আল কুরআন


সূরা আল-মুমতাহিনা (আয়াত: 11)

সূরা আল-মুমতাহিনা (আয়াত: 11)



হরকত ছাড়া:

وإن فاتكم شيء من أزواجكم إلى الكفار فعاقبتم فآتوا الذين ذهبت أزواجهم مثل ما أنفقوا واتقوا الله الذي أنتم به مؤمنون ﴿١١﴾




হরকত সহ:

وَ اِنْ فَاتَکُمْ شَیْءٌ مِّنْ اَزْوَاجِکُمْ اِلَی الْکُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَاٰتُوا الَّذِیْنَ ذَهَبَتْ اَزْوَاجُهُمْ مِّثْلَ مَاۤ اَنْفَقُوْا ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ الَّذِیْۤ اَنْتُمْ بِهٖ مُؤْمِنُوْنَ ﴿۱۱﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইন ফা-তাকুম শাইউম মিন আযওয়া-জিকুম ইলাল কুফফা-রি ফা‘আ-কাবতুম ফাআতুল্লাযীনা যাহাবাতা আযওয়া-জুহুম মিছলা মাআনফাকূ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযী আনতুম বিহী মু’মিনূন।




আল বায়ান: আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট চলে যায়, অতঃপর যদি তোমরা যুদ্ধজয়ী হয়ে গনীমত লাভ কর, তাহলে যাদের স্ত্রীরা চলে গেছে, তাদেরকে তারা যা ব্যয় করেছে, তার সমপরিমাণ প্রদান কর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১. আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের মধ্যে রয়ে যায় অতঃপর তোমরা যুদ্ধজয়ী হয়ে গনীমত লাভ কর, তাহলে যাদের স্ত্রীরা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ প্রদান কর, আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যার উপর তোমরা ঈমান এনেছ।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি (কাফির হওয়ার কারণে তোমাদের) হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট থেকে যায় এবং (তাদের কোন স্ত্রীলোক তোমাদের কাছে চলে আসার ফলে) তোমাদের যদি সুযোগ আসে, তখন (তোমাদের মধ্যে) যাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে তারা (তাদের স্ত্রীদের মোহর স্বরূপ) যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার প্রতি তোমরা ঈমান এনেছ।




আহসানুল বায়ান: (১১) তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাত ছাড়া হয়ে অবিশ্বাসীদের নিকট চলে যায় এবং তোমাদের যদি প্রতিশোধ নেওয়ার কোন সুযোগ আসে,[1] তাহলে যাদের স্ত্রীরা হাত ছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর, আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।



মুজিবুর রহমান: তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট চলে যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাদের স্ত্রীরা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের জন্য তারা (কাফিরেরা) যা ব্যয় করেছে তার সম পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। ভয় কর আল্লাহকে যাকে তোমরা বিশ্বাস কর।



ফযলুর রহমান: যদি তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের দখলে চলে যায়, তারপর তোমরা (প্রতিপক্ষকে) শাস্তি দিতে পার (এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ পাও) তাহলে যাদের স্ত্রী চলে গিয়েছে তারা (স্ত্রীদের বাবদ) যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ তাদেরকে দিয়ে দাও। আর আল্লাহকে ভয় করো, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।



মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে থেকে যায়, অতঃপর তোমরা সুযোগ পাও, তখন যাদের স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাদেরকে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।



জহুরুল হক: আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে থেকে যদি কিছু অবিশ্বাসীদের কাছে তোমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়, তারপর যদি তোমাদেরও সুযোগ আসে তাহলে যাদের স্ত্রীরা চলে গেছে তাদের প্রদান করো তারা যা খরচ করেছিল তার সমতুল্য। আর আল্লাহ্‌কে ভয়ভক্তি করো যাঁর প্রতি তোমরা বিশ্বাসী হয়েছ।



Sahih International: And if you have lost any of your wives to the disbelievers and you subsequently obtain [something], then give those whose wives have gone the equivalent of what they had spent. And fear Allah, in whom you are believers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১. আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের মধ্যে রয়ে যায় অতঃপর তোমরা যুদ্ধজয়ী হয়ে গনীমত লাভ কর, তাহলে যাদের স্ত্রীরা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ প্রদান কর, আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যার উপর তোমরা ঈমান এনেছ।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১) তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাত ছাড়া হয়ে অবিশ্বাসীদের নিকট চলে যায় এবং তোমাদের যদি প্রতিশোধ নেওয়ার কোন সুযোগ আসে,[1] তাহলে যাদের স্ত্রীরা হাত ছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর, আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।


