আল কুরআন


সূরা আল-হাদীদ (আয়াত: 3)

সূরা আল-হাদীদ (আয়াত: 3)



হরকত ছাড়া:

هو الأول والآخر والظاهر والباطن وهو بكل شيء عليم ﴿٣﴾




হরকত সহ:

هُوَ الْاَوَّلُ وَ الْاٰخِرُ وَ الظَّاهِرُ وَ الْبَاطِنُ ۚ وَ هُوَ بِکُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ ﴿۳﴾




উচ্চারণ: হুওয়াল আওওয়ালুওয়াল আ-খিরু ওয়াজ্জা-হিরুওয়াল বা-তিনু ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।




আল বায়ান: তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩. তিনিই প্রথম ও শেষ; প্রকাশ্য (উপরে) ও গোপন (নিকটে) আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনি প্রকাশিত আবার গুপ্ত, তিনি সকল বিষয় পূর্ণরূপে জ্ঞাত।




আহসানুল বায়ান: (৩) তিনিই আদি, অন্ত, ব্যক্ত ও গুপ্ত[1] এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।



মুজিবুর রহমান: তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত।



ফযলুর রহমান: তিনিই প্রথম, শেষ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (সত্তা)। তিনি সবকিছু ভালভাবে জানেন।



মুহিউদ্দিন খান: তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।



জহুরুল হক: তিনিই আদি ও অন্ত আর প্রকাশ্য ও গুপ্ত, কেননা তিনিই সব-কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।



Sahih International: He is the First and the Last, the Ascendant and the Intimate, and He is, of all things, Knowing.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩. তিনিই প্রথম ও শেষ; প্রকাশ্য (উপরে) ও গোপন (নিকটে) আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।(১)


তাফসীর:

(১) ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ কোন সময় তোমার অন্তরে আল্লাহ তাআলা ও ইসলাম সম্পর্কে শয়তানী কুমন্ত্রণা দেখা দিলে (هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ) আয়াতখানি আস্তে পাঠ করে নাও। [আবু দাউদ: ৫১১০] এই আয়াতের তাফসীর এবং “আউয়াল”, “আখের”, “যাহের” ও “বাতেন” এ শব্দ চারটির অর্থ সম্পর্কে তফসীরবিদগণের বহু উক্তি বৰ্ণিত আছে। তন্মধ্যে “আউয়াল” শব্দের অর্থ তো প্ৰায় নির্দিষ্ট; অর্থাৎ অস্তিত্বের দিক দিয়ে সকল সৃষ্টজগতের অগ্রে ও আদি। কারণ, তিনি ব্যতীত সবকিছু তাঁরই সৃজিত। তাই তিনি সবার আদি। “আখের” এর অর্থ কারও কারও মতে এই যে, সবকিছু বিলীন হয়ে যাওয়ার পরও তিনি বিদ্যমান থাকবেন। [সা’দী] যেমন (كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ) [সূরা আল-কাসাস: ৮৮] আয়াতে এর পরিষ্কার উল্লেখ আছে।

ইমাম বুখারী বলেন, ‘যাহের’ অর্থ জ্ঞানে তিনি সবকিছুর উপর, অনুরূপ তিনি ‘বাতেন’ অৰ্থাৎ জ্ঞানে সবকিছুর নিকটে। বিভিন্ন হাদীসে এ আয়াতের তাফসীর এসেছে, এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর সময় বলতেন, “হে আল্লাহ! সাত আসমানের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব এবং সবকিছুর রব, তাওরাত, ইঞ্জীল ও ফুরকান নাযিলকারী, দানা ও আঁটি চিরে বৃক্ষের উদ্ভাবকারী, আপনি ব্যতীত কোন হক্ক মা’বুদ নেই, যাদের কপাল আপনার নিয়ন্ত্রণে এমন প্ৰত্যেক বস্তুর অনিষ্ট হতে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, আপনি অনাদি, আপনার আগে কিছু নেই, আপনি অনন্ত আপনার পরে কিছুই থাকবে না। আপনি সবকিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই, আপনি নিকটবর্তী, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কেউ নেই, আমার পক্ষ থেকে আপনি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দিন। [মুসলিম: ২৭১৩, মুসনাদে আহমাদ ২/৪০৪]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩) তিনিই আদি, অন্ত, ব্যক্ত ও গুপ্ত[1] এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।


তাফসীর:

