সূরা আত-ত্বলাক্ব (আয়াত: 9)
হরকত ছাড়া:
فذاقت وبال أمرها وكان عاقبة أمرها خسرا ﴿٩﴾
হরকত সহ:
فَذَاقَتْ وَبَالَ اَمْرِهَا وَ کَانَ عَاقِبَۃُ اَمْرِهَا خُسْرًا ﴿۹﴾
উচ্চারণ: ফাযা-কাত ওয়া বা-লা আমরিহা-ওয়া কা-না ‘আ-কিবাতুআমরিহা-খুছরা-।
আল বায়ান: অতএব তারা নিজদের কৃতকর্মের আযাব আস্বাদন করেছে আর ক্ষতিই ছিল তাদের কাজের পরিণতি।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. ফলে তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করল; আর ক্ষতিই ছিল তাদের কাজের পরিণাম।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা তাদের কৃতকর্মের খারাপ প্রতিফল আস্বাদন করল, ধ্বংসই হল তাদের কাজের পরিণতি।
আহসানুল বায়ান: (৯) অতঃপর তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করল, আর ক্ষতিই ছিল তাদের কর্মের পরিণাম।
মুজিবুর রহমান: অতঃপর তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করল; ক্ষতিই ছিল তাদের কর্মের পরিণাম।
ফযলুর রহমান: অতএব, তারা তাদের কৃতকর্মের খারাপ পরিণতি আস্বাদন করেছিল এবং ক্ষতিই ছিল তাদের কর্মের পরিণতি।
মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করল এবং তাদের কর্মের পরিণাম ক্ষতিই ছিল।
জহুরুল হক: সেজন্য তা তার কাজের মন্দফল আস্বাদন করেছিল, আর তার কাজের পরিণাম ক্ষতিকর হয়েছিল।
Sahih International: And it tasted the bad consequence of its affair, and the outcome of its affair was loss.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯. ফলে তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করল; আর ক্ষতিই ছিল তাদের কাজের পরিণাম।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯) অতঃপর তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করল, আর ক্ষতিই ছিল তাদের কর্মের পরিণাম।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮-১২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
عَتَتْ অর্থ : বিদ্রোহ, বিরুদ্ধাচরণ, ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতা প্রকাশ করেছিল।
نُّكْرًا - منكرا فظيع
অর্থাৎ কঠিন ও ভীষণ। হিংসা ও আযাব বলতে পার্থিব পাকড়াও ও শাস্তি। কেউ কেউ বলেছেন : বাক্যকে আগ পিছ করা হয়েছে। (عَذَابًا نُّكْرًا) সেই আযাব যা দুনিয়াতে অনাবৃষ্টি ভূমিধস ও আকৃতি-বিকৃতি ইত্যাদির আকারে তাদের ওপর এসেছে। আর (حِسَابًا شَدِيْدًا) যেটা আখেরাতে হবে। (ফাতহুল কাদীর)
(لِّيُخْرِجَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا)
এরূপ আয়াতের তাফসীর সূরা বাকারার ২৫৭ নম্বর আয়াতে করা হয়েছে।
(وَّمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ)
অর্থাৎ সাত আসমানের মত সাত জমিনও আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন। হাদীসে এসেছে : যে ব্যক্তি জুলুম করে এক বিঘত পরিমাণ অন্যের জমি দখল করে নেবে তাকে সপ্ত জমিনের গলাবন্ধ পরানো হবে। (সহীহ বুখারী হা. ২৪৫২)
অন্যত্র এসেছে, তাকে সাত জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে। (আহমাদ হা. ৫৭৪০)
(يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ)
অর্থাৎ যেভাবে প্রত্যেক আসমানে আল্লাহ তা‘আলার বিধান কার্যকর ও বলবৎ আছে অনুরূপ প্রত্যক জমিনেও তাঁর নির্দেশ চলে। সপ্ত আকাশের মত সপ্ত জমিনের পরিচালনাও তিনিই করেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. শরয়ী বিধান বর্জন ও অবজ্ঞা করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
২. এ উম্মাতের ওপর আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহের কথা জানলাম।
৩. সাত আকাশের মত সাত জমিনও আছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮-১১ নং আয়াতের তাফসীর
যারা আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতা করে, তাঁর রাসূল (সাঃ)-কে না মানে এবং তাঁর শরীয়তের উপর না চলে তাদেরকে ধমকের সুরে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ দেখো, পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যেও যারা তোমাদের নীতির উপর চলতো, অহংকার ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতো, আল্লাহর হুকুম ও তাঁর রাসূলদের আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিতো, তাদেরকে কঠিনভাবে হিসাব দিতে হয়েছিল এবং কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছিল। ক্ষতিই ছিল তাদের কৃতকর্মের পরিণাম। ঐ সময় তারা লজ্জিত হয়েছিল, কিন্তু ঐ সময়ের লজ্জা ও অনুশোচনা তাদের কোন উপকারে আসেনি। দুনিয়ার এই শাস্তিই যদি শেষ শাস্তি হতো তাহলে তো একটা কথা ছিল। কিন্তু না, তা নয়! বরং পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুতরাং হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের পরিণাম হতে শিক্ষা গ্রহণ কর। তোমরা তাদের মত হয়ো না।
মহান আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যিকর। এখানে যিক্র দ্বারা কুরআন কারীমকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই ওর হিফাযতকারী।” (১৫:৯) কেউ কেউ বলেন যে, এখানে ‘যিক্র’ দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সঃ) উদ্দেশ্য। যেহেতু সাথে সাথেই বলা হয়েছেঃ (আরবি) তাহলে এটা হবে (আরবি) রাসূলুল্লাহই (সঃ) কুরআনকে জনগণের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, এই সম্পর্কের কারণে তাঁকেই ‘যিক্র’ শব্দ দ্বারা স্মরণ করা হয়েছে। ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) এই ভাবার্থকে সঠিক বলেছেন।
এরপর আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি মানুষের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করে থাকেন, যারা মুমিন ও সকর্মপরায়ণ তাদেরকে অজ্ঞতার অন্ধকার হতে জ্ঞানের আলোকের দিকে আনার জন্যে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এই কিতাব আমি তোমার উপর অবতীর্ণ করেছি, যেন তুমি জনগণকে অন্ধকার হতে আলোকের দিকে নিয়ে আস।” (১৪:১) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোকের দিকে নিয়ে আসেন।” (২৪:২৫৭) অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাযিলকৃত ওহীকে নূর বা জ্যোতি বলেছেন। কেননা, এর দ্বারা হিদায়াত ও সরল সঠিক পথ লাভ করা যায়। আর মহান আল্লাহ এর নাম রূহও রেখেছেন। কেননা, এর দ্বারা অন্তর জীবন লাভ করে থাকে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এভাবেই আমি তোমার প্রতি আমার হুকুমের রূহের ওহী করেছি, তুমি জানতে না যে, কিতাব কি এবং ঈমান কি? কিন্তু আমি ওটাকে দূর করে দিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করে থাকি। নিশ্চয়ই তুমি সরল সঠিক পথের দিশারী।” (৪২:৫২)
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ যে কেউ আল্লাহে বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহ তাকে উত্তম জীবনোপকরণ দিবেন। এর তাফসীর ইতিপূর্বে কয়েকবার করা হয়েছে। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।