সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 65)
হরকত ছাড়া:
ولو أن أهل الكتاب آمنوا واتقوا لكفرنا عنهم سيئاتهم ولأدخلناهم جنات النعيم ﴿٦٥﴾
হরকত সহ:
وَ لَوْ اَنَّ اَهْلَ الْکِتٰبِ اٰمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَکَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَ لَاَدْخَلْنٰهُمْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ﴿۶۵﴾
উচ্চারণ: ওয়ালাও আন্না আহলাল কিতা-বি আ-মানূওয়াত্তাকাও লাকাফফারনা-‘আনহুম ছাইয়িআতিহিম ওয়ালা আদখালনা-হুম জান্না-তিন না‘ঈম।
আল বায়ান: আর যদি কিতাবীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমি তাদের থেকে পাপগুলো দূর করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে আরামদায়ক জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাতাম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৫. আর যদি কিতাবীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমরা তাদের পাপসমূহ অবশ্যই মুছে ফেলতাম এবং তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।
তাইসীরুল ক্বুরআন: গ্রন্থধারীরা যদি ঈমান আনতো আর তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি তাদের পাপ অবশ্যই মোচন করে দিতাম আর তাদেরকে নিআমতে ভরা জান্নাতে অবশ্যই দাখিল করতাম।
আহসানুল বায়ান: (৬৫) ঐশীগ্রন্থধারিগণ যদি বিশ্বাস করত ও সংযমী হত,[1] তাহলে আমি তাদের দোষ অপনোদন করতাম এবং তাদেরকে সুখদায়ক উদ্যানে প্রবেশাধিকার দান করতাম।
মুজিবুর রহমান: আর এই আহলে কিতাব (ইয়াহুদী ও নাসারাহ্) যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, আমি অবশ্যই তাদের সমস্ত অন্যায় ক্ষমা করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে নি‘আমাতের উদ্যানসমূহে দাখিল করতাম।
ফযলুর রহমান: কিতাবীরা যদি ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি তাদের পাপসমূহ মার্জনা করে দিতাম এবং তাদেরকে সুখের বাগানে (বেহেশতে) প্রবেশ করাতাম।
মুহিউদ্দিন খান: আর যদি আহলে-কিতাবরা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং খোদাভীতি অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নেয়ামতের উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করতাম।
জহুরুল হক: আর যদি গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা ঈমান আনতো এবং ভয়-শ্রদ্ধা করতো, তবে নিশ্চয়ই আমরা তাদের দোষ-ত্রুটি তাদের থেকে মুছে দিতাম, আর তাদের অবশ্যই প্রবেশ করাতাম আনন্দময় স্বর্গোদ্যানে।
Sahih International: And if only the People of the Scripture had believed and feared Allah, We would have removed from them their misdeeds and admitted them to Gardens of Pleasure.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৫. আর যদি কিতাবীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমরা তাদের পাপসমূহ অবশ্যই মুছে ফেলতাম এবং তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৫) ঐশীগ্রন্থধারিগণ যদি বিশ্বাস করত ও সংযমী হত,[1] তাহলে আমি তাদের দোষ অপনোদন করতাম এবং তাদেরকে সুখদায়ক উদ্যানে প্রবেশাধিকার দান করতাম।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ আল্লাহর নিকট যে ঈমান বাঞ্ছনীয়, তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনয়ন করা। যেমনটি ইতিপূর্বে সমস্ত নাযিলকৃত গ্রন্থে এই একই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ-ভীতি অবলম্বন করা ও তাঁর অবাধ্যাচরণ থেকে দূরে থাকার মধ্যে সব থেকে বড় কুকর্ম হল সেই শিরক, যাতে তারা পুরোপুরি ডুবে আছে এবং সেই অস্বীকার, যা শেষ রসূলের সাথে তারা অবলম্বন করেছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬৪-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে ইয়াহূদীদের যেসব ঘৃণিত আক্বীদাহ রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।
সূরা বাকারার ২৪৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
(مَنْ ذَا الَّذِيْ يُقْرِضُ اللّٰهَ قَرْضًا حَسَنًا)
“কে আছে যে আল্লাহকে করযে হাসানা দেবে?” যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলাকে উত্তম ঋণ দেবে আল্লাহ তা‘আলা তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। তখন ইয়াহূদীরা বলতে লাগল, আল্লাহ তা‘আলা তো ফকীর হয়ে গেছেন। লোকেদের কাছ থেকে ঋণ চাচ্ছেন। যেমন তাদের কথা আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنَّ اللّٰهَ فَقِيْرٌ وَّنَحْنُ أَغْنِيَا۬ءُ)