[1] তিনিই আদি বা প্রথম; তাঁর পূর্বে কিছু ছিল না। তিনিই অন্ত বা সর্বশেষ; তাঁরপর কিছু থাকবে না। তিনি ব্যক্ত বা প্রকাশমান। অর্থাৎ, তিনি সবার উপর জয়ী, তাঁর উপর কেউ জয়ী নয়। তিনি গুপ্ত বা অপ্রকাশমান। অর্থাৎ, যাবতীয় গোপন খবর একমাত্র তিনিই জানেন। অথবা তিনি মানুষের দৃষ্টি ও জ্ঞানের অন্তরালে। (ফাতহুল ক্বাদীর) নবী করীম (সাঃ) তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) কে এই দু’আটি পাঠ করতে তাকীদ করেছিলেনঃ

اَللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنِا مِنْ الْفَقْرِ

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! হে আকাশ মন্ডলী, পৃথিবী ও মহা আরশের অধিপতি। হে আমাদের ও সকল বস্তুর  প্রতিপালক!  হে  শস্যবীজ  ও  আঁটির  অঙ্কুরোদয়কারী!  হে তাওরাত,  ইনজীল  ও  ফুরকানের অবতারণকারী! আমি তোমার নিকট প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি- যার ললাটের কেশগুচ্ছ তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! তুমিই আদি তোমার পূর্বে কিছু নেই। তুমিই অন্ত তোমার পরে কিছু নেই। তুমিই ব্যক্ত (অপরাজেয়), তোমার ঊর্ধ্বে কিছু নেই এবং তুমিই (সৃষ্টির গোচরে) অব্যক্ত, তোমার নিকট অব্যক্ত কিছু নেই। আমাদের তরফ থেকে আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দাও এবং আমাদেরকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে সচ্ছল (অভাবশূন্য) করে দাও। (মুসলিমঃ যিকর ও দু’আ অধ্যায়) ঋণ পরিশোধের জন্য পঠনীয় এই দু’আর মধ্যে ‘আওয়াল’, ‘আখির’ এবং ‘যাহির’ ও ‘বাতিন’এর ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ :



اَلْحَدِيْدُ শব্দের অর্থ : লোহা। اَلْحَدِيْدُ শব্দটি অত্র সূরার ২৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে সেখান থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।



ফযীলত :



অত্র সূরার ফযীলতের ব্যাপারে সাহাবী ইরবায বিন সারিয়াহ (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করে বলা হয় : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শয়নের পূর্বে ঐ সূরাগুলো পাঠ করতেন যেগুলোর শুরুতে سَبَّحَ বা يُسَبِّحُ রয়েছে এবং বলতেন : এগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজার আয়াত হতেও উত্তম। কিন্তু হাদীসটি দুর্বল। (আবূ দাঊদ হা. ৫০৫৭, তিরমিযী হা. ২৯২১)



ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেছেন : এ হাদীসে যে আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে (আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন) তা হল :



(ھُوَ الْاَوَّلُ وَالْاٰخِرُ وَالظَّاھِرُ وَالْبَاطِنُﺆ وَھُوَ بِکُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ)



“তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই জাহের, তিনিই বাতেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে অধিক অবহিত।”



সূরাতে কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা স্থান পেয়েছে যেমন, আল্লাহ তা‘আলার শানে অনুপযোগী এমন সবকিছু থেকে প্রতিটি সৃষ্টি মহান আল্লাহকে পবিত্রতা ঘোষণা করে, আল্লাহ তা‘আলার কয়েকটি গুণাবলীর বিবরণ, ছয়দিনে আকাশ-জমিন সৃষ্টি, আল্লাহ তা‘আলার পথে জান-মাল উৎসর্গের জন্য মু’মিনদেরকে আহ্বান, প্রকৃত দৃষ্টিতে দুনিয়া ও আখিরাতের মূল্য, পুল-সিরাতে মু’মিনদের উজ্জ্বলাকৃতি ও মুনাফিকদের বিপরীত অবস্থা ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে।



১-৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আকাশ-জমিন ও এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে (চাই তা জড় পদার্থ হোক কিম্বা জীব হোক), মহান আল্লাহর শানে যা অনুপযোগী ও আল্লাহ তা‘আলাকে যেসব গুণে গুণান্বিত করা যায় না সেসব কিছু থেকে পবিত্রতা বর্ণনা করে। এ সম্পর্কিত আয়াত অনেক রয়েছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(تُسَبِّحُ لَھُ السَّمٰوٰتُ السَّبْعُ وَالْاَرْضُ وَمَنْ فِیْھِنَّﺚ وَاِنْ مِّنْ شَیْءٍ اِلَّا یُسَبِّحُ بِحَمْدِھ۪ وَلٰکِنْ لَّا تَفْقَھُوْنَ تَسْبِیْحَھُمْﺚ اِنَّھ۫ کَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًا)



“সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।” (সূরা ইসরা ১৭ : ৪৪)



অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন :



(اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللہَ یُسَبِّحُ لَھ۫ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَالطَّیْرُ صٰ۬فّٰتٍﺚ کُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَھ۫ وَتَسْبِیْحَھ۫)



“তুমি কি দেখ না যে, আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা এবং উড্ডীয়মান পাখিগুলো আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার প্রার্থনা ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি।” (সূরা নূর ২৪ : ৪১)



সুতরাং তাসবীহ শব্দটি যখন আল্লাহ তা‘আলার শানে ব্যবহার হবে তখন তার অর্থ হল- যা আল্লাহ তা‘আলার শানে উপযোগী নয় তা থেকে বিশ্বাসে, কথায় ও আমলে পূত-পবিত্রতা ঘোষণা করা। আল্লাহ তা‘আলার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে, তাঁর শরীক আছে, আল্লাহ তা‘আলা নিরাকার, আল্লাহ তা‘আলা সকল ক্ষমতা ওলীদের হাতে দিয়ে নিজে রিক্তহস্ত ইত্যাদি থেকে বিশ্বাসকে পবিত্র রাখতে হবে, মুখে বলা যাবে না এবং আমলেও আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না। আকাশ-জমিন ও তার মাঝে যত জীব-জন্তু, জড়-পদার্থ এবং মু’মিন মুওয়াহহিদ রয়েছে সকলে আল্লাহ তা‘আলাকে এ সকল ক্রটি থেকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করে ও তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না।



الْعَزِیْزُ অর্থ পরাক্রমশালী, সবকিছুর ওপর বিজয়ী, যার ওপর কেউ জয় লাভ করতে পারে না। এ সম্পর্কে সূরা বাক্বারার ১২৯ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



الْحَکِیْمُ বলা হয় তাকে যিনি সকল বিষয় উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে পারেন। প্রত্যেক বিষয়কে উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে পারেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।



(لَھ۫ مُلْکُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ)



অর্থাৎ আকাশ-জমিনের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু তাঁর আজ্ঞাবহ, কর্তৃত্বাধীন, মালিক ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী।



(هُوَ الْأَوَّلُ وَالْاخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ)



‘তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই জাহের, তিনিই বাতেন’ এখানে আল্লাহ তা‘আলার চারটি নাম এসেছে যার প্রত্যেকটি স্থান ও কাল ভেদে বিপরীত।



الْأَوَّلُ তিনিই আদি বা প্রথম। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : এর অর্থ হল :



الذي ليس قبله شيء



তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না। (সহীহ মুসলিম হা. ২৭১৩)



وَالْاخِرُ তিনিই অন্ত বা সর্বশেষ। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অর্থ বর্ণনা করে বলেন :



الذي ليس بعده شيء



অর্থাৎ তাঁর পর কিছুই থাকবে না।



وَالظَّاهِرُ শব্দটি الظهور থেকে এসেছে। অর্থ হল العلو বা ঊর্ধ্বে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(هُوَ الَّذِيْٓ أَرْسَلَ رَسُوْلَه۫ بِالْهُدٰي وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَه۫ عَلَي الدِّيْنِ كُلِّه۪ لا وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ)‏



“তিনিই সে সত্ত্বা যিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন সুপথ ও সত্য দীনসহকারে সকল দীনের ওপর একে বিজয়ী করার জন্য যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।” (সূরা তাওবা ৯ : ৩৩)



নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অংশের তাফসীর করে বলেন :



الذي ليس فوقه شئ



বা তাঁর উপরে কিছুই নেই। তিনিই সবার উপরে।



الْبَاطِنُ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :



الذي ليس دونه شيء



তাঁর চেয়ে নিকটে আর কেউ নেই। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা সবার উপরে থেকেও তাঁর জ্ঞান দর্শন ও শ্রবণ দ্বারা তিনি প্রত্যেকটি বস্তুর নিকটে। এ আয়াতের তাফসীর সম্বলিত একটি দু‘আ রয়েছে যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শয়নকালে পাঠ করতেন। দু‘আটি হল :



اللّٰهمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْر



হে আল্লাহ তা‘আলা আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কেউ নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে আর নেই; আপনিই সবার ঊর্ধ্বে, আপনার উপরে আর কেউ নেই; আপনি সবার নিকটে, আপনার চেয়ে নিকটে আর কেউ নেই; আমাদের পক্ষ থেকে আপনি ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং দরিদ্রতা থেকে অমুখাপেক্ষী করে রাখুন। (সহীহ মুসলিম হা. ২৭১৩)



অতএব আমরা আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে এমন বিশ্বাস রাখব না যা তাঁর শানে উপযোগী নয়। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. সকল মাখলূক আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ ও পবিত্রতা পাঠ করে।

২. জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

৩. আল্লাহ তা‘আলা স্বসত্ত্বায় সাত আকাশের ওপর রয়েছেন।

৪. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জ্ঞান, দর্শন ও শ্রবণ দ্বারা প্রত্যেকের কাছে রয়েছেন।

৫. যখন কিছু ছিল না তখন আল্লাহ তা‘আলা ছিলেন, আর যখন কিছু থাকবে না তখন আল্লাহ তা‘আলা থাকবেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: হযরত ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) শয়নের পূর্বে ঐ সূরাগুলো পাঠ করতেন যেগুলোর শুরুতে বা রয়েছে। এবং বলতেনঃ “এগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজার আয়াত হতেও উত্তম।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এ হাদীসে যে আয়াতটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলাই খুব ভাল জানেন, আয়াতটি হলোঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত।” এর বিস্তারিত বর্ণনা সত্বরই আসছে ইনশা-আল্লাহ।

১-৩ নং আয়াতের তাফসীর:

সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদ আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করে থাকে। সপ্ত আসমান ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যস্থিত সমস্ত মাখলূক ও প্রত্যেক জিনিস তাঁর প্রশংসা ও গুণকীর্তনে মগ্ন রয়েছে। কিন্তু মানুষ এদের তাসবীহ পাঠ বুঝতে পারে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী)

অর্থাৎ “সপ্ত আকাশ ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যারা রয়েছে, সবাই তাঁর (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করে থাকে। আর যত কিছু রয়েছে সবই তাঁর সপ্রশংস মহিমা ঘোষণা করে থাকে, কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না, নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাকারী।” (১৭:৪৪) সবাই তার সামনে নীচু, অক্ষম এবং শক্তিহীন। তাঁর নির্ধারিত শরীয়ত এবং তাঁর আহকাম হিকমতে পরিপূর্ণ। প্রকৃত বাদশাহ তিনিই যার কর্তৃত্বাধীনে আসমান ও যমীন রয়েছে। সৃষ্টজীবের ব্যবস্থাপক তিনিই। জীবন ও মৃত্যু তাঁরই অধিকারভুক্ত। তিনিই ধ্বংস করেন এবং তিনিই সৃষ্টি করেন। যাকে তিনি যা কিছু দেয়ার ইচ্ছা করেন, দিয়ে থাকেন। তিনি সব কিছুর উপরই পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি যা চান তাই হয় এবং যা চান না তা হতে পারে না।

এরপরে ... (আরবী)-এ আয়াতটি রয়েছে যার ব্যাপারে উল্লিখিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, এটা এক হাজার আয়াত হতেও উত্তম।

হযরত আবু যামীল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আমার মনে এক সন্দেহ বা খা আছে, কিন্তু মুখে তা আনতে ইচ্ছা হচ্ছে না। তাঁর একথা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) মুচকি হেসে বললেন, সম্ভবতঃ এটা এমন সন্দেহ হবে যা থেকে কেউই বাঁচতে পারেনি। এমন কি কুরআন কারীমেও রয়েছেঃ (আরবী)

