সূরা আত-তূর (আয়াত: 38)
হরকত ছাড়া:
أم لهم سلم يستمعون فيه فليأت مستمعهم بسلطان مبين ﴿٣٨﴾
হরকত সহ:
اَمْ لَهُمْ سُلَّمٌ یَّسْتَمِعُوْنَ فِیْهِ ۚ فَلْیَاْتِ مُسْتَمِعُهُمْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ ﴿ؕ۳۸﴾
উচ্চারণ: আম লাহুম ছুল্লামুইঁ ইয়াছতামি‘ঊনা ফীহি ফালইয়া’তি মুছতামি‘উহুম বিছুলতা-নিম মুবীন।
আল বায়ান: নাকি তাদের আছে সিঁড়ি, যাতে চড়ে তারা (ঊর্ধ্বলোকের কথা) শুনতে পায়; তাদের শ্রোতা স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক না?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৮. নাকি তাদের কোন সিঁড়ি আছে যাতে আরোহন করে শুনে থাকে? থাকলে তাদের সে শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক!
তাইসীরুল ক্বুরআন: নাকি তাদের কাছে, সিঁড়ি আছে যাতে তারা (আকাশে উঠে যায় আর গোপন কথা) শুনে থাকে? থাকলে তাদের (সেই) শ্রোতা স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করুক।
আহসানুল বায়ান: (৩৮) নাকি তাদের কোন সিঁড়ি আছে যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে?[1] থাকলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক!
মুজিবুর রহমান: না কি তাদের কোন সিড়ি আছে যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে? থাকলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক।
ফযলুর রহমান: নাকি তাদের (আসমানে আরোহণের) কোন সিঁড়ি আছে, যার মাধ্যমে তারা (ফেরেশতাদের কথাবার্তা) শোনে? তেমনটি হলে তাদের শ্রবণকারী কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক।
মুহিউদ্দিন খান: না তাদের কোন সিঁড়ি আছে, যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে? থাকলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক।
জহুরুল হক: অথবা তাদের কাছে কি রয়েছে সিড়ি যাঁর সাহায্যে তারা শোনে নেয়? তাহলে তাদের শ্রবণকারী নিয়ে আসুক এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।
Sahih International: Or have they a stairway [into the heaven] upon which they listen? Then let their listener produce a clear authority.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৮. নাকি তাদের কোন সিঁড়ি আছে যাতে আরোহন করে শুনে থাকে? থাকলে তাদের সে শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক!
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৮) নাকি তাদের কোন সিঁড়ি আছে যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে?[1] থাকলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক!
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তারা কি এই দাবী করে যে, সিড়ির মাধ্যমে আকাশে গিয়ে তারাও মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর মত ফিরিশতাদের কথা বা তাদের প্রতি প্রত্যাদিষ্ট বাণী শুনে আসে?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৯-৪২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোর শুরুতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর কাফির-মুশরিক কর্তৃক আরোপ করা তিনটি খারাপ বৈশিষ্ট্য অপনোদন করছেন-
(১) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি গণক নন। (২) তিনি উন্মাদও নন এবং (৩) তিনি কোন কবিও না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَمَا عَلَّمْنٰھُ الشِّعْرَ وَمَا یَنْۭبَغِیْ لَھ۫ﺚ اِنْ ھُوَ اِلَّا ذِکْرٌ وَّقُرْاٰنٌ مُّبِیْنٌ)
“আমি তাঁকে (রাসূলকে) কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়। এটা কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। ” (সূরা ইয়া-সীন ৩৬ :৬৯)
তাই আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উক্ত তিনটি খারাপ বৈশিষ্ট্য অপনোদন করার পর দা‘ওয়াতী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।
رَيْبَ -এর অর্থ : বিপর্যয়, দুর্ঘটনা। مَمْنُوْنِ মৃত্যুর নামসমূহের একটি নাম। আয়াতের তাৎপর্য হলো : মক্কার কুরাইশরা এ অপেক্ষায় ছিল যে, হয়তো মুহাম্মাদ কালের কোন দুর্ঘটনায় মারা যাবে, আর আমরা স্বস্তি লাভ করব।
(فَإِنِّيْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُتَرَبِّصِيْنَ)
অর্থাৎ আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রয়েছি। দেখ, কার মৃত্যু আগে আসে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা ৩২-৪৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত অস্বীকৃতিসূচক কাফিরদেরকে প্রশ্ন করছেন, যার না-বোধক উত্তর আসবে।
প্রথমেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের এই চলমান কৃতকর্মের কারণ জিজ্ঞাসা করছেন যে, তারা এরূপ কেন করছে? তারা কি তাদের বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী এ কাজ করছে? আল্লাহ নিজেই উত্তর দিচ্ছেন যে, না- বিবেক তো আমিই তাদের দিয়েছি, বিবেক খাটিয়ে যদি তারা কাজ করতো তাহলে তারা সঠিক পথ পেত। আসলে তারা হলো অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা কুরআন নিয়ে তাদের মন্তব্য ও তার বিপরীতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, তারা কি বলতে চায় যে, এ কুরআন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিজের রচনা করা গ্রন্থ? যদি তারা তাই মনে করে তাহলে তারাও তার মতোই একটি গ্রন্থ রচনা করে নিয়ে আসুক। এ ব্যাপারে পূর্বে সূরা বাকারাসহ অন্যান্য স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের ক্ষমতা কতটুকু তার প্রতি ইঙ্গত দিচ্ছেন যে, তারা কি এমনিতেই সৃষ্ট না তাদের কোন স্রষ্টা রয়েছে? আসলে স্রষ্টা ব্যতীত যে কোন কিছু সৃষ্টি হয় না তারই কথা আল্লাহ জানালেন। আল্লাহ তা‘আলা আরো বললেন, তারা কি নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? তারা কি আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? তাদের নিকট কি তাদের রবের ভাণ্ডার রয়েছে, নাকি তার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের রয়েছে যে, তারা তা নিয়ন্ত্রণ করছে? নাকি তাদের জন্য আসমানে উঠার সিঁড়ি রয়েছে? যদি থাকে তাহলে তাদের মধ্যে যে ঐ সিঁড়ি বেয়ে আসমানে উঠে সেখান থেকে কিছু শুনেছে তা দলিল হিসাবে পেশ করুক।
প্রকৃত কথা এই যে, উল্লেখিত কোন কিছুর মালিকই তারা নয়, তবে তারা কিসের অহংকার করছে? যদি তাদের কোন কিছু করার ক্ষমাত না-ই থাকে তাহলে তাদের উচিত আত্মসমর্পণ করা।
এরপর মুশরিকদের একটা ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিষয়ে বলছেন যে, তারা বলে : ফিরিশ্তারা আল্লাহর কন্যা। অথচ কন্যা সন্তান তাদেরই অপছন্দের বস্তু। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কন্যা সন্তান আল্লাহর জন্য আর পুত্র সন্তান তোমাদের জন্য? এ কেমন বণ্টন?
এরপর আল্লাহ তাদের অস্বীকৃতির কারণ হিসেবে জিজ্ঞাসা করছেন, তুমি কি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ, যে কারণেই তারা তোমার কথা শুনতে চাচ্ছে না? আসল বাস্তবতা তাও নয়। নাকি তারা অদৃশ্যের খরব রাখে, যেজন্য তুমি যা বলছ তা তারা অস্বীকার করছে যে, তুমি যা বলছ তা মিথ্যা যার ফলে তারা বিশ্বাস করে যে, তোমার কথা ঠিক নয়; নাকি তারা ইচ্ছাকৃতই কোন ষড়যন্ত্র করছে আর বাস্তব কথা সেটাই। তাদের জেনে রাখ দরকার যে, তারাই তাদের ষড়যন্ত্রে ধ্বংশ হয়ে যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন গণক, জাদুকর বা পাগল নন যা কাফেররা বলে থাকে। দায়ীদের এ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কেননা এমন কথা তাদের ক্ষেত্রেও বলা হতে পারে, তাই ধৈর্য ধারন করতে হবে।
২. আল্লাহর মুখলেস বান্দাদের তিনি সবসময় সাহায্য করে থাকেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৫-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এখানে রবুবিয়্যাত ও তাওহীদে উলুহিয়্যাত সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলেনঃ তারা কি কোন স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্ট হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? প্রকৃতপক্ষে এ দু'টোর কোনটাই নয়। বরং তাদের সৃষ্টিকর্তা হলেন আল্লাহ। পূর্বে তারা কিছুই ছিল না। তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।