“আল্লাহ দরিদ্র আর আমরা ধনবান।”(আলি-ইমরান ৪:১৮১)
তাদের সে কথাই আল্লাহ তা‘আলা আবার এখানে উল্লেখ করছেন: তারা বলে যে, আল্লাহ তা‘আলার হাত সংকীর্ণ হয়ে গেছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কৃপণ, তিনি ব্যয় করেন না।
আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতিবাদ করে বলছেন: আল্লাহ তা‘আলা কৃপণ নন, আল্লাহ তা‘আলা ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না; বরং তারাই ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَمْ لَهُمْ نَصِيْبٌ مِّنَ الْمُلْكِ فَإِذًا لَّا يُؤْتُوْنَ النَّاسَ نَقِيْرًا)
“তাদের কি রাজত্বে কোন অংশ আছে? যদি তাদের কোন অংশ থাকত তাহলে তারা লোকেদের তিল পরিমাণও দিত না।”(সূরা নিসা ৪:৫৩)
বরং আল্লাহ তা‘আলার উভয় হাত প্রশস্ত, তিনি ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না, যেমন ইচ্ছা তেমন ব্যয় করেন। তিনি আরো বলেন:
(وَاٰتٰكُمْ مِّنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ ط وَإِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ لَا تُحْصُوْهَا ط إِنَّ الْإِنْسَانَ لَظَلُوْمٌ كَفَّارٌ)
“এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তোমরা তাঁর নিকট যা চেয়েছ, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। মানুষ অবশ্যই অতি মাত্রায় জালিম, অকৃতজ্ঞ।”(সূরা ইবরাহীম ১৪:৩৪)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আল্লাহ তা‘আলার ডান হাত পরিপূর্ণ। তিনি দিবা-রাত্রি ব্যয় করেন, তাঁর ভাণ্ডার কোন রকম হ্রাস পায় না, লক্ষ্য কর যখন থেকে তিনি আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে অদ্যাবধি ব্যয় করে আসছেন কিন্তু তার ধনভাণ্ডারে কোন ঘাটতি হয় না। (সহীহ বুখারী হা: ৭৪১৯, সহীহ মুসলিম হা: ৯৯৩)
আল্লাহ তা‘আলা তাদের কঠোর প্রতিবাদ করে নিজের সঠিক পরিচয় তুলে ধরলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(بَلْ یَدٰھُ مَبْسُوْطَتٰنِ)
“বরং আল্লাহর উভয় হাতই প্রসারিত” এ আয়াতে যেমন ইয়াহূদীদের প্রতিবাদ করা হচ্ছে তেমনি আল্লাহ তা‘আলার একটি অন্যতম সিফাত বা গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে। তা হল আল্লাহ তা‘আলার হাত রয়েছে এবং তা দু’টি। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস হল: আল্লাহ তা‘আলার হাত রয়েছে। তবে এর ধরন-গঠন কিরূপ তা আমরা জানি না এবং কোন মাখলুকের হাতের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করি না। আল্লাহ তা‘আলার হাতের কোন অপব্যাখ্যা, বিকৃতি ও অস্বীকৃতি করি না, বরং মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য যেরূপ হলে শোভা পায় সেরূপই তাঁর দু’টি হাত রয়েছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
(وَلَيَزِيْدَنَّ كَثِيْرًا مِّنْهُمْ)
‘তা তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও কুফরী বৃদ্ধি করবেই’অর্থাৎ কুরআন কাফিরদের অবাধ্যতা ও কুফরীই বৃদ্ধি করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا هُدًي وَّشِفَا۬ءٌ ط وَالَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ فِيْٓ اٰذَانِهِمْ وَقْرٌ وَّهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًي)
“বল: মু’মিনদের জন্য এটা পথ-নির্দেশ ও ব্যাধির প্রতিকার; কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন হবে তাদের জন্য অন্ধত্ব”(সূরা হা-মীম সিজদাহ ৪১:৪৪)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَا۬ءٌ وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ لا وَلَا يَزِيْدُ الظَّالِمِيْنَ إِلَّا خَسَارًا)
“আমি কুরআনে এমন আয়াত অবতীর্ণ করি, যা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু সেটা জালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।”(সূরা ইসরা ১৭:৮২)
আর কিয়ামত অবধি আল্লাহ তা‘আলা তাদের মাঝে শত্র“তা বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। ফলে কোন যুদ্ধের পরিকল্পনা করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন।
(وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرٰةَ...)