তাফসীর:

[1] فَعَاقَبْتُمْ (তোমরা শাস্তি দাও অথবা প্রতিশোধ নাও) এর একটি অর্থ হল, মুসলিম হয়ে আগমনকারী মহিলাদের প্রাপ্য মোহর যা তোমাদেরকে তাদের কাফের স্বামীদেরকে দিতে হত, সেটা তোমরা সেই মুসলিমদেরকে দিয়ে দাও, যাদের স্ত্রীরা কাফের হওয়ার কারণে কাফেরদের কাছে চলে গেছে এবং মুসলিমদের মোহরের পাওনা ফেরত দেয়নি। (অর্থাৎ, এটাও এক প্রকার সাজা।) দ্বিতীয় অর্থ হল, তোমরা কাফেরদের সাথে জিহাদ কর। অতঃপর যে গনীমতের মাল অর্জন কর, তা থেকে বণ্টনের পূর্বে প্রথমে যে মুসলিমদের স্ত্রীরা চলে গিয়ে কাফেরদের দলে মিলিত হয়েছে। তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ তাদেরকে দিয়ে দাও। অর্থাৎ, গনীমতের মাল থেকে মুসলিমদের ক্ষতি পূরণ করা এটাও এক প্রকার শাস্তি বা প্রতিশোধ। (আইসারুত তাফাসীর ও ইবনে কাসীর) যদি গনীমতের মাল থেকে ক্ষতি পূরণ সম্ভব না হয়, তাহলে বাইতুল মাল থেকে সাহায্য করা হবে। (আইসারুত তাফাসীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০-১১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



৬ষ্ঠ হিজরীতে যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হন তখন সন্ধির অন্যতম একটি শর্ত ছিল : মক্কা থেকে কোন ব্যক্তি মদীনায় চলে গেলে (যদিও মুসলিম হয়) তাকে মক্কায় ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। এতে নারী-পুরুষ সবাই শামিল ছিল। কিছু দিন পর কোন কোন মুসলিম মহিলা হিজরত করে মক্কা থেকে মদীনাতে চলে আসে। কাফিররা তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানায়। তখন আল্লাহ তা‘আলা মহিলাদেরকে উপরোক্ত শর্তের আওতামুক্ত করে দিলেন। কোন মহিলা হিজরত করে আসলে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মু’মিনা জানা গেলে ফেরত দিতে নিষেধ করলেন। আব্দুল্লাহ বিন আবূ আহমাদ হতে বর্ণিত তিনি বলেন : একদা উম্মু কুলসুম বিনতু উকবা (রাঃ) হিজরত করে আসলেন। তার ভাই ওয়ালিদ ও আম্মার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা মহিলাদের ব্যাপারে চুক্তি ভঙ্গ করে দেন। মহিলাদেরককে মুশরিকদের নিকট ফেরত দিতে নিষেধ করেন এবং এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (উসদুল গাবাহ ৩/১৭১)



(فَامْتَحِنُوْهُنَّ)



