আল কুরআন


সূরা কাফ (আয়াত: 37)

সূরা কাফ (আয়াত: 37)



হরকত ছাড়া:

إن في ذلك لذكرى لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد ﴿٣٧﴾




হরকত সহ:

اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَذِکْرٰی لِمَنْ کَانَ لَهٗ قَلْبٌ اَوْ اَلْقَی السَّمْعَ وَ هُوَ شَهِیْدٌ ﴿۳۷﴾




উচ্চারণ: ইন্না ফী যা-লিকা লাযিকরা-লিমান কা-না লাহূকালবুন আও আলকাছ ছাম‘আ ওয়া হুওয়া শাহীদ।




আল বায়ান: নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে অন্তর অথবা যে নিবিষ্টচিত্তে শ্রবণ করে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৭. নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে অন্তঃকরণ(১) অথবা যে শ্রবণ করে মনোযোগের সাথে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এতে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার আছে (বোধশক্তিসম্পন্ন) অন্তর কিংবা যে খুব মন দিয়ে কথা শুনে।




আহসানুল বায়ান: (৩৭) এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে হৃদয়[1] অথবা যে উপস্থিত থেকে[2] নিবিষ্ট-চিত্তে শ্রবণ করে।[3]



মুজিবুর রহমান: এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার আছে অন্তঃকরণ, অথবা যে শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে।



ফযলুর রহমান: এর মধ্যে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে এমন লোকের জন্য, যার (অনুধাবন করার মত) অন্তর আছে অথবা যে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে।



মুহিউদ্দিন খান: এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্যে, যার অনুধাবন করার মত অন্তর রয়েছে। অথবা সে নিবিষ্ট মনে শ্রবণ করে।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ এতে নিশ্চয়ই উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার হৃদয় আছে, অথবা যে কান দেয়, আর সে সাক্ষ্য বহন কবে ।



Sahih International: Indeed in that is a reminder for whoever has a heart or who listens while he is present [in mind].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৭. নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে অন্তঃকরণ(১) অথবা যে শ্রবণ করে মনোযোগের সাথে।


তাফসীর:

(১) ইবন আব্বাস বলেনঃ এখানে ‘কলব’ বলে বোধশক্তি বোঝানো হয়েছে। বোধশক্তির কেন্দ্ৰস্থল হচ্ছে কলব তথা অন্তঃকরণ। তাই একে কলব বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। কোনো কোনো তাফসিরবিদ বলেনঃ এখানে কলব বলে হায়াত তথা জীবন বোঝানো হয়েছে। [কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৭) এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে হৃদয়[1] অথবা যে উপস্থিত থেকে[2] নিবিষ্ট-চিত্তে শ্রবণ করে।[3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এমন সজাগ অন্তর, সচেতন হৃদয়, যা চিন্তা-ভাবনা করে প্রকৃত ব্যাপার অনুধাবন করে নেয়।

[2] অর্থাৎ, মন ও মস্তিষ্ক সহ উপস্থিত থাকে। কারণ, যে ব্যক্তি কথাই বুঝবে না, তার উপস্থিত থাকাও না থাকার মতনই।

[3] অর্থাৎ, মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর সেই অহী শোনে, যাতে বিগত জাতিসমূহের ঘটনাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৬-৪০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ বলছেন : এ সকল মুশরিক কুরাইশের পূর্বে কত জাতিকে আমি ধ্বংস করেছি; তারা তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও প্রতাবশালী ছিল। কিন্তু যখন শাস্তি এসেছে তারা কেউ রক্ষা পায়নি।



(فَنَقَّبُوْا فِي الْبِلَادِ)



(দেশে বিদেশে বিচরণ করত)-এর একটি অর্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন শহরে মক্কাবাসীর চেয়েও বেশি ভ্রমণ করত। কিন্তু যখন আমার আযাব এলো, তখন তারা না কোথাও আশ্রয় পেল, আর না পালানোর কোন পথ পেল।



এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার আছে সজাগ বোধগম্য হৃদয় অথবা যে মনোযোগসহ শ্রবণ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি সচেতন সে পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সতর্ক হবে এবং আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাফরমানীর কাজে লিপ্ত হবে না।



لُّغُوْبٍ অর্থ ক্লান্ত হওয়া, কাতাদাহ ও কালবী (রহঃ) বলেন : মদীনার ইয়াহূদীরা বিশ্বাস করত আল্লাহ তা‘আলা ছয় দিনে আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন, শুরু করেছেন রবিবার আর শেষ করেছেন জুম‘আবার, শনিবার বিশ্রাম নিয়েছেন- তাদের এ ভ্রান্ত বিশ্বাসকে খন্ডন করার জন্য উক্ত আয়াত নাযিল হয় (কুরতুবী)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কোন কাজে ক্লান্ত বোধ করেন না বরং তিনি কোন কাজ করার ইচ্ছা করলে শুধু বলেন- ‘কুন’ বা ‘হও’ আর তা সাথে সাথেই হয়ে যায়। তবে ছয় দিনে আকাশ-জমিন সৃষ্টি করার পিছনে আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ কোন হিকমত রয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা প্রদান করছেন যে, তুমি তাদের অসার কথায় ধৈর্য ধারণ করো। আর সকাল-সন্ধ্যা, রাতের কিয়দাংশে ও সালাত শেষে তাসবীহ পাঠ করো।



(وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ)



ইমাম ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : মিরাজের পূর্বে সূর্যোদয়ের আগে, ফজরের সময় দু’ রাকআত আর আসরের সময় দু’রাকআত সলাত ফরয ছিল। অতঃপর আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফারয করার মাধ্যমে তা রহিত করে দেন। (ইবনু কাসীর- এ আয়াতের তাফসীর)



জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : একরাতে আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন : তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ তেমনিভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে বাধা বিঘœ হবে না। তাই তোমাদের সামর্থ্য থাকলে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সালাতের ব্যাপারে পরাজিত হবে না। তারপর তিনি পাঠ করলেন : তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা বর্ণনা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৫১, সহীহ মুসলিম হা. ৬৩৩)



সূর্যোদয়ের পূর্ব বলতে ফজরের সালাত সূর্যাস্তের পূর্বে বলতে ‘আসরের সালাতকে বুঝানো হয়েছে। আর রাতের কিয়দাংশ সালাত আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা হলো তাহাজ্জুদের সালাত।



(وَأَدْبَارَ السُّجُودِ)



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এর উদ্দেশ্য ফরয সালাতের পর তাসবীহ পাঠ করা। প্রমাণ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : দরিদ্র মুহাজিরগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলেন : হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ধনী লোকেরা তো উচ্চ মর্যাদা ও চিরস্থায়ী নেয়ামত লাভ করে ফেলেছেন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : কিভাবে? তাঁরা বললেন : আমাদের মতো তারাও সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান-সদকা করে আর আমরা করতে পারি না এবং তারা গোলাম আযাদ করে, আমরা পারি না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলে দেব না যা করলে তোমরাই সর্বাপেক্ষা অগ্রগামী থাকবে, তোমাদের ওপর কেউ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না?



তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল-হামদুলিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করতে বললেন। (সহীহ বুখারী হা. ৮৪৩)



আর কেউ বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাগরিবের পর দু’রাক‘আত সালাত পড়া।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. পাপাচারীদের উভয় জগতের ভয় দেখানো বৈধ।

২. পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিদের থেকে তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যাদের জীবন্ত আত্মা রয়েছে ও যারা মনোযোগসহ শোনে।

৩. সালাতের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ ও সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৬-৪০ নং আয়াতের তাফসীর:

ইরশাদ হচ্ছেঃ এই কাফিররা কতটুকু ক্ষমতা রাখে? এদের পূর্বে এদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী এবং সংখ্যায় অধিক লোকদের এই অপরাধের কারণেই আল্লাহ তা'আলা ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা শহরে বহু কিছু স্মৃতিসৌধ ছেড়ে গেছে। ভূ-পৃষ্ঠে তারা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। তারা দীর্ঘ সফর করতো। আল্লাহর শাস্তি দেখে তা হতে বাঁচার পথ তারা অনুসন্ধান করতে থাকে। কিন্তু তাদের ঐ চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। আল্লাহর পাকড়াও হতে কে বাঁচতে পারে? প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ কাফিরদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা মনে রেখো যে, যখন আমার শাস্তি এসে যাবে তখন ভূষির মত উড়ে যাবে। প্রত্যেক জ্ঞানী ও বিবেকবান ব্যক্তির জন্যে এতে যথেষ্ট উপদেশ ও শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। যে নিবিষ্ট চিত্তে এটা শ্রবণ করে তার জন্যেও এতে শিক্ষা ও উপদেশ আছে।

অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এগুলোর অন্তর্বর্তী সব কিছু সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে এবং এতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়িনি। এতেও এটা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা মৃত্যুর পর পুনর্জীবন দান করতে পূর্ণরূপে ক্ষমতাবান। কেননা, এতো বড় মাখলুককে যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তাঁর পক্ষে মৃতকে পুনর্জীবিত করা মোটেই কঠিন নয়।

হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ অভিশপ্ত ইয়াহূদীরা বলতো যে, আল্লাহ তা'আলা ছয় দিনে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন এবং সপ্তম দিনে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। আর ঐ দিনটি ছিল শনিবার। ঐ দিনের নামটিই তারা। রেখে তবে ছেড়েছিল। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তাদের এই বাজে ধারণাটি খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি ক্লান্তই হননি, কাজেই বিশ্রাম কিসের? যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ(আরবী) অর্থাৎ “তারা কি অনুধাবন করে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তি বোধ করেননি, তিনি মৃতের জীবনদান করতেও সক্ষম? বস্তুতঃ তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (৪৬:৩৩)

