সূরা আল-আহকাফ (আয়াত: 34)
হরকত ছাড়া:
ويوم يعرض الذين كفروا على النار أليس هذا بالحق قالوا بلى وربنا قال فذوقوا العذاب بما كنتم تكفرون ﴿٣٤﴾
হরকত সহ:
وَ یَوْمَ یُعْرَضُ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا عَلَی النَّارِ ؕ اَلَیْسَ هٰذَا بِالْحَقِّ ؕ قَالُوْا بَلٰی وَ رَبِّنَا ؕ قَالَ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا کُنْتُمْ تَکْفُرُوْنَ ﴿۳۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াওমা ইউ‘রাদুল্লাযীনা কাফারূ‘আলান্না-রি আলাইছা হা-যা-বিলহাক্কি কা-লূবালা-ওয়া রাব্বিনা- কা-লা ফাযূকুল ‘আযা-বা বিমা-কুনতুম তাক ফুরূন।
আল বায়ান: আর যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের কাছে পেশ করা হবে (বলা হবে), ‘এটা কি সত্য নয়’? তারা বলবে, ‘অবশ্যই হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম তিনি বলবেন, ‘তাহলে আযাব আস্বাদন কর, যেহেতু তোমরা কুফরী করছিলে’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৪. আর যারা কুফরী করেছে যেদিন তাদেরকে পেশ করা হবে জাহান্নামের আগুনের কাছে, (সেদিন তাদেরকে বলা হবে) এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের রবের শপথ! অবশ্যই হ্যাঁ। তিনি বলবেন, সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; কারণ তোমরা কুফরী করেছিলে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: কাফিরদেরকে যেদিন জাহান্নামের সামনে হাজির করা হবে (তখন তাদেরকে বলা হবে) এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, ‘কসম আমাদের প্রতিপালকের! এটা সত্য।’ তাদেরকে বলা হবে, ‘তাহলে ‘আযাব আস্বাদন কর, যেহেতু তোমরা সত্যকে অমান্য করেছিলে।
আহসানুল বায়ান: (৩৪) যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে উপস্থিত করা হবে জাহান্নামের নিকট, (সেদিন তাদেরকে বলা হবে,) ‘এটা কি সত্য নয়?’ তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের শপথ! [1] অবশ্যই (এটা সত্য)।’ তিনি (আল্লাহ) বলবেন, ‘সুতরাং তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যান করতে, তারই কারণে শাস্তি আস্বাদন কর।’[2]
মুজিবুর রহমান: যেদিন কাফিরদেরকে উপস্থিত করা হবে জাহান্নামের নিকট, সেদিন তাদেরকে বলা হবেঃ এটা কি সত্য নয়? তারা বলবেঃ আমাদের রবের শপথ! এটা সত্য। তখন তাদেরকে বলা হবেঃ শাস্তি আস্বাদান কর। কারণ তোমরা ছিলে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী।
ফযলুর রহমান: যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে (সেদিন তাদেরকে বলা হবে,) “এটা কি সত্য নয়?” তারা বলবে, “হ্যাঁ, আমাদের প্রভুর কসম (সত্য)।” আল্লাহ বলবেন, “তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করতে।”
মুহিউদ্দিন খান: যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে, সেদিন বলা হবে, এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হঁ্যা আমাদের পালনকর্তার শপথ। আল্লাহ বলবেন, আযাব আস্বাদন কর। কারণ, তোমরা কুফরী করতে।
জহুরুল হক: আর যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের সেইদিন আগুনের নিকটে উপস্থিত করা হবে। "এইটি কি চরম-সত্য নয়?" তারা বলবে -- "হাঁ, আমাদের প্রভুর কসম?" তিনি বলবেন -- "তাহলে শাস্তিটা আস্বাদন কর, যেহেতু তোমরা অবিশ্বাস পোষণ করতে।"
Sahih International: And the Day those who disbelieved are exposed to the Fire [it will be said], "Is this not the truth?" They will say, "Yes, by our Lord." He will say, "Then taste the punishment because you used to disbelieve."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৪. আর যারা কুফরী করেছে যেদিন তাদেরকে পেশ করা হবে জাহান্নামের আগুনের কাছে, (সেদিন তাদেরকে বলা হবে) এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের রবের শপথ! অবশ্যই হ্যাঁ। তিনি বলবেন, সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; কারণ তোমরা কুফরী করেছিলে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৪) যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে উপস্থিত করা হবে জাহান্নামের নিকট, (সেদিন তাদেরকে বলা হবে,) ‘এটা কি সত্য নয়?” তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের শপথ! [1] অবশ্যই (এটা সত্য)।” তিনি (আল্লাহ) বলবেন, ‘সুতরাং তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যান করতে, তারই কারণে শাস্তি আস্বাদন কর।”[2]
তাফসীর:
[1] সেখানে শুধু সত্য বলেই স্বীকারই করবে না, বরং নিজেদের ঐ স্বীকারোক্তির উপর কসম খেয়ে তা সুদৃঢ়ও করবে। তবে সে সময়ে এই স্বীকারোক্তি কোন উপকারে আসবে না। কারণ, প্রত্যক্ষ দেখার পর স্বীকারোক্তির কিই-বা দাম থাকতে পারে? আর স্বচক্ষে দেখার পর স্বীকার না করে কেউ কি অস্বীকার করবে?