“তাদেরকে পরীক্ষা কর” পরীক্ষা করার অর্থ হল : ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : তাদের থেকে এ সাক্ষী নেয়া যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্যিকার মা‘বূদ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও রাসূল। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন : পরীক্ষা করার অর্থ হল তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর কী জন্য এসেছে? যদি স্বামীদের প্রতি অসন্তুষ্টি ও রাগ করে চলে আসে তাহলে তাদেরকে তাদের স্বামীদের কাছে ফেরত দাও। ইকরিমা (রহঃ) বলেন : তাদেরকে বলা হবে : আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের প্রতি ভালবাসা ছাড়া অন্য কোন কারণে আসনি তো? কোন ব্যক্তির ভালবাসায় আসনি তো? স্বামীর প্রতি রাগ করে আসনি তো? মোটকথা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার রাসূলের ভালবাসায় দীন রক্ষার্থে যদি এসে থাকে তাহলে তাদেরকে ফেরত দিয়ো না। কারণ তারা মু’মিনা হওয়াতে কাফিরদের জন্য স্ত্রী হিসাবে থাকা জায়েয নেই। তারাও মু’মিনা মহিলাদের স্বামী হিসাবে বৈধ নয়। যদিও ইসলামের প্রাথমিক যুগে বৈধ ছিল। যেমন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা জায়নাব (রাঃ)-এর আবূল আসের সাথে বিবাহ হয়েছিল। জায়নাব (রাঃ) ছিলেন মু’মিনা আর আবূল আস ছিল কাফির। বদর যুদ্ধে আবূল আস বন্দী হলে জায়নাব তাঁর মা খাদিজার কাছ থেকে প্রাপ্ত হার বন্দীর মুক্তিপণ সরূপ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রেরণ করেন। হারটি দেখে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব নরম হয়ে যান। মুসলিমদেরকে বললেন : যদি তোমরা আমার কন্যার বন্দীকে মুক্তি দেওয়া পছন্দ কর তবে তাকে মুক্ত করে দাও। মুসলিমরা মুক্তিপণ ছাড়াই আবূল আসকে মুক্তি করে দিতে সম্মত হন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে আযাদ করে দিয়ে বলেন : জায়নাবকে মদীনায় পাঠিয়ে দেবে। আবূল আস পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে আবূল আস ইসলাম গ্রহণ করলে পূর্বের বিবাহের উপরেই নতুন মোহর ছাড়াই তার হাতে জায়নাবকে তুলে দেন। (আবূ দাঊদ হা. ২২৪০, তিরমিযী হা. ১১৪৩ সনদ সহীহ)।



উরওয়াহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন : নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেছেন : কোন মু’মিন মহিলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে হিজরত করে এলে তিনি তাকে আল্লাহ তা‘আলার এ আয়াতের ‘হে মু’মিনগণ! তোমাদের নিকট মু’মিন নারীরা হিজরত করে আসলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা কর’ ভিত্তিতে পরীক্ষা করতেন।



(وَاٰتُوْهُمْ مَّآ أَنْفَقُوْا)



অর্থাৎ তাদের কাফির স্বামীরা তাদেরকে যে মোহর দিয়েছিল তা তোমরা তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।



(وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ)



অর্থাৎ যে সকল নারীরা দীন রক্ষা করার জন্য হিজরত করে তোমাদের নিকট চলে এসেছে তাদের বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ। তবে শর্ত হল : ১. মোহর দিতে হবে, ২. ইদ্দত পূর্ণ করতে হবে, ৩. অভিভাবকদের সম্মতি ও দুজন সাক্ষী থাকা লাগবে।



عصم- (وَلَا تُمْسِكُوْا بِعِصَمِ الْكَوَافِر)



শব্দটি عصمة এর বহুবচন। এখানে অর্থ হল : দাম্পত্য সম্পর্ক। অর্থাৎ যদি স্বামী মুসলিম হয়ে যায় এবং স্ত্রী কাফির অথবা মুশরিক থেকে যায় তাহলে এ রকম মুশরিক মহিলাকে বিবাহ বন্ধনে রাখা বৈধ না। স্বামী তাকে ত্বালাক দিয়ে পৃথক হয়ে যাবে। এ নির্দেশের পর উমার (রাঃ) তাঁর দু’জন মুশরিক স্ত্রীকে এবং তালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহও তাঁর স্ত্রীকে ত্বালাক দিয়ে দেন। (ইবনু কাসীর)।



তবে স্ত্রী আহলে কিতাব হলে ত্বালাক দেওয়া জরুরী নয়, কারণ তাদের সাথে বিবাহ বন্ধন বৈধ।



(وَاسْأَلُوْا مَآ أَنْفَقْتُمْ)



অর্থাৎ যে সকল কাফির স্ত্রীরা কুফরীর ওপর বহাল থেকে কাফিরদের কাছে চলে গেছে তাদের জন্য যা ব্যয় করেছ তা চেয়ে নাও। আর কাফির পুরুষেরা যেন চেয়ে নেয় ঐ সকল স্ত্রীদের থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করত হিজরত করে চলে এসেছে।



