আল কুরআন


সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 86)

সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 86)



হরকত ছাড়া:

والذين كفروا وكذبوا بآياتنا أولئك أصحاب الجحيم ﴿٨٦﴾




হরকত সহ:

وَ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ ﴿۸۶﴾




উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনাউলাইকা আসহা-বুল জাহীম।




আল বায়ান: আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৬. আর যারা কুফরী করেছে ও আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা আমার আয়াতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করবে ও মিথ্যা জানবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।




আহসানুল বায়ান: (৮৬) এবং যারা অবিশ্বাস করেছে ও আমার আয়াত (বাক্যসমূহ)কে মিথ্যাজ্ঞান করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।



মুজিবুর রহমান: আর যারা কাফির হয়েছে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।



ফযলুর রহমান: আর যারা অবিশ্বাস করেছে আর আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে।



মুহিউদ্দিন খান: যারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলেছে, তারাই দোযখী।



জহুরুল হক: আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও আমাদের নির্দেশসমূহে মিথ্যারোপ করে, তারা হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা।



Sahih International: But those who disbelieved and denied Our signs - they are the companions of Hellfire.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৬. আর যারা কুফরী করেছে ও আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৬) এবং যারা অবিশ্বাস করেছে ও আমার আয়াত (বাক্যসমূহ)কে মিথ্যাজ্ঞান করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:



(وَإِذَا سَمِعُوْا مَآ أُنْزِلَ إِلَي الرَّسُوْلِ)



‘রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন তারা শ্রবণ করে’মুসলিমদের প্রতি খ্রিস্টানদের সৌহার্দ্য, ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্বের এটি আরেকটি কারণ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য জেনে তাদের চোখ দিয়ে অশ্র“ ঝরে এবং ঈমান আনে। তারা বলে:



(وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَا جَا۬ءَنَا مِنَ الْحَقِّ لا وَنَطْمَعُ أَنْ يُّدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصّٰلِحِيْنَ)‏



“আমাদের কী হল যে, আমরা ‘আল্লাহ এবং আমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তার ওপর ঈমান আনব না অথচ আমরা প্রত্যাশা করি, আল্লাহ আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।’এগুলো হল অধিকাংশ খ্রিস্টানদের গুণ, কারণ তারা সত্য গ্রহণে হিংসা করে না যেমন হিংসা ও অহংকার করে থাকে ইয়াহূদীরা। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ يُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِيْنَ لِلّٰهِ)



“আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবের মধ্যে এরূপ লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং তোমাদের প্রতি ও তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে আল্লাহর ভয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে।”(সূরা আলি-ইমরান ৩:১৯৯)



এদের ব্যাপারে আরো বলেন:



(اَلَّذِيْنَ اٰتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِه۪ هُمْ بِه۪ يُؤْمِنُوْنَ)



“তার পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা তাতে বিশ্বাস করে।”(সূরা কাসাস ২৮:৫২) মহান আল্লাহ তা‘আলা এসব সৎ ব্যক্তিদের জন্য প্রতিদানস্বরূপ তৈরি করে রেখেছেন জান্নাত। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।



সুতরাং ইসলাম ও মুসলিমদের প্রধান শত্র“ ইয়াহূদী ও মুশরিকদের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা উচিত। কেননা ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হত্যা করার চক্রান্ত করেছে, মুসলিমদের ওপর নির্যাতন করেছে। বারংবার বিশ্বাস ঘাতকতা ও ষড়যন্ত্র করার অপরাধে ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা উমার (রাঃ) তাদেরকে মদীনাহ থেকে বহিষ্কার করলেন। এরপর থেকে তারা ভবঘুরের মত বিশ্বের দ্বারে দ্বারে উ™£ান্তের ন্যায় একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জনে জনে ঘুরে বেড়ায়। ইতিহাস খ্যাত বিশ্বাসঘাতক জাতি হওয়ায় কোথাও তাদের ঠাঁই হলনা। হিটলারের ধ্বংসযজ্ঞে পড়ে নিজেদের অস্তিত্ব যখন বিলীনের দ্বার প্রান্তে তখন দয়ার পরশ হয়ে ফিলিস্তীনের মুসলিমগণ তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আজ সেই আশ্রয়দানকারীরাই ভিটে-মাটি হারিয়ে আপন দেশেই মুসাফির। রক্তের বন্যা বইছে পবিত্র নগরীতে। হায়, বিশ্বাসঘাতক জাতি!!! মুসলিমদের বোধদয় হবে কি?



