সূরা আল-আহকাফ (আয়াত: 6)
হরকত ছাড়া:
وإذا حشر الناس كانوا لهم أعداء وكانوا بعبادتهم كافرين ﴿٦﴾
হরকত সহ:
وَ اِذَا حُشِرَ النَّاسُ کَانُوْا لَهُمْ اَعْدَآءً وَّ کَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ کٰفِرِیْنَ ﴿۶﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযা-হুশিরান্না-ছুকা-নূলাহুম আ‘দাআওঁ ওয়া কা-নূবি‘ইবা-দাতিহিম কা-ফিরীন।
আল বায়ান: আর যখন মানুষকে একত্র করা হবে, তখন এ উপাস্যগুলো তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬. আর যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন সেগুলো হবে এদের শত্রু এবং এরা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে যখন একত্রিত করা হবে, তখন ঐগুলো (অর্থাৎ উপাস্যরা) হবে মানুষের শত্রু আর মানুষ যে তাদের ‘ইবাদাত করেছিল তা তারা অস্বীকার করবে।
আহসানুল বায়ান: (৬) যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করবে। [1]
মুজিবুর রহমান: যখন কিয়ামাত দিবসে মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন ঐগুলো হবে তাদের শত্রু, ঐগুলো তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।
ফযলুর রহমান: (কেয়ামতে) যখন মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন ওরা এদের (উপাসকদের) শত্রু হবে এবং এদের উপাসনা অস্বীকার করবে।
মুহিউদ্দিন খান: যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের এবাদত অস্বীকার করবে।
জহুরুল হক: আর যখন মানবগোষ্ঠীকে সমবেত করা হবে তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে, আর তাদের যে উপাসনা করা হয়েছিল সে কথাতেই তারা অস্বীকারকারী হবে।
Sahih International: And when the people are gathered [that Day], they [who were invoked] will be enemies to them, and they will be deniers of their worship.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬. আর যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন সেগুলো হবে এদের শত্রু এবং এরা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬) যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করবে। [1]
তাফসীর:
[1] এই বিষয়টি কুরআনের একাধিক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। যেমন, সূরা ইউনুসের ২৯নং আয়াতে, সূরা মারয়্যামের ৮১-৮২নং আয়াতে এবং সূরা আনকাবুতের ২৫নং আয়াত সহ আরো অন্য আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়াতে দু’ প্রকারের উপাস্য বিদ্যমান রয়েছে। এক তো হল, নিষ্প্রাণ জড়পদার্থ, উদ্ভিদ এবং মহান আল্লাহর মহাশক্তির নিদর্শনাবলী (সূর্য, আগুন প্রভৃতি)। আল্লাহ তাআলা এগুলোর মধ্যে প্রাণ এবং বাকশক্তি দান করবেন। ফলে এ জিনিসগুলো মুখের ভাষায় ব্যক্ত করবে যে, এ কথা আমরা আদৌ জানতাম না যে, এরা আমাদের পূজা করত এবং তোমার উপাস্যত্বে আমাদেরকে শরীক করত। কেউ কেউ বলেছেন, বাচনিক জবানে নয়, বরং অবস্থার জবানে তারা নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করবে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। দ্বিতীয় প্রকার উপাস্য হল, নবী, ফিরিশতা ও নেক লোক বা সৎব্যক্তিদের মধ্য থেকে। যেমন, ঈসা, উযাইর (আলাইহিমাস্ সালাম) এবং আল্লাহর অন্যান্য নেক বান্দাগণ। এঁরাও আল্লাহর সমীপে সেইরূপই উত্তর দেবেন, যেমন ঈসা (আঃ)-এর উত্তর পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে। এ ছাড়া শয়তানও অস্বীকার করবে। যেমন সকল শরীকদের উক্তি কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। ﴿ تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ﴾ (القصص:৬৩) ‘‘আমরা তোমার সম্মুখে (আমাদের পূজারীদের সাথে) সম্পর্ক ছিন্নতার কথা ঘোষণা করছি, এরা আমাদের পূজা করত না।’’ (সূরা কাসাসঃ ৬৩)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪-৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে মনগড়া মা‘বূদদেরকে সমস্যা নিরসন ও কল্যাণের আশায় আহ্বান করে তাদেরকে ভর্ৎসনার সাথে আল্লাহ প্রশ্ন করছেন : আমাকে দেখাও যে, তারা এ সুবিশাল আকাশ ও জমিনের কোন অংশ সৃষ্টি করেছে, না আল্লাহর সাথে তার সৃষ্টিতে অংশীদার হয়েছে? এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ থাকলে নিয়ে আসো। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَکَا۬ءَکُمُ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللہِﺚ اَرُوْنِیْ مَاذَا خَلَقُوْا مِنَ الْاَرْضِ اَمْ لَھُمْ شِرْکٌ فِی السَّمٰوٰتِﺆ اَمْ اٰتَیْنٰھُمْ کِتٰبًا فَھُمْ عَلٰی بَیِّنَةٍ مِّنْھُﺆ بَلْ اِنْ یَّعِدُ الظّٰلِمُوْنَ بَعْضُھُمْ بَعْضًا اِلَّا غُرُوْرًا)
