আল কুরআন


সূরা আন-নিসা (আয়াত: 138)

সূরা আন-নিসা (আয়াত: 138)



হরকত ছাড়া:

بشر المنافقين بأن لهم عذابا أليما ﴿١٣٨﴾




হরকত সহ:

بَشِّرِ الْمُنٰفِقِیْنَ بِاَنَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمَۨا ﴿۱۳۸﴾ۙ




উচ্চারণ: বাশশিরিল মুনা-ফিকীনা বিআন্না ল্লাহুম ‘আযাবান ‘আলীমা-।




আল বায়ান: মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, নিশ্চয় তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩৮. মুনাফিকদেরকে শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও যে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।




আহসানুল বায়ান: (১৩৮) কপট (মুনাফিক)দেরকে শুভ সংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি!



মুজিবুর রহমান: মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।



ফযলুর রহমান: মোনাফেকদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের জন্য এক বেদনাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত আছে।



মুহিউদ্দিন খান: সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।



জহুরুল হক: যারা অবিশ্বাসীদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে বিশ্বাসীদের ছেড়ে দিয়ে। তারা কি তাদের কাছে মান-সম্মান খোঁজে? তবে নিঃসন্দেহ সম্মান-প্রতিপত্তি সমস্তই আল্লাহ্‌র।



Sahih International: Give tidings to the hypocrites that there is for them a painful punishment -



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩৮. মুনাফিকদেরকে শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৩৮) কপট (মুনাফিক)দেরকে শুভ সংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি!


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৩৭-১৪০ নং আয়াতের তাফসীর:



যারা ঈমান আনার পর কুফরী করে, আবার ঈমান আনার পর কুফরী করে এবং কুফরীর ওপর অটল থাকে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ক্ষমা করবেন না। কারণ এরা মুনাফিক; এদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে জাহান্নাম।



পক্ষান্তরে ঈমান আনার পর ঈমানের ওপর অটল থাকলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সকল প্রকার ভয়-ভীতি থেকে মুক্ত রাখবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ الَّذِيْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ أَلَّا تَخَافُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَأَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ)



“নিশ্চয়ই যারা বলে: আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলেঃ তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও।”(সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩০)



(أَيَبْتَغُوْنَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ)



‘তারা কি তাদের নিকট ইযযত চায়?’ অর্থাৎ যারা মু’মিনদেরকে ত্যাগ করে কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে তারা কি তাদের নিকট কোন সম্মান অন্বেষণ করে? তাদের জেনে রাখা উচিত যে, সম্মান কেবল আল্লাহ তা‘আলার জন্যই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَقُوْلُوْنَ لَئِنْ رَّجَعْنَآ إِلَي الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ ط وَلِلّٰهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُوْلِه۪ٓ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَلٰكِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ)‏



“তারা বলে: আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি, তবে সেখান হতে সম্মানিতরা অবশ্যই হীনদেরকে বহিস্কার করবে; কিন্তু মান-সম্মান তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মু’মিনদের; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।” (সূরা মুনাফিকুন ৬৩:৮)



তারপর আল্লাহ তা‘আলা এমন মজলিসে বসতে নিষেধ করেছেন যেখানে আল্লাহ তা‘আলাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَاِذَا رَاَیْتَ الَّذِیْنَ یَخُوْضُوْنَ فِیْٓ اٰیٰتِنَا فَاَعْرِضْ عَنْھُمْ حَتّٰی یَخُوْضُوْا فِیْ حَدِیْثٍ غَیْرِھ۪ﺚ وَاِمَّا یُنْسِیَنَّکَ الشَّیْطٰنُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّکْرٰی مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَﮓ)‏



“তুমি যখন দেখ, তারা আমার আয়াতসমূহ সম্বন্ধে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন তখন তুমি তাদের হতে সরে পড়, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে (এ নির্দেশ) ভুলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হবার পরে যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।”(সূরা আন‘আম ৬:৬৮)



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা ও শেষ দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন এমন দাওয়াতে শরীক না হয় যেখানে মদ পরিবেশন করা হয়। (তিরমিযী হা: ২৮০১, মুসনাদ আহমাদ হা: ৩৩৯)



যদি কেউ জেনে-শুনে তাদের সাথে বসে তাহলে সে তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিক ও কাফিরদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ঈমান আনার পর তার ওপর অটল থাকা আবশ্যক।

২. ঈমানের রুকনসমূহের বিবরণ জানতে পারলাম।

৩. যারা ঈমান আনার পর কাফির হয়ে যায় তারা মুরতাদ।

৪. সম্মান প্রদানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৩৭-১৪০ নং আয়াতের তাফসীর:

