আল কুরআন


সূরা আল-ফাতহ (আয়াত: 4)

সূরা আল-ফাতহ (আয়াত: 4)



হরকত ছাড়া:

هو الذي أنزل السكينة في قلوب المؤمنين ليزدادوا إيمانا مع إيمانهم ولله جنود السماوات والأرض وكان الله عليما حكيما ﴿٤﴾




হরকত সহ:

هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ السَّکِیْنَۃَ فِیْ قُلُوْبِ الْمُؤْمِنِیْنَ لِیَزْدَادُوْۤا اِیْمَانًا مَّعَ اِیْمَانِهِمْ ؕ وَ لِلّٰهِ جُنُوْدُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَکِیْمًا ۙ﴿۴﴾




উচ্চারণ: হুওয়াল্লাযীআনযালাছ ছাকীনাতা ফী কুলূবিল মু’মিনীনা লিইয়াযদা-দূ ঈমা-নাম মা‘আ ঈমা-নিহিম ওয়া লিল্লা-হি জনূদুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা-।




আল বায়ান: তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেছিলেন যেন তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি পায়; এবং আসমানসমূহ ও যমীনের বাহিনীগুলো আল্লাহরই; আর আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশাস্তি নাযিল করেছেন(১) যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়।(২) আর আসমানসমূহ ও যমীনের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ, হিকমতওয়ালা।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনিই মু’মিনদের দিলে প্রশান্তি নাযিল করেন যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরো ঈমান বাড়িয়ে নেয়। আসমান ও যমীনের যাবতীয় বাহিনী আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।




আহসানুল বায়ান: (৪) তিনিই বিশ্বাসীদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান (বিশ্বাস) বৃদ্ধি করে নেয়, [1] আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই[2] এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।



মুজিবুর রহমান: তিনিই মু’মিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়; আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।



ফযলুর রহমান: তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেছেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরো ঈমান বাড়ে। আসমান ও জমিনের বাহিনীগুলো আল্লাহরই। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, অসীম প্রজ্ঞাবান।



মুহিউদ্দিন খান: তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।



জহুরুল হক: তিনিই সেইজন যিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি বর্ষণ করেছেন যেন তিনি তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারেন। আর মহাকাশমন্ডলীর ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই, আর আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী, --



Sahih International: It is He who sent down tranquillity into the hearts of the believers that they would increase in faith along with their [present] faith. And to Allah belong the soldiers of the heavens and the earth, and ever is Allah Knowing and Wise.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪. তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশাস্তি নাযিল করেছেন(১) যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়।(২) আর আসমানসমূহ ও যমীনের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ, হিকমতওয়ালা।


তাফসীর:

(১) سَكِيْنَةٌ আরবী ভাষায় স্থিরতা, প্রশান্তি ও দৃঢ় চিত্ততাকে বুঝায়। হুদাইবিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ‘কুরা গামীম’ নামক স্থানে পৌছেন, তখন আলোচ্য ‘সূরা ফাতহ’ অবতীর্ণ হয়। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে সূরাটি পাঠ করে শুনালেন। তাদের অন্তর পূর্বেই আহত ছিল। এমতাবস্থায় সূরায় একে প্রকাশ্য বিজয় আখ্যা দেয়ায় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবার প্রশ্ন করে বসলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা কি বিজয়? তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ সে সত্তার কসম, এটা প্ৰকাশ্য বিজয়। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪২০, আবু দাউদ: ২৭৩৬, ৩০১৫]


(২) তাদের যে ঈমান এ অভিযানের পূর্বে ছিল, তার সাথে আরো ঈমান তারা অর্জন করলো এ কারণে যে, এ অভিযান চলাকালে একের পর এক যত পরীক্ষা এসেছে তার প্রত্যেকটিতে তারা নিষ্ঠা, তাকওয়া ও আনুগত্যের নীতির ওপর দৃঢ়পদ থেকেছে। এ আয়াত ও অনুরূপ আরো কিছু আয়াত ও হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি আছে। আর এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদা। [আদওয়াউল-বায়ান] ইমাম বুখারী তার গ্রন্থে এ আয়াত থেকে ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির উপর দলীল গ্রহণ করেছেন।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪) তিনিই বিশ্বাসীদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান (বিশ্বাস) বৃদ্ধি করে নেয়, [1] আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই[2] এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, সেই অস্থিরতা ও অশান্তির পর, যা হুদাইবিয়া সন্ধির শর্তাবলীর কারণে মুসলিমদের উপর এসেছিল। মহান আল্লাহ তাদের অন্তরে প্রশান্তি প্রক্ষিপ্ত করেন। যার ফলে তাদের অন্তরে শান্তি, স্বস্তি ও ঈমান আরো বেড়ে যায়। এই আয়াতও প্রমাণ করে যে, ঈমান বাড়ে ও কমে।