(فَعَاقَبْتُمْ) “তোমরা শাস্তি দাও অথবা প্রতিশোধ নাও” এর একটি অর্থ হল : মুসলিম হয়ে আগমনকারী মহিলাদের প্রাপ্ত মোহর যা তোমাদেরকে তাদের কাফির স্বামীদেরকে দিতে হত সেটা তোমরা সেই মুসলিমদেরকে দিয়ে দাও যাদের স্ত্রীরা কাফির হওয়ার কারণে কাফিরদের কাছে চলে গেছে এবং মুসলিমদের মোহরের পাওনা ফেরত দেয়নি (অর্থাৎ এটাও এক প্রকার সাজা)। দ্বিতীয় অর্থ হল : তোমরা কাফিরদের সাথে জিহাদ কর। অতঃপর যে গনিমতের মাল অর্জন কর, তা থেকে বণ্টনের পূর্বে প্রথমে যে মুসলিমদের স্ত্রীরা চলে গিয়ে কাফিরদের দলে মিলিত হয়েছে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ তাদেরকে দিয়ে দাও। অর্থাৎ গনিমতের মাল থেকে মুসলিমদের ক্ষতি পূরণ করাটাও এক প্রকার শাস্তি বা প্রতিশোধ। (আয়সারুত তাফাসীর, ইবনু কাসীর)। যদি গনীমতের মাল থেকে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হয়, তাহলে বাইতুল মাল থেকে সাহায্য করা হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. মুসলিম মহিলাদের কাফির পুরুষদের সাথে বিবাহ বন্ধন বৈধ নয়।

২. মুসলিমরা আহলে কিতাবের নারীদের বিবাহ করতে পারে।

৩. কোন মহিলা কাফির দেশ থেকে হিজরত করে চলে আসলে তাকে পরীক্ষা করে জেনে নেয়া দরকার যে, প্রকৃতপক্ষে সে ইসলামের স্বার্থে হিজরত করেছে কিনা।

৪. মুসলিমরা আল্লাহ তা‘আলার আদেশ জানা মাত্রই তার কাছে মাথা নত করবে। যেমন উমার (রাঃ) ও তালহা (রাঃ) মুশরিকা নারীর সাথে বিবাহ বন্ধন হারাম হওয়ার কথা জানার সাথে সাথে ত্বালাক দিয়ে দেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর:

সূরায়ে ফাত্হর তাফসীরে হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই সন্ধিপত্রে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এবং কুরায়েশ কাফিরদের মধ্যে যেসব শর্ত লিপিবদ্ধ হয়েছিল ওগুলোর মধ্যে একটি শর্ত এও ছিল যে, যে কাফির মুসলমান হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিকট চলে যাবে তাকে তিনি মক্কাবাসীর নিকট ফেরত পাঠিয়ে দিবেন। কিন্তু কুরআন কারীম এর মধ্য হতে ঐ মহিলা বা নারীদেরকে খাস করে নেয় যারা ঈমান আনয়ন করে এবং খাটি মুসলমান হয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট চলে যাবে তাদেরকে তিনি কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবেন না।

কুরআন কারীম দ্বারা হাদীসকে খাস করার এটা একটা উত্তম দৃষ্টান্ত। কারো কারো মতে এই আয়াতটি এই হাদীসের নাসিখ বা রহিতকারী।

এই আয়াতের শানে নুযূল এই যে, হযরত উম্মে কুলসূম বিনতে উক্রা ইবনে আবি মুঈত (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজরত করে মদীনায় চলে যান। আম্মারাহ্ এবং ওয়ালীদ নামক তাঁর দুই ভ্রাতা তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হয় এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আলাপ আলোচনা করে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ইমতেহান বা পরীক্ষার এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। এভাবে আল্লাহ্ পাক মুমিনা নারীদেরকে ফেরত পাঠাতে নিষেধ করে দেন।

হযরত আবু নাস্র আসাদী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) জিজ্ঞাসিত হনঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কি ভাবে নারীদের পরীক্ষা নিতেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “তা এই ভাবে যে, তারা শপথ করে করে বলতো যে, তারা স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে নয় এবং শুধু আবহাওয়া ও মাটির পরিবর্তনের জন্যে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর মহব্বতে ইসলামের খাতিরেই দেশ ত্যাগ করেছে। এ ছাড়া তাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।” (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

কসম দিয়ে এই প্রশ্নগুলো করা ও ভালভাবে পরীক্ষা করার দায়িত্ব হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর উপর অর্পিত ছিল। (এটা ইমাম বাযযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

