আল কুরআন


সূরা মুহাম্মাদ (আয়াত: 25)

সূরা মুহাম্মাদ (আয়াত: 25)



হরকত ছাড়া:

إن الذين ارتدوا على أدبارهم من بعد ما تبين لهم الهدى الشيطان سول لهم وأملى لهم ﴿٢٥﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ ارْتَدُّوْا عَلٰۤی اَدْبَارِهِمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمُ الْهُدَی ۙ الشَّیْطٰنُ سَوَّلَ لَهُمْ ؕ وَ اَمْلٰی لَهُمْ ﴿۲۵﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনারতাদ্দূ‘আলাআদবা-রিহিম মিম বা‘দি মা-তাবাইয়ানা লাহুমুল হুদাশশাইতা-নু ছাওওয়ালা লাহুম ওয়াআমলা-লাহুম।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা হিদায়াতের পথ সুস্পষ্ট হওয়ার পর তাদের পৃষ্টপ্রদর্শনপূর্বক মুখ ফিরিয়ে নেয়, শয়তান তাদের কাজকে চমৎকৃত করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দিয়ে থাকে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫. নিশ্চয় যারা নিজেদের কাছে সৎপথ স্পষ্ট হওয়ার পর তা থেকে পৃষ্ঠপ্ৰদৰ্শন করে, শয়তান তাদের কাজকে শোভন করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যাদের কাছে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হওয়ার পর তারা পিছনে ফিরে যায়, শয়ত্বন তাদের জন্য তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায়, আর তাদেরকে দেয় মিথ্যা আশা।




আহসানুল বায়ান: (২৫) যারা নিজেদের নিকট সৎপথ ব্যক্ত হবার পর তা পরিত্যাগ করেছে,[1] শয়তান তাদের কাজকে সুশোভিত করে দেখিয়েছে এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দিয়ে রেখেছে। [2]



মুজিবুর রহমান: যারা নিজেদের নিকট সৎ পথ ব্যক্ত হওয়ার পর তা পরিত্যাগ করে, শাইতান তাদের কাজকে শোভন করে দেখায় এবং তাদের মিথ্যা আশ্বাস দেয়।



ফযলুর রহমান: সুপথ স্পষ্ট হওয়ার পর যারা পেছনে ফিরে গিয়েছে (সুপথে চলতে রাজি হয়নি), শয়তান তাদেরকে প্ররোচিত করেছে এবং তাদের আশা বাড়িয়ে দিয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় যারা সোজা পথ ব্যক্ত হওয়ার পর তৎপ্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, শয়তান তাদের জন্যে তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা তাদের পিঠ ফিরিয়ে ঘুরে যায় তাদের কাছে সৎপথ সুস্পষ্ট হবার পরেও, শয়তান তাদের জন্য হাল্কা করে দিয়েছে এবং তাদের জন্য সুদীর্ঘ করেছে।



Sahih International: Indeed, those who reverted back [to disbelief] after guidance had become clear to them - Satan enticed them and prolonged hope for them.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৫. নিশ্চয় যারা নিজেদের কাছে সৎপথ স্পষ্ট হওয়ার পর তা থেকে পৃষ্ঠপ্ৰদৰ্শন করে, শয়তান তাদের কাজকে শোভন করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৫) যারা নিজেদের নিকট সৎপথ ব্যক্ত হবার পর তা পরিত্যাগ করেছে,[1] শয়তান তাদের কাজকে সুশোভিত করে দেখিয়েছে এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দিয়ে রেখেছে। [2]


তাফসীর:

[1] এ থেকে মুনাফিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। যারা জিহাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজেদের কুফরী এবং দ্বীন পরিহার করার ব্যাপারটা প্রকাশ করে দিয়েছে।

[2] أَملَى (মিথ্যা আশা দিয়ে রেখেছে) এর فاعل (কর্তৃপদ)ও শয়তান। অর্থাৎ, مَدَّ لَهُمْ فِي الْأَمَلِ وَوَعَدَهُمْ طُولَ الْعُمرِ শয়তান তাদেরকে বিরাট আশায় এবং এই প্রতারণায় ফেলে রেখেছে যে, এখনো তোমাদের অনেক বয়স আছে। কেন যুদ্ধে গিয়ে নিজেদের প্রাণ হারাবে? অথবা এর فاعل (কর্তৃপদ) হল আল্লাহ। অর্থাৎ, আল্লাহ তাদেরকে ঢিল ও অবকাশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, তিনি তাদেরকে সত্বর পাকড়াও করেননি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৪-২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



কুরআন মাজীদকে বুঝা ও তা নিয়ে গবেষণা করার উৎসাহ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তারা কুরআন নিয়ে কেন গবেষণা করে না? যদি গবেষণা করত তাহলে কুরআন তাদেরকে কল্যাণের দিকে দিকনির্দেশনা দিত ও অকল্যাণ থেকে সতর্ক করত এবং ঈমান দিয়ে তাদের অন্তর ভরে দিত। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



( أَفَلَا يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْاٰنَ ط وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوْا فِيْهِ اخْتِلَافًا كَثِيْرًا‏)‏



“তবে কি তারা কুরআন অনুধাবন করে না? এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অবশ্যই অনেক অসঙ্গতি পেত।” (সূরা নিসা ৪ : ৮২)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :



(كِتٰبٌ أَنْزَلْنٰهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوْآ اٰيٰتِه۪ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ‏)‏



“(এ কুরআন) একটি বরকতময় কিতাব, আমি তা তোমার‎ প্রতি নাযিল করেছি যেন মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানী লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা সোয়াদ ৩৮ : ২৯)



এ কুরআন নিয়ে গবেষণা করে অমুসলিমরা পার্থিব জীবনের উন্নত শিখরে পৌঁছে গেছে, উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে শুধু কাফিরদের রাষ্ট্রগুলো দেখা যায়, অথচ মুসলিমদের এমন এক মহা মূল্যবান গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও সর্বদিক দিয়ে পিছিয়ে। কারণ একটাই, তারা কুরআন থেকে সরে গেছে, তারা শুধু কুরআনকে মন্ত্রের মত সকালে ও বিকালে একবার করে পাঠ করে অতঃপর গিলাফ লাগিয়ে আলমারিতে তুলে রাখে, কী পড়ল তার অর্থও বুঝার চেষ্টা করে না, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা।



সুতরাং মুসলিমদের এহেন পরিস্থিতি থেকে উঠে আসতে হলে স্বর্ণ যুগের মত কুরআন অধ্যয়ন, চর্চা, আমল ও বাস্তবায়নের দিকে ফিরে আসতে হবে।



তারপর যারা কুরআনকে বুঝা ও তা নিয়ে গবেষণা করে না তাদেরকে তিরস্কার করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তাদের অন্তরে কি তালা লেগে আছে। যার কারণে তাদের অন্তরে কুরআনের অর্থ ও তাৎপর্য প্রবেশ করে না।



যারা কুরআনের তাৎপর্যকে উপলব্ধি করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন : ‘‘যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, অবশ্য তার জীবন-যাপন হবে সঙ্কুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়।’ সে বলবে : ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলে? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান।’ তিনি বলবেন : ‘এরূপই আমার নিদর্শনাবলী তোমার নিকট এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে।’’ (সূরা ত্ব-হা ২০ : ১২৩-১২৬)



তাই কুরআনের অর্থ ও তাৎপর্য বুঝে পড়া উচিত। কুরআন অক্ষর ও অর্থ উভয়ের সমন্বয়। শুধু অক্ষরই কুরআন না আবার শুধু অর্থও নয়। যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ) বলেন : ‘কুরআন আল্লাহ তা‘আলার কথা অক্ষর ও অর্থ উভয়ের সমন্বয়ে। আল্লাহ তা‘আলার কথা অর্থ বাদে শুধু অক্ষর নয় আবার অক্ষর বাদে শুধু অর্থ নয়।’ (আকীদাহ ওয়াসিতিয়াহ.)



(إِنَّ الَّذِيْنَ ارْتَدُّوْا عَلٰٓي أَدْبَارِهِمْ)



‘নিশ্চয়ই যারা তাদের কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তা থেকে ফিরে গেছে’ অর্থাৎ যাদের নিকট হিদায়াত আসার পর তা ত্যাগ করে পশ্চাৎপদতা অবলম্বন করেছে তারা মূলত কাফির সম্প্রদায়।



কেউ কেউ বলেন : এরা হল ইয়াহূদী যারা ঈমান এনেছিল। অতঃপর যখন তারা অনুসন্ধান করে দেখল যে এতো সেই নাবী যার কথা আমাদের কিতাবে বলা হয়েছে তখন তারা কুফরী করল।



এ কথাকে আরো সুস্পষ্ট করে দেয় আল্লাহ তা‘আলার এই বাণী :