[2] অর্থাৎ, আল্লাহ চাইলে তার যে কোন সৈন্যের (যেমন, ফিরিশতাগণ) দ্বারা কাফেরদেরকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তাঁর পূর্ণ কৌশলের ভিত্তিতে এ রকম না করে তার পরিবর্তে মু’মিনদেরকে যুদ্ধ ও জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই কারণেই পরে (আয়াতের শেষে) তাঁর সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় হওয়ার গুণ উল্লেখ করেছেন। অথবা অর্থ হল, আকাশ ও পৃথিবীর ফিরিশতাগণ, অনুরূপ অন্যান্য সমস্ত প্রতাপ ও বিক্রমশালী সেনাবাহিনী আল্লাহরই অধীনস্থ। তিনি যেভাবে চান তাদের দ্বারা কাজ নেন। বলার উদ্দেশ্য হল, হে মু’মিনগণ! মহান আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর রসূল এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যের কাজ যে কোন দল ও সৈন্য দিয়ে নিতে পারেন। (ইবনে কাসীর, আয়সারুত তাফাসীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪-৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



السَّكِينَةَ - শব্দের অর্থ : প্রশান্তি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এর অর্থ রহমত। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন : তা ছিল হুদায়বিয়ার দিন সাহাবীদের অন্তরে প্রশান্তি অবতরণ যারা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। ফলে ‎আল্লাহ তা‘আলা‎ তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বৃদ্ধি করে দেন।



বারা বিন আজেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী কুরআন পড়ছিল। তার বাড়িতে ঘোড়া বাধা ছিল। হঠাৎ তা লাফাতে লাগল। সে সাহাবী বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে কোন কিছু দেখতে পেলেন না। তেলাওয়াতের সময় ঘোড়াটি লাফিয়েই যাচ্ছিল। পরদিন সকালে ঘটনাটি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানালেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : এটা হল প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াত করার সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৩৯, সহীহ মুসলিম হা. ৭৯৫)



(لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ)



‘যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বাড়িয়ে নেয়’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের অন্তরে এ প্রশান্তি নাযিল করলেন যাতে এর দ্বারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বৃদ্ধি পায়। এ আয়াত প্রমাণ করে যে, ঈমান বাড়ে ও কমে।



অন্যত্র ‎আল্লাহ তা‘আলা‎ বলেন :



(إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ إِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ اٰيٰتُه۫ زَادَتْهُمْ إِيْمَانًا وَّعَلٰي رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ)



“মু’মিন তো তারাই যাদের হৃদয় কম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং যখন তাঁর আয়াত তাদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন সেটা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের ওপরই নির্ভর করে।” (সূরা আনফাল ৮ : ২)



এ সম্পর্কে সূরা আনফালের শুরুতেও আলোচনা করা হয়েছে।



(لِّيُدْخِلَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ)



অর্থাৎ এজন্যও মু’মিনদের অন্তরে এ প্রশান্তি নাযিল করেছেন যাতে এর মাধ্যমে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে এবং তাদের অপরাধসমূহও ক্ষমা করে দেয়া যায়।



(وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ)



‘আর আল্লাহ মুনাফিক নারী-পুরুষ ও মুশরিক নারী-পুরুষকে আযাব দেবেন’ অর্থাৎ মু’মিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল হলে যেমন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, ঠিক তার বিপরীত মুনাফিক ও কাফিরদের অন্তরে কুফরী বৃদ্ধি পায় ফলে তারা অর্š—জ্বালা ভোগ করে। এরূপ ‎আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :



“আমি এ আমানত পেশ করেছিলাম আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পাহাড়গুলোর নিকট, তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং তা গ্রহণ করতে ভয় পেল, কিন্তু মানুষ তা বহন করল; নিশ্চয়ই সে অতিশয় জালিম, বড়ই অজ্ঞ। যাতে আল্লাহ মুনাফিক্ব পুরুষ ও মুনাফিক্ব নারীকে এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীকে শাস্তি দিতে পারেন, আর মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীকে ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।” (সূরা আহযাব ৩৩ : ৭২-৭৩)



অর্থাৎ তাদের ধারণা ছিল আল্লাহ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীদের কাউকে হুদায়বিয়া থেকে মদীনাতে ফেরত আনবে না। মুশরিকরা তাদেরকে মুলোৎপাটন করে ফেলবে। যেমন আল্লাহ তাদের ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে বলেন :



(بَلْ ظَنَنْتُمْ أَنْ لَّنْ يَّنْقَلِبَ الرَّسُوْلُ وَالْمُؤْمِنُوْنَ إِلٰٓي أَهْلِيْهِمْ أَبَدًا)



“বরং তোমরা ধারণা করেছিলে যে, রাসূল ও মু’মিনগণ তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে আর কখনো ফিরে আসতে পারবে না।”



(عَلَيْهِمْ دَا۬ئِرَةُ السَّوْءِ)