[2] কেননা, যখন মানার সময় ছিল, তখন মানোনি। এ শাস্তি হল সেই কুফরী ও অস্বীকারেরই প্রতিফল, যা তোমাদেরকে ভোগ করতেই হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৩-৩৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহর ক্ষমতা ও রুবুবিয়্যাহর বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এ বিশাল আকাশসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আর এসব সৃষ্টি করাতে তাঁকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। যারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে এবং অসম্ভব মনে করে তাদেরকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসাকারে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : তারা কি জানে না আল্লাহ তা‘আলা আকাশ-জমিন সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি। সেই আল্লাহ তা‘আলা মৃত মানুষকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। সুতরাং পুনরুত্থানকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই, বরং দলীল ও যুক্তি দ্বারা তা প্রমাণিত।
কাফিরদেরকে কিয়ামতের দিন যখন জাহান্নামে উপস্থিত করা হবে তখন তাদেরকে বলা হবে এটা কি সত্য নয়? কাফিররা তা স্বীকার করবে। শুধু স্বীকারই নয়, বরং আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলবে, কিন্তু এ স্বীকারোক্তি কোন উপকারে আসবে না।
(فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ)
‘অতএব (হে রাসূল!) তুমি সবর কর, যেমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ সবর করেছেন।’ যারা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দেয় ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তাদের আচরণে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।
(أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ)
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ হলেন- নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এটাই প্রসিদ্ধ কথা। (ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জাতির ওপর দ্রুত আযাব কামনা করতে নিষেধ করছেন। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَذَرْنِيْ وَالْمُكَذِّبِيْنَ أُولِي النَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيْلًا )
“ছেড়ে দাও আমাকে এবং প্রাচুর্যবান মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের; আর কিছুকালের জন্য তাদেরকে অবকাশ দাও।” (সূরা মুযযাম্মিল ৭৩ : ১১-১২)
দ্রুত আযাব কামনা না করার কারণ হল পরকালে তাদের জন্য শাস্তি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(نُمَتِّعُهُمْ قَلِيْلًا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ إِلٰي عَذَابٍ غَلِيْظٍ)
“আমি অল্প সময়ের জন্য তাদেরকে সুখ-সম্ভোগ দেব, পুনরায় তাদেরকে বাধ্য করব কঠিন শাস্তি ভোগ করতে।” (সূরা লুকমান ৩১ : ২৪)
(لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً)
‘যেন তারা দুনিয়ায় দিনের কিছু সময়ের বেশি ছিল না।’ যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوْآ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا )
“যেদিন তারা তা দেখবে, তাতে তাদের মনে হবে যেন তারা (পৃথিবীতে) এক সন্ধ্যা অথবা এক সকালের অধিক অবস্থান করেনি।” (সূরা নাযিয়াত : ৭৯ : ৪৬)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ كَأَنْ لَّمْ يَلْبَثُوْآ إِلَّا سَاعَةً مِّنَ النَّهَارِ يَتَعَارَفُوْنَ بَيْنَهُمْ ط قَدْ خَسِرَ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَا۬ءِ اللّٰهِ وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِيْنَ )
“যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন সেদিন তাদের মনে হবে যে, দিনের একমুহূর্তের বেশী তারা (দুনিয়াতে) অবস্থান করেনি; তারা পরস্পরকে চিনবে। আল্লাহর সাক্ষাত যারা অস্বীকার করেছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা সৎ পথ প্রাপ্ত ছিল না।” (সূরা ইউনুস ১০ : ৪৫)
সুতরাং পরকালকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। যারা তা অস্বীকার করবে তাদের ঈমান থাকবে না বা তার প্রতি ঈমান আনা ছাড়া মু’মিন হওয়া যাবে না। তাই পরকাল অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা শাস্তি দেখে মনে করবে দুনিয়াতে তারা মাত্র কিছু সময় অবস্থান করেছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখা ঈমানের অন্যতম রুকন।
২. কিয়ামতের দিন কাফিররা জাহান্নাম দেখে সত্য স্বীকার করবে কিন্তু এ স্বীকারোক্তি কোন কাজে আসবে না।
৩. আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য ও নিষিদ্ধ কাজ বর্জনে ধৈর্য ধারণ করা ওয়াজিব।
৪. কিয়ামতের বিশাল দিনের তুলনায় কাফিররা মনে করবে দুনিয়াতে তারা মাত্র কিছু সময় অবস্থান করেছিল।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৩-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ যারা মৃত্যুর পর পুনর্জীবনকে অস্বীকারকারী এবং কিয়ামতের দিন দেহসহ পুনরুত্থানকে যারা অসম্ভব মনে করে তারা কি দেখে না যে, মহামহিমান্বিত ও প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ সমুদয় আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এতে তিনি মোটেই ক্লান্ত হননি, বরং শুধু ‘হও’ বলতেই সব হয়ে গেছে? তিনি কি মৃতের জীবন দানে সক্ষম নন? অবশ্যই তিনি এতে পূর্ণ ক্ষমতাবান। যেমন অন্য আয়াতে তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিই বেশী কঠিন, কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না।”(৪০:৫৭) আল্লাহ তা'আলা আকাশ ও পৃথিবী যখন সৃষ্টি করতে পেরেছেন তখন মানুষকে সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে মোটেই কঠিন নয়, প্রথমবারই হোক অথবা দ্বিতীয়বারই হোক। এ জন্যেই তিনি এখানে বলেন। যে, তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর ওগুলোর মধ্যেই একটি হচ্ছে মৃত্যুর পরে পুনর্জীবিত করা এবং এটার উপরও তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ ধমকের সূরে বলছেন যে, কিয়ামতের দিন কাফিরদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার পূর্বে জাহান্নামের ধারে দাঁড় করানো হবে এবং তাদেরকে নিরুত্তর করে দেয়া হবে। তারা কোন যুক্তি খুঁজে পাবে না। তাদেরকে বলা হবে:“এখন কি আল্লাহর ওয়াদা ও তার শাস্তিকে সত্য বলে বিশ্বাস করছো, না এখনো সন্দেহের মধ্যেই রয়েছে? এটা যাদু তো নয় এবং তোমাদের চক্ষু অন্ধতো হয়ে যায়নি? যা তোমরা দেখছো তা ঠিকই দেখছো, না প্রকৃতপক্ষে ঠিক নয়?” তখন তারা স্বীকার করে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় খুঁজে পাবে না। তাই তারা উত্তরে বলবেঃ “হ্যা, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! সবই সত্য। যা বলা হয়েছিল তা সবই সঠিক হয়ে গেছে। এখন আমাদের মনে আর তিল বরাবরও সন্দেহ নেই।” তখন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “তাহলে এখন তোমরা শাস্তি আস্বাদন কর। কারণ তোমরা ছিলে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী।
অতঃপর মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তোমার সম্প্রদায় যদি তোমাকে অবিশ্বাস করে এবং তোমার মর্যাদা না দেয় তবে এতে মনঃক্ষুন্ন হওয়ার কোনই কারণ নেই। এটা কোন নতুন ব্যাপার নয়। তোমর পূর্ববর্তী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলদেরকেও তাদের সম্প্রদায় অবিশ্বাস করেছিল। কিন্তু তারা যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল তেমনই তোমাকেও ধৈর্যধারণ করতে হবে। ঐ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলদের নাম হচ্ছেঃ হযরত নূহ (আঃ), হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত মূসা (আঃ), হযরত ঈসা (আঃ) এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)। নবীদের (আঃ) বর্ণনায় তাঁদের নাম বিশিষ্টভাবে সূরায়ে আহযাবে। ও সূরায়ে শূরায় উল্লিখিত আছে। আবার এও হতে পারে যে, (আরবী) দ্বারা সমস্ত নবীকেই বুঝানো হয়েছে, তখন (আরবী)-এর (আরবী) টি (আরবী)-এর জন্যে হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