“বল, তোমরা তোমাদের শরীক যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে ডাকতে তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? আমাকে দেখাও, জমিনের কোন অংশ তারা সৃষ্টি করেছে, নাকি আসমানের সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশিদারীত্ব আছে, অথবা আমি কি তাদেরকে এমন কোন গ্রন্থ দিয়েছি যার প্রমাণের ওপর তারা প্রতিষ্ঠিত। বরং জালিমরা একে অন্যকে শুধু প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।” (সূরা ফাতির ৩৫ : ৪০)
সূরা সাবার ২২ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(قُلِ ادْعُوا الَّذِيْنَ زَعَمْتُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ ج لَا يَمْلِكُوْنَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمٰوٰتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيْهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَّمَا لَه۫ مِنْهُمْ مِّنْ ظَهِيْرٍ )
“বল, তোমরা তাদেরকে আহ্বান কর, যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (মা‘বূদ) মনে করতে, তারা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর অণু পরিমাণ কিছুরও অধিকারী নয়, এতদুভয়ে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ আল্লাহর সহায়তাকারীও নয়।”
পূর্ববর্তী কোন আসমানী কিতাবের প্রমাণ না থাকলে
(أَثٰرَةٍ مِّنْ عِلْمٍ)
তথা রাসূলদের পরম্পরাগত কোন উক্তি নিয়ে আসো যে, তারা এরূপ শিরক করতে বলেছেন।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন :
( أَثٰرَةٍ مِّنْ عِلْمٍ)
হল জমিনে দাগ টানা যা আরবরা করত। (ফাতহুল বারী ৮/৫৭৬, সহীহ) মোট কথা মুশরিকরা কোন প্রকার দলীল আনতে সক্ষম হয়নি। বরং সকল আসমানী কিতাব ও নাবীগণ এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন, কখনো তারা শিরক করার নির্দেশ দেননি।
সুতরাং যারা কিছুই সৃষ্টি করেনি এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে সৃষ্টিতে শরীকও হয়নি, যারা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের আহ্বানে সাড়া দিতে অক্ষম এমন মা‘বূদদেরকে যারা মুশকিলের আসানদাতা ও কল্যাণ বয়ে আনার জন্য আহ্বান করে তাদের চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে? অতএব আমাদের জানা উচিত যারা কবরে শায়িত তাদের কাছে বিপদাপদ নিরসনের প্রস্তাব পেশ করলে এবং কল্যাণ কামনা করলে কি তারা সাড়া দিতে সক্ষম হবে? কখনো নয়, বরং তারাই তো কবরে অসহায়। মানুষের দু‘আর মুখাপেক্ষী, তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকার মুখাপেক্ষী। তাই সকল বিপদ-আপদ ও সুখ-সাচ্ছন্দ্যে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকেই ডাকতে হবে।
(وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ)
‘(হাশরের ময়দানে) যখন সব মানুষকে একত্রিত করা হবে’ অর্থাৎ যখন হাশর হবে তখন কাফিররা একে অপরের শত্র“তে পরিণত হবে এবং তারা যাদের ইবাদত করত তারাও শত্র“তে পরিণত হবে ও ইবাদত অস্বীকার করবে। এর কারণ হল কাফির-মুশরিকরা তাদের মা‘বূদের ইবাদত করতো এ আশায় যে, তারা কিয়ামতের দিন তাদের উপকারে আসবে, তাদের জন্য শাফায়াত করবে। কিন্তু কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে তারা সব অস্বীকার করবে এবং বলবে আমরা তো তোমাদেরকে আমাদের ইবাদত করতে বলিনি। তবে মুমিনরা পরস্পর শত্র“তে পরিণত হবে না। কারণ তাদের সম্পর্ক ছিল আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের সাথে। এ সম্পর্কে সূরা ইউনুসের ২৯ নং আয়াতে, মারইয়ামের ৮১-৮২ নং আয়াতে, আনকাবুতের ২৫ নং আয়াতেও আলোচনা করা হয়েছে ।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাকে ডাকা হচ্ছে কিয়ামতের দিন তারা কোন উপকার তো দুরের কথা আরো শত্র“ হয়ে দাঁড়াবে।
৩. যিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনি সকল ইবাদত পাওয়ার হকদার।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১-৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি এই কুরআন কারীম স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর অবতীর্ণ করেছেন। তিনি এমনই সম্মানের অধিকারী যে, তা কখনো নষ্ট হবার নয় এবং তিনি এমনই প্রজ্ঞাময় যে, তাঁর কোন কথা ও কাজ প্রজ্ঞাশূন্য নয়।
এরপর ইরশাদ হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এতোদুভয়ের সব জিনিসই যথাযথভাবে নির্দিষ্ট কালের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। কোনটাই তিনি অযথা ও বৃথা সৃষ্টি করেননি।