‘তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জীল ও তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত’ অর্থাৎ যদি ইয়াহূদী ও খ্রীস্টানরা তাওরাত ও ইঞ্জীলের ওপর আমল করত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে তার প্রতিও আমল করত, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আকাশ এবং জমিন থেকে রিযিক দিতেন। এ সুযোগ আল্লাহ তা‘আলা সবাইকে দিয়েছিলেন। যেমন নূহ (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন:
(فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ قف إِنَّه۫ كَانَ غَفَّارًا - يُّرْسِلِ السَّمَا۬ءَ عَلَيْكُمْ مِّدْرَارًا - وَّيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَّبَنِيْنَ وَيَجْعَلْ لَّكُمْ جَنّٰتٍ وَّيَجْعَلْ لَّكُمْ أَنْهٰرًا)
“আমি বলেছি: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি তো অতিশয় ক্ষমাশীল; তিনি তোমাদের জন্য আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টি দান করবেন, তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য বাগানসমূহ সৃষ্টি করবেন ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।”(সূরা নূহ ৭১:১০-১২)
হূদ (আঃ) তার সম্প্রদায়কে বললেন:
(وَيٰقَوْمِ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوْبُوْآ إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَا۬ءَ عَلَيْكُمْ مِّدْرَارًا وَّيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلٰي قُوَّتِكُمْ)
‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর অনুশোচনা করে তাঁর দিকেই ফিরে আস। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বারি বর্ষাবেন। তিনি তোমাদেরকে আরও শক্তি দিয়ে তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন।’(সূরা হূদ ১১:৫২)
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মাতকে বললেন:
(وَّأَنِ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوْبُوْآ إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَّتَاعًا حَسَنًا إِلٰٓي أَجَلٍ مُّسَمًّي)
“তবে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও অনুশোচনা করে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্টকালের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন।”(সূরা হূদ ১১:৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرٰٓي اٰمَنُوْا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَا۬ءِ وَالْأَرْضِ)
“যদি সে সকল জনপদের অধিবাসীগণ ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।”(সূরা আ‘রাফ ৭:৯৬)
তাই আল্লাহ তা‘আলার দিকে ফিরে গেলে, সৎ আমল করলে আল্লাহ তা‘আলা রিযিকের ভাণ্ডার খুলে দেবেন। আমাদের সে পথেই ফিরে আসা উচিত।
(مِنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ)
‘তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যমপন্থী’আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবদেরকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন। একদল মধ্যম পন্থী; যেমন আবদুল্লাহ বিন সালামসহ আট-নয় জন সাহাবী যারা মদীনায় ইয়াহূদীদের মধ্য হতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর বাকি অধিকাংশরাই খারাপ প্রকৃতির মানুষ।
উম্মাতে মুহাম্মাদীকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَمِنْهُمْ ظٰلِمٌ لِّنَفْسِه۪ ج وَمِنْهُمْ مُّقْتَصِدٌ ج وَمِنْهُمْ سَابِقٌۭ بِالْخَيْرٰتِ بِإِذْنِ اللّٰهِ ط ذٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيْرُ)
“তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, তাদের কেউ কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় নেক কাজে অগ্রবর্তী। এটাই বড় সাফল্য।”(সূরা ফাতির ৩৫:৩২)
তবে এ তিন শ্রেণির সবাইকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন:
