সূরা আল-কামার (আয়াত: 8)
হরকত ছাড়া:
مهطعين إلى الداعي يقول الكافرون هذا يوم عسر ﴿٨﴾
হরকত সহ:
مُّهْطِعِیْنَ اِلَی الدَّاعِ ؕ یَقُوْلُ الْکٰفِرُوْنَ هٰذَا یَوْمٌ عَسِرٌ ﴿۸﴾
উচ্চারণ: মুহতি‘ঈনা ইলাদ্দা-‘ই ইয়াকূলুল কা-ফিরূনা হা-যা-ইয়াওমুন ‘আছির।
আল বায়ান: তারা আহবানকারীর দিকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে, ‘এটি বড়ই কঠিন দিন’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮. তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহ্বল হয়ে।(১) কাফিররা বলবে, বড়ই কঠিন এ দিন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে- ‘‘কঠিন এ দিন’’।
আহসানুল বায়ান: (৮) তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহ্বল হয়ে।[1] অবিশ্বাসীরা বলবে, ‘এ তো কঠিন দিন।’
মুজিবুর রহমান: তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহবল হয়ে। কাফিরেরা বলবেঃ কঠিন এই দিন।
ফযলুর রহমান: আহবানকারীর দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে। কাফেররা বলবে, “এ এক কঠিন দিন।”
মুহিউদ্দিন খান: তারা আহবানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফেরা বলবেঃ এটা কঠিন দিন।
জহুরুল হক: ওরা আহবায়কের প্রতি ছুটে আসবে। অবিশ্বাসীরা বলবে -- "এইটি বড় কঠিন দিন!"
Sahih International: Racing ahead toward the Caller. The disbelievers will say, "This is a difficult Day."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮. তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহ্বল হয়ে।(১) কাফিররা বলবে, বড়ই কঠিন এ দিন।
তাফসীর:
(১) مهطع এর শাব্দিক অর্থ মাথা তোলা, আরেক অর্থ, দ্রুতগতিতে ছুটা। আয়াতের অর্থ এই যে, আহবানকারীর প্রতি তাকিয়ে হাশরের ময়দানের দিকে দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকবে। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮) তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহ্বল হয়ে।[1] অবিশ্বাসীরা বলবে, ‘এ তো কঠিন দিন।”
তাফসীর:
[1] مُهْطِعِيْنَ অর্থ مُسْرِعِيْنَ দৌড়াবে, পিছনে থাকবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬-১৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(فَتَوَلَّ عَنْھُمْﺭ .... یَقُوْلُ الْکٰفِرُوْنَ ھٰذَا یَوْمٌ عَسِرٌﭗ)
এ আয়াতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : এতসব নিদর্শন দেখেও যখন তারা জাদু বলে উড়িয়ে দিল, তখন তোমার আর কিছুই করার প্রয়োজন নেই, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। আর স্মরণ করো সেদিনের কথা যেদিন একজন আহ্বানকারী একটি অপ্রিয় বিষয়ের দিকে আহ্বান করবে।
এখানে আহ্বানকারী হলো ইসরাফীল (আঃ), আর আহ্বান করবে হাশরের মাঠে উপস্থিত হওয়ার জন্য। কাফিররা দৃষ্টি নত অবস্থায় ক্ববর থেকে উঠবে। তারা লাঞ্ছিত ও বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায় হিসাবের মাঠের দিকে অতি দ্রুততার সাথে দৌড়াবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(خٰشِعِيْنَ مِنَ الذُّلِّ يَنْظُرُوْنَ مِنْ طَرْفٍ خَفِيٍّ)
“তারা অপমানে অবনত অবস্থায় গোপনে পার্শ্ব চোখে তাকাবে” (সূরা শুরা- ৪২ : ৪৫)
مُّهْطِعِيْنَ অর্থাৎ مسرعين বা দৌড়াবে, পিছনে পড়ে থাকবে না।
(کَذَّبَتْ قَبْلَھُمْ قَوْمُ نُوْحٍ .....فَھَلْ مِنْ مُّدَّکِرٍﭠ )
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল, নূহ (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদেরকে যে ধরনের শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন সে কথা তুলে ধরেছেন।
وَّازْدُجِرَ -এর প্রকৃত রূপ হলো وازتجر অর্থাৎ নূহ (আঃ)-এর জাতি নূহ (আঃ)-কে শুধু মিথ্যাবাদীই ভাবেনি বরং তারা তাকে ভয় দেখিয়েছিল, ধমক দিয়েছিল এবং হুমকিও দিয়েছিল।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন : (قَالُوْا لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهِ يٰنُوْحُ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْمَرْجُوْمِيْنَ)
“তারা বলল : ‘হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের শামিল হবে।’ (সূরা শু‘আরা- ২৬ : ১১৬)
আবদ ইবনে হুমাইদ (রহঃ) মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের কিছু লোক তাঁকে পথে-ঘাটে কোথাও পেলে গলা টিপে ধরত। ফলে তিনি বেহুশ হয়ে যেতেন এরপর হুশ ফিরে এলে তিনি আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতেন-
(أَنِّيْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ)
আমি তো পরাজিত, অতএব, তুমি আমাকে সাহায্য কর। তিনি জাতির জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমাও চাইতেন। এভাবে সাড়ে নয়শত বছর সম্প্রদায়ের এহেন নির্যাতনের জবাব দেয়ার মাধ্যমে অবশেষে তিনি নিরুপায় হয়ে বদদু‘আ করেন। যার ফলে সমগ্র জাতি মহাপ্লাবনে নিমজ্জিত হয়।
مُّنْهَمِرٍ -এর অর্থ অধিক বা প্রবল।
(فَالْتَقَي الْمَا۬ءُ) ‘অতঃপর সকল পানি মিলিত হল এক পরিকল্পনা অনুসারে।’ অর্থাৎ আকাশ ও পাতালের পানি মিলিত হয়ে সে কাজ পূর্ণ করে দিলো, যা হওয়ার সিদ্ধান্ত পূর্ব নির্ধারিত ছিল। তথা তাদেরকে প্লাবনে ডুবিয়ে মারা হল।
دُسُرٍ হলো دسار-এর বহুবচন। ঐ রশি যা দ্বারা নৌকার তক্তা বাঁধা হয়।
অথবা ঐ পেরেক যা দিয়ে নৌকার তক্তা জোড়া দেয়া হয়। অর্থাৎ কাঠ ও পেরেক দিয়ে নির্মিত নৌকায় নূহ (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা মহা প্লাবন থেকে রক্ষা করেছিলেন।
(تَجْرِيْ بِأَعْيُنِنَا)
‘যা আমার চোখের সামনে চলল’ অর্থাৎ এ নৌকা প্লাবনের পানির ওপর আল্লাহ তা‘আলার চোখের সামনে ভেসে ভেসে চলছিল।
(وَلَقَدْ تَّرَكْنٰهَآ اٰيَةً فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ)
‘রেখে দিয়েছি আমি এটাকে নিদর্শনরূপে; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ অর্থাৎ নূহ (আঃ)-এর এ ঘটনাকে পরবর্তী জাতিদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ রেখে দিয়েছেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে সাবধান হয়।
(وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ)
‘কুরআনকে আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, সুতরাং উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ এর অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করা ও এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং তা মুখস্ত করা আমি সহজ করে দিয়েছি। অতএব এটা বাস্তব যে, কুরআনুল কারীম অলৌকিকতা ও ভাষা-শৈলীর দিক দিয়ে অতি উচ্চাঙ্গের কিতাব হওয়া সত্ত্বেও আরব অনারব যে কোন মানুষ মনযোগ দিয়ে পড়লে সহজেই মুখস্ত করতে পারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন গ্রন্থ নেই যা হুবহু কেউ মুখস্থ করেছে। অথচ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ হাফেযে কুরআন রয়েছে। এটি কুরআনের অন্যতম একটি মু‘জিযাহ।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা প্রশ্ন করে বলছেন, কেউ কি উপদেশ গ্রহণ করার আছ? আমাদের সকলের উচিত কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ করে উভয় জগতের জীবনকে সাফল্যময় করে তোলা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. চেষ্টা-প্রচেষ্টা করার পরও যাদের মাঝে সত্য গ্রহণের কোন আগ্রহ পাওয়া যাবে না তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াই উত্তম।
২. কাফিরদের কিয়ামতের দিন কঠিন অবস্থা হবে।
৩. নূহ (আঃ)-এর অবাধ্য জাতিকে ধ্বংসের কারণ ও যা দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল সে সম্পর্কে জানলাম।
৪. কুরআন থেকে প্রত্যেকের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যেসব কাফির মু'জিযা দেখার পরও বলে যে, এটা যাদু, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং তাদেরকে কিয়ামতের জন্যে অপেক্ষা করতে দাও। ঐদিন তাদেরকে হিসাবের জায়গায় দাঁড়াবার জন্যে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন, যা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান। যেখানে তাদেরকে বিপদ আপদে ঘিরে ফেলবে। তাদের চেহারায় লাঞ্ছনা ও অপমানের চিহ্ন পরিস্ফুট হয়ে উঠবে। লজ্জায় তাদের চক্ষু অবনমিত হবে। তারা কবর হতে বের হয়ে পড়বে। অতঃপর বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মত তারা দ্রুত গতিতে হিসাবের মাঠের দিকে চলে যাবে। তাদের কান থাকবে আহ্বানকারীর আহ্বানের দিকে এবং তারা অত্যন্ত দ্রুত চলবে। না তারা পারবে বিরুদ্ধাচরণ করতে, না বিলম্ব করার ক্ষমতা রাখবে। ঐ ভয়াবহ কঠিন দিনকে দেখে তারা অত্যন্ত ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে এবং চীৎকার করে বলবেঃ এটা তো বড়ই কঠিন দিন!
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।