হযরত জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাঃ) বলেনঃ “আমি নবী (সঃ)-কে, মাগরিবের নামাযে সূরায়ে তূর পড়তে শুনি। যখন তিনি (আরবী) পর্যন্ত পৌঁছেন তখন আমার অন্তর উড়ে যাবার উপক্রম হয়।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) এই জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাঃ) বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর নবী (সঃ)-এর নিকট বদরের বন্দীদেরকে মুক্তিপণের মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্যে এসেছিলেন। ঐ সময় তিনি মুশরিক ছিলেন। এই আয়াতগুলোর শ্রবণই তাঁর ইসলামে প্রবেশের কারণ হয়।
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা কি আকাশমণ্ডল না, এটাও নয়। বরং তারা জানে যে, স্বয়ং তাদের ও। একমাত্র আল্লাহ তা'আলা। এটা জানা সত্ত্বেও তারা তাদের অবিশ্বাস হতে বিরত থাকছে না।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার ভাণ্ডার কি তাদের নিকট রয়েছে, না তারা এ সমুদয়ের নিয়ন্তা? অর্থাৎ দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা কি তাদের হাতে আছে, না তারা সমস্ত ভাণ্ডারের মালিক? তারাই সারা মাখলুকের রক্ষক? না, প্রকৃত ব্যাপার তা নয়, বরং মালিক ও ব্যবস্থাপক হলেন একমাত্র আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা। তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন।
এরপর প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ উঁচু আকাশে উঠে যাওয়ার কোন সিঁড়ি তাদের কাছে আছে না কি? যদি থেকে থাকে তবে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেখানে পৌছে কথা শুনে আসে সে তার কথা ও কাজের কোন আসমানী দলীল পেশ করুক না কেন? কিন্তু না তারা কোন দলীল পেশ করতে পারে, না তারা কোন সত্য পথের অনুসারী।
এটাও তাদের একটা বড় অন্যায় কথা যে, তারা বলেঃ ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা (নাউযুবিল্লাহ)। এটা কতই না জঘন্য ব্যাপার যে, তারা নিজেদের জন্যে যে কন্যাদেরকে অপছন্দ করে তাদেরকেই আবার স্থির করে আল্লাহ্ তা'আলার জন্যে! তারা যখন শুনতে পায় যে, তাদের কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে তখন দুঃখে ও লজ্জায় তাদের চেহারা মলিন হয়ে যায়। অথচ ঐ কন্যাদেরকেই তারা সাব্যস্ত করছে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার জন্যে! শুধু তাই নয়, বরং তারা তাদের ইবাদতও করছে! তাই তো প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ অত্যন্ত ধমকের সুরে বলছেনঃ তবে কি কন্যা সন্তান তার জন্যে এবং পুত্র সন্তান তোমাদের জন্যে?
অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! তবে কি তুমি তোমার তাবলীগী কাজের উপর তাদের নিকট পারিশ্রমিক চাচ্ছ যা তাদের উপর ভারী হচ্ছে? অর্থাৎ নবী (সঃ) তো তাঁর তাবলীগী কাজের উপর কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছেন না! তাহলে তাদের কাছে তার আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দেয়াতে তাদের অসন্তুষ্ট হবার কারণ কি? না কি অদৃশ্য বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান আছে যে, তারা এই বিষয়ে কিছু লিখে? না, না, যমীন ও আসমানের সমস্ত সৃষ্টজীবের মধ্যে কেউই অদৃশ্যের খবর রাখে না। এই লোকগুলো আল্লাহর দ্বীন এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ) সম্পর্কে আজে-বাজে কথা বলে স্বয়ং রাসূল (সঃ)-কে, মুমিনদেরকে এবং সাধারণ লোকদেরকে প্রতারিত করতে চায়। কাফিরদের এটা জেনে রাখা উচিত যে, পরিণামে তারাই হবে ষড়যন্ত্রের শিকার।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া তাদের অন্য কোন মা’বূদ আছে কি? কেন তারা আল্লাহর ইবাদতে প্রতিমা ও অন্যান্য জিনিসকে শরীক করছে? আল্লাহ তাআলা তো মুশরিকদের এই কাজে চরম অসন্তুষ্ট। তারা যাকে শরীক স্থির করে তিনি তা হতে পবিত্র।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।