(وَلَمَّا جَا۬ءَهُمْ كِتٰبٌ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ لا وَكَانُوْا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُوْنَ عَلَي الَّذِيْنَ كَفَرُوْا ج فَلَمَّا جَا۬ءَهُمْ مَّا عَرَفُوْا كَفَرُوْا بِه۪ ز فَلَعْنَةُ اللّٰهِ عَلَي الْكٰفِرِيْنَ) ‏



“এবং যখন আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নে সমর্থক গ্রন্থ উপস্থিত হল যদিও পূর্বে কাফিরদের বিরুদ্ধে তারা এর সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত। অতঃপর যখন তাদের নিকট সেই পরিচিত কিতাব আসল, তখন তারা তাকে অস্বীকার করে বসল। সুতরাং এরূপ কাফিরদের উপর আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হোক।” (সূরা বাকারাহ ২ : ৮৯)



আবার কেউ কেউ বলেন : এ আয়াত মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। (আযওয়াউল বায়ান)



(الشَّيْطَانُ سَوَّلَ لَهُمْ)



‘তাদেরকে শয়তান সেদিকে লোভ দেখিয়েছে’ অর্থাৎ যারা সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পরে তা বর্জন করেছে শয়তান তাদেরকে কুফরী ও খারাপ কাজকে সুশোভিত করে দিয়েছে।



سَوَّلَ ও املي এর উভয়ের কর্তা শয়তান আবার কেউ কেউ املي এর কর্তা বলতে আল্লাহ তা‘আলাকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অন্যায় ও খারাপ কাজ করতে অবকাশ দেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ أَنَّمَا نُمْلِيْ لَهُمْ خَيْرٌ لِّأَنْفُسِهِمْ ط إِنَّمَا نُمْلِيْ لَهُمْ لِيَزْدَادُوْآ إِثْمًا ج وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ)



“যারা কুফরী করেছে তারা যেন এটা ধারণা না করে যে, আমি তাদেরকে যে সুযোগ দিয়েছি, তা তাদের জীবনের জন্য কল্যাণকর; বরং এ জন্যই আমি তাদেরকে অবকাশ প্রদান করি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জন্য অবমাননাকর শাস্তি রয়েছে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩ : ১৭৮, আযওয়াউল বায়ান, অত্র আয়াতের তাফসীর)



(ذٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوْا لِلَّذِيْنَ كَرِهُوْا مَا نَزَّلَ اللّٰهُ)



‘এ কারণেই আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা যারা অপছন্দ করে তারা তাদেরকে (ইয়াহূদীদেরকে) বলে যে’ অর্থাৎ কুফরীতে দীর্ঘদিন মত্ত থাকার অবকাশ দেয়া হয়েছে এ কারণে যে, মুনাফিকরা ইয়াহূদীদেরকে বলে যে, ইয়াহূদীরা আল্লাহ তা‘আলা যা নাযিল করেছেন তা অপছন্দ করে : আমরা অচিরেই কতক বিষয়ে তোমাদের আনুগত্য করব যা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের নির্দেশের বিপরীত। এসব মুনাফিকদের জেনে রাখা উচিত আল্লাহ তা‘আলা তাদের সকল গোপন সলাপরামর্শ সম্পর্কে জানেন।



(فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلَا۬ئِكَةُ)



‘ফেরেশতারা যখন তাদের রূহ কবয করে মুখ ও পিঠে মারতে মারতে তাদেরকে নিয়ে যাবে তখন তাদের কেমন দশা হবে?’ এখানে কাফিরদের সে সময়কার অবস্থা বর্ণনা করা হচ্ছে, যখন ফেরেশতারা তাদের আত্মা বের করবেন। মৃত্যুর সময় কাফির ও মুনাফিকদের আত্মা ফেরেশতার হাত থেকে বাঁচার জন্য দেহের মধ্যে লুকোচুরি করতে থাকে এবং এদিক-ওদিক পালাবার চেষ্টা করে। সে সময় ফেরেশতাগণ তা কঠোরভাবে ধরে সজোরে টানেন এবং মুখে ও পিঠে আঘাত করতে থাকেন। এ সম্পর্কে সূরা আনআমের ১৯৩ নং ও সূরা আনফালের ৫০ নং আয়াতেও আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কুরআন অর্থসহ বুঝে পড়া উচিত এবং তার তাৎপর্য উপলব্ধি করা আবশ্যক।

২. কুরআন আল্লাহ তা‘আলার কালাম।

৩. যারা কুরআন বুঝার চেষ্টা করে না আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তিরস্কার করেছেন।