(جَنّٰتُ عَدْنٍ يَّدْخُلُوْنَهَا يُحَلَّوْنَ فِيْهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّلُؤْلُؤًا ج وَلِبَاسُهُمْ فِيْهَا حَرِيْرٌ )
“তারা প্রবেশ করবে অনন্তকাল অবস্থানোপযোগী জান্নাতে, তথায় তাদেরকে পরানো হবে স্বর্ণের বালা ও মুক্তা এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।”(সূরা ফাতির ৩৫:৩৩)
৪র্থ একটি দলের কথা বলেছেন যারা কাফির। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ ج لَا يُقْضٰي عَلَيْهِمْ فَيَمُوْتُوْا)
“আর যার কুফরী করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে।”(সূরা ফাতির ৩৫:৩৬) (আযআউল বায়ান ২/৭৯)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার দু’টি হাত রয়েছে, তবে তাঁর হাতদ্বয় কেমন তা আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
২. ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদের মাঝে পরস্পর শত্র“তা বিদ্যমান।
৩. যারাই তাক্বওয়া অবলম্বন ও সৎ আমল করবে তাদের জন্য রয়েছে অপরিমেয় রিযিক।
৪. উম্মাতে মুহাম্মাদীকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যার তিন ভাগই জান্নাতী।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬৪-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর:
অভিশপ্ত ইয়াহূদীদের একটি জঘন্য উক্তির বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তারা মহান আল্লাহকে কৃপণ বলতো। তারাই আল্লাহ পাককে দরিদ্রও বলতো। আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা সেই অপবিত্র উক্তির বহু ঊর্ধ্বে। সুতরাং “আল্লাহর হাত বন্ধ হয়ে আছে”- এটার ভাবার্থ তাদের নিকট এই ছিল না যে, তাঁর হাত বন্ধন মুক্ত রয়েছে। বরং এর দ্বারা তারা তাঁর কৃপণতা বুঝাতে চেয়েছিল। এ বাকরীতিই কুরআন কারীমের অন্য জায়গাতেও রয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “স্বীয় হাতকে নিজের গর্দানের সাথে বেঁধে রেখো না এবং সীমা থেকে বেশীও বিস্তার করো না, নচেৎ লজ্জিত হয়ে বসে পড়তে হবে।` (১৭:২৯) সুতরাং এ আয়াতে আল্লাহ কৃপণতা থেকে এবং অযথা ও অতিরিক্ত খরচ করা থেকে বিরত থাকতে বললেন। অতএব, ইয়াহূদীদেরও “হাত বন্ধন মুক্ত রয়েছে”-এ কথার উদ্দেশ্য এটাই ছিল। ফাখাস নামক ইয়াহুদী এ কথা বলেছিল। ঐ অভিশপ্ত ইয়াহূদীদেরই “আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী”-এ উক্তিও ছিল। ফলে হযরত আবু বকর (রাঃ) তাকে প্রহার করেছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহূদীদের শাস ইবনে কায়েস নামক একটি লোক বলেছিলঃ “নিশ্চয়ই তোমার প্রভু কৃপণ, তিনি খরচ বা দান করেন না। (তিবরানী (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে তাখরীজ করেছেন যে, এ উক্তিকারী ছিল শাস ইবনে কায়েস। আর আবুশ শায়েখ তাখরীজ করেছেন যে, এ উক্তিকারীর নাম হচ্ছে ফানহাস)
” তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং বলা হয় যে, কৃপণ, লাঞ্ছিত এবং কাপুরুষ হচ্ছে তারা নিজেরাই। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-“তারা যদি বাদশাহ হয়ে যায় তবে কাউকেও কিছুই দেবে না। বরং তারা তো অন্যদের নিয়ামত দেখে জ্বলে পুড়ে মরে। তারা লাঞ্ছিত লোক, বরং আল্লাহর হাত খোলা রয়েছে, তিনি অনেক কিছু খরচ করতে রয়েছেন, তাঁর ফসলও অনুগ্রহ প্রশস্ত, তাঁর দান সাধারণ। সব জিনিসের ভাণ্ডার তাঁরই হাতে রয়েছে। সমস্ত সৃষ্টজীব দিনরাত সব জায়গায় তারই মুখাপেক্ষী। যেমন আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা যা চেয়েছো তাই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন, যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করতে চাও তবে তা গুণে শেষ করতে পারবে না, নিশ্চয়ই মানুষ অত্যাচারী ও অকৃতজ্ঞ।` (১৪:৩৪) মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর দক্ষিণ হস্ত পরিপূর্ণ। রাত দিনের খরচ তাঁর ধনভাণ্ডারকে কমায় না। শুরু হতে আজ পর্যন্ত যত কিছু তিনি স্বীয় মাখলুককে দান করেছেন তা তাঁর ধনভাণ্ডারকে একটুও হ্রাস করেনি। প্রথমে তার আরশ পানির উপর ছিল। তার অপর হাতে ‘দান' অথবা অধিকার রয়েছে। ওটাই উঁচু করে এবং নীচু করে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমরা আমার পথে খরচ কর, আমিও তোমাদেরকে দান করবো। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও এ হাদীসটি রয়েছে।
