সূরা আল-মুজাদালা (আয়াত: 14)
হরকত ছাড়া:
ألم تر إلى الذين تولوا قوما غضب الله عليهم ما هم منكم ولا منهم ويحلفون على الكذب وهم يعلمون ﴿١٤﴾
হরকত সহ:
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ تَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ ؕ مَا هُمْ مِّنْکُمْ وَ لَا مِنْهُمْ ۙ وَ یَحْلِفُوْنَ عَلَی الْکَذِبِ وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ ﴿۱۴﴾
উচ্চারণ: আলাম তারা ইলাল্লাযীনা তাওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম মা-হুম মিনকুম ওয়ালা-মিনহুম ওয়া ইয়াহলিফূনা ‘আলাল কাযিবি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: তুমি কি তাদের লক্ষ্য করনি, যারা এমন এক কওমের সাথে বন্ধুত্ব করে যাদের উপর আল্লাহর গযব নিপতিত হয়েছে? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয় এবং তোমরাও তাদের দলভুক্ত নও। আর তারা জেনে শুনেই মিথ্যার উপর কসম করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪. আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে যাদের উপর আল্লাহ ক্ৰোধান্বিত হয়েছেন? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয়। আর তোমরাও তাদের দলভুক্ত নও। আর তারা জেনে শুনে মিথ্যার উপর শপথ করে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যেই সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত? তারা না তোমাদের লোক, আর না তাদের লোক আর তারা জেনে শুনে মিথ্যে শপথ করে।
আহসানুল বায়ান: (১৪) তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা সেই সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে, যাদের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিতত?[1] তারা (মুনাফিকগণ) তোমাদের দলভুক্ত নয়, তাদেরও দলভুক্ত নয়।[2] আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যা শপথ করে।[3]
মুজিবুর রহমান: তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা আল্লাহ যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে? তারা তোমাদের (মুসলিমদের) দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও (ইয়াহুদদের) দলভুক্ত নয় এবং তারা জেনে মিথ্যা শপথ করে।
ফযলুর রহমান: তুমি কি তাদের (মোনাফেকদের) দিকে তাকিয়ে দেখনি, যারা এমন একদল লোকের সাথে (ইহুদিদের সাথে) বন্ধুত্ব করে, যাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ আছে? তারা তোমাদের (মুসলমানদের) লোকও নয়, আবার তাদের (ইহুদিদের) লোকও নয়। তারা জেনে বুঝে মিথ্যা বিষয়ে শপথ করে।
মুহিউদ্দিন খান: আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর গযবে নিপতিত সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে? তারা মুসলমানদের দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও দলভূক্ত নয়। তারা জেনেশুনে মিথ্যা বিষয়ে শপথ করে।
জহুরুল হক: তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যারা এমন এক জাতির সহিত বন্ধুত্ব পাতে যাদের উপরে আল্লাহ্ রুষ্ট হয়েছেন? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয় আর তাদেরও অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তারা জেনে-শুনেই মিথ্যা হলফ করে।
Sahih International: Have you not considered those who make allies of a people with whom Allah has become angry? They are neither of you nor of them, and they swear to untruth while they know [they are lying].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৪. আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে যাদের উপর আল্লাহ ক্ৰোধান্বিত হয়েছেন? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয়। আর তোমরাও তাদের দলভুক্ত নও। আর তারা জেনে শুনে মিথ্যার উপর শপথ করে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৪) তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা সেই সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে, যাদের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিতত?[1] তারা (মুনাফিকগণ) তোমাদের দলভুক্ত নয়, তাদেরও দলভুক্ত নয়।[2] আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যা শপথ করে।[3]
তাফসীর:
[1] ‘যাদের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত’ কুরআনের স্পষ্ট উক্তি মুতাবেক তারা হল ইয়াহুদী। আর তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করেছিল, তারা ছিল মুনাফিক। এই আয়াতগুলি সেই সময় নাযিল হয়, যখন মদীনাতে মুনাফিকদেরও বড় দাপট ছিল এবং ইয়াহুীদের ষড়যন্ত্রও বহু শীর্ষে উঠেছিল। আর তখনও তাদেরকে (মদীনা থেকে) বহিষ্কার করা হয়নি।
[2] অর্থাৎ, মুনাফিকবরা না মুসলিম ছিল, আর না ধর্মের দিক দিয়ে তারা ইয়াহুদী ছিল। তা সত্ত্বেও তারা ইয়াহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব কেন করত? শুধু এই কারণে যে, তারা নবী করীম (সাঃ) এবং ইসলামের সাথে শত্রুতা করার ব্যাপারে ইয়াহুদীদের সমানভাবে শরীক ছিল।