আর যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ আর এক আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অবশ্যই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করা মানব সৃষ্টি করা অপেক্ষা বহুগুণে বড় (কঠিন)।” (৪০:৫৭) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদেরকেই কি সৃষ্টি করা কঠিন, না আকাশ, যা তিনি বানিয়েছেন?” (৭৯:২৭)

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! অতএব তারা তোমাকে যা বলে তাতে তুমি মনঃক্ষুন্ন হয়ো না বরং ধৈর্যধারণ কর, তাদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে ছেড়ে দাও এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে এবং রাত্রে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

মিরাজের পূর্বে ফজরের ও আসরের নামায ফরয ছিল এবং রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর এবং তার উম্মতের উপর এক বছর পর্যন্ত তাহাজ্জুদের নামায ওয়াজিব থাকে। তারপর তাঁর উম্মতের উপর হতে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়। অতঃপর মিরাজের রাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়, যেগুলোর মধ্যে। ফজর ও আসরের নাম যেমন ছিল তেমনই থাকে। সুতরাং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে এ কথার দ্বারা ফজর ও আসরের নামাযকে বুঝানো হয়েছে।

হযরত জারীর ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমরা (একদা) নবী (সঃ)-এর নিকট বসেছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের চাঁদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং বলেনঃ “তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের সামনে হাযির করা হবে এবং তাকে তোমরা এমনিভাবে দেখতে পাবে যেমনভাবে এই চাঁদকে দেখছো। সুতরাং তোমরা পারলে অবশ্যই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাযকে কখনো ছাড়বে না।” অতঃপর তিনি .. (আরবী)-এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম বুখারী (রঃ) এবং ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে আরো বলেনঃ ‘রাত্রেও তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।' যেমন অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, এটা তোমার এক অতিরিক্ত বর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।” (১৭:৭৯)

(আরবী) দ্বারা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর মতে নামাযের পরে তাসবীহ পাঠকে বুঝানো হয়েছে।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, দরিদ্র মুহাজিরগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ধনী লোকেরা তো উচ্চ মর্যাদা ও চিরস্থায়ী নিয়ামত লাভ করে ফেলেছেন!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “কিরূপে?” তারা জবাবে বললেনঃ আমাদের মত তারাও নামায পড়েন ও রোযা রাখেন। কিন্তু তারা দান-খয়রাত করেন যা আমরা করতে পারি না এবং তাঁরা গোলাম আযাদ করেন, আমরা তা করতে সমর্থ হই না।” তিনি তখন তাদেরকে বললেনঃ “এসো, আমি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলে দিই যা তোমরা করলে তোমরাই সর্বাপেক্ষা অগ্রগামী হয়ে যাবে, তোমাদের উপর কেউই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারবে না। কিন্তু তারাই পারবে যারা তোমাদের মত আমল করবে। তোমরা প্রত্যেক নামাযের পরে সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ’ এবং আল্লাহু আকবার' তেত্রিশবার করে পাঠ করবে।” (কিছু দিন পর) তারা আবার আসলেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদের ধনী ভ্রাতাগণও আমাদের এ আমলের মত আমল করতে শুরু করেছেন!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করে থাকেন।”

দ্বিতীয় উক্তি এই যে, এর দ্বারা মাগরিবের পরে দুই রাকআত নামাযকে বুঝানো হয়েছে। হযরত উমার (রাঃ), হযরত আলী (রাঃ), হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ), হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) এবং হযরত আবু উমামাও (রাঃ) এ কথাই বলেন। হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত ইকরামা (রঃ), হযরত শা’বী (রঃ), হযরত নাখঈ (রঃ) এবং হযরত কাতাদা (রঃ)-এরও এটাই উক্তি।

হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে দুই রাকআত নামায পড়তেন, শুধু ফজর ও আসরের পরে পড়তেন না । (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আব্দুর রহমান (রঃ) প্রত্যেক নামাযের পরে’ একথা বলেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একটি রাত্রি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট অতিবাহিত করি। তিনি ফজরের ফরয নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায হালকাভাবে আদায় করেন। তারপর তিনি (ফরয) নামাযের জন্যে বাড়ী হতে বের হন এবং আমাকে বলেনঃ “হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! ফজরের পূর্বে দুই রাকআত নামায হলো (আরবী)এবং মাগরিবের পরে দুই রাকআত নামায হলো (আরবী)।” এটা ঐ রাত্রির ঘটনা, যে রাত্রিতে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) তাহাজ্জুদের তেরো রাকআত নামায রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে আদায় করেছিলেন এবং ঐটি ছিল তার খালা হযরত মায়মূনা (রাঃ)-এর পালার রাত্রি। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে গারীব বলেছেন। হ্যাঁ, তবে তাহাজ্জুদের মূল হাদীস তো সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও রয়েছে। সম্ভবতঃ পরবতী কথাটি হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিজের কথাই হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।