আল কুরআন


সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 55)

সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 55)



হরকত ছাড়া:

وذكر فإن الذكرى تنفع المؤمنين ﴿٥٥﴾




হরকত সহ:

وَّ ذَکِّرْ فَاِنَّ الذِّکْرٰی تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِیْنَ ﴿۵۵﴾




উচ্চারণ: ওয়া যাক্কির ফাইন্নাযযিকরা-তানফা‘উল মু’মিনীন।




আল বায়ান: এবং উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৫. আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ নিশ্চয় উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তুমি উপদেশ দিতে থাক, কেননা উপদেশ মু’মিনদের উপকার করবে।




আহসানুল বায়ান: (৫৫) তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ বিশ্বাসীদের উপকারে আসবে। [1]



মুজিবুর রহমান: তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মু’মিনদের উপকারে আসবে।



ফযলুর রহমান: তবে উপদেশ দিও; কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।



মুহিউদ্দিন খান: এবং বোঝাতে থাকুন; কেননা, বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে।



জহুরুল হক: তবুও তুমি উপদেশ দিতে থাকো, কেননা নিঃসন্দেহ উপদেশদান মুমিনদের উপকার করবে।



Sahih International: And remind, for indeed, the reminder benefits the believers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৫. আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ নিশ্চয় উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৫) তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ বিশ্বাসীদের উপকারে আসবে। [1]


তাফসীর:

[1] কেননা, নসীহত থেকে তারাই উপকৃত হয়। অথবা অর্থ হল, তুমি নসীহত করতে থাক; এই নসীহত থেকে তারা লাভবান হবে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর ইলমে আছে যে, তারা ঈমান আনবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫২-৬০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, মক্কার কাফিররা তোমাকে জাদুকর ও পাগল বলে যে ঠাট্টা করছে তা নতুন কথা নয়। বরং পূর্বে যত নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছিলাম সবাইকে তাদের উম্মতের লোকেরা এরূপ কথা বলেছিল।



(أَتَوَاصَوْا بِهِ)



অর্থাৎ তারা একে অপরকে কি এ কথাই বলার (নাবীদেরকে পাগল, জাদুকর) ওসিয়ত করে। না, তারা এরূপ ওসিয়ত করে যায়নি? বরং তারা প্রত্যেকেই স্ব-স্ব স্থানে সীমালঙ্ঘনকারী। কারণ কাফিরদের অন্তর ও আমল কুফরী ও অবাধ্য কাজে সাদৃশ্যপূর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(كَذٰلِكَ قَالَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّثْلَ قَوْلِهِمْ ط تَشَابَهَتْ قُلُوْبُهُمْ)



“এদের পূর্বে যারা ছিল তারাও এদের অনুরূপ কথা বলত। তাদের সবারই অন্তর পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।” (সূরা বাকারাহ ২ :১১৮)



তারপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবাধ্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করছেন। কারণ তাদের কাছে দা‘ওয়াত পৌঁছার পরেও অপরাধে লিপ্ত হলে আপনাকে তিরস্কার করা হবে না। আপনার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেয়া। আর তা আপনি করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلٰغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ)



“তোমার কর্তব্য তো কেবল প্রচার করা এবং হিসেব-নিকেশ একমাত্র আমার কাজ।” (সূরা রাদ ১৩ :৪০)



(فَإِنَّ الذِّكْرَي تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ)



স্মরণ করিয়ে দেয়া দু’প্রকার- (১) এমন বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়া যা বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা নেই, কিন্তু মূল কথা স্বভাব ও জ্ঞান দ্বারা জ্ঞাত। যেমন কল্যাণকর জিনিসকে পছন্দ করা, অকল্যাণকর জিনিসকে অপছন্দ করা। (২) এমন বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়া যা মু’মিনদের জানা। কিন্তু ভুলে গেছে, অসচেতন হয়ে গেছে।



এক্ষেত্রে মু’মিনকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমলের ওপর প্রতিষ্টিত করা। উভয়ভাবেই স্মরণ করানো মু’মিনের উপকারে আসে। কারণ তার মাঝে যে ঈমান ও আল্লাহ তা‘আলার ভয় রয়েছে তা কাজ করে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(فَذَکِّرْ اِنْ نَّفَعَتِ الذِّکْرٰیﭘ سَیَذَّکَّرُ مَنْ یَّخْشٰیﭙوَیَتَجَنَّبُھَا الْاَشْقَی‏)‏



“অতএব উপদেশ দাও যদি উপদেশ উপকারী হয়। যারা ভয় করে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে। আর তা উপেক্ষা করবে সে, যে নিতান্ত হতভাগ্য।” (সূরা আলা ৮৭ :৯-১১)



(إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ)



‘তারা একমাত্র আমারই ইবাদত করবে’ এটাই হলো মানব ও জিন জাতি সৃষ্টির একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন :



إلا ليوحدون



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জিন ও মানব জাতি সৃষ্টি করেছেন। আলী (রাঃ) বলেন : অর্থাৎ আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করিনি, তবে (সৃষ্টি করে) তাদেরকে ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছি (কুরতুবী)। সুতরাং প্রত্যেক মানুষ ও জিন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না এটাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তবে মনে রাখতে হবে ইবাদত শুধু সালাত, সিয়াম, হাজ্জ ও যাকাতের মাঝে সীমাবদ্ধ নয় বরং ইবাদত একটি ব্যাপক নাম। প্রত্যেক কথা ও কাজ তা বাহ্যিক হোক আর আভ্যন্তরীন হোক যা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন তাই ইবাদত।



আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট থেকে কোন রিযিকও চান না, আর তারা কোন কিছু তাঁকে খাওয়াবে তাও তিনি চান না, কারণ তিনি বান্দাদের রিযিক দান করেন। তিনি সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(لَنْ يَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَا۬ؤُهَا وَلٰكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰي مِنْكُمْ)



“আল্লাহর নিকট পৌঁছে না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাক্ওয়া।” (সূরা হাজ্জ ২২ :৩৭)



ذَنُوبِ অর্থ : ভরা বালতি। যেমন কুয়া থেকে পানি তুলে বণ্টন করা হয় এদিক দিয়ে এখানে বালতিকে অংশের অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থ হলো : অত্যাচারীদের প্রাপ্য শাস্তির অংশ আছে। যেমন ইতোপূর্বে কুফ্রী ও র্শিককারীদের তাদের শাস্তির অংশ পেতে হয়েছে। অর্থাৎ মক্কার যে সকল মুশরিকরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের জন্য আযাবের একটি অংশ রয়েছে যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের যারা তাদের নাবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের জন্য নির্ধারিত আযাবের একটি অংশ রয়েছে (আযওয়াউল বায়ান)।



তবে এ শাস্তির অংশ তারা কখন পাবে, তা নির্ভর করে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার ওপর। সুতরাং শাস্তি চাওয়ার ব্যাপারে তারা যেন তাড়াহুড়া না করে।



(مِنْ يَوْمِهِمُ الَّذِي يُوعَدُونَ)



‘যে দিনের ভয় তাদেরকে দেখানো হয়েছে’ সে প্রতিশ্র“ত দিন হলো কিয়ামতের দিন। অতএব আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সে উদ্দেশ্য যেন ভ্রষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. সকল কাফিরদের স্বভাব, রীতিনীতি এক ও অভিন্ন।

২. অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের পরিণতি নিজের ওপরেই বর্তায়।

৩. মু’মিনদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়া উচিত।

৪. মানুষ ও জিন জাতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য জানলাম।

৫. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী।

৬. কাফিরদের স্থায়ী ঠিকানা জাহান্নাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫২-৬০ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! এই কাফিররা যা বলছে তা কোন নতুন কথা নয়। এদের পূর্ববর্তী কাফিররাও নিজ নিজ যুগের রাসূলদেরকে একথাই বলেছিল। কাফিরদের এই উক্তিই ক্রমান্বয়ে চলে আসছে। যেন তারা পরস্পর এই অসিয়তই করে গিয়েছে। সত্য কথা তো এটাই যে, ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতায় এরা সবাই সমান। এ জন্যেই এদের পূর্ববর্তীদের মুখ দিয়ে যে কথা বের হয়েছিল ঐ কথাই এদের মুখ দিয়েও বের হচ্ছে। কেননা, শক্ত অন্তরের দিক দিয়ে এরা সবাই একই। সুতরাং তুমি এদের কথা চোখ বুজে সহ্য করে যাও। এরা তোমাকে পাগল বলছে, যাদুকর বলছে, তুমি তাদের এসব কথার উপর ধৈর্যধারণ করতে থাকো। হ্যাঁ, তবে উপদেশের তাবলীগ চালিয়ে যাও, এটা ছেড়ে দিয়ো না। আল্লাহ পাকের বাণী তাদের কাছে পৌঁছাতে থাকো। যাদের অন্তরে ঈমান কবূল করে নেয়ার মাদ্দা রয়েছে তারা একদিন না একদিন অবশ্যই সত্যের পথে আসবে।