(আরবী) -এর অর্থ হচ্ছে নির্দিষ্ট কাল, যা বৃদ্ধিও পাবে না এবং কমেও যাবে। এই রাসূল (সঃ), এই কিতাব (কুরআন) এবং সতর্ককারী অন্যান্য নিদর্শনাবলী হতে যে দুষ্টমতি লোকেরা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বেপরোয়া হয় তারা নিজেদের কি পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা তারা সত্বরই জানতে পারবে।
মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ এই মুশরীকদেরকে তুমি জিজ্ঞেস কর- তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো এবং যাদের ইবাদত কর, তাদের কথা কিছু ভেবে দেখেছো কি? তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও তো? অথবা আকাশমণ্ডলীতে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি? প্রকৃত ব্যাপার তো এই যে, আকাশ হোক, পৃথিবী হোক, যে কোন জিনিসই হোক না কেন সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া কারো এক অণুপরিমাণ জিনিসেরও অধিকার নেই। সমগ্র রাজ্যের মালিক তিনিই। প্রত্যেক জিনিসের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান একমাত্র তিনি। তিনিই সবকিছুর ব্যবস্থাপক। সবকিছুরই উপর পূর্ণ অধিকার একমাত্র তিনিই রাখেন। সুতরাং মানুষ তাঁর ছাড়া অন্যদের ইবাদত কেন করে? কেন তারা তাদের বিপদ-আপদের সময় অল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে? কে তাদেরকে এ শিক্ষা দিয়েছে? কে তাদেরকে এ শিরক করতে | শিখিয়েছে? প্রকতপক্ষে কোন সৎ ও জ্ঞানী মানুষের এ শিক্ষা হতে পারে না ।
মহান আল্লাহ তাদেরকে এ শিক্ষা দেননি। তাই তো তিনি বলেনঃ “পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান থাকলে তা আমার নিকট উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।' কিন্তু আসলে তো এটা তোমাদের বাজে ও বাতিল কাজ। সুতরাং তোমরা এর স্বপক্ষে না পারবে কোন শরীয়ত সম্মত দলীল পেশ করতে এবং না পারবে কোন জ্ঞান সম্মত দলীল পেশ করতে। এক কিরআতে (আরবী) রয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের পূর্ববর্তীদের হতে কোন সঠিক জ্ঞানের বর্ণনা পেশ কর।
মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ এমন কাউকেও উপস্থিত কর যে সঠিক ইলমের বর্ণনা দিতে পারে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ভাবার্থ হচ্ছেঃ এই বিষয়ের কোন দলীল আনয়ন কর।
মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান-লিপি। বর্ণনাকারী বলেন যে, তাঁর ধারণামতে এ হাদীসটি মার'। হযরত আবু বকর ইবনে আইয়াশ (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা বাকী ইলমকে বুঝানো হয়েছে। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ ‘কোন গোপন দলীলও পেশ কর?' এই সব গুরুজন হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা পূর্ববতী লিপি উদ্দেশ্য। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা কোন বিশেষ জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে। এসব উক্তি প্রায় একই অর্থবোধক। ভাবার্থ ওটাই যা আমরা প্রথমে বর্ণনা করেছি। ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) এটাকেই পছন্দ করেছেন।
এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ “ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দিবে না? এবং এগুলো তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধে অবহিতও নয়। কেননা এগুলো তো পাথর এবং জড় পদার্থ। এরা না শুনতে পায়, না দেখতে পায়।
কিয়ামতের দিন যখন সব মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন এসব বাতিল মা'বুদ বা উপাস্য তাদের উপাসকদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তারা এদের ইবাদত অস্বীকার করবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য মাবুদ গ্রহণ করে এ জন্যে যে, যাতে তারা তাদের সহায় হয়। কখনই নয়; তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।”(১৯:৮১-৮২) অর্থাৎ যখন এরা তাদের পূর্ণ মুখাপেক্ষী হবে তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিবে।
হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (সঃ) তাঁর উম্মতকে বলেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা আল্লাহ ব্যতীত প্রতিমাগুলোর সাথে যে পার্থিব সম্পর্ক স্থাপন করেছো এর ফলাফল তোমরা কিয়ামতের দিন দেখে নিবে, যখন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে লা'নত করবে, আর তোমাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী হবে না।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।