হযরত মাসরূক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) তাঁকে বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) রোযাদার থাকতেন, অতঃপর ক্ষুধার্তই থাকতেন, আবার রোযা রাখতেন, অতপর ক্ষুধার্তই থাকতেন, পুনরায় রোযা রাখতেন এবং আবারও ক্ষুধার্ত রইতেন। অতঃপর বলতেনঃ “হে আয়েশা (রাঃ)! নিশ্চয়ই দুনিয়া মুহাম্মাদ (সঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গের জন্যে মোটেই শোভনীয় নয়! হে আয়েশা (রাঃ)! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলদের ধৈর্যের উপরই সন্তুষ্ট হন। (অর্থাৎ কষ্টে ও বিপদে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ ধৈর্যধারণ করলেও তিনি সন্তুষ্ট থাকেন)। ধৈর্য আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয় এবং তিনি তাদের (আমার পূর্ববর্তী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলদের) উপর যে বিপদ-আপদ ও কষ্ট পৌছিয়েছিলেন তা আমার উপরও না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না। যেমন তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তুমি ধৈর্যধারণ কর যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ।” সুতরাং (আমি যে কষ্টে পতিত হয়েছি এর উপর) আমি আমার সাধ্যমত ধৈর্যধারণ করবো যেমন তাঁরা ধৈর্যধারণ করেছিলেন এবং (আমি আল্লাহ তাআলার নিকট হতে শক্তি পাবো এ আশাতে একথা বলছি, কেননা) আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (ধৈর্যধারণের কোন শক্তি আমার নেই।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! এদেরকে অবশ্যই শাস্তিতে জড়িয়ে ফেলা হবে, তুমি এজন্যে তাড়াতাড়ি করো না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদেরকে এবং সম্পদের অধিকারীদেরকে ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে অল্প দিনের জন্যে অবকাশ দাও।”(৭৩:১১)
অন্য এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অতএব কাফিরদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে অবকাশ দাও কিছুকালের জন্যে।”(৮৬:১৭)
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে তা যেদিন তারা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে যে, তারা যেন দিবসের এক দণ্ডের বেশী পৃথিবীতে অবস্থান করেনি।' যেমন অন্য এক আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন তারা এটা প্রত্যক্ষ করবে সেই দিন তাদের মনে হবে যে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে।”(৭৯:৪৬) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন তাদেরকে একত্রিত করা হবে সেই দিন তাদের মনে হবে যে, তারা যেন দিবসের এক দণ্ডের বেশী পৃথিবীতে অবস্থান করেনি।”(১০:৪৫)
মহান আল্লাহর উক্তিঃ (আরবী) (পৌঁছিয়ে দেয়া), এর দু’টি অর্থ হতে পারে। (এক) দুনিয়ায় অবস্থান শুধু আমার পক্ষ হতে আমার বাণী পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্যে ছিল। (দুই) এই কুরআন শুধু পৌছিয়ে দেয়ার জন্যে। এটা এক স্পষ্ট ঘোষণা।
প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহর বাণীঃ ‘সত্যত্যাগী সম্প্রদায় ব্যতীত কাউকেও ধ্বংস করা হবে না। এটা মহামহিমান্বিত আল্লাহর ওয়াদা যে, যে ব্যক্তি নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে, তিনি তাকেই শুধু ধ্বংস করবেন। তাকেই তিনি শাস্তি প্রদান করবেন, যে নিজেকে শাস্তির উপযুক্ত করে ফেলবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।