে) আল্লাহর হাত থেকে বাঁচাতে কিছুই করতে পারেনি। বলা হল, “প্রবেশকারীদের সাথে তোমরা দুঞ্চজন জাহান্নামে প্রবেশ কর।”
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের জন্যে নূহ-পত্নী ও লূত-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হলঃ জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে চলে যাও।
জহুরুল হক: আল্লাহ্ একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত করছেন তাদের জন্য যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, -- নূহের স্ত্রীর ও লূতের স্ত্রীর। তারা উভয়ে ছিল আমাদের বান্দাদের মধ্যের দুইজন সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীনে, কিন্ত তারা তাঁদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, ফলে তাঁরা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে তাদের কোনো কাজে আসেন নি; আর বলা হবে -- "তোমরা দুজনেও প্রবেশকারীদের সঙ্গে আগুনে প্রবেশ করো।"
Sahih International: Allah presents an example of those who disbelieved: the wife of Noah and the wife of Lot. They were under two of Our righteous servants but betrayed them, so those prophets did not avail them from Allah at all, and it was said, "Enter the Fire with those who enter."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০. যারা কুফরী করে, আল্লাহ্– তাদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন নূহের স্ত্রী ও লুতের স্ত্রীর, তারা ছিল আমাদের বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নূহ ও লুত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারলেন না এবং তাদেরকে বলা হল, তোমরা উভয়ে প্ৰবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্ৰবেশ কর।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০) আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত উপস্থিত করেছেন; [1] তারা ছিল আমার দাসদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ দাসের অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল,[2] ফলে তারা (নূহ ও লূত) তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারল না[3] এবং তাদেরকে বলা হল, ‘জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও তাতে প্রবেশ কর।”[4]
তাফসীর:
[1] مَثَلٌ (উপমা, উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত) এর অর্থ হল, এমন অবস্থাকে তুলে ধরা, যাতে থাকে বিরলতা ও বিচিত্রতা। যাতে এর দ্বারা অপর আর এক অবস্থার পরিচিতি লাভ হয়, যা বিরলতা ও বিচিত্রতায় তারই মত হয়। অর্থাৎ, এই কাফেরদের অবস্থার জন্য আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। তা হল নূহ (আঃ) এবং লূত (আঃ)-এর স্ত্রীর।
[2] এখানে খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা বলতে দাম্পত্যের খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা উদ্দেশ্য নয়। কেননা, এ ব্যাপারে সকলে একমত যে, কোন নবীর স্ত্রী ব্যভিচারিণী ছিলেন না। (ফাতহুল ক্বাদীর) খিয়ানত বলতে বুঝানো হয়েছে, এরা তাদের স্বামীদের উপর ঈমান আনেনি। তারা মুনাফিক্বী ও কপটতায় লিপ্ত ছিল এবং নিজেদের কাফের জাতির প্রতি তারা সমবেদনা পোষণ করত। যেমন, নূহ (আঃ)-এর স্ত্রী নূহ (আঃ)-এর ব্যাপারে লোকদেরকে বলে বেড়াত যে, এ একজন পাগল। আর লূত (আঃ)-এর স্ত্রী তার গোত্রের লোকদেরকে নিজ বাড়ীতে আগত অতিথির সংবাদ পৌঁছে দিত। কেউ কেউ বলেন, এরা উভয়ই তাদের জাতির লোকদের মাঝে নিজ নিজ স্বামীর চুগলি করে বেড়াত।
[3] অর্থাৎ, নূহ (আঃ) এবং লূত (আঃ) তাঁরা উভয়েই ছিলেন আল্লাহর পয়গম্বর, আর পয়গম্বররা আল্লাহর অতি নিকটতম বান্দাদের মধ্যে গণ্য হন, তা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের স্ত্রীদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে পারেননি।