ইরশাদ হচ্ছে-‘যে ঈমান আনয়নের পর পুনরায় ধর্মত্যাগী হয়ে যায়, অতঃপর আবার মুমিন হয়ে পুনরায় কাফির হয়ে যায়, তারপর কুফরীর উপরেই প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং ঐ অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে, তার প্রার্থনা গৃহীত হবে না, তার ক্ষমার ও মুক্তির কোন আশা নেই এবং তাকে আল্লাহ তা'আলা সরল সঠিক পথে আনয়ন করবেন না।' হযরত আলী (রাঃ) এ আয়াতটি পাঠ করে বলতেনঃ ধর্মত্যাগীকে তিনবার বলা হবে- তাওবা করে নাও?' এরপর আল্লাহ তা'আলা। বলেন-এ মুনাফিকদের অবস্থা এই যে, শেষে তাদের অন্তরে মোহর লেগে যায়। তাই, তারা মুনিমদের ছেড়ে কাফিরদেকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। এদিকে বাহ্যতঃ মুমিনদের সাথে মিলেমিশে থাকে আর ওদিকে কাফিরদের নিকট বসে তাদের সামনে মুমিনদের সম্পর্কে উপহাসমূলক কথা বলে বেশ আনন্দ উপভোগ করে। তাদেরকে বলে-“আমরা মুসলমানদেরকে বোকা বানিয়ে দিয়েছি। আসলে আমরা তোমাদের সঙ্গেই রয়েছি।'

সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের সামনে পেশ করতঃ তাতে তাদের অকৃতকার্যতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-“তোমরা চাও যে, কাফিরদের নিকট যেন তোমাদের সম্মান লাভ হয়। কিন্তু তোমাদের ধারণা মমাটেই ঠিক নয়। তারা তোমাদের সাথে প্রতারণা করছে। জেনে রেখো যে, সম্মানের মালিক হচ্ছেন এক এবং অংশীবিহীন আল্লাহ তা'আলা। তিনি যাকে ইচ্ছে করেন, সম্মান দান করেন। যেমন তিনি অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যে সম্মান যাজ্ঞা করে তবে সমস্ত সম্মান আল্লাহরই জন্যে। (৩৫:১০) আর একটি আয়াতে রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ ‘সম্মান আল্লাহর জন্যে, তাঁর রাসূলের জন্যে এবং মুমিনদের জন্যে, কিন্তু মুনাফিকরা জানে না।' (৬৩:৮) ভাবার্থ এই যে, হে মুনাফিকের দল! যদি তোমরা প্রকৃত সম্মান পেতে চাও তবে আল্লাহর সৎ বান্দাদের সাথে মিলিত হও, তাঁর ইবাদতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড় এবং তাঁর নিকট সম্মান যা কর তাহলেই তিনি তোমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান দান করবেন।

মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত আবু রাইহানা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি এখানে উল্লেখযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি অহংকারের বশবর্তী হয়ে স্বীয় মর্যাদা প্রকাশের উদ্দেশ্যে স্বীয় বংশের সংযোগ তার কাফির বাপ-দাদার সঙ্গে জুড়ে দেয় এবং নবম পর্যন্ত পৌছে যায়, সেও তাদের সঙ্গে দশম জাহান্নামী।' এরপর আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে বলেন-“আমি যখন তোমাদেরকে নিষেধ করেছি যে, যে মজলিসে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং ওগুলোকে উপহাস করে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তোমরা সে মজলিসে বসো না। এরপরেও তোমরা ঐ রূপ মজলিসে অংশগ্রহণ কর তবে তোমাদেরকেও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত মনে করা হবে এবং তাদের পাপে তোমরাও অংশীদার হবে। যেমন একটি হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যে দস্তরখানায় মদ্যপান করা হচ্ছে তার উপর কোন এমন এক ব্যক্তির উপবেশন করা উচিত নয়, যে আল্লাহর উপর ও কিয়ামতের উপর বিশ্বাস করে থাকে। এ আয়াতে যে নিষেধাজ্ঞার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে মক্কায় অবতীর্ণ সূরা-ই-আনআমের এ আয়াতটি (আরবী) অর্থাৎ যখন তুমি তাদেরকে দেখবে যে, তারা আমার নির্দেশাবলী সম্বন্ধে বিতর্ক করছে, তখন তুমি তাদের দিক হতে বিমুখ হও।' (৬:৬৮)

হযরত মুকাতিল ইবনে হিব্বান (রঃ) বলেনঃ এ আয়াতের (আরবী)-এ ঘোষণাটি আল্লাহ তা'আলার (আরবী)-এ আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ মুত্তাকীদের উপর তাদের (মুনাফিকদের) হিসেবের কোন বোঝা নেই, কিন্তু রয়েছে শুধু উপদেশ যে হয় তো তারা বেঁচে যাবে।' (৬:৬৯)

অতঃপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-“আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মুনাফিক ও কাফিরকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন।' অর্থাৎ যেমন এ মুনাফিকেরা এখানে ঐ কাফিরদের কুফরীতে অংশীদার রয়েছে, তেমনই কিয়ামতের দিন চিরস্থায়ী ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মধ্যে, কয়েদখানার লৌহ শৃংখলে, গরম পানি ও রক্ত-পুঁজ পানে তাদের সঙ্গেই থাকবে এবং তাদের সকলকেই একই সাথে চিরস্থায়ী শাস্তির ঘোষণা শুনিয়ে দেয়া হবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।