সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 51)
হরকত ছাড়া:
ولا تجعلوا مع الله إلها آخر إني لكم منه نذير مبين ﴿٥١﴾
হরকত সহ:
وَ لَا تَجْعَلُوْا مَعَ اللّٰهِ اِلٰـهًا اٰخَرَ ؕ اِنِّیْ لَکُمْ مِّنْهُ نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ﴿ۚ۵۱﴾
উচ্চারণ: ওয়ালা-তাজ‘আলূমা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ইন্নী লাকুম মিনহু নাযীরুম মুবীন।
আল বায়ান: আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ নির্ধারণ করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫১. আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ স্থির করো না; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করো না, আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।
আহসানুল বায়ান: (৫১) তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করো না; নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।[1]
মুজিবুর রহমান: তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মা‘বূদ স্থির করনা; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী ।
ফযলুর রহমান: আর আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে এক স্পষ্ট সতর্ককারী।”
মুহিউদ্দিন খান: তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
জহুরুল হক: আর আল্লাহ্র সাথে অন্য কোনো উপাস্য দাঁড় করো না। নিঃসন্দেহ আমি তোমাদের নিকট তাঁর কাছ থেকে এক জন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
Sahih International: And do not make [as equal] with Allah another deity. Indeed, I am to you from Him a clear warner.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫১. আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ স্থির করো না; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫১) তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করো না; নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।[1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে স্পষ্টভাবে সতর্ক ও ভীতি-প্রদর্শন করছি এবং তোমাদের শুভ কামনা করছি। তোমরা কেবল এক আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তাঁরই উপর আস্থা ও ভরসা রাখ এবং কেবল তাঁরই ইবাদত কর। তাঁর সাথে অন্য মনগড়া উপাস্যদেরকে শরীক করো না। এ রকম করলে মনে রেখো, জান্নাতের নিয়ামতসমূহ থেকে চিরকালের জন্য বঞ্চিত থেকে যাবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৭-৫১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রুবুবিয়্যাহর পরিচয় তুলে ধরেছেন যে, তিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন নিজ ক্ষমতার বলে, তারপর তা প্রশস্ত করে দিয়েছেন।
এখানে بِأَيْدٍ শব্দটি يد (হাত) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, শক্তি। যেমন দাঊদ (আঃ)-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে :
(اِصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَاذْکُرْ عَبْدَنَا دَاو۫دَ ذَا الْاَیْدِﺆ اِنَّھ۫ٓ اَوَّابٌ)
“তারা যা কিছু বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদের কথা, যে ছিল খুব শক্তিশালী এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। ” (সূরা সোয়াদ ৩৮ :১৭)
আর তিনি জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছেন যাতে চলাচলের উপযোগী হয়। আর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে জোড়ায় জোড়ায় তথা নর ও নারীরূপে সৃষ্টি করেছেন।
অতএব যে আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছু করেছেন তার কাছে ফিরে যাও, সৎ কাজ কর ও অসৎ কাজ বর্জনের মাধ্যমে তার কাছেই তাওবা কর।
আল্লাহ তা‘আলা আবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেন কোন ক্রমেই আমরা তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন না করি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর প্রমাণ পেলাম।
২. প্রতিটি প্রাণীর নর ও নারী রয়েছে।
৩. র্শিক থেকে সাবধান। কারণ মুশরিক অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নাম ছাড়া কোন পথ নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৭-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি।
মহান আল্লাহ বলেনঃ যমীনকে আমি আমার সৃষ্টজীবের জন্যে বিছানা বানিয়েছি। আর একে বানিয়েছি অতি উত্তম বিছানা। সমস্ত মাখলককে জোড়া জোড়া করে সষ্টি করেছি। যেমন আসমান ও যমীন, দিবস ও রজনী, সূর্য ও চন্দ্র, জল ও স্থল, আলো ও অন্ধকার, ঈমান ও কুফর, জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, এমন কি জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের মধ্যেও জোড়া রয়েছে। এটা এ জন্যে যে, যেন তোমরা উপদেশ লাভ কর। তোমরা যেন জেনে নাও যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি শরীক বিহীন ও একক। সুতরাং তোমরা তার দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং তারই প্রতি মনোযোগী হও। আমার নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে স্পষ্ট সতর্ককারী। সাবধান! তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদ স্থির করো না। আমার রাসূল (সঃ) তো তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।