[3] অর্থাৎ, কসম খেয়ে মুসলিমদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে, আমরাও তোমাদের মত মুসলিম। অথবা (বুঝাতে চায় যে,) ইয়াহুদীদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মদীনার মুনাফিকদের কথা উল্লেখ করছেন যারা ইয়াহূদীদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। এ-কথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসাসূচক শব্দে বলছেন। যারা আল্লাহ তা‘আলার শত্রুদের সাথে সম্পর্ক রাখে তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তারা মুনাফিক।
(قَوْمًا غَضِبَ اللّٰهُ)
এমন সম্প্রদায় যাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধ রয়েছে; তারা হল ইয়াহূদী জাতি। এ সকল মুনাফিকরা ওপরে ওপরে ঈমানের কথা বললেও প্রকৃত পক্ষে তারা মু’মিনদের মধ্যে শামিল নয় এবং ইয়াহূদীদের মধ্যেও শামিল নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(مُّذَبْذَبِيْنَ بَيْنَ ذٰلِكَ لَآ إِلٰي هٰٓؤُلَا۬ءِ وَلَآ إِلٰي هٰٓؤُلَا۬ءِ ط وَمَنْ يُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَه۫ سَبِيْلًا)
“দোটানায় দোদুল্যমান-না এদের দিকে, না ওদের দিকে! এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ পাবে না। (সূরা নিসা ৪ : ১৪৩)
(وَيَحْلِفُوْنَ عَلَي الْكَذِبِ)
অর্থাৎ এ সকল মুনাফিকরা জেনেশুনে মিথ্যা শপথ করে। এ শপথকে বলা হয় اليمين الغموس। তারা মু’মিনদের সাথে দেখা হলে বলে, আল্লাহ তা‘আলার শপথ! আমরাও ঈমান এনেছি, আবার ইয়াহূদীদের সাথে একত্রিত হলে বলে, আরে আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি। আমরা কেবল তাদের সাথে ঠাট্টা করি। এদের জন্যই আল্লাহ কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
(اِتَّخَذُوْآ أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً)
তারা তাদের শপথকে ঢালস্বরূপ গ্রহণ করে নিয়েছে। অর্থাৎ মু’মিনদের সাথে শপথ করে ঈমানের কথা বলে মু’মিনদের তিরস্কার থেকে বাঁচার জন্য, আবার ইয়াহূদীদের সাথে শপথ করে তাদের তিরস্কার থেকে বাঁচার জন্য।
(فَيَحْلِفُوْنَ لَه۫ كَمَا يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ) শানে নুযূল :
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক কক্ষের ছায়ায় বসেছিলেন এবং কতক সাহাবীও তাঁর সাথে ছিলেন। ছায়াযুক্ত স্থান কম ছিল। কষ্ট করে তাঁরা সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : দেখ, এখানে অচিরেই এমন একজন লোক আসবে যে শয়তানী দৃষ্টিতে তাকাবে। সে আসলে তোমরা কেউই তার সাথে কথা বলবে না। অল্পক্ষণের মধ্যেই টেরা চোখবিশিষ্ট একজন লোক আসল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডেকে নিয়ে বললেন : তুমি এবং অমুক অমুক লোক আমাকে গালি গালাজ কর কেন? এ কথা শুনেই লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কয়জনের নাম নিয়েছিলেন তাদের সবাইকে সে ডেকে নিয়ে আসল এবং সবাই শপথ করে বলল : তাদের কেউই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বেয়াদবীমূলক কথা বলেনি। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (আহমাদ হা. ২৪০৭, হাকেম ২/২৮৪ সনদ সহীহ)
(اِسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ) اِسْتَحْوَ ذَ শব্দের অর্থ হল :
ঘিরে নিয়েছে, বেষ্টন করে নিয়েছে, প্রভুত্ব বিস্তার করে নিয়েছে। শয়তান তাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে; ফলে তারা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ হতে গাফেল হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে গ্রামে বা জঙ্গলে তিনজন আছে এবং তাদের মধ্যে সালাত প্রতিষ্ঠা করা হয় না তাদের ওপর শয়তান প্রভুত্ব বিস্তার করে। সুতরাং তোমরা জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরে থাক। কেননা বাঘ দল বিচ্ছিন্ন ছাগলকেই ধরে খেয়ে ফেলে। (আবূ দাঊদ হা. ৫৪৭, সনদ হাসান)
সুতরাং মু’মিনদের উচিত হবে অমুসলিমদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে মু’মিনদের সাথে জামা‘আতবদ্ধ হয়ে বসবাস করা, তাহলে দুনিয়াতে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়া যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মুনাফিকদের দ্বিমুখী আচরণের কথা জানাতে পেলাম।
২. গযবপ্রাপ্ত জাতির কথা জানতে পারলাম।
৩. কাফিরদের সাথে সম্পর্ক গড়া হারাম।
৪. কারো প্রকৃত ইমান না থাকলে ধন-সম্পদ কোন কাজে আসবে না।
৫. মিথ্যা শপথ করা হারাম।
৬. শয়তানের দলের পরিচয় জানলাম।