ইমাম আওফী (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, তাদের পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি ছিলঃ তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। পরীক্ষা নেয়ার পর যদি বুঝা যেতো যে, তারা পার্থিব কোন স্বার্থের জন্যে হিজরত করেছে তবে তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হতো। যেমন জানা যেতো যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে বা কোন পুরুষের প্রেমে পড়ে স্ত্রী হিজরত করেছে ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ্ বলেনঃ যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা (নারীরা) মুমিনা তবে তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবে না। এর দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, কারো ঈমানদার হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত রূপে অবহিত হওয়া সম্ভব।

এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ ‘মুমিনা নারীরা কাফিরদের জন্যে বৈধ নয় এবং কাফিররা মুমিনা নারীদের জন্যে বৈধ নয়। এই আয়াত এই আত্মীয়তার সম্পর্ককে হারাম করে দিয়েছে। ইতিপূর্বে মুমিনা নারীদের বিবাহ কাফিরদের সাথে বৈধ ছিল। যেমন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর কন্যা হযরত যায়নাব (রাঃ)-এর বিয়ে হয়েছিল আবুল আস ইবনে রাবী (রাঃ)-এর সাথে। অথচ ঐ সময় তিনি কুফরীর উপর ছিলেন। আর হযরত যায়নাব (রাঃ) ছিলেন মুসলমান। বদরের যুদ্ধে তিনিও কাফিরদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। এ যুদ্ধে যে কাফিররা মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়েছিল তিনিও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। হযরত যায়নাব (রাঃ) তাঁর মাতা হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর হারটি তাঁর স্বামী আবুল আ’স (রাঃ)-এর মুক্তিপণ হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। হারটি দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর মধ্যে ভাবাবেগ সৃষ্টি হয় এবং তিনি কান্না বিজড়িত কণ্ঠে মুসলমানদেরকে বলেনঃ “যদি তোমরা আমার কন্যার বন্দীকে মুক্তি দেয়া পছন্দ কর তবে তাকে মুক্ত করে দাও।” মুসলমানরা মুক্তিপণ ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে আবুল আ’স (রাঃ)-কে মুক্ত করে দিতে সম্মত হন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁকে আযাদ করে দিয়ে বলেন যে, তিনি যেন তার কন্যা হযরত যায়নাব (রাঃ)-কে মদীনায় পাঠিয়ে দেন। আবুল আস (রাঃ) তা স্বীকার করেন। মক্কায় গিয়ে তিনি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রাঃ)-এর সাথে হযরত যায়নাব (রাঃ)-কে মদীনায় পাঠিয়ে দেন। এটা হলো দ্বিতীয় হিজরীর ঘটনা। হযরত যায়নাব (রাঃ) মদীনাতেই অবস্থান করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ্ হযরত আবুল আ’স (রাঃ)-কে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করেন এবং তিনি মুসলমান হয়ে যান। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তার কন্যাকে পূর্বের বিবাহের উপরই নতুন মহর ছাড়াই হযরত আবুল আস (রাঃ)-এর কাছে সমর্পণ করেন।

অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, দুই বছর পর হযরত আবুল আস (রাঃ) মুসলমান হয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তার কন্যা হযরত যায়নাব (রাঃ)-কে ঐ পূর্ব বিবাহের উপরই তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেন।

এটা সঠিক কথা যে, মুমিনা নারীরা মুশরিক পুরুষদের উপর হারাম হওয়ার দুই বছর পরে হযরত আবুল আস (রাঃ) মুসলমান হয়েছিলেন। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত আবুল আস (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের পর আবার নতুনভাবে বিয়ে দেয়া হয়েছিল এবং নতুনভাবে মহরও ধার্য করা হয়েছিল। ইমাম তিরমিযী (রঃ) বলেন যে, হযরত ইয়াযীদ (রঃ) বলেছেনঃ প্রথম হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং ইসনাদ হিসেবে এ রিওয়াইয়াতটি উন্নততর। আর দ্বিতীয় হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন হযরত আমর ইবনে শুআয়েব (রাঃ) এবং আমল এর উপরই রয়েছে। কিন্তু এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, হযরত আমর ইবনে শুয়ায়েব (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন হাজ্জাজ ইবনে ইরতাত যাকে হযরত ইমাম আহমাদ (রঃ) প্রমুখ গুরুজন দুর্বল বলেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের জবাব জমহুর এই দেন যে, এটা ব্যক্তিগত ঘটনা, হয়তো তার ইদ্দত শেষই হয়নি। অধিকাংশ গুরুজনের মাযহাব এই যে, এই অবস্থায় যখন স্ত্রী ইদ্দত পুরো করে নিবে এবং তখন পর্যন্ত তার স্বামী মুসলমান না হবে তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। কোন কোন মনীষীর মাযহাব এটাও যে, ইদ্দত পুরো করার পর স্ত্রীর স্বাধীনতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে সে তার পূর্ব বিবাহ ঠিক রাখতে পারে এবং ইচ্ছা করলে ফস করে দিতেও পারে। এর উপরই তারা হযরত ইবনে উমার (রাঃ)-এর রিওয়াইয়াতকে মাহ্মূল করে থাকেন।

এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ কাফির স্বামীরা তাদের ঐ মুহাজিরা স্ত্রীদের জন্যে যা ব্যয় করেছে তা তোমরা তাদেরকে ফিরিয়ে দিবে, যেমন মহর।

মহান আল্লাহ বলেনঃ হে মুমিনগণ! এখন তোমরা হিজরতকারিণী ঐ মুহাজিরা মুমিনা নারীদেরকে মহর দিয়ে বিয়ে করে নিলে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না। ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়া, ওলী নির্ধারণ করা ইত্যাদি যেসব বিষয় বিয়ের জন্যে শর্ত, এসব শর্ত পূরণ করে ঐ মুহাজির নারীদেরকে যেসব মুসলমান বিয়ে করতে চায় করতে পারে।

অতঃপর ইরশাদ হচ্ছেঃ হে মুমিনগণ! তোমরা ঐ নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে। অনুরূপভাবে কাফিরা নারীদেরকে বিয়ে করাও তোমাদের জন্যে হারাম।

এই হুকুম অবতীর্ণ হওয়া মাত্রই হযরত উমার (রাঃ) তাঁর দু'টি কাফিরা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন যাদের একজনকে হযরত মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাঃ) বিয়ে করেন এবং অপরজনের বিয়ে হয় সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার সাথে।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) কাফিরদের সাথে সন্ধি করে ফেলেছেন এবং তখনও তিনি হুদায়বিয়ার নীচের অংশেই রয়েছেন এমতাবস্থায় এই আয়াত নাযিল হয় এবং মুসলমানদেরকে বলে দেয়া হয়ঃ “হিজরত করে যেসব নারী আসবে এবং তাদের খাঁটি মুমিনা হওয়া এবং আন্তরিকতার সাথে হিজরত করার অবস্থাও জানা যাবে তখন তোমরা তাদের কাফির স্বামীদেরকে তাদের দেয়া মহর ফিরিয়ে দিবে।” অনুরূপভাবে কাফিরদেরকেও এই হুকুম শুনিয়ে দেয়া হয়। এই হুকুমের কারণ ঐ চুক্তিপত্র ছিল যা সবেমাত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। হযরত উমার (রাঃ) তাঁর যে দু’টি কাফিরা স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন তাদের একজনের নাম ছিল কুরাইবা। (তাফসীরে বাগাভীতে এর নাম রয়েছে ফাতিমা) সে আবূ উমাইয়া ইবনে মুগীরার কন্যা ছিল। অপরটির নাম ছিল কুলসূম এবং সে ছিল আমর ইবনে জারওয়ান খুযায়ীর কন্যা। সে-ই ছিল হযরত আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর মাতা। তাকে আবূ জাহাম ইবনে হুযাইফা ইবনে গানিম খুযায়ী বিয়ে করে নিয়েছিল। এও মুশরিক ছিল। এই হুকুমের ভিত্তিতেই হযরত তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ্ (রাঃ) তার কাফিরা স্ত্রী আরওয়া বিনতে বাবীআহ্ ইবনে হারিস ইবনে আবদিল মুত্তালিবকে তালাক দিয়ে দেন। তাকে খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে। আ’স বিয়ে করে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ এরপর বলেনঃ হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের (কাফিরা) স্ত্রীদের উপর যা খরচ করেছো তা তোমরা কাফিরদের নিকট হতে নিয়ে নাও যখন তারা তাদের মধ্যে চলে যাবে। আর কাফিরদের যেসব স্ত্রী মুসলমান হয়ে তোমাদের নিকট চলে আসবে তাদেরকে তোমরা দিয়ে দাও যা তারা তাদের এই স্ত্রীদের উপর খরচ করেছে।