‘তাদের ওপর অকল্যাণের চক্র’ অর্থাৎ দুনিয়াতে হত্যা, বন্দি ও অপদস্তের মাধ্যমে আর পরকালে জাহান্নামের মাধ্যমে। সর্বোপরি আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন একের পর এক শাস্তি।



(وَلِلّٰهِ جُنُوْدُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ)



আকাশসমূহ ও জমিনের সকল বাহিনীসমূহ ‎আল্লাহ তা‘আলা‎র। অন্যত্র ‎আল্লাহ তা‘আলা‎ বলেন : তাঁর বাহিনীর সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য তিনি ছাড়া কেউ জানে না :



(وَمَا يَعْلَمُ جُنُوْدَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ط وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرٰي لِلْبَشَرِ)‏



“তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। (জাহান্নামের) এই বর্ণনা তো সমস্ত মানুষের জন্য নিছক উপদেশ।” (সূরা মুদ্দাসির ৭৪ : ৩১)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত অপরিসীম এবং তা সর্বোত্তম নফল ইবাদত।

২. সৎ আমল করলে ঈমান বাড়ে ও পাপ কাজ করলে ঈমান কমে।

৩. মু’মিনদের মর্যাদা, মুশরিক ও মুনাফিকদের দুর্ভোগ সম্পর্কে জানলাম।

৪. ‎আল্লাহ তা‘আলা‎র বাহিনী সম্পর্কে ‎আল্লাহ তা‘আলা‎ই ভাল জানেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪-৭ নং আয়াতের তাফসীর:

মহান আল্লাহ্ বলেন যে, তিনি মুমিনদের অন্তরে সাকীনা অর্থাৎ প্রশান্তি, করুণা ও মর্যাদা দান করেন। ইরশাদ হচ্ছে যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দিনে যেসব ঈমানদার সাহাবী (রাঃ) আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর কথা মেনে নেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন। এর ফলে তাঁদের ঈমান আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। এর দ্বারা ইমাম বুখারী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন দলীল গ্রহণ করেছেন যে, অন্তরে ঈমান বাড়ে ও কমে।

ঘোষিত হচ্ছেঃ আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। তাঁর সেনাবাহিনীর কোন অভাব নেই। ইচ্ছা করলে তিনি নিজেই কাফিরদেরকে ধ্বংস করে দিতেন। একজন ফেরেশতা প্রেরণ করলে তিনি সবকেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলতেন। কিন্তু তা না করে তিনি মুমিনদেরকে জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে তাঁর পূর্ণ নিপুণতা রয়েছে। তা এই যে, এর মাধ্যমে তার হুজ্জতও পূর্ণ হয়ে যাবে এবং দলীল-প্রমাণও সামনে এসে যাবে। এ জন্যেই তিনি বলেনঃ ‘আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তাঁর কোন কাজই জ্ঞান ও নিপুণতা শূন্য নয়। এতে এক যৌক্তিকতা এও আছে যে, ঈমানদারদেরকে তিনি স্বীয় উত্তম নিয়ামত দান করবেন। পূর্বে এ রিওয়াইয়াতটি গত হয়েছে যে, সাহাবীগণ (রাঃ) যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মুবারকবাদ দিলেন এবং তাদের জন্যে কি রয়েছে তা জিজ্ঞেস করলেন তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ ... (আরবী) এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। অর্থাৎ “এটা এ জন্যে যে, তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিনা নারীদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেথায় তারা স্থায়ী হবে এবং তিনি তাদের পাপ মোচন করবেন, এটাই আল্লাহর দৃষ্টিতে মহা সাফল্য।” যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যাকে জাহান্নাম হতে দূর করা হয়েছে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে সে সফলকাম হয়েছে।” (৩:১৮৫)

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আর একটি কারণ বর্ণনা করছেন যে, তিনি মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিকা নারী, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিকা নারী, যারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মন্দ ধারণা পোষণ করে তাদেরকে শাস্তি দিবেন। অর্থাৎ শির্ক ও নিফাকে জড়িত যেসব নরনারী আল্লাহ তাআলার আহকাম সম্বন্ধে মন্দ ধারণা পোষণ করে এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) ও তাঁর সাহাবীদের সম্পর্কে কু-ধারণা রাখে, তাদের নাম ও নিশানা মিটিয়ে দেয়া হবে, আজ হোক বা কাল হোক। এই যুদ্ধে যদি তারা রক্ষা পেয়ে যায় তবে অন্য যুদ্ধে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেন যে, অমঙ্গল চক্র তাদের জন্যে, আল্লাহ তাদের প্রতি রুষ্ট হয়েছেন এবং তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন, আর তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন জাহান্নাম এবং এ জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আবাস!

পুনরায় মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ্ স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতা এবং শত্রুদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণের শক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন যে, আকাশ-মণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহ্ই এবং তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।