৪. মৃত্যুকালীন কাফিরদের কঠিন অবস্থার কথা জানতে পারলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৪-২৮ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় পাক কালামের প্রতি চিন্তা-গবেষণা করার ও তা অনুধাবন করার হিদায়াত করছেন এবং তা হতে বেপরোয়া ভাব দেখাতে ও মুখ ফিরিয়ে নিতে নিষেধ করছেন। তাই তিনি বলেনঃ তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারের চিন্তা-গবেষণা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? অর্থাৎ তারা পাক কালাম সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করবে কি করে? তাদের অন্তর তো তালাবদ্ধ রয়েছে! তাই কোন কালাম তাদের অন্তরে ক্রিয়াশীল হয় না। অন্তরে কালাম পৌঁছলে তো তা ক্রিয়াশীল হবে? অন্তরে তা পৌঁছার পথই তো বন্ধ রয়েছে।

হযরত হিশাম ইবনে উরওয়া (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) ... (আরবী)-এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, তখন ইয়ামনের একজন যুবক বলে ওঠেনঃ “বরং তাদের অন্তরের উপর তো তালা রয়েছে, যে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তা খুলে না দেন বা দূর না করেন (সেই পর্যন্ত তাদের অন্তরে আল্লাহর কালাম প্রবেশ করতে পারে না)।” হযরত উমার (রাঃ)-এর অন্তরে যুবকের একথাটি রেখাপাত করে। অতঃপর যখন তিনি খলীফা নির্বাচিত হন তখন হতে ঐ যুবকের নিকট হতে তিনি সাহায্য গ্রহণ করতেন। (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

আল্লাহ পাক বলেনঃ “যারা নিজেদের নিকট সৎপথ ব্যক্ত হবার পর তা পরিত্যাগ করে, প্রকৃতপক্ষে শয়তান তাদের নিকৃষ্ট কাজ তাদেরকে শোভনীয় রূপে প্রদর্শন করে এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়। তারা শয়তান কর্তৃক প্রতারিত হয়েছে। এটা হলো মুনাফিকদের অবস্থা। তাদের অন্তরে যা রয়েছে তার বিপরীত তারা বাইরে প্রকাশ করে থাকে। কাফিরদের সাথে মিলেজুলে থাকার উদ্দেশ্যে এবং তাদেরকে নিজের করে নেয়ার লক্ষ্যে অন্তরে তাদের সাথে বাতিলের আনুকূল্য করে তাদেরকে বলেঃ “তোমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ো না, আমরা কোন কোন বিষয়ে তোমাদের আনুগত্য করবো।”

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ তাদের গোপন অভিসন্ধি সম্বন্ধে পূর্ণ ওয়াফিহাল।” অর্থাৎ এই মুনাফিকরা যে গোপনে কাফির ও মুশরিকদের সাথে হাত মিলাচ্ছে, তারা যেন এটা মনে না করে যে, তাদের এই অভিসন্ধি আল্লাহ তাআলার কাছে গোপন থাকছে। তিনি তো মানুষের ভিতর ও বাইরের কথা সমানভাবেই জানেন। চুপে চুপে অতি গোপনে কথা বললেও তিনি তা শুনে থাকেন। তাঁর জ্ঞানের কোন শেষ নেই।

এরপর প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ “ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমণ্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করবে, তখন তাদের দশা কেমন হবে!” যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তুমি দেখতে, যখন কাফিরদের প্রাণ হরণ করার সময় ফেরেশতারা তাদের মুখমণ্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত ও প্রহার করবে!”(৮:৫০) আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তুমি দেখতে, যখন যালিমরা মৃত্যু যাতনায় থাকবে এবং ফেরেশতারা তাদের হস্তগুলো (তাদেরকে মারার জন্যে) প্রসারিত করবে এবং বলবে- বের কর স্বীয় আত্মা। আজ তোমাদেরকে দেয়া হবে অবমাননাকর শাস্তি, কারণ তোমরা আল্লাহর উপর অন্যায় কথা বলতে এবং তার নিদর্শনাবলী হতে গর্বভরে মুখ ফিরিয়ে নিতে ।”(৬:৯৩) এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা এখানে (আরবী) বলেনঃ “এটা এই জন্যে যে, যা আল্লাহর অসন্তোষ জন্মায় তারা তার অনুসরণ করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের প্রয়াসকে অপ্রিয় গণ্য করে। তিনি এদের কর্ম নিষ্ফল করে দেন।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।