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুসলিমদের এক নম্বর শত্র“ ইয়াহূদী ও অন্যান্য ধর্মালম্বী মুশরিক।

২. মুসলিমদের প্রতি সৌহার্দ্য ও ঈমান আনয়নের দিক দিয়ে ইসলামের নিকটবর্তী খ্রিস্টানগণ।

৩. ঈমানদার খ্রিস্টানদের একাধিক গুণাবলীর অন্যতম হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনা।

৪. সৎ ও অসৎ ব্যক্তির পরকালীন ফলাফল জান্নাত ও জাহান্নাম।

৫. আল্লাহ তা‘আলার লা‘নতপ্রাপ্ত ও পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত ইয়াহূদী জাতি থেকে সাবধান হতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ পাক বলছেন-যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর অবতারিত অহী শ্রবণ করে তখন হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি তাদেরকে দেখতে পাও যে, তাদের চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়েছে। কেননা, তারা সেই ভবিষ্যত সুসংবাদ সম্পর্কে অবহিত হয়ে গেছে যা (তারা মুহাম্মাদ সঃ -এর প্রেরিতত্ব সম্পর্কীয় সংবাদ) তাদের কিতাব তাওরাত ও ইঞ্জীলে দেখেছিল। তাই তারা বলতে শুরু করে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর ঈমান এনেছি। সুতরাং আপনি আমাদের ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সাক্ষ্য দান করেছে ও ঈমান এনেছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) দ্বারা হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) ও তাঁর উম্মতকে বুঝানো হয়েছে, যারা তাদের নবী (সঃ)-এর জন্যে সাক্ষ্য দান করেছিলেন যে, নবী (সঃ) প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্যান্য রাসূলদের জন্যেও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁরাও তাবলীগের দায়িত্ব পালন করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরও বলেন যে, লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা কৃষক শ্রেণীর লোক ছিলেন এবং হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর সাথে আবিসিনিয়া হতে এসেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন তাদেরকে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনান তখন তারা ঈমান আনেন। ঐ সময় তাঁদের চোখে অশ্রু দেখা দেয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে বলেনঃ “যখন তোমরা স্বদেশে ফিরে যাবে তখন তোমাদের পূর্ব মাযহাবে ফিরে যাবে না তো?” তাঁরা উত্তরে বলেনঃ ‘আমরা আমাদের এ দ্বীন হতে কখনও ফিরে যাবো না। মহান আল্লাহ তাঁদের উক্তিকে এভাবে নকল করেছেন- (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের এমন কি ওযর আছে যে, আমরা ঈমান আনবো না আল্লাহর প্রতি এবং সেই সত্যের প্রতি যা আমাদের কাছে এসেছে? অথচ আমরা এ আশা রাখবো যে, আমাদের প্রভু সৎ লোকদের সাথে আমাদেরকে শামিল করবেন।” ঐ লোকগুলো ছিলেন নাসারা যাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ “আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে ঐ কিতাবের উপর যা তোমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তাদের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, আর আল্লাহর সামনে তারা বিনয় প্রকাশ করে।” অন্য জায়গায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যখন তাদের সামনে (কুরআন) পাঠ করা হয় তখন তারা বলে-আমরা এর উপর ঈমান এনেছি, এটা আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য, আমরা তো ইতিপূর্বেই মুসলমান ছিলাম।” এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা এখানে বলেনঃ “এ স্বীকারোক্তির কারণে আল্লাহ তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহ প্রদান করবেন যেগুলোর নিম্নদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে, তারা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। এক মুহূর্তের জন্যেও তাদেরকে সেখান থেকে সরানো হবে না, সৎকর্মশীলদের প্রতিদান এটাই।” অতঃপর তিনি দুষ্ট লোকদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ যারা কুফরী করলো এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।