এটাই আল্লাহর বিধান। তিনি মুমিনদের মধ্যে ফায়সালা করে থাকেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। বান্দাদের জন্যে কি যোগ্য ও উপযুক্ত তা তিনি পূর্ণরূপে ওয়াকিফহাল। তার কোন হুকুমই হিকমত শূন্য নয়। কারণ সাধারণভাবে তিনিই প্রজ্ঞাময়।

(আরবী)-এই আয়াতের ভাবার্থ হযরত কাতাদা (রঃ) এই বর্ণনা করেনঃ হে মুমিনগণ! যে কাফিরদের সাথে তোমাদের সন্ধি ও চুক্তি হয়নি, যদি কোন স্ত্রী তার মুসলমান স্বামীর ঘর হতে বের হয়ে গিয়ে তাদের সাথে মিলিত হয় তবে এটা প্রকাশমান যে, তার মুসলমান স্বামী তার উপর যা খরচ করেছে তা তারা ফেরত দিবে না। সুতরাং এর বিনিময়ে তোমাদেরকেও অনুমতি দেয়া হচ্ছে যে, যদি তাদের মধ্য হতে কোন নারী মুসলমান হয়ে তোমাদের মধ্যে চলে আসে তবে তোমরাও তার স্বামীকে কিছুই দিবে না, যে পর্যন্ত না তারা তোমাদেরকে দেয়।

হযরত যুহরী (রঃ বলেন যে, মুসলমানরা তো আল্লাহ্ তা'আলার এই হুকুম পালন করেছিল এবং কাফিরদের যেসব স্ত্রী মুসলমান হয়ে হিজরত করে চলে এসেছিল, তাদের স্বামীদেরকে তারা তাদের দেয়া মহর ফিরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মুশরিকরা আল্লাহ্ তা'আলার এই হুকুম মানতে অস্বীকার করে। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং মুসলমানদেরকে অনুমতি দিয়ে বলা হয় যদি তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ হাত ছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট চলে যায় এবং তারা তোমাদেরকে তোমাদের খরচকৃত জিনিস না দেয় তবে যখন তাদের মধ্য হতে কোন নারী তোমাদের নিকট চলে আসবে তখন তোমরা তোমাদের কত খরচ বের করে দিয়ে কিছু অতিরিক্ত হলে তা তাদেরকে প্রদান করবে, অন্যথায় মুআমালা এখান হতেই শেষ হয়ে যাবে অর্থাৎ তাদেরকে কিছুই দিতে হবে না।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে এর ভাবার্থ বর্ণিত আছেঃ এতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে হুকুম দেয়া হচ্ছে যে, যে মুসলিম নারী কাফিরদের মধ্যে চলে যাবে এবং কাফিররা তার স্বামীকে তার কৃত খরচ প্রদান না করবে, তাকে তিনি গানীমতের মাল হতে তার খরচ পরিমাণ প্রদান করবেন। সুতরাং (আরবী)-এর অর্থ দাঁড়ালোঃ হে মুমিনগণ! এর পর যদি তোমরা কুরায়েশদের হতে অথবা কাফিরদের অন্য কোন দল হতে গানীমতের মাল লাভ কর তবে তোমাদের মধ্যে যাদের স্ত্রীরা কাফিরদের মধ্যে চলে গেছে তাদের খরচকৃত মালের সমপরিমাণ তাদেরকে তা হতে দিয়ে দাও। অর্থাৎ মহরে মিসাল প্রদান কর। এই উক্তিগুলোতে বৈপরীত্য কিছুই নেই। ভাবার্থ এই যে, প্রথম রূপ যদি সম্ভব হয় তবে তো ভাল কথা, অন্যথায় গানীমতের মাল হতে তাদের প্রাপ্য তাদেরকে দিয়ে দিতে হবে। দুটোতেই ইখতিয়ার রয়েছে এবং হুকুমের মধ্যে প্রশস্ততা আছে। হযরত ইবনে জারীর (রঃ) এই আনুকূল্যই পছন্দ করেছেন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলারই জন্যে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।