আল কুরআন


সূরা কাফ (আয়াত: 6)

সূরা কাফ (আয়াত: 6)



হরকত ছাড়া:

أفلم ينظروا إلى السماء فوقهم كيف بنيناها وزيناها وما لها من فروج ﴿٦﴾




হরকত সহ:

اَفَلَمْ یَنْظُرُوْۤا اِلَی السَّمَآءِ فَوْقَهُمْ کَیْفَ بَنَیْنٰهَا وَ زَیَّنّٰهَا وَ مَا لَهَا مِنْ فُرُوْجٍ ﴿۶﴾




উচ্চারণ: আফালাম ইয়ানজু রূইলাছ ছামাইফাওকাহুম কাইফা বানাইনা-হা-ওয়া যাইয়ান্না-হাওয়ামা-লাহা-মিন ফুরূজ।




আল বায়ান: তারা কি তাদের উপরে আসমানের দিকে তাকায় না, কিভাবে আমি তা বানিয়েছি এবং তা সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোন ফাটল নেই।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬. তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখে না, আমরা কিভাবে তা নির্মাণ করেছি ও তাকে সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোন ফাটলও নেই?




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আকাশের দিকে তাকায় না, কীভাবে আমি তাকে বানিয়েছি, তাকে সুশোভিত করেছি আর তাতে নেই কোন ফাটল?




আহসানুল বায়ান: (৬) তারা কি তাদের উপরিস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি কিভাবে ওটা নির্মাণ করেছি[1] ও তাকে সুশোভিত করেছি[2] এবং ওতে কোন ফাটলও নেই? [3]



মুজিবুর রহমান: তারা কি তাদের উর্ধ্বস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনা যে, আমি কিভাবে ওটা নির্মাণ করেছি এবং ওকে সুশোভিত করেছি এবং ওতে কোন ফাটলও নেই?



ফযলুর রহমান: তারা কি তাদের (মাথার) ওপরে আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখেনি, আমি তা কীভাবে নির্মাণ করেছি এবং কত সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছি? তাতে কোন ফাটলও নেই।



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি তাদের উপরস্থিত আকাশের পানে দৃষ্টিপাত করে না আমি কিভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? তাতে কোন ছিদ্রও নেই।



জহুরুল হক: তারা কি তবে তাদের উপরকার আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না -- আমরা কেমন ক’রে তা তৈরি করেছি এ বং তাকে সুশোভিত করেছি, আর তাতে কোনো ফাটলও নেই?



Sahih International: Have they not looked at the heaven above them - how We structured it and adorned it and [how] it has no rifts?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬. তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখে না, আমরা কিভাবে তা নির্মাণ করেছি ও তাকে সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোন ফাটলও নেই?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬) তারা কি তাদের উপরিস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি কিভাবে ওটা নির্মাণ করেছি[1] ও তাকে সুশোভিত করেছি[2] এবং ওতে কোন ফাটলও নেই? [3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, বিনা স্তম্ভে; যার সাহায্যে তা প্রতিষ্ঠিত আছে।

[2] অর্থাৎ, তারকারাজি দ্বারা তাকে সুশোভিত করা হয়েছে।

[3] অনুরূপ তাতে কোন অসামঞ্জস্য ও খুঁত নেই। যেমন, অন্যত্র বলেছেন, ‘‘তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না; আবার তাকিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।’’ (সূরা মুলক ৩-৪ আয়াত)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬-১১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আলোচ্য আয়াতগুলোতে আকাশ-জমিন সৃষ্টি, আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত করা, জমিনকে প্রশস্ত করা, আকাশ হতে বরকতময় বৃষ্টি নাযিল ইত্যাদি আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এসব সৃষ্টির দিকে চিন্তার দৃষ্টিতে তাকালে পুনরুত্থানের প্রতি নেতিবাচক ধারণা দূর হয়ে যাবে।



(أَفَلَمْ يَنْظُرُوْآ إِلَي السَّمَا۬ءِ)



‘তারা কি কখনও তাদের ওপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না’ অর্থাৎ তারা কি আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? তারা কি দেখে না, আল্লাহ তা‘আলা কী মজবুত, সুন্দর ও সুউচ্চ করে আকাশ সৃষ্টি করেছেন?



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(اَللّٰهُ الَّذِيْ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا)



“আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশসমূহ স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত যা তোমরা দেখছ।” (সূরা রাদ ১৩ :২) শুধু সৃষ্টিই করেননি, সৃষ্টি করে তাকে বিশেষ করে দুনিয়ার আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন :



(وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَا۬ءِ بُرُوْجًا وَّزَيَّنّٰهَا لِلنّٰظِرِيْنَ) ‏



“আমি আকাশে গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি এবং তা সুশোভিত করেছি দর্শকদের জন্য” (সূরা হিজর ১৫ :১৬) আকাশ এত বিশাল ও বড় হওয়া সত্ত্বেও তাতে কোন ফাটল বা ছিদ্র নেই। অতএব এ বিশাল আকাশ সৃষ্টি করা কি মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে কঠিন নয়! মহান আল্লাহ বলেন :