অর্থাৎ “তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে যদি তোমার সন্দেহ হয়, তাহলে তোমার পূর্বে যারা কুরআন পড়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। অবশ্যই তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে সত্য এসেছে।” (১০:৯৪) তারপর তিনি বলেনঃ “যখন তোমার মনে কোন সন্দেহ আসবে তখন (আরবী)-এ আয়াতটি পড়ে নিয়ো।” (এটা ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এ আয়াতের তাফসীরে দশেরও অধিক উক্তি রয়েছে। ইমাম বুখারী (রঃ) বলেন যে, ইয়াহইয়া বলেনঃ (আরবী) ও (আরবী) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইলমের দিক দিয়ে ব্যক্ত ও গুপ্ত হওয়া। এই ইয়াহ্ইয়া হলেন যিয়াদ ফারার পুত্র। তাঁর রচিত একটি পুস্তক রয়েছে যার নাম মাআনিল কুরআন।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) শয়নের সময় নিম্নলিখিত দু'আটি পাঠ করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ, হে সপ্ত আকাশ এবং বড় আরশের রব! হে আমাদের এবং সমস্ত জিনিসের প্রতিপালক! হে তাওরাত ও ইনজীল অবতীর্ণকারী! হে দানা ও বিচি উদগীরণকারী! আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। এমন প্রত্যেক জিনিসের অনিষ্ঠ হতে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যার ঝুঁটি আপনার হাতে রয়েছে। আপনিই প্রথম এবং আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনিই শেষ এবং আপনার পরে কিছুই থাকবে না। আপনি ব্যক্ত বা প্রকাশ্য এবং আপনার উপর কোন কিছুই নেই, আপনি গুপ্ত এবং কোন কিছুই আপনার কাছে গুপ্ত নয়, আমাদের ঋণ আপনি আদায় করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্রমুক্ত করে দিন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত সুহায়েল (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু সালেহ (রঃ) স্বীয় পরিবারের লোককে এই দু'আ শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন যে, যখন তারা শয়ন করবে তখন যেন ডান পাশে শুয়ে এ দু'আটি পড়ে নেয়।` (এটা ইমাম মুসলিম (রঃ) স্বীয় সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নির্দেশক্রমে তার জন্যে কিবলামুখী করে বিছানা বিছিয়ে দেয়া হতো। তিনি তাঁর ডান হস্ত-তালুর উপর মাথা রেখে আরাম করতেন। তারপর আস্তে আস্তে কিছু পাঠ করতেন। কিন্তু শেষ রাত্রে উপরোক্তে দু'আটি উচ্চস্বরে পড়তেন। তবে শব্দগুলোতে কিছু হেরফের রয়েছে।” (এ হাদীসটি হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এ আয়াতের তাফসীরে জামেউত তিরমিযীতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা স্বীয় সাহাবীবর্গসহ বসেছিলেন এমতাবস্থায় তাঁদের উপর এক খণ্ড মেঘ দেখা দেয়। তিনি সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “এটা কি তা তোমরা জান কি?” তাঁরা জবাবে বললেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই (সঃ) ভাল জানেন।” তিনি তখন বললেনঃ “এটাকে ‘ইনাল; বলা হয়। এটা যমীনকে সায়রাব বা পানিসিক্ত করে থাকে। জনগণের উপর এটা বর্ষিত হয় যারা না আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, না তাকে ডাকে। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমাদের উপর এটা কি তা জান কি?” তারা উত্তর দিলেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-ই বেশী অবহিত।” “এটা হলো উঁচু সুরক্ষিত ছাদ ও জড়িয়ে ধরা তরঙ্গ।” বললেন তিনি। এরপর তিনি বললেনঃ “তোমাদের এবং এর মধ্যে কতটা ব্যবধান আছে তা কি তোমরা জান?” তারা উত্তরে বললেনঃ “এ সম্পর্কে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর জ্ঞানই সবচেয়ে বেশী।” তিনি বললেনঃ “তোমাদের ও এর মধ্যে পাঁচশ’ বছরের পথের ব্যবধান।” তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলেনঃ “এর উপরে কি আছে তা কি তোমরা জান?” তারা উত্তর দিলেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই (সঃ) বেশী খবর রাখেন।” তিনি বললেনঃ “এর উপরে দ্বিতীয় আকাশ রয়েছে। আর এই দুই আকাশের মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো পাঁচশ' বছরের পথ। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাতটি আকাশের কথা বললেন এবং প্রত্যেকটির মাঝে এই পরিমাণ দূরত্বেরই বর্ণনা দিলেন। এরপর তিনি প্রশ্ন করলেনঃ “সপ্তম আকাশের উপর কি আছে তা কি তোমাদের জানা আছে?” সাহাবীগণ (রাঃ) জবাব দিলেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-ই বেশী অবগত।” তিনি বললেনঃ “সপ্তম আকাশের উপর এই পরিমাণ দূরত্বে আরশ রয়েছে অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমাদের নীচে কি আছে তা কি তোমরা জান?” তাঁরা জবাব দিলেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-ই সবচেয়ে ভাল জানেন।” তিনি বললেনঃ “তাহলো যমীন।” তারপর বললেনঃ “এর নীচে কি আছে তা কি জান?” তারা উত্তর দিলেনঃ “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর জ্ঞানই সবচেয়ে বেশী।” তিনি বললেনঃ “এর নীচে আর একটি যমীন আছে। এই দুই যমীনের মধ্যেও পাঁচশ' বছরের পথের ব্যবধান।” এই ভাবে তিনি সাতটি যমীনের কথা সমপরিমাণ দূরত্ব সহ বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ “যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! তোমরা যদি সর্বাপেক্ষা নিম্নতম যমীনে একটি রশি লটকিয়ে দাও তবে ওটাও আল্লাহ তাআলারই নিকট পৌঁছবে।” অতঃপর তিনি (আরবী) আয়াতটি পাঠ করেন।” (ইমাম তিরমিযী (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন যে, এটা গারীব, কেননা এর বর্ণনাকারী হাসানের তার উস্তাদ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে শোন প্রমাণিত নয়। যেমন এটা আইয়ুব (রঃ), ইউনুস (রঃ), আলী ইবনে যায়েদ (রঃ) প্রমুখ মুহাদ্দিসের উক্তি)