ঘোষণা করা হচ্ছে-হে নবী (সঃ)! তোমার কাছে আল্লাহর নিয়ামত যত বৃদ্ধি পাবে, এ শয়তানদের কুফর ও হিংসা-বিদ্বেষ ততো বেড়ে যাবে। অনুরূপভাবে যেমন মুমিনদের ঈমান, আত্মসমর্পণ এবং আনুগত্য বৃদ্ধি পাবে তেমনই এসব ইয়াহুদী ও মুশরিকদের অবাধ্যতা, হঠকারিতা এবং হিংসা-বিদ্বেষ বাড়তে থাকবে। যেমন অন্য এক আয়াতে আছে (আরবী) অর্থাৎ “মুমিনদের জন্যে এটা তো হিদায়াত ও প্রতিষেধক এবং বেঈমানরা এর থেকে অন্ধ ও বধির, এদেরই দূর দূরান্ত থেকে ডাক দেয়া হচ্ছে।”(৪১৪ ৪৪) আর একটি আয়াতে আছে (আরবী) অর্থাৎ “আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যা মুমিনদের জন্যে প্রতিষেধক ও করুণা এবং এর দ্বারা অত্যাচারীদের ক্ষতিই বেড়ে যায়।” (১৭:৮২)
ইরশাদ হচ্ছে- তাদের পরস্পরের অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ ও বৈরীভাব কিয়ামত পর্যন্ত মিটবে না। তারা একে অপরের রক্ত পিপাসু। হক ও সত্যের উপর তাদের একতাবদ্ধ হওয়া অসম্ভব। তারা নিজেদেরই ধর্মের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করেছে। তাদের পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও শত্রুতা চলে আসছে এবং চলতে থাকবে। তারা মাঝে মাঝে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু প্রতিবারেই তাদেরকে পরাজয় বরণ করতে হয়। তাদের চক্রান্ত তাদেরই উপর প্রত্যাবর্তিত হয়। তারা অশান্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী এবং আল্লাহর শত্রু। কোন বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন না।
মহান আল্লাহ বলছেন-যদি এ আহলে কিতাব অর্থাৎ ইয়াহুদী ও নাসারারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর উপর ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, আর হারাম ও হালাল মেনে চলতো, তবে আমি তাদের কৃত সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দিতাম ও তাদেরকে সুখের উদ্যানে প্রবিষ্ট করতাম এবং তাদের উদ্দেশ্য সফল করতাম।
এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জীল এবং কুরআনকে মেনে নিতো, কেননা তাওরাত ও ইঞ্জীলকে মেনে নিলে কুরআনকে মেনে নেয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে; কারণ ঐ দুটি কিতাবের সঠিক শিক্ষা এটাই যে, কুরআন সত্য। কুরআনের ও শেষ নবী (সঃ)-এর সত্যতার স্বীকারোক্তি পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে রয়েছে, সুতরাং যদি তারা এ কিতাবাগুলোকে কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ছাড়াই মেনে নিতো, তবে ওগুলো তাদেরকে ইসলামের পথ দেখাতো, যে ইসলামের প্রচার নবী (সঃ) করেছেন, এমতাবস্থায় আল্লাহ পাক তাদেরকে দুনিয়ার সুখ শান্তিও প্রদান করতেন। আকাশ থেকে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করতেন। ফলে যমীন হতে সফল উৎপাদিত হতো। তখন উপর ও নীচের অর্থাৎ আসমান ও যমীনের বরকত তাদেরকে দান করা হতো। যেমন তিনি বলেছেন- (আরবী) অর্থাৎ “গ্রামবাসীরা যদি ঈমান আনতো ও তাকওয়া অবলম্বন করতো, তবে আমি অবশ্যই তাদের উপর আসমান ও যমীনের বরকত নাযিল করতাম” (৭৪৯৬) আর এক জায়গায় আছে- (আরবী) অর্থাৎ “মানুষের অসৎ কর্মের কারণে স্থলে ও পানিতে অশান্তি ও বিশৃংখলা প্রকাশিত হয়েছে।” (৩০:৪১) অর্থ এটাও হতে পারে, বিনা কষ্টে ও পরিশ্রমে আমি তাদেরকে প্রচুর ও বরকতপূর্ণ রিক বা খাদ্য দান করতাম। কেউ কেউ এ বাক্যের ভাবার্থ এও বর্ণনা করেছেন যে, ঐ লোকগুলো এরূপ করলে ভাল হয়ে যেতো। কিন্তু এ উক্তিটি পূর্ববর্তী গুরুজনদের উক্তির বিপরীত। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) এ জায়গায় একটি হাদীস এনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘এটা খুবই নিকটে যে, ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে।' একথা শুনে হযরত যিয়াদ ইবনে লাবীদ (রাঃ) আরয করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটা কিরূপে হতে পারে যে, ইলম উঠে যাবে? অথচ আমরা নিজেরা কুরআন পড়েছি এবং আমাদের সন্তানদেরকে তা শিখিয়েছি। তিনি তখন বলেনঃ “আফসোস! আমি তো তোমাকে মদীনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী মনে করতাম! তুমি কি দেখছো না যে, ইয়াহুদী ও নাসারাদের হাতেও তো তাওরাত ও ইঞ্জীল রয়েছে। কিন্তু এর দ্বারা তাদের কি উপকার হয়েছে? তারা তো আল্লাহর আহকাম পরিত্যাগ করেছে।” অতঃপর তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন। এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদেও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন একটি বিষয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ “এটা ইলম উঠে যাওয়ার সময় ঘটবে। তখন হযরত ইবনে লাবীদ (রাঃ) বলেনঃ ইলম কিরূপে উঠে যাবে? অথচ আমরা কুরআন পড়েছি এবং আমাদের সন্তানদেরকে তা শিখিয়েছি। তারা আবার তাদের সন্তানদেরকে শিখাবে। এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত এটা চালু থাকবে। এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) যা বলেছিলেন তা উপরে বর্ণিত হলো।
ইরশাদ হচ্ছে-তাদের মধ্যে একটি দল সরল-সঠিক পথের পথিকও রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কার্যকলাপ অতি জঘন্য। যেমন এক স্থানে মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মূসার কওমের মধ্যে একটি দল হকের হিদায়াত গ্রহণকারী এবং ওর মাধ্যমই আদল ও ইনসাফকারীও ছিল।` (৭:১৫৯) হযরত ঈসা (আঃ)-এর কওমের ব্যাপারে বলা হয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ “তাদের মধ্যকার ঈমানদার লোকদেরকে আমি তাদের পুণ্যের পুরস্কার দান করেছিলাম।” (৫৭:২৭) এটা মনে রাখার বিষয় যে, আহলে কিতাবের জন্যে মধ্যম শ্রেণীকে উত্তম শ্রেণী বলা হলো। আর উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার মধ্যে এ মর্যাদা হচ্ছে দ্বিতীয় একটি মর্যাদা, যার উপর তৃতীয় একটি মর্যাদার স্তরও রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী আমার কতক বান্দাকে বানিয়েছি, যাদের মধ্যে কতিপয় বান্দা তো নিজেদের নফসের উপর যুলুমকারী, কতিপয় বান্দা মধ্যমপন্থী এবং কতক বান্দা আল্লাহর হুকুমে পুণ্য অর্জনে অগ্রগামী। এটাই বড় অনুগ্রহ।” (৩৫:৩২) সুতরাং এ উম্মতের তিন প্রকারের লোকই জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইবনে মিরদুওয়াই (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা সাহাবীদের সামনে বলেনঃ “মূসা (আঃ)-এর উম্মতের একাত্তরটি দল হয়েছে, তন্মধ্যে একটি হবে জান্নাতী, বাকী সত্তরটি দল হবে জাহান্নামী। ঈসা (আঃ)-এর উম্মতের বাহাত্তরটি দল হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হবে জান্নাতী এবং বাকী একাত্তরটি হবে জাহান্নামী। আমার উম্মত এ দু’জনের চেয়ে বেড়ে যাবে। তাদেরও একটি দল জান্নাতী হবে এবং বাকী বাহাত্তরটি দল জাহান্নামী হবে।” জনগণ জিজ্ঞেস করলোঃ “ঐ দলটি কারা?
তিনি উত্তরে বললেনঃ ‘জামাআত, জামাআত।' ইয়াকূব ইবনে ইয়াযীদ বলেন যে, হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ) যখন এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন তখন কুরআন কারীমের। (আরবী) এবং (আরবী) (৭:১৮১) -এ আয়াতগুলোও পাঠ করতেন এবং বলতেন যে, এর দ্বারা উম্মতে মুহাম্মাদিয়াকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু এ শব্দে এবং এ সনদে হাদীসটি অত্যন্ত গারীব বা দুর্বল। সত্তরের উপর দলগুলোর হাদীসটি বহু সনদে বর্ণিত আছে, যা আমরা অন্য জায়গায় বর্ণনা করেছি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।