(ءَاَنْتُمْ اَشَدُّ خَلْقًا اَمِ السَّمَا۬ئُﺚ بَنٰٿھَا)



“তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিন কাজ, না আকাশের? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন।” (সূরা নাযিআত ৭৯ :২৭)



باسقات অর্থ : طوالا تاهقات সুউচ্চ। نضيد অর্থ : স্তরে স্তরে বিন্যস্ত।



অর্থাৎ জমিন সৃষ্টি করে তা সমতল করে দিয়েছেন এবং পেরেকস্বরূপ পাহাড় দিয়েছেন যাতে তা স্থির থাকে এবং তা বসবাসের উপযোগী হবে। জমিনে উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছেন যা মানুষের উপকারে আসবে। মহান আল্লাহ বলেন :



(وَهُوَ الَّذِيْ مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيْهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهٰرًا ط وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِيْهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ)



“তিনিই ভূতলকে বিস্তৃত করেছেন এবং এতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।” (সূরা রাদ ১৩ :৩) এসব কিছুর মধ্যে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ। তাহল সব কিছুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। এ বিশাল বড় বড় বস্তু যে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন তিনি কি মানুষকে পুনরুত্থিত করতে সক্ষম নন। অবশ্যই সক্ষম, সুতরাং এখানেই জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা নিহিত।



মানুষ যাতে সহজেই পুনরুত্থানের কথা উপলব্ধি করতে পারে সে জন্য পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : আমি বৃষ্টি বর্ষণ করে যেমন মৃত জমিনকে জীবিত করি তেমনি তোমাদেরকে মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত করব।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা তবে এটুকু বিশ্বাস করলেই মু’মিন হওয়া যাবে না যতক্ষণ না একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে।

২. আল্লাহ তা‘আলার এসব সৃষ্টি তাঁর বড়ত্ব ও মহত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে।

৩. প্রত্যেক আত্মাকে হিসাব নিকাশের জন্য পুনরুত্থিত হতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।

৪. পুনরুত্থান চিরন্তন সত্য, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬-১১ নং আয়াতের তাফসীর:

এ লোকগুলো যেটাকে অসম্ভব মনে করছে, বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহ ওর চেয়েও নিজের বড় শক্তির নমুনা তাদের সামনে পেশ করে বলছেনঃ তোমরা আকাশের দিকে চেয়ে দেখো, ওর নির্মাণ কৌশলের কথা একটু চিন্তা কর, ওর উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির প্রতি দৃষ্টিপাত কর এবং লক্ষ্য কর যে, ওর কোন জায়গায় কোন ছিদ্র বা ফাটল নেই। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ(আরবী) অর্থাৎ “যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না। আবার তাকিয়ে দেখো, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?” অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। (৬৭:৩-৪)

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে ও তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা যাতে যমীন হেলা-দোলা না করে। কেননা, যমীন চতুর্দিক হতে পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত রয়েছে। আর আমি ওতে উদাত করেছি নয়ন প্রীতিকর সর্বপ্রকার উদ্ভিদ। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেক জিনিসকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা উপদেশ লাভ কর।” (৫১:৪৯)।

অতঃপর মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আসমান, যমীন এবং এ ছাড়াও আল্লাহ তা'আলার ব্যাপক ক্ষমতার আরো বহু নিদর্শন রয়েছে, এগুলো আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ।

অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি আকাশ হতে কল্যাণকর বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদ্দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও পরিপক্ক শস্যরাজি এবং সমুন্নত খর্জুর বৃক্ষ যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর। এগুলো আমার বান্দাদের জীবিকা স্বরূপ। বৃষ্টি দ্বারা আমি মৃত ও শুষ্ক ভূমিকে সঞ্জীবিত করে থাকি। ভূমি তখন সবুজ-শ্যামল হয়ে আন্দোলিত হতে থাকে। এভাবেই মৃতকে পুনর্জীবিত করা হবে এবং পুনরুত্থান এভাবেই ঘটবে। মানুষ তো এসব নিদর্শন দৈনন্দিন দেখছে। এরপরেও কি তাদের জ্ঞানচক্ষু ফিরবে না? তারা কি এখনো বিশ্বাস করবে না যে, আল্লাহ তাআলা মৃতকে পুনর্জীবন দান করতে পূর্ণরূপে ক্ষমতাবান? যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “অবশ্যই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি মানব সৃষ্টি অপেক্ষা খুব বড় (ভারী বা কঠিন)।” (৪০:৫৭) আর একটি আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা কি অনুধাবন করে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী। সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তি বোধ করেননি, তিনি মৃতের জীবনদান করতেও সক্ষম? বস্তুতঃ তিনি সর্বশক্তিমান।” (৪৬:৩৩) মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অথাৎ “এবং তার একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক, উর্বর, অতঃপর আমি ওতে বারি বর্ষণ করলে ওটা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়; যিনি ভূমিকে জীবিত করেন তিনিই মৃতের জীবন দানকারী। তিনি তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (৪১:৩৯)।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।