সূরা আন-নিসা (আয়াত: 45)
হরকত ছাড়া:
والله أعلم بأعدائكم وكفى بالله وليا وكفى بالله نصيرا ﴿٤٥﴾
হরকত সহ:
وَ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِاَعْدَآئِکُمْ ؕ وَ کَفٰی بِاللّٰهِ وَلِیًّا ٭۫ وَّ کَفٰی بِاللّٰهِ نَصِیْرًا ﴿۴۵﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লা-হু আ‘লামুবিআ‘দাইকুম ওয়া কাফা-বিল্লা-হি ওয়ালিইয়াওঁ ওয়া কাফাবিল্লা-হি নাসীরা-।
আল বায়ান: আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে অধিক অবগত। আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট এবং আল্লাহ যথেষ্ট সাহায্যকারী হিসেবেও।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. আল্লাহ তোমাদের শক্ৰদেরকে ভালভাবে জানেন। আর অভিভাবকত্বে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যেও আল্লাহই যথেষ্ট।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ভালভাবে জানেন, অভিভাবক হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
আহসানুল বায়ান: (৪৫) বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ভালভাবে জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
মুজিবুর রহমান: এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে সম্যক অবগত আছেন; পৃষ্ঠপোষক এবং সাহায্যকারী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে খুব ভাল করে জানেন। আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
মুহিউদ্দিন খান: অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
জহুরুল হক: আর আল্লাহ্ ভালো জানেন তোমাদের শত্রুদের। আর আল্লাহ্ই মূরব্বীরূপে যথেষ্ট, আর আল্লাহ্ই যথেষ্ট সহায়করূপে।
Sahih International: And Allah is most knowing of your enemies; and sufficient is Allah as an ally, and sufficient is Allah as a helper.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৫. আল্লাহ তোমাদের শক্ৰদেরকে ভালভাবে জানেন। আর অভিভাবকত্বে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যেও আল্লাহই যথেষ্ট।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৫) বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ভালভাবে জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৪-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা এখানে ইয়াহূদীদের আরো একটি নিন্দনীয় স্বভাবের সংবাদ দিচ্ছেন। তারা হিদায়াতের পরিবর্তে ভ্রান্তপথকে গ্রহণ করে নিয়েছে। শেষ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং পূর্ববর্তী নাবীদের থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্পর্কে যে গুণাবলীর জ্ঞান তারা প্রাপ্ত হয়েছে সেটাও নৈবেদ্য (নিবেদন পাওয়ার যোগ্য বস্তু) নেয়ার লোভে প্রকাশ করছে না। বরং সাথে সাথে এটাও কামনা করছে যে, মুসলিমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাক।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা আরেক প্রকার ইয়াহূদীদের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছেন যারা আল্লাহ তা‘আলার কালামের অপব্যাখ্যা করে। আল্লাহ তা‘আলা যে উদ্দেশ্যে নাযিল করেছেন তা থেকে বিচ্যুত করে।
তারা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলে, আপনি যা বলেন, তা আমরা শুনলাম কিন্তু আপনার আদেশ অমান্য করলাম।
واسمع غير سمع
এর অর্থ হল
اسمع منا غير سمع ما تحب، بل سمع ما تكره
আমাদের কাছ থেকে মনযোগসহকারে শুন না বরং অমনোযোগের সাথে শুন।
رَاعِنَا তারা ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে এবং জিহ্বা বিকৃত করে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লক্ষ করে বলে, رَاعِنَا ‘হে আমাদের রাখাল।’ আল্লাহ তা‘আলা এরূপ বলা সূরা বাকারার ১০৪ নং আয়াতে নিষেধ করেছেন। এ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
অতএব আল্লাহ তা‘আলার কালামের অপব্যাখ্যা করা, ধর্মীয় গোঁড়ামি করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য বর্জন করা ইয়াহূদীদের চরিত্র। আমাদের এসব চরিত্র থেকে মুক্ত থাকা উচিত।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মুসলিমদের ব্যাপারে ইয়াহূদীরা বর্তমানেও বিভিন্ন অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।
২. আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি মু’মিনদের অভিভাবক।
৩. রাসূলের বিরুদ্ধে ইয়াহূদীদের ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৪-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন- ইয়াহুদীদের (কেয়ামত পর্যন্ত তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক) একটি নিন্দনীয় স্বভাব এও রয়েছে যে, তারা সুপথের বিনিময়ে ভ্রান্তপথকে গ্রহণ করেছে, শেষ নবী (সঃ)-এর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হতে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং পূর্ববর্তী নবীগণ হতে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর গুণাবলী সম্বন্ধে যে জ্ঞান তারা প্রাপ্ত হয়েছে সেটাও তারা শিষ্যদের নিকট হতে নৈবেদ্য নেয়ার লোভে প্রকাশ করছে না। বরং সাথে সাথে এটাও কামনা করছে যে, স্বয়ং মুসলমানেরাও যেন পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, আল্লাহ তা'আলার গ্রন্থকে অস্বীকার করে এবং সুপথ ও সঠিক ইলকে পরিত্যাগ করে। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের শত্রুদের সংবাদ খুব ভালভাবেই রাখেন। তিনি তোমাদেরকে তাদের হতে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন তাদের প্রতারণার ফাঁদে না পড়। তোমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার সাহায্যই যথেষ্ট। তোমরা বিশ্বাস রাখ যে, যারা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়, তিনি তাদের অবশ্যই সহায়তা করে থাকেন এবং তিনি তাদের সাহায্যকারী হয়ে যান। তৃতীয় আয়াতটি যা (আরবী) শব্দ দ্বারা শুরু হয়েছে তাতে (আরবী) শব্দটি (আরবী) বর্ণনা করার জন্য এসেছে। যেমন (আরবী) (২২:৩০) অতঃপর ইয়াহূদীদের ঐ দলের যে পরিবর্তন করণের কথা বলা হচ্ছে, তার ভাবার্থ এই যে, তারা আল্লাহ তা'আলার কথার ভাবার্থ বদলিয়ে দেয় এবং ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। আর এ কাজ তারা জেনে শুনে ও বুঝে সুঝে করে থাকে। এর ফলে তারা আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যা আরোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
এরপর আল্লাহ তা'আলা তাদের কথা নকল করেছেন যে, তারা বলে- “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আপনি যা কিছু বলেন আমরা তা শুনি কিন্তু মান্য করি না। তাদের কুফরী ও ধর্মদ্রোহীতার প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, তারা জেনে ও বুঝে স্পষ্টভাষায় কিভাবে নিজেদের অপবিত্র খেয়ালের কথা প্রকাশ করছে এবং বলছে- ‘আমরা যা বলি তা আপনি শুনুন, আল্লাহ করেন আপনি না শুনেন। কিংবা ভাবার্থ এই যে, আপনি শুনুন, কিন্তু আপনার কথা মান্য করা হবে না। কিন্তু প্রথম ভাবার্থটিই অধিকতর সঠিক। এ কথা তারা উপহাস ও বিদ্রুপের ছলে বলতো। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। তারা (আরবী) বলতো। এর দ্বারা বাহ্যতঃ বুঝা যেতো যে তারা বলছে- আমাদের দিকে কান লাগিয়ে দিন। কিন্তু তারা এ শব্দ দ্বারা ভাবার্থ গ্রহণ করতো- আপনি বড়ই উদ্ধত ও অহংকারী। এর পূর্ণ ভাবার্থ (আরবী) (২:১০৪)-এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, যা তারা বাইরে প্রকাশ করতো, স্বীয় জিহ্বাকে বক্র করে বিদ্রুপ সূচক ভঙ্গিতে অন্তরের মধ্যে তার উল্টো ভাব গোপন করে রাখতো। প্রকৃতপক্ষে তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সঙ্গে বেয়াদবী করতো। তাই তাদেরকে হিদায়াত করা হচ্ছে যে, তারা যেন এ দু’অর্থযুক্ত শব্দগুলো বর্ণনা পরিত্যাগ করে এবং স্পষ্টভাবে বলে, আমরা শুনলাম ও মানলাম, আপনি আমাদের আর শুনুন ও আমাদের দিকে দেখুন। এ কথা তাদের জন্য উত্তম এবং এটাই হচ্ছে পরিষ্কার, সরল, সোজা এবং উপযুক্ত কথা। কিন্তু তাদের অন্তরকে মঙ্গল হতে বহুদূরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রকৃত ঈমান পূর্ণভাবে তাদের অন্তরে স্থানই পায় না। এ বাক্যের তাফসীরও পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ভাবার্থ এই যে, উপকার দানকারী ঈমান তাদের মধ্যে নেই।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।