[4] এ কথা তাদেরকে কিয়ামতের দিন বলা হবে অথবা মৃত্যুর সময় তাদেরকে বলা হয়েছে। কাফেরদের এই দৃষ্টান্ত বিশেষ করে এখানে পেশ করার উদ্দেশ্য হল, রসূল (সাঃ)-এর পবিত্রা সহধর্মিনীদেরকে সতর্ক করা যে, অবশ্যই তাঁরা রসূল গৃহের সৌন্দর্য যিনি সমস্ত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তাঁদের স্মরণে রাখা উচিত যে, যদি তাঁরা রসূলের বিরোধিতা করেন বা তাঁকে কষ্ট দেন, তবে তাঁরাও আল্লাহর কাছে শাস্তি পাবেন। আর যদি এ রকম হয়ে যায়, তাহলে তাঁদেরকে বাঁচাবার মত কেউ থাকবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯-১২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কঠোরতা অবলম্বন করার নির্দেশ প্রদান করছেন। এতে দাওয়াত, উত্তম উপদেশ, তাদের ভ্রান্ত মতবাদ খণ্ডন করা ও সশস্ত্র জিহাদ সব কিছু শামিল। (তাফসীর সা‘দী)।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা কাফির ও মু’মিনদের জন্য দুটি উদারহণ পেশ করছেন। প্রথমেই আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের জন্য উদাহরণ পেশ করছেন দুজন প্রসিদ্ধ খ্যাতনামা দুজন নাবীর স্ত্রীদের দ্বারা। তারা বড় বড় দুজন নাবীর স্ত্রী, কিন্তু তা সত্ত্বেও ঈমান না থাকার কারণে জাহান্নাম থেকে রেহাই পাবে না। আল্লাহ তা‘আলা এর দ্বারা কাফির সম্প্রদায়কে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, তোমরা নিজেদেরকে যত বড় দাবী কর আর যত বড় নেক লোকদের নেতৃত্বাধীন থাকো না কেন ঈমান না আনলে কোন বাহাদুরী কাজে আসবে না।
فَخٰنَتٰهُمَا এখানে খেয়ানত দ্বারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে তা নয়। কারণ নাবীদের স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্ত। এটা রাসূলদের সম্মানার্থে। বরং তাদের খেয়ানত ছিল দীনের ব্যাপারে। নূহ (আঃ)-এর স্ত্রী লোকদের বলে বেড়াতো যে, সে (আমার স্বামী নূহ) একজন পাগল। আর লূত (আঃ)-এর স্ত্রী নিজ বাড়িতে আগত মেহমানদের ব্যাপারে জাতিকে অবগত করিয়ে দিত যাতে তারা তাদের সাথে খারাপ কাজে লিপ্ত হয়। (ইবনু কাসীর)
কেউ বলেছেন : এরা উভয়েই তাদের জাতির লোকদের মাঝে নিজ নিজ স্বামীর চুগলি করে বেড়াত। তারপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের জন্য উদাহরণ পেশ করছেন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ও মারইয়াম (আঃ) দ্বারা। ফির‘আউন ছিল তৎকালীন একজন ক্ষমতাধর কাফির বাদশা। এতদসত্ত্বেও আসিয়া আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য স্বীকার করেছে এবং শরয়ী বিধি বিধান যথাযথ পালন করেছে, যার কারণে তার স্বামীর কুফরী তার ঈমানকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি।
অনুরূপভাবে মারইয়াম (আঃ) নিজের সতীত্ব হেফাযত করেছিলেন আর আল্লাহ তা‘আলা চাচ্ছিলেন তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। ফলে তাকে বিনা স্বামীতে সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করলেন। তিনি সে পরীক্ষায় ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন নর ও নারীদের বুঝাতে চাচ্ছেন যে, প্রতিকুল পরিবেশেও যারা ঈমানের ওপর অটল থাকে তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জমিনে চারটি দাগ টানলেন এবং বললেন : তোমরা কি জান এটা কী? সাহাবীগণ বললেন : আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : জান্নাতীদের শ্রেষ্ঠ মহিলা হলেন খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ, মারইয়াম বিনতু ইমরান ও আসিয়া (ফির‘আউনের স্ত্রী)। (আহমাদ হা. ২৬৬৮, সনদ সহীহ)।
এরূপ তাদের ফযীলতের আরেকটি সহীহ হাদীস রয়েছে যার আলোচনা সূরা আলি ইমরানের ৪২ নম্বর আয়াতে করা হয়েছে।
সুতরাং কাফির নারীদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত তাদের পক্ষে স্বামীদের আনুগত্য না করে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করা উচিত এবং মু’মিন নারীদের উচিত স্বামী যতই আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজে জড়িত করার চেষ্টা করুক তারা তাতে লিপ্ত না হয়ে আল্লাহ তা‘আলার ভয়কে সর্বদা প্রাধান্য দেবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়াজিব। তবে স্থান ও কাল ভেদে এ বিধান ভিন্ন হয়।
২. ঈমান ছাড়া আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোন সদামল গ্রহণযোগ্য হবে না, সে যে কেউ হোক না কেন।
