আল কুরআন


সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 120)

সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 120)



হরকত ছাড়া:

لله ملك السموات والأرض وما فيهن وهو على كل شيء قدير ﴿١٢٠﴾




হরকত সহ:

لِلّٰهِ مُلْکُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا فِیْهِنَّ ؕ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۱۲۰﴾




উচ্চারণ: লিল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া মা- ফীহিন্না ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।




আল বায়ান: আসমানসমূহ ও যমীন এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে তার রাজত্ব আল্লাহরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২০. আসমান ও যমীন এবং এদুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আসমানসমূহের আর যমীনের আর এদের মাঝে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।




আহসানুল বায়ান: (১২০) আকাশ ও ভূমন্ডলে এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে, তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।



মুজিবুর রহমান: আল্লাহরই জন্য অধিপত্য রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এবং ঐ সমস্ত কিছুর যা এতদুভয়ের মাঝে বিদ্যমান; আর তিনি সকল বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।



ফযলুর রহমান: আসমান ও জমিন এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে তার আধিপত্য আল্লাহরই। এবং তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।



মুহিউদ্দিন খান: নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ে অবস্থিত সবকিছুর আধিপত্য আল্লাহরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।



জহুরুল হক: মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব ও তাদের মধ্যে যা-কিছু আছে সে-সবই আল্লাহ্‌র। আর তিনি হচ্ছেন সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।



Sahih International: To Allah belongs the dominion of the heavens and the earth and whatever is within them. And He is over all things competent.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১২০. আসমান ও যমীন এবং এদুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১২০) আকাশ ও ভূমন্ডলে এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে, তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৯-১২০ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বলবেন: আজ সে-সব সত্যবাদীদের সততা উপকারে আসবে যারা দুনিয়াতে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। সত্যবাদী হল তারা যারা নিয়্যতে, কথায় ও আমলে সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিয়ামতের দিন তারা তাদের সততার প্রতিদানস্বরূপ নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত পাবে। (তাফসীর সা‘দী পৃঃ ২৪১)



ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন: সেদিন তাওহীদপন্থীরা তাদের তাওহীদের মাধ্যমে উপকৃত হবে। অর্থাৎ মুশরিকদের ক্ষমা ও পরিত্রাণের কোন রাস্তাই থাকবে না। (ইবনে কাসীর, ৩ /২৭০)



জান্নাতবাসীদের ওপর আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট থাকবেন এবং তারাও আল্লাহ তা‘আলার ওপর সন্তুষ্ট থাকবে। আর আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় সফলতা।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ أَكْبَرُ)



“আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ।”(সূরা তাওবাহ ৯:৭২)



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবেন: হে জান্নাতবাসীরা! জান্নাতবাসীরা বলবে: আপনার আহ্বানে আমরা হাজির, সকল কল্যাণ আপনার হাতে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট? তখন তারা বলবে: হে আমাদের রব, কেন আমরা সন্তুষ্ট থাকব না, অথচ আমাদের এমন কিছু দিয়েছেন যা আপনার কোন সৃষ্টিকে দেননি? আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দেব! তারা বলবে: এর চেয়ে উত্তম আর কী? আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমাদের জন্য আমার সন্তুষ্টি অবধারিত হয়ে গেল আর কখনো অসন্তুষ্ট হব না। (সহীহ বুখারী হা: ৭৫১৮)



সুতরাং আখিরাতকে নষ্ট করে দুনিয়ার সামান্য সম্পদ, সুনাম ও ক্ষমতা অর্জন করাই প্রকৃত সফলতা নয়, বরং প্রকৃত সফলতা হল আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিল করে জান্নাতের অধিবাসী হওয়া। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সে লক্ষ্যে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল মানুষ কিয়ামতের দিন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

২. যাদেরকে কেন্দ্র করে শির্ক করা হয়েছে তাদেরকেও কৈফিয়ত দিতে হবে।

৩. ঈসা (আঃ) ও তাঁর মা কোন ইলাহ নন। বরং ঈসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর মা একজন নেককার বান্দী ছিলেন।

৪. সকল নাবীগণই এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন।

৫. শাস্তি দেয়া না দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

৬. নাবীরা ছিলেন উম্মাতের প্রতি দয়ালু।

৭. গায়েবের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, কোন নাবী ও নৈকট্যশীল ফেরেশতাও নন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১১৯-১২০ নং আয়াতের তাফসীর:

ঈসা (আঃ) যে বিপথগামী ও মিথ্যাবাদী খ্রীষ্টানদের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন সে কথারই জবাব দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, (আরবী) অর্থাৎ আজকের দিনে একত্ববাদীদের একত্ববাদ এবং সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা উপকার দেবে। তারা প্রবাহিত নহর বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে। সেখান থেকে না তাদেরকে বের করা হবে, না তারা মুহূর্তের জন্যে জান্নাত পরিত্যাগ করবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় কথা।' (৯:৭২) এ আয়াতের সঙ্গে যে হাদীস সম্পর্কযুক্ত রয়েছে তা সত্বরই আসছে। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) হযরত আনাস (রাঃ) হতে মারফু’রূপে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- সেই দিন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ উজ্জ্বল দীপ্তিমান অবস্থায় প্রকাশিত হবেন এবং বলবেনঃ ‘তোমরা চাও, আমি তোমাদেরকে প্রদান করবো।' তিনি বলেন যে, তখন তারা তাঁর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করবে। তিনি তখন কলবেনঃ ‘আমার সন্তুষ্টিই তো তোমাদেরকে আমার ঘরে নিয়ে এসেছে। জনগণ পুনরায় তাঁর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করবে। তখন তিনি বলবেনঃ “তোমরা সাক্ষী থাক যে, মহান আল্লাহ তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ এটাই হচ্ছে বড় সফলতা (৯:৭২) (এরূপ সফলতা আমি আর কাউকেও প্রদান করি না) মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ আমলকারীদের এরূপ আমলই করা উচিত (৩৭:৬১) আল্লাহ তাআলা আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ এ কাজেই প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। (৮৩:২৬) (আরবী) অর্থাৎ তিনিই সমস্ত জিনিসের সৃষ্টিকর্তা। তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপরই পূর্ণ ক্ষমতাবান। সব কিছুরই উপর তাঁর পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। তার সাথে কেউই তুলনীয় নয় এবং তার কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। তাঁর পিতাও নেই, পুত্রও নেই এবং স্ত্রীও নেই। তিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।