কোন কোন আহলুল ইলম এই হাদীসের শরাহতে বলেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রশির আল্লাহ তা'আলারই ইলমে কুদরত পর্যন্ত পৌঁছা, তার সত্তা পর্যন্ত পৌঁছা উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহ তাআলার ইলম ও তার প্রভাব এবং তার রাজত্ব নিঃসন্দেহে সব জায়গাতেই রয়েছে, কিন্তু তিনি তাঁর জাত বা সত্তারূপে আরশের উপর রয়েছেন। যেমন তিনি তার এই বিশেষণ স্বীয় কিতাবের মধ্যে স্বয়ং বর্ণনা করেছেন। মুসনাদে আহমাদেও এ হাদীসটি রয়েছে এবং তাতে দুই যমীনের মাঝে দূরত্ব সাত শ' বছরের পথ বলে বর্ণিত হয়েছে। মুসনাদে ইবনে আবি হাতিম এবং মুসনাদে বাযযারেও এ হাদীসটি আছে, কিন্তু মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে রশি লটকিয়ে দেয়ার বাক্যটি নেই এবং প্রত্যেক দুই যমীনের মাঝের দূরত্ব তাতেও পাঁচশ বছরের পথের কথা রয়েছে। ইমাম বাযযার (রঃ) বলেন যে, হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) ছাড়া আর কেউই এটা নবী (সঃ) হতে বর্ণনা করেননি। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-ও এ হাদীসটি মরসালরূপে বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ “আমাদের নিকট এটা বর্ণনা করা হয়েছে।” অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করেন এবং সাহাবীর নাম উল্লেখ করেননি। সম্ভবতঃ এটাই সঠিক। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

মুসনাদে বাযযার কিতাবুল আসমা এবং ওয়াস সিফাতুল বায়হাকীতে এ হাদীসটি হযরত আবু যর গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর ইসনাদের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ আছে এবং মতনে গারাবাত ও নাকারাত রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) (আরবী) (৬৫:১২)-এর তাফসীরে। হযরত কাতাদা (রঃ)-এর উক্তি আনয়ন করেছেন যে, আসমান ও যমীনের মাঝে চারজন ফেরেশতার সাক্ষাৎ হয়। তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তুমি কোথা হতে আসলে?” তখন একজন উত্তর দেনঃ “মহামহিমান্বিত আল্লাহ আমাকে সপ্তম আকাশ হতে প্রেরণ করেছেন এবং আমি সেখানে আল্লাহ তা'আলাকে ছেড়ে এলাম।” দ্বিতীয়জন বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাকে সপ্তম যমীন হতে প্রেরণ করেছিলেন এবং তিনি সেখানে ছিলেন। তৃতীয়জন বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাকে মাশারিক (পূর্ব দিক) হতে প্রেরণ করেছেন এবং সেখানে আল্লাহ তা'আলা ছিলেন। চতুর্থ জন বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাকে মাগরিব (পশ্চিম দিক) হতে পাঠিয়েছেন এবং তথায় আমি তাঁকে ছেড়ে আসলাম।” (এ হাদীসটিও গারীব, বরং মনে হচ্ছে যে, হযরত কাতাদা (রঃ) বর্ণিত হাদীসটি যা উপরে মুরসালরূপে উল্লিখিত হলো, সম্ভবতঃ ওটাও হযরত কাতাদারই (রঃ) নিজের উক্তি হবে, যেমন এটা স্বয়ং তাঁরই উক্তি। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।