৩. প্রতিকুল পরিবেশে ঈমান ধরে রাখার ফযীলত জানলাম।
৪. চারজন মহিলার ফযীলত জানতে পারলাম।
৫. মারইয়াম (আঃ)-এর সতিত্ব সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নিজের সতীত্ব সংরক্ষণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বিনা স্বামীতে ঈসা (আঃ)-কে সন্তান হিসাবে দান করেছেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯-১০ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা’আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র-শস্ত্রসহ জিহাদ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। আরো নির্দেশ দিচ্ছেন দুনিয়ায় তাদের প্রতি কঠোর হতে। আর পরকালেও তাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম এবং ওটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থল।
এরপর আল্লাহ দৃষ্টান্ত দ্বারা বুঝাচ্ছেন যে, কাফিরদের তাদের কুফরী সত্ত্বেও মুসলমানদের সাথে দুনিয়ায় মিলে মিশে থাকা কিয়ামতের দিন কোনই উপকারে আসবে না। যেমন দুই জন নবী, হযরত নূহ (আঃ) ও হযরত লূত (আঃ)-এর স্ত্রীদ্বয়, যারা সদা-সর্বদা এই নবীদের সাহচর্যে থাকতো, তাঁদের সাথে সব সময় উঠা বসা করতো, এক সাথে পানাহার করতো এবং এক সাথে রাত্রি যাপনও করতো, কিন্তু যেহেতু তাদের মধ্যে ঈমান ছিল না, বরং তারা কুফরীর উপর কায়েম ছিল, সেই হেতু নবীদের অষ্ট প্রহরের সাহচর্য তাদের কোন কাজে আসলো না। নবীগণ তাদের পারলৌকিক কোন উপকার করতে পারলেন না এবং তাদেরকে ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করতে সক্ষম হলেন না। বরং তাদেরকেও জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।
এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, এখানে খিয়ানত দ্বারা ব্যভিচার উদ্দেশ্য নয়। নবীদের (আঃ) পবিত্রতা ও সততা এতো ঊর্ধ্বে যে, তাদের স্ত্রীদের মধ্যে ব্যভিচাররূপ জঘন্য পাপকার্য প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হতে পারে না। আমরা সূরায়ে নূরের তাফসীরে এর পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছি। বরং এখানেও উদ্দেশ্য দ্বীনের ব্যাপারে খিয়ানত করা। অর্থাৎ তারা দ্বীনের ব্যাপারে তাদের স্বামীদের খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। দ্বীনের কাজে তাদের সঙ্গিনী হয়নি।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাদের বিশ্বাসঘাতকতা ব্যভিচার ছিল না। বরং এই ছিল যে, হযরত নূহ (আঃ)-এর স্ত্রী বলতো যে, এই লোকটি অর্থাৎ হযরত নূহ (আঃ) একজন পাগল। আর হযরত লূত (আঃ)-এর স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা এই ছিল যে, তাঁর বাড়ীতে কোন মেহমান আসলে সে কাফিরদেরকে খবর দিয়ে দিতো। হযরত নূহ (আঃ)-এর স্ত্রী তাঁর গোপন তথ্য এবং গোপনে ঈমান আনয়নকারীদের নাম কাফিরদের কাছে প্রকাশ করে দিতো। অনুরূপভাবে হযরত লূত (আঃ)-এর স্ত্রীও তার স্বামী হযরত লূত (আঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণ করতো এবং যাঁরা মেহমানরূপে তাঁর বাড়ীতে আসতেন তাঁদের খবর তার কওমকে দিয়ে দিতো, যাদের কু-কাজের অভ্যাস ছিল।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে একথাও বর্ণিত আছে যে, কোন নবীরই স্ত্রী কখনো ব্যভিচার করেনি। হযরত যহহাক (রঃ) প্রমুখ গুরুজনও একথাই বলেন। এটাকে দলীলরূপে গ্রহণ করে কোন কোন আলেম বলেছেনঃ সাধারণ লোকদের মধ্যে একথা প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে যে, হাদীসে আছেঃ যে ব্যক্তি এমন লোকের সাথে পানাহার করে যাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, ঐ লোকটিকেও ক্ষমা করে দেয়া হয়, এটা খুবই দুর্বল হাদীস। আর প্রকৃত ব্যাপারও এটাই যে, এ হাদীসটি একেবারে ভিত্তিহীন। তবে হ্যাঁ, একজন বুযুর্গ ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যাকে ক্ষমা করা হয়েছে তার সাথে যে থাকবে তাকেও ক্ষমা করে দেয়া হবে' একথা কি আপনি বলেছেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “না, কিন্তু এখন আমি একথা বলছি।`
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।