সূরা আদ-দুখান (আয়াত: 47)
হরকত ছাড়া:
خذوه فاعتلوه إلى سواء الجحيم ﴿٤٧﴾
হরকত সহ:
خُذُوْهُ فَاعْتِلُوْهُ اِلٰی سَوَآءِ الْجَحِیْمِ ﴿٭ۖ۴۷﴾
উচ্চারণ: খুযূহু ফা‘তিলূহু ইলা-ছাওয়াইল জাহীম।
আল বায়ান: (বলা হবে) ‘ওকে ধর, অতঃপর তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে টেনে নিয়ে যাও’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৭. (বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,
তাইসীরুল ক্বুরআন: (বলা হবে) ওকে ধর, আর ওকে টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের আগুনের মাঝখানে।
আহসানুল বায়ান: (৪৭) (আমি বলব,) ওকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে। [1]
মুজিবুর রহমান: (বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
ফযলুর রহমান: (জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) “পাপীটাকে ধর এবং জাহান্নামের (জ্বলন্ত আগুনের) মাঝখানে টেনে নিয়ে যাও।
মুহিউদ্দিন খান: একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,
জহুরুল হক: "তাকে পাকড়ো, তারপর তাকে টেনে নিয়ে যাও ভয়ংকর আগুনের মাঝখানে,
Sahih International: [It will be commanded], "Seize him and drag him into the midst of the Hellfire,
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৭. (বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৭) (আমি বলব,) ওকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে। [1]
তাফসীর:
[1] এ কথা জাহান্নামে নিযুক্ত ফিরিশতাকে বলা হবে। سواء অর্থ মধ্যস্থলে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৩-৫০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে বিচার দিবসে কাফিরদের অবস্থা এবং তাদেরকে তাদের অপরাধের কারণে যে শাস্তি প্রদান করা হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যারা দুনিয়াতে কুফরী করত, আল্লাহ তা‘আলাকে অন্যের সাথে শরীক করত, পরকালে তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী, তাদের জন্য জাহান্নামে খাদ্য হিসেবে থাকবে যাক্কুম বৃক্ষ, তা তাদের পেটে গলিত তামার মতো ফুটতে থাকবে। আর পানীয় হিসেবে তাদের জন্য থাকবে গরম পানি যা তাদের নাড়ী-ভূড়িকে গলিয়ে দেবে। আর জাহান্নামে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের মাথায় ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দিয়ে শাস্তি প্রদান করা হবে। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُؤُوْسِهِمُ الْحَمِيْمُ يُصْهَرُ بِه۪ مَا فِيْ بُطُوْنِهِمْ وَالْجُلُوْدُ)
“তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, যা দ্বারা তাদের উদরে যা আছে তা এবং তাদের চর্ম বিগলিত করা হবে।” (সূরা হাজ্জ ২২ : ১৯-২০)
তাদেরকে তথায় এ সকল খাদ্য দিয়ে লাঞ্ছিত ও অপদস্ত করণার্থে বলা হবে যে, এগুলোর স্বাদ আস্বাদন করো, তুমিতো দুনিয়াতে ছিলে সম্মানিত ও অভিজাত। সুতরাং সেখানে তারা স্থায়ীভাবে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। এ সম্পর্কে পূর্বে আরো অনেক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।
সুতরাং কোন ব্যক্তির ঈমান না থাকলে দুনিয়াবী প্রভাব-প্রতিপত্তি কোন কাজে আসবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. যাক্কুম বৃক্ষ হলো জাহান্নামীদের এক প্রকার কন্টকাকীর্ণ খাবার, আর পানীয় হিসেবে থাকবে তথায় গরম পানি।
২. অপরাধী ছোট হোক আর বড় হোক অপরাধ করলে তাকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৩-৫০ নং আয়াতের তাফসীর:
কিয়ামতকে অস্বীকারকারীদের জন্যে যে শাস্তি রয়েছে আল্লাহ তা'আলা এখানে তারই বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যারা কিয়ামতকে অবিশ্বাস করতঃ দুনিয়ায় সদা পাপকার্যে লিপ্ত থেকেছে তাদেরকে কিয়ামতের দিন যাককূম গাছ খেতে দেয়া হবে। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা আবু জাহেলকে বুঝানো হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহ যে, এ আয়াতের ভীতি প্রদর্শনের মধ্যে সেও শামিল রয়েছে, কিন্তু শুধু তারই সম্পর্কে আয়াতটি নাযিল হয়েছে এটা মনে করা ঠিক নয়। হযরত আবু দারদা একটি লোককে এ আয়াতটি পড়াচ্ছিলেন, কিন্তু সে (আরবী) শব্দটি উচ্চারণ করতে অপারগ হচ্ছিল এবং সে (আরবী) এর স্থলে (আরবী) শব্দ বলে দিচ্ছিল। তখন তিনি (আরবী) (পাপীর খাদ্য) পড়িয়ে দেন। অর্থাৎ তাদেরকে যাককূম গাছ। ছাড়া অন্য কোন খাদ্য খেতে দেয়া হবে না।
হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এই যাককূমের একটা বিন্দু যদি এই যমীনের উপর পড়ে তবে যমীনবাসীর সমস্ত জীবিকা নষ্ট হয়ে যাবে। একটি মারফু হাদীসেও এটা এসেছে যা পূর্বে গত হয়েছে।
এটা হবে গলিত তাম্রের মত, এটা তার পেটে ফুটন্ত পানির মত ফুটতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের রক্ষকদের বলবেনঃ “এই কাফিরকে ধর এবং টেনে জাহান্নামের মধ্যস্থলে নিয়ে যাও। অতঃপর তার মস্তকের উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দাও।” যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে, ফলে তার পেটের সমুদয় জিনিস এবং চামড়া দগ্ধ হয়ে যাবে।”(২২:১৯-২০) ইতিপূর্বে এটাও বর্ণনা করা হয়েছে যে, ফেরেশতারা তাদেরকে হাতুড়ী দ্বারা প্রহার করবে, ফলে তাদের মস্তিষ্ক চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। তারপর উপর হতে তাদের মাথার উপর গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে। এই পানি যেখানে যেখানে পৌছবে, হাড়কে চামড়া হতে পৃথক পৃথক করে দিবে, এমনকি তাদের নাড়িভূড়ি কেটে পায়ের গোছা। পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এর থেকে রক্ষা করুন!
অতঃপর তাদেরকে আরো লজ্জিত করার জন্যে বলা হবেঃ “আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত অভিজাত।” অর্থাৎ আজ তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে মোটেই সম্মানিত ও মর্যাদাবান নয়।
উমুভী (রঃ) তাঁর ‘মাগাযী’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) অভিশপ্ত আবু জাহেলকে বলেনঃ “আমার প্রতি আল্লাহর হুকুম হয়েছে যে, আমি যেন তোমাকে বলিঃ দুর্ভোগ তোমার জন্যে, দুর্ভোগ! আবার দুর্ভোগ তোমার। জন্যে, দুর্ভোগ!” তখন সে তার কাপড় তাঁর হাত হতে টেনে নেয় এবং বলেঃ “তুমি এবং তোমার প্রতিপালক আমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। এই সমগ্র উপত্যকায় সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি আমিই।” অতঃপর বদরের যুদ্ধে আল্লাহর হুকুমে সে নিহত হয় এবং তাকে তিনি লাঞ্ছিত করেন। ঐ সময় তিনি। অবতীর্ণ করেনঃ “আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত।” অর্থাৎ আজ তোমার সম্মান ও আভিজাত্য কোথায় গেল?
তারপর ঐ কাফিরদেরকে বলা হবেঃ “এটা তো ওটাই (ঐ শাস্তি), যা সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ পোষণ করতে। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেদিন তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, (এবং বলা হবেঃ) এটা ঐ আগুন যাকে তোমরা অবিশ্বাস করতে। এটা কি যাদু, না তোমরা দেখছো না?”(৫২:১৩-১৫) আল্লাহ তাআলা এখানেও বলেনঃ “এটা তো ওটাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।