সূরা আয-যুখরুফ (আয়াত: 48)
হরকত ছাড়া:
وما نريهم من آية إلا هي أكبر من أختها وأخذناهم بالعذاب لعلهم يرجعون ﴿٤٨﴾
হরকত সহ:
وَ مَا نُرِیْهِمْ مِّنْ اٰیَۃٍ اِلَّا هِیَ اَکْبَرُ مِنْ اُخْتِهَا ۫ وَ اَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ﴿۴۸﴾
উচ্চারণ: ওয়ামা-নূরীহিম মিন আ-য়া-তিন ইল্লা-হিয়া আকবারু মিন উখতিহা- ওয়া আখাযনা-হুম বিল ‘আযা-বি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।
আল বায়ান: আমি তাদের যে নিদর্শনই দেখাইনা কেন তা ছিল তার অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। আর আমি তাদেরকে আযাবের মাধ্যমে পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৮. আর আমরা তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখিয়েছি তা ছিল তার অনুরূপ নিদর্শনের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। আর আমরা তাদেরকে শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করলাম যাতে তারা ফিরে আসে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম তা হত পূর্ববর্তী নিদর্শন থেকে বড়। আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম যাতে তারা (আমার পথে) ফিরে আসে।
আহসানুল বায়ান: (৪৮) আমি ওদেরকে যে নিদর্শন দেখিয়েছি তার প্রত্যেকটি ছিল ওর পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহত্তর।[1] আমি ওদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম; যাতে ওরা সৎপথে প্রত্যাবর্তন করে।[2]
মুজিবুর রহমান: আমি তাদেরকে এমন কোন নিদর্শন দেখাইনি যা ওর অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে।
ফযলুর রহমান: আমি তাদেরকে যে নিদর্শনটিই দেখাই সেটি তার মত আরেকটি থেকে বড়। আর তাদেরকে আমি শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।
জহুরুল হক: আর আমরা তাদের এমন কোনো নিদর্শন দেখাই নি যা ছিল না তার ভগিনী থেকে আরো বড়, আর আমরা তাদের পাকড়াও করেছিলাম শাস্তি দিয়ে যেন তারা ফিরে আসে।
Sahih International: And We showed them not a sign except that it was greater than its sister, and We seized them with affliction that perhaps they might return [to faith].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৮. আর আমরা তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখিয়েছি তা ছিল তার অনুরূপ নিদর্শনের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। আর আমরা তাদেরকে শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করলাম যাতে তারা ফিরে আসে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৮) আমি ওদেরকে যে নিদর্শন দেখিয়েছি তার প্রত্যেকটি ছিল ওর পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহত্তর।[1] আমি ওদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম; যাতে ওরা সৎপথে প্রত্যাবর্তন করে।[2]
তাফসীর:
[1] এই নিদর্শনগুলো হল সেই নিদর্শন, যা তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ এবং রক্ত ইত্যাদির আকারে একের পর এক তাদেরকে দেখানো হয়েছিল। যার উল্লেখ সূরা আ’রাফের ১৩৩-১৩৫ আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে। পরে আগত প্রত্যেক নিদর্শন পূর্বের চেয়ে আরো বৃহত্তর ছিল এবং এর ফলে মূসা (আঃ)-এর সত্যতা আরো বেশী সুস্পষ্ট হয়ে যেত।
[2] এই নিদর্শনসমূহ অথবা আযাব দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, যাতে তারা নবীকে মিথ্যা মনে করা থেকে বিরত হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৬-৫৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-কে সুস্পষ্ট দলীল ও নির্দশনসহ ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাদেরকে এক আল্লাহ তা‘আলার ‘ইবাদত করার জন্য আহ্বান করেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কারো ‘ইবাদত করা থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান। কিন্তু মূসা (আঃ) যখন এ দা‘ওয়াত নিয়ে তাদের নিকট আসলেন তখনই তারা তার প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করল। তাদের এ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার ফলে তারা যখন শাস্তিপ্রাপ্ত হলো তখন বলল : হে জাদুকর! তুমি তোমার প্রভুর কাছে দু‘আ কর যদি তিনি আমাদেরকে এ সকল শাস্তি থেকে মুক্তি দেন তাহলে আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব। অতঃপর তাদের ওপর থেকে শাস্তি দুর করে দেয়া হলেও তারা ঈমান আনল না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “এবং যখন তাদের ওপর শাস্তি আসত তখন তারা বলত, ‘হে মূসা! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা কর- তোমার সাথে তিনি যে অঙ্গীকার করেছেন তদনুযায়ী, যদি তুমি আমাদের হতে শাস্তি অপসারিত কর তবে আমরা ঈমান আনবই এবং বানী ইস্রাঈলকেও তোমার সাথে অবশ্যই পাঠিয়ে দেব।’ আমি যখনই তাদের ওপর হতে শাস্তি অপসারিত করতাম এক নির্দিষ্ট কালের জন্য যা তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা তখনই তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করত।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ১৩৪-১৩৫)
অবশেষে তারা ঈমান আনা থেকে বিরতই থাকল এবং তারা তাদের পূর্ব ধর্মেরই অনুসরণ করতে থাকল আর মূসা (আঃ)-কে অস্বীকার করল।
ফির‘আউন তার বড়ত্ত্ব ও মহত্ত্ব প্রকাশ করে পরিষদবর্গকে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! এ মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? এ নদী কি আমার পাদদেশে প্রবাহিত নয়? আর আমি কি ঐ ব্যক্তির থেকে উত্তম নই যে স্পষ্ট ভাষায় কথাও বলতে পারে না? তখন সে বিভিন্ন যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিলো।
ফলে তারা মূসা (আঃ)-কে অস্বীকার করল এবং ফির‘আউনের অনুগামী হয়ে থাকল। এভাবেই তারা সত্য পথ হতে বিচ্যুত থাকল। অবশেষে তারা সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যু বরণ করল।
সুতরাং দাওয়াতী কাজ দেশের শাসক শ্রেণিদের কাছেও পৌঁছাতে হবে, বরং তাদেরকেই আগে দেয়া উচিত, কারণ তাদের মাঝে পরিবর্তন আসলে সারা দেশে পরিবর্তন চলে আসবে। যেমন সুলাইমান (আঃ) দেশের রাণী বিলকিসকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোম ও পারস্যের বাদশাদের কাছে দাওয়াতী পত্র প্রেরণ করেছিলেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. একজন দাঈ মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করবে, কোন দল বা মতের দিকে নয়।
২. দাওয়াতী কাজে অনেক বাধা বিপত্তি আসতে পারে তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।
৩. যেখানে বেশি উপকার হবে সেখানে প্রথমে দাওয়াত দেয়া উচিত।
৪. পূর্ববর্তী জাতিদের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে আমাদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৬-৫০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আঃ)-কে স্বীয় রাসূল করে ফিরাউন, তার সভাষদবর্গ, তার প্রজা কিবতী এবং বানী ইসরাঈলের নিকট প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাদেরকে তাওহীদ শিক্ষা দেন এবং শিরক হতে রক্ষা করেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে বড় বড় মু'জিযাও দান করেন। যেমন হাত উজ্জ্বল হওয়া, লাঠি সর্প হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু ফিরাউন ও তার লোকেরা তাঁর কোন মর্যাদা দিলো না। বরং তাঁকে অবিশ্বাস করলো এবং ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে উড়িয়ে দিলো। তখন তাদের উপর আল্লাহর আযাব আসলো যাতে তাদের শিক্ষা লাভ হয় এবং হযরত মূসা (আঃ)-এর উপর দলীলও হয়। তুফান আসলো, ফড়িং আসলো, উকুন আসলো, ব্যাঙ আসলো, শস্য, মাল, ফল ইত্যাদি কমতে শুরু করলো। যখনই কোন আযাব আসতো তখনই তারা অস্থির হয়ে উঠতো এবং হযরত মূসা (আঃ)-কে অনুনয় বিনয় করে বলতো যে, তিনি যেন ঐ আযাব সরিয়ে নেয়ার জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করেন। এবার আযাব সরে গেলেই তারা ম্মান আনবে। এই ভাবে তারা ওয়াদা-অঙ্গীকার করতো। কিন্তু হযরত মূসা (আঃ)-এর দু'আর ফলে যখন আযাব সরে যেতো তখন আবার তারা হঠকারিতায় লেগে পড়তো। আবার আযাব আসতো এবং তারা ঐরূপ করতো।
(আরবী) অর্থাৎ যাদুকর দ্বারা তারা খুব বড় আলেমকে বুঝাতো। তাদের যুগের আলেমদের উপাধি এটাই ছিল। তাদের যুগের লোকদের মধ্যে এটা একটা ইলম বলৈ গণ্য হতো এবং তাদের যুগে এটা নিন্দনীয় ছিল না। বরং এটা খুব মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা হতো। সুতরাং তাদের হযরত মূসা (আঃ)-কে ‘হে যাদুকর’ বলে সম্বোধন করা সম্মানের জন্যে ছিল, প্রতিবাদ হিসেবে ছিল না। কেননা, তাদের কাজ তো চলেই যেতো। প্রত্যেকবার তারা মুসলমান হয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করতো এবং একথাও বলতো যে, তারা বানী ইসরাঈলকে তাঁর সাথে পাঠিয়ে দিবে। কিন্তু যখনই আযাব সরে যেতো তখন তারা বিশ্বাসঘাতকতা করতো এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে দিতো। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অতঃপর আমি তাদেরকে পাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ভেক ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি। এগুলো স্পষ্ট নিদর্শন, কিন্তু তারা দাম্ভিকই রয়ে গেল, আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়। যখন তাদের উপর শাস্তি আসতো তখন তারা বলতোঃ হে মূসা (আঃ)! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্যে প্রার্থনা কর তোমার সাথে তার যে অঙ্গীকার রয়েছে তদনুযায়ী, যদি তুমি আমাদের উপর হতে শাস্তি অপসারিত কর তবে আমরা তো তোমাকে বিশ্বাস করবোই এবং বানী ইসরাঈলকেও তোমার সাথে যেতে দিবো। অতঃপর যখনই আমি তাদের উপর হতে শাস্তি অপসারিত করতাম এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে যা তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা তখনই তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করতো।”(৭:১৩৩-১৩৫)।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।