সূরা মুহাম্মাদ (আয়াত: 1)
হরকত ছাড়া:
الذين كفروا وصدوا عن سبيل الله أضل أعمالهم ﴿١﴾
হরকত সহ:
اَلَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَ صَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَضَلَّ اَعْمَالَهُمْ ﴿۱﴾
উচ্চারণ: আল্লাযীনা কাফারূওয়াছাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি আদাল্লা আ‘মা-লাহুম।
আল বায়ান: যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বারণ করেছে, তিনি তাদের আমলসমূহ ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. যারা কুফরী করেছে এবং অন্যকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত করেছে তিনি তাদের আমলসমূহ ব্যৰ্থ করে দিয়েছেন(১)।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফুরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন।
আহসানুল বায়ান: (১) যারা অবিশ্বাস করেছে এবং অপরকে আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করেছে[1] তিনি তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন।[2]
মুজিবুর রহমান: যারা কুফরী করে এবং অপরকে আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করে তিনি তাদের কাজ ব্যর্থ করে দেন।
ফযলুর রহমান: যারা কুফরি করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের কর্মসমূহ ব্যর্থ করে দেন।
মুহিউদ্দিন খান: যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন।
জহুরুল হক: যারা অবিশ্বাস পোষণ করে এবং আল্লাহ্র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, তিনি তাদের ক্রিয়াকলাপ ব্যর্থ করে দেবেন।
Sahih International: Those who disbelieve and avert [people] from the way of Allah - He will waste their deeds.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১. যারা কুফরী করেছে এবং অন্যকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত করেছে তিনি তাদের আমলসমূহ ব্যৰ্থ করে দিয়েছেন(১)।
তাফসীর:
(১) মূল আয়াতে (أَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ) উল্লেখিত হয়েছে। অর্থাৎ তাদের কাজ-কর্মকে বিপথগামী করে দিয়েছেন, পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন। [দেখুন-আয়সারুত-তাফসীর, ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১) যারা অবিশ্বাস করেছে এবং অপরকে আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করেছে[1] তিনি তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন।[2]
তাফসীর:
[1] কেউ কেউ এ থেকে কুরাইশ কাফেরদেরকে বুঝিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বুঝিয়েছেন আহলে-কিতাব (ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান)-দেরকে। তবে এটি ব্যাপক, তারা সহ সকল অবিশ্বাসীরাই এর অন্তর্ভুক্ত।
[2] এর একটি অর্থ এই যে, তারা নবী করীম (সাঃ) এর বিরুদ্ধে যেসব ষড়যন্ত্র করেছিল, মহান আল্লাহ সেগুলোকে ব্যর্থ করে তা তাদের উপরেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় অর্থ হল, তাদের মধ্যে উত্তম যে কিছু নৈতিকতা ছিল; যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, বন্দীদের মুক্ত করা এবং অতিথি আপ্যায়ন ইত্যাদি অথবা কা’বাগৃহ ও হাজীদের খিদমত করা, এ সবের কোন প্রতিদান তারা আখেরাতে পাবে না। কারণ, ঈমান ব্যতীত আমলের কোন নেকী নির্ধারিত হয় না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ ও আলোচ্য বিষয় :
মুহাম্মাদ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম। কুরআনে একটি মাত্র সূরা যা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সূরার দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখিত মুহাম্মাদ নাম থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরাকে সূরা কিতাল ও ‘সূরা আল-লাজিনা কাফারু’ নামেও নামকরণ করা হয়েছে।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এ সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ, তবে একটি আয়াত ছাড়া; এটি অবতীর্ণ হয় বিদায় হাজ্জ শেষে ফিরে আসার পথে, তখন তিনি মক্কার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন আর কাঁদছিলেন। আয়াতটি হল :
(وَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ هِيَ أَشَدُّ قُوَّةً مِنْ قَرْيَتِكَ)
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সালাতে এ সূরা পড়তেন। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, ২/১১৮, সহীহ)।
সূরার শুরুতে কাফির ও মু’মিনদের পরিণতি বর্ণনা করে যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদেরকে করায়ত্ত করতে পারলে কী করতে হবে তা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলাকে সাহায্য করলে তবেই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সাহায্য করবেন, জান্নাতের উপমা এবং আমলের পূর্বে জ্ঞানার্জন করার নির্দেশ, কোন কাজের ব্যাপারে দৃঢ়মনস্ত হলে কী করণীয়, যারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না তাদের তিরস্কার, যারা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের অবস্থা এবং সবশেষে দুনিয়ার উপমা ও মানুষ আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য না করলে যে তিনি অন্য জাতি নিয়ে আসবেন যারা তাঁর আনুগত্য করবে ইত্যাদি বিষয় এ সূরাটিতে আলোচিত হয়েছে।
১-৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা কাফির তাদের সকল আমলের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলা বাতিল করে দিয়েছেন। দুনিয়াতে তারা যত সৎ আমল করেছে যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায়, দরিদ্রদেরকে খাদ্য দান ও প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি কিয়ামাতের দিন তাদের কোন উপকারে আসবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَقَدِمْنَآ إِلٰي مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَا۬ءً مَّنْثُوْرًا)
“আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।” (সূরা ফুরকান ২৫ : ২৩)
অর্থাৎ কুফরী অবস্থায় দুনিয়াতে যে সকল সৎ আমল করেছে তার সওয়াব বাতিল করে দেয়া হবে। কেউ কেউ এখানে কাফির দ্বারা কুরাইশদের বুঝিয়েছেন। আবার কেউ আহলে কিতাবদের বুঝিয়েছেন। তবে আয়াতটি ব্যাপক, সকল কাফিরদের জন্যই প্রযোজ্য। কারণ আমল কবূলের পূর্বশর্ত হল স্বচ্ছ ঈমান ও আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য করা। এসব কাফিররা ঈমান আনেনি এবং তাদের সৎ আমলগুলো দুনিয়ার স্বার্থে করে থাকে, আল্লাহ তা‘আলাকে পাওয়ার জন্য নয় এবং আরো কারণ হল তারা বাতিলের অনুসরণ করে, আর যে বাতিলের অনুসরণ করে তার আমলগুলোও বাতিল।
পক্ষান্তরে যারা মু’মিন তাদের অপরাধসমূহ মোচন করে দিয়ে তাদের অবস্থাকে ভাল করে দিবেন। কারণ তারা সত্যের অনুরসণ করে, যারা সত্যের অনুরসণ করে তাদের আমলগুলোও সত্য। মু’মিনরা প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্যের অনুসারণ করে বিধায় তিনি তাদের অপরাধ মোচন করে অবস্থা ভাল করে দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(أَمْ حَسِبَ الَّذِيْنَ اجْتَرَحُوا السَّيِّاٰتِ أَنْ نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لا سَوَا۬ءً مَّحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ط سَا۬ءَ مَا يَحْكُمُوْنَ)
“যারা খারাপ কাজ করে তারা কি মনে করে যে, আমি জীবন ও মৃত্যুর দিক দিয়ে তাদেরকে সেসব ব্যক্তিদের সমান গণ্য করব যারা ঈমান আনে ও সৎআমল করে? তাদের সিদ্ধান্ত কতই না মন্দ”। (সূরা জাসিয়াহ ৪৫ : ২১)
(وَاٰمَنُوْا بِمَا نُزِّلَ عَلٰي مُحَمَّدٍ)
‘এবং ঈমান এনেছে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে মুহাম্মাদের প্রতি’ ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : এখানে একটি ব্যাপক বিষয়ের পর বিশেষ বিষয়কে উল্লেখ করা হয়েছে যাকে
عطف خاص علي العام
বলা হয়। যদিও অত্র আয়াতের প্রথমে ঈমান ও সৎ আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে রাসূলের প্রতি ঈমান আনা শামিল করে তথাপি এখানে বিষেশভাবে উল্লেখ করার কারণ হল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের পর তাঁর প্রতি ঈমান আনা ছাড়া ঈমান শুদ্ধ হবে না।
(وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ)
‘এবং তাদের অবস্থা ভালো করে দিয়েছেন’ অর্থাৎ মু’মিনদের দীন, দুনিয়া, অন্তর, আমল ও প্রতিদান বৃদ্ধি ও সংশোধন করে ভাল করে দেবেন এবং তাদের সকল অবস্থার উন্নতি সাধন করে দেবেন। কারণ তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত সত্যের অনুসরণ করে।
সুতরাং যারা বিশ্বাস করে ঈমান আনার পর অপরাধমূলক কাজ করলে ঈমানের কোন ক্ষতি হবে না যেমন কাফির অবস্থায় ভাল কাজ করলে কোন উপকারে আসবে না তাদের এ বিশ্বাস ভ্রান্ত। বরং ঈমান না আনার কারণে কাফিরদের ভাল আমল গ্রহণযোগ্য হবে না, আর মু’মিনরা ঈমান আনার পর অপরাধমূলক কাজ করলে গুনাহগার হবে। সে গুনাহ ছোটও হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে, তবে ছোট গুনাহ ভাল আমলের কারণে ক্ষমা হয়ে যায়, আর বড় গুনাহর জন্য তাওবা করতে হয়। তাওবা না করে মারা গেলে তা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন থাকবে, আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দেবেন, অথবা তার অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে জান্নাত দেবেন। ==
অসম্পূর্ণ =====
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১-৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন:যারা নিজেরাও আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যদেরকেও আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাদের আমল নষ্ট করে দিয়েছেন এবং তাদের পুণ্যকর্ম বৃথা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তাদের কৃতকর্মগুলো বিবেচনা করবো, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবো।” (২৫:২৩)
মহান আল্লাহ বলেনঃ যারা ঈমান এনেছে আন্তরিকতার সাথে এবং দেহ দ্বারা শরীয়ত মুতাবেক আমল করেছে অর্থাৎ বাহির ও ভিতর উভয়কেই আল্লাহর দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে এবং আল্লাহর ঐ অহীকেও মেনে নিয়েছে যা কর্তমানে বিদ্যমান শেষ নবী (সঃ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। যা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা'আলার নিকট হতেই আগত এবং যা নিঃসন্দেহে সত্য। আল্লাহ তাআলা তাদের মন্দ কর্মগুলো ক্ষমা করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন। এর দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, নবী (সঃ)-এর নবী হওয়ার পর তার উপর এবং কুরআন কারীমের উপরও ঈমান আনা অবশ্য কর্তব্য।
হাদীসে এসেছে যে, যে হাঁচি দাতার ((আরবী) বলে) জবাব দেয়া হয়েছে। সে যেন জবাবদাতার জন্যে বলেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ তোমাদেরকে হিদায়াত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থা ভাল করুন!” এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ কাফিরদের আমল নষ্ট করে দেয়া এবং মুমিনদের মন্দ কর্মগুলো ক্ষমা করা ও তাদের অবস্থা ভাল করার কারণ এই যে, যারা কুফরী করে তারা তো সত্যকে ছেড়ে মিথ্যার অনুসরণ করে, পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে তারা তাদের প্রতিপালক প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন অর্থাৎ তিনি তাদের পরিণাম বর্ণনা করেন। মহান আল্লাহই এসব ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।