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি দানব ও মানবকে আমার নিজের কোন প্রয়োজনের জন্যে সৃষ্টি করিনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করেছি শুধু এজন্যে যে, তাদের নিজেদেরই লাভ ও উপকারের জন্যে তাদেরকে আমার ইবাদত করার নির্দেশ দান করবে। আর করেছিও তাই। তারা যেন সন্তুষ্টচিত্তে অথবা বাধ্য হয়ে আমাকে প্রকৃত মা’বূদ মেনে নেয়। তারা যেন আমার পরিচয় লাভ করে।

হযরত সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, কতক ইবাদত উপকার পৌঁছিয়ে থাকে, আবার কতক ইবাদতে মোটেই কোন উপকার হয় না। যেমন কুরআন কারীমে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তবে অবশ্যই তারা বলবেঃ ‘আল্লাহ’।” (৩৯:৩৮) তাহলে যদিও এটাও একটি ইবাদত, তথাপি মুশরিকদের এই উত্তর তাদের কোন উপকারে আসবে না। মোটকথা, ইবাদতকারী সবাই, ঐ ইবাদত তাদের জন্যে উপকারী হোক বা নাই হোক।

হযরত যহহাক (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা ঈমানদার মানব ও দানবকে বুঝানো হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে নিম্নরূপ পড়িয়েছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি রিযকদাতা ও প্রবল পরাক্রান্ত।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান সহীহ বলেছেন)

মোটকথা, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে একমাত্র তাঁরই ইবাদতের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তার সাথে অন্য কাউকেও শরীক করবে না তাকে তিনি উত্তম ও পূর্ণ পুরস্কার প্রদান করবেন। আর যারা তার সাথে অন্য কাউকেও শরীক করবে তাকে তিনি জঘন্য শাস্তি প্রদান করবেন। আল্লাহ তা'আলা কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং সমস্ত মাখলুক সর্বাবস্থায় এবং সর্বসময় তাঁর পূর্ণ মুখাপেক্ষী। তারা তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে অসহায় ও দরিদ্র। তিনি একাই তাদের সৃষ্টিকর্তা ও আহার্যদাতা।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতে লেগে পড়, আমি তোমার বক্ষকে ঐশ্বর্য ও অমুখাপেক্ষিতা দ্বারা পূর্ণ করে দিবো এবং তোমার দারিদ্রকে দূর করবে। আর যদি তুমি এরূপ না কর তবে আমি তোমার বক্ষকে ব্যস্ততা দ্বারা পূর্ণ করবে এবং তোমার দরিদ্রতাকে কখনো বন্ধ করবে না।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম ইবনে মাজাহও (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন)

হযরত খালিদ (রাঃ)-এর হযরত হিব্বাহ (রাঃ) ও হযরত সাওয়াহ (রাঃ) নামক দুই পুত্র বর্ণনা করেনঃ “একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হই। ঐ সময় তিনি কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন অথবা তিনি দেয়াল তৈরী করছিলেন কিংবা কোন জিনিস মেরামত করছিলেন। আমরাও তাঁকে ঐ কাজে সাহায্য করি। কাজ শেষ হলে তিনি আমাদের জন্যে দুআ করেন এবং বলেনঃ “তোমাদের মাথা নড়া পর্যন্ত তোমরা রিযক হতে নিরাশ হয়ো না। দেখো, মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তার মা তাকে একটা লাল গোশত-খণ্ড রূপে প্রসব করে, দেহের উপর কোন আবরণ থাকে না, অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে সবকিছুই দান করেন এবং তাকে রিযক দিয়ে থাকেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

কোন কোন আসমানী কিতাবে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হে আদম সন্তান! আমি তোমাকে আমার ইবাদতের জন্যে সৃষ্টি করেছি, সুতরাং তুমি তাতে অবহেলা করো না। তোমার রিকের যামিন আমিই। তুমি তাতে অযথা কষ্ট করো না। তুমি আমাকে তালাশ কর, পাবে। যদি তুমি আমাকে পেয়ে যাও তবে বিশ্বাস রেখো যে, তুমি সব কিছুই পেয়ে গেলে। আর যদি আমাকে না পাও তবে নিশ্চিতরূপে জানবে যে, তুমি সমস্ত কল্যাণ হারিয়ে ফেলেছো। জেনে রেখো যে, তোমার অন্তরে আমারই প্রেম সর্বাধিক থাকা চাই।”

এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ এই কাফিররা কেন আমার শাস্তি তাড়াতাড়ি চাচ্ছে? এ শাস্তি তো নির্ধারিত সময়ে তাদের উপর অবশ্যই আপতিত হবে, যেমন তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের উপর আপতিত হয়েছিল। যে কিয়ামতের দিন সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে ঐ দিন তাদের জন্যে হবে বড়ই দুর্ভোগের দিন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।