৭. মুসলিমের জামা‘আত বর্জন করার কুফল জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৪-১৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা অন্তরে ইয়াহুদীদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করে, কিন্তু প্রকৃত তারা এ ইয়াহদীদেরও দলভুক্ত নয় এবং মুমিনদেরও দলভুক্ত নয়। তারা এদিকেরও নয়, ওদিকেরও নয়। তারা প্রকাশ্যভাবে মিথ্যা শপথ করে থাকে। মুমিনদের কাছে এসে তারা তাদের পক্ষেই কথা বলে। রাসূল (সঃ)-এর কাছে এসে কসম খেয়ে তারা নিজেদেরকে ঈমানদার হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে এবং বলে যে, তারা নিশ্চিতরূপে মুসলমান। অথচ অন্তরে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত মত পোষণ করে। তারা যে মিথ্যাবাদী এটা জেনে শুনেও মিথ্যা শপথ করতে মোটেই দ্বিধা বোধ করে না। তাদের এই দুস্কার্যের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন কঠিন শাস্তি। এই প্রতারণার জন্যে তাদেরকে মন্দ প্রতিদান দেয়া হবে। তারা তো তাদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং মানুষকে তারা আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করে। মুখে তারা ঈমান প্রকাশ করে এবং অন্তরে কুফরী গোপন রাখে। কসমের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভিতরের দুস্কৃতিকে গোপন করে। অভিজ্ঞ লোকদের উপর তারা কসমের দ্বারা নিজেদেরকে সত্যবাদী রূপে পেশ করে এবং তাদেরকে তাদের প্রশংসাকারী বানিয়ে নেয়। ধীরে ধীরে তারা তাদেরকে নিজেদের রঙে রঞ্জিত করে এবং এই ভাবে তাদেরকে আল্লাহর পথ হতে ফিরিয়ে রাখে। মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেন যে, এই মুনাফিকদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহর শাস্তির মুকাবিলায় তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোনই কাজে আসবে না, তারা জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে, কখনই তাদেরকে সেখান হতে বের করা হবে না।
কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তাদের সকলকেই এক ময়দানে একত্রিত করবেন, কাউকেও বাদ রাখবেন না তখন দুনিয়ায় যেমন তাদের অভ্যাস ছিল যে, নিজেদের মিথ্যা কথাকে তারা শপথ করে সত্যরূপে দেখাতো, অনুরূপভাবে ঐ দিনও তারা আল্লাহর সামনে নিজেদের হিদায়াত ও সঠিক পথের অনুসারী হওয়ার উপর বড় বড় কসম খাবে এবং মনে করবে যে, সেখানেও বুঝি তাদের চালাকী ধরা পড়বে না। কিন্তু মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহর কাছে কি তাদের এই ফাকিবাজি ধরা না পড়ে থাকতে পারে? তিনি তো তাদের মিথ্যাবাদী হওয়ার কথা এ দুনিয়াতেও মুমিনদের নিকট বর্ণনা করে দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেনঃ সাবধান! তারাই তো মিথ্যাবাদী।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (একদা) নবী (সঃ) তাঁর কোন এক কক্ষের ছায়ায় বসেছিলেন এবং কিছু সাহাবায়ে কিরামও (রাঃ) তাঁর নিকট ছিলেন। ছায়াযুক্ত স্থান কম ছিল। কষ্ট করে তারা সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাহাবীদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “দেখো, এখানে এখনই এমন একজন লোক আসবে যে শয়তানী দৃষ্টিতে তাকাবে। সে আসলে তোমরা কেউই তার সাথে কথা বলবে না।” অল্পক্ষণের মধ্যেই একজন কয়বা চক্ষু বিশিষ্ট লোক আসলো। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেনঃ “তুমি এবং অমুক অমুক লোক আমাকে গালি দাও কেন?” একথা শুনেই লোকটি চলে গেল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যে কয়েকজনের নাম করেছিলেন তাদের সবাইকে সে ডেকে নিয়ে আসলো এবং সবাই শপথ করে করে বললো যে, তাদের কেউই রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে বেয়াদবী মূলক কথা বলেনি। তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ নিম্নের আয়াতটি অবতীর্ণ করলেনঃ (আরবী)
অর্থাৎ “তারা (আল্লাহর নিকট) সেই রূপ শপথ করবে যেই রূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং তারা মনে করে যে, তাতে তারা উপকৃত হবে। সাবধান! তারাই তো মিথ্যাবাদী।” এই একই অবস্থা, আল্লাহর দরবারে মুশরিকদেরও হবে যে, তারা বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর শপথ! আমরা মুশরিক ছিলাম না।” (৬:২৩)
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করেছে এবং তাদের অন্তরকে নিজের মুষ্টির মধ্যে নিয়ে ফেলেছে, ফলে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে।
হযরত আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যে গ্রামে বা জঙ্গলে তিনজন রয়েছে এবং তাদের মধ্যে নামায প্রতিষ্ঠিত করা হয় না, তাদের উপর শয়তান প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তুমি জামাআতকে অপরিহার্য রূপে ধরে নাও। বাঘ ঐ বকরীকে খেয়ে ফেলে যে দল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত সায়েব (রঃ) বলেন যে, এখানে জামাআত দ্বারা নামাযের জামাআতকে বুঝানো হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “তারা শয়তানেরই দল' অর্থাৎ যাদের উপর শয়তান প্রভুত্ব বিস্তার করেছে এবং এর ফলে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে।
এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ 'সাবধান! শয়তানের দল অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।