সূরা আন-নিসা (আয়াত: 53)
হরকত ছাড়া:
أم لهم نصيب من الملك فإذا لا يؤتون الناس نقيرا ﴿٥٣﴾
হরকত সহ:
اَمْ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّنَ الْمُلْکِ فَاِذًا لَّا یُؤْتُوْنَ النَّاسَ نَقِیْرًا ﴿ۙ۵۳﴾
উচ্চারণ: আম লাহুম নাসীবুম মিনাল মুলকি ফাইযাল্লা-ইউ’তূনান্না-ছা নাকীরা-।
আল বায়ান: তবে কি তাদের জন্য রাজত্বে কোন অংশ আছে? তাহলে তখনতো তারা মানুষকে খেজুরবীচির উপরের আবরণ পরিমাণও কিছু দেবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. তবে কি রাজশক্তিতে তাদের কোন অংশ আছে? সে ক্ষেত্রেও তো তারা কাউকে এক কপর্কও দেবে না(১)।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের কি শাসন ক্ষমতায় কোন অংশ আছে? তা থাকলে তারা লোকেদেরকে তিল পরিমাণও দিত না।
আহসানুল বায়ান: (৫৩) তবে কি (আল্লাহর) রাজ্যে তাদের কোন অংশ আছে? (যদি থাকত) তাহলে তো তারা লোককে (খেজুরের আঁটির পিঠে) বিন্দু পরিমাণও দান করত না। [1]
মুজিবুর রহমান: তাহলে কি রাজত্বে তাদের কোন অংশ রয়েছে? বস্তুতঃ তখন তারা লোকদেরকে কণা পরিমাণও প্রদান করবেনা।
ফযলুর রহমান: নাকি তাদের কাছে রাজ্যের কোন অংশ আছে? তাহলে তো তারা মানুষকে সামান্য পরিমাণও দেবে না।
মুহিউদ্দিন খান: তাদের কাছে কি রাজ্যের কোন অংশ আছে? তাহলে যে এরা কাউকেও একটি তিল পরিমাণও দেবে না।
জহুরুল হক: অথবা, তাদের কি কোনো ভাগ আছে সাম্রাজ্যে? তবে কিন্তু তারা লোকজনকে দিত না খেজুর বিচির খোসাটুকুও।
Sahih International: Or have they a share of dominion? Then [if that were so], they would not give the people [even as much as] the speck on a date seed.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৩. তবে কি রাজশক্তিতে তাদের কোন অংশ আছে? সে ক্ষেত্রেও তো তারা কাউকে এক কপর্কও দেবে না(১)।
তাফসীর:
(১) ইবনে আব্বাস বলেন, খেজুরের দানার উপরে বিন্দুর মত যে ছিদ্র থাকে তাকেই আরবীতে نقير নাকীর’ বলা হয়। [তাবারী] মোটকথা: সামান্যতম জিনিস বোঝানোর জন্যই এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৩) তবে কি (আল্লাহর) রাজ্যে তাদের কোন অংশ আছে? (যদি থাকত) তাহলে তো তারা লোককে (খেজুরের আঁটির পিঠে) বিন্দু পরিমাণও দান করত না। [1]
তাফসীর:
[1] এখানে জিজ্ঞাসাসূচক বাক্যটি অস্বীকৃতিসূচক। অর্থাৎ, তাঁর রাজ্যে তাদের কোন অংশ নেই। এতে তাদের কোন অংশ থাকলে এই ইয়াহুদীরা এত কৃপণ কেন যে, তারা মানুষকে বিশেষ করে মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে একটি ‘নাক্বীর’ পরিমাণও কিছু দেয় না। আর نَقِيْرٌ (নাক্বীর) বলা হয় খেজুরের আঁটির পিঠের বিন্দুকে। (ইবনে কাসীর)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৩-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা এখানে ইয়াহূদীদেরকে জিজ্ঞেসসূচক ভর্ৎসনা করে বলছেন, তাদের কি কোন রাজত্ব আছে? অর্থাৎ তাদের রাজত্বের কোন অংশ নেই। যদি থাকত তাহলে একবিন্দু পরিমাণ মানুষকে দান করত না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قُلْ لَّوْ أَنْتُمْ تَمْلِكُوْنَ خَزَا۬ئِنَ رَحْمَةِ رَبِّيْٓ إِذًا لَّأَمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ الْإِنْفَاقِ)
“বল: ‘যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের দয়ার ভাণ্ডারের অধিকারী হতে, তবুও ‘ব্যয় হয়ে যাবে’ এ আশংকায় তোমরা তা ধরে রাখতে; (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:১০০)
আল্লাহ তা‘আলা আবার জিজ্ঞেস করে বললেন, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তাঁর যে অনুগ্রহ দান করেছেন তাতে কি তারা হিংসা করে? তাতে হিংসা করার কিছুই নেই। কেননা আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধরে কিতাব, হিকমত এবং মহারাজত্ব প্রদান করেছেন; নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তিনি নবুওয়াত প্রদান করেছেন- এতে তোমাদের হিংসা করার কিছুই নেই। কারণ নবুওয়াত প্রদানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একাধিক নারী বিবাহ করার অনুমতি দান করেছেন সে ব্যাপারে ইয়াহূদীরা হিংসা করে। অথচ এতে হিংসা করার কিছুই নেই। কারণ দাঊদ (আঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলা ৯৯ জন স্ত্রী বিবাহ করার সুযোগ দান করেছেন। সুলাইমান (আঃ)-এর আরো অধিক ছিল। মূলত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইয়াহূদীদের কথার প্রতিবাদ করা, তারা বলে মুহাম্মাদ নাবী হলে মহিলাদের প্রতি এত আসক্ত কেন? তখন আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দিলেন যে, দাঊদ ও সুলাইমানের এত এত স্ত্রী ছিল। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: একজন ব্যক্তির কাছে এক হাজার, আরেক জনের কাছে একশত জন স্ত্রী বেশি না একজনের কাছে নয়জন স্ত্রী বেশি? (সহীহ আবূ দাঊদ হা: ২১৫২) তখন ইয়াহূদীরা চুপ হয়ে গেল। (তাফসীর কুরতুবী: ৫/১৯০)
সুতরাং যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রঙ্গীলা রাসূল বলে কলুষিত করতে চায় তাদের জেনে নেয়া উচিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন না। তাঁর প্রত্যেক বিবাহের পিছনে বিশেষ প্রেক্ষাপট জড়িত ছিল। যদি তিনি নারী-আসক্ত হতেন তাহলে অনূঢ়া ও কুমারী নারীদের বিবাহ করতেন। তিনি বিধবা ও স্বামীহীনা নারীদের বিবাহ করতেন না।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. হিংসা ও কৃপণতার নিন্দা প্রকাশ করা হল।
২. অনেক ইয়াহূদী সত্য অনুধাবণ করে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান এনেছিল।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৩-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে অস্বীকৃতি সূচক ভাষায় আল্লাহ পাক প্রশ্ন করেছেনঃ তারা কি রাজত্বের কোন অংশের মালিক?' অর্থাৎ তারা মালিক নয়। অতঃপর তাদের কার্পণ্যের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, যদি এরূপ হতো তবে তারা কারো কোন উপকার করতো না। বিশেষ করে তারা আল্লাহ তা'আলার শেষ নবী (সঃ)-কে এতটুকুও দিত না যতটুকু খেজুরের আঁটির মধ্যস্থলে পর্দা থাকে। যেমন অন্য আয়াতে আছে (আরবী) অর্থাৎ ‘তুমি বল-যদি তোমরা আমার প্রভুর করুণা ভাণ্ডারের অধিকারী হতে তবে তোমরা খরচ হয়ে যাবার ভয়ে (খরচ করা হতে)সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে।' (১৭:১০০) এটা স্পষ্ট কথা যে, এতে সম্পদ কমে যেতে পারে না, তথাপি কৃপণতা তোমাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকে। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, মানুষ বড়ই কৃপণ। তাদের কার্পণ্যের বর্ণনা দেয়ার পর তাদের হিংসার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে- আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে যে বড় নবুওয়াত দান করেছেন এবং তিনি যেহেতু আরবের অন্তর্ভুক্ত, বানী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত নন সেহেতু তারা হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে ও জনগণকে তার সত্যতা স্বীকার করা হতে বিরত রাখছে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এখানে (আরবী)-এর ভাবার্থ হচ্ছে আমরা, অন্য কেউ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-“আমি ইবরাহীমের বংশধরকে নবুওয়াত দিয়েছিলাম যারা ছিল বানী ইসরাঈল গোত্র এবং হযরত ইবরাহীমের সন্তানদেরই অন্তর্ভুক্ত। আমি তাদের উপর গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি, রীতি-নীতি শিক্ষা দিয়েছি এবং রাজত্বও দান করেছি। তথাপি তাদের মধ্যে অনেক মুমিন থাকলেও অনেক কাফিরও ছিল। তারা নবী ও কিতাবকে মেনে নেয়নি। নিজেরা ততা স্বীকার করেইনি, এমনকি অন্যদেরকেও বিরত রেখেছিল। অথচ ঐ সব নবী (আঃ) বানী ইসরাঈল ছিল। কাজেই তারা যখন নিজেদের নবীদেরকেই অস্বীকার করেছে তখন হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তারা তোমাকে যে অস্বীকার করবে এতে আর বিস্ময়ের কি আছে? কারণ তুমি তো তাদের মধ্য হতে নও।'
আবার ভাবার্থ এও হতে পারে যে, তাদের মধ্যে কতক লোক শেষ নবী (সঃ)-এর উপর ঈমান এনেছিল এবং কতক লোক ঈমান আনেনি। সুতরাং এ কাফিরেরা তাদের কুফরীর উপর খুবই দৃঢ় রয়েছে এবং সুপথ হতে বহু দূরে সরে পড়েছে।
অতঃপর তাদেরকে তাদের শাস্তির কথা শোনানো হচ্ছে যে, জাহান্নামের আগুনে দগ্ধীভূত হওয়াই তাদের জন্য যথেষ্ট। তাদের অস্বীকৃতি, অবাধ্যতা, মিথ্যা প্রতিপাদন ও বিরোধিতার এ শাস্তিই যথেষ্ট।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।