আল কুরআন


সূরা আশ-শূরা (আয়াত: 21)

সূরা আশ-শূরা (আয়াত: 21)



হরকত ছাড়া:

أم لهم شركاء شرعوا لهم من الدين ما لم يأذن به الله ولولا كلمة الفصل لقضي بينهم وإن الظالمين لهم عذاب أليم ﴿٢١﴾




হরকত সহ:

اَمْ لَهُمْ شُرَکٰٓؤُا شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّیْنِ مَا لَمْ یَاْذَنْۢ بِهِ اللّٰهُ ؕ وَ لَوْ لَا کَلِمَۃُ الْفَصْلِ لَقُضِیَ بَیْنَهُمْ ؕ وَ اِنَّ الظّٰلِمِیْنَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ﴿۲۱﴾




উচ্চারণ: আম লাহুম শুরাকাউ শারা‘ঊ লাহুম মিনাদ্দীনি মা -লাম ইয়া’যাম বিহিল্লা-হু ওয়া লাওলা-কালিমাতুল ফাসলি লাকুদিয়া বাইনাহুম ওয়া ইন্নাজ্জা-লিমীনা লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।




আল বায়ান: তাদের জন্য কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? আর ফয়সালার ঘোষণা না থাকলে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েই যেত। আর নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২১. নাকি তাদের এমন কতগুলো শরীক রয়েছে, যারা এদের জন্য দ্বীন থেকে শরীআত প্রবর্তন করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? আর ফয়সালার ঘোষণা না থাকলে এদের মাঝে অবশ্যই সিদ্ধান্ত হয়ে যেত। আর নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কী! তাদের কি এমন শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের বিধি-বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? ফয়সালা সম্পর্কিত (পূর্ব) ঘোষণা দেয়া না হলে তাদের মধ্যে (তৎক্ষণাৎ) ফয়সালা করে দেয়া হত। যালিমদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।




আহসানুল বায়ান: (২১) এদের কি এমন কতকগুলি অংশী (উপাস্য) আছে যারা এদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন ধর্মের, যার অনুমতি আল্লাহ এদেরকে দেননি?[1] চূড়ান্ত ঘোষণা না থাকলে এদের বিষয়ে তো ফায়সালা হয়েই যেত। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।



মুজিবুর রহমান: তাদের কি এমন কতকগুলি দেবতা আছে যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দীনের যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? ফাইসালার ঘোষণা না থাকলে, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েই যেত। নিশ্চয়ই যালিমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।



ফযলুর রহমান: নাকি তাদের কতিপয় শরীক (দেবতা) আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোন দ্বীন প্রবর্তন করে দিয়েছে, আল্লাহ যার অনুমতি দেননি? যদি চূড়ান্ত কথা (সিদ্ধান্ত) না থাকত তাহলে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই জালেমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।



জহুরুল হক: অথবা তাদের কারণে কি অংশীদাররা রয়েছে যারা তাদের এমন এক ধর্মের বিধান দেয় যার জন্য আল্লাহ্ কোনো অনুমতি দেন নি? আর যদি একটি সিদ্ধান্তপূর্ণ বাণী না থাকত তাহলে নিশ্চয় তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়েই যেত। আর অবশ্য অনাচারীরা -- তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।



Sahih International: Or have they other deities who have ordained for them a religion to which Allah has not consented? But if not for the decisive word, it would have been concluded between them. And indeed, the wrongdoers will have a painful punishment.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২১. নাকি তাদের এমন কতগুলো শরীক রয়েছে, যারা এদের জন্য দ্বীন থেকে শরীআত প্রবর্তন করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? আর ফয়সালার ঘোষণা না থাকলে এদের মাঝে অবশ্যই সিদ্ধান্ত হয়ে যেত। আর নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২১) এদের কি এমন কতকগুলি অংশী (উপাস্য) আছে যারা এদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন ধর্মের, যার অনুমতি আল্লাহ এদেরকে দেননি?[1] চূড়ান্ত ঘোষণা না থাকলে এদের বিষয়ে তো ফায়সালা হয়েই যেত। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, শিরক ও পাপাচরণ; যার নির্দেশ আল্লাহ দেননি। তাদের মনগড়া শরীকরা তাদেরকে এই পথে লাগিয়ে দিয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২০-২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



জন্ম-মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টুকুই হচ্ছে মানুষের দুনিয়ার জীবন। মৃতুবরণ করে যেকোন সময় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার ডাক এসে যেতে পারে। আল্লাহ তা‘আলার কাছে দুনিয়াটা মশার ডানার সমমূল্যও নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে ব্যক্তি সর্বশেষ জান্নাতে যাবে সে এ পৃথিবী ও এরূপ দশটি পৃথিবী সমতুল্য জান্নাত লাভ করবে। (সহীহ বুখারী হা. ৬৫৭১)



অতএব একজন মু’মিন কি এ তুচ্ছ দুনিয়ার জন্য আমল করবে, নাকি যে জীবনের কোন শেষ নেই, যেখানে সুখ আছে দুঃখ নেই সে জীবনের জন্য আমল করবে? আল্লাহ বলছেন : যে ব্যক্তি আখিরাত কামনা করে আমি তাকে আখিরাতের ফসল বৃদ্ধি করে দেই। অর্থাৎ আল্লাহ তাকে সৎ কাজ করার ব্যাপারে সাহায্য করে থাকেন, ফলে সে আখিরাতে সফলতা অর্জন করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির শুধুমাত্র দুনিয়া উদ্দেশ্য, দুনিয়াতে অনেক সম্পদের অধিকারী হবে, সুনাম থাকবে, সবাই তাকে ভয় করে চলবে। সে শুধু দুনিয়াই পায়, আখিরাতে তার জন্য কোন কিছুই বরাদ্দ থাকে না। কেননা সে যা কিছু অর্জন করেছে তা দুনিয়াতেই শেষ হয়ে গেছে। আখিরাতে সে থাকবে রিক্ত হস্তে। আর আখিরাত কামনাকারী ব্যক্তি দুনিয়া এবং আখিরাত দুটোই পাবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “কেউ পার্থিব সুখ-সম্ভোগ কামনা করলে আমি তাকে যা ইচ্ছা এখানেই সত্বর দিয়ে থাকি; পরে তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করি যেথায় সে প্রবেশ করবে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায়। আর যারা মু’মিন অবস্থায় আখিরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে তাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য। তোমার প্রতিপালক তাঁর দান দ্বারা এদেরকে ও তাদেরকে সাহায্য করেন এবং তোমার প্রতিপালকের দান অবারিত। লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে তাদের কতককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, আখিরাত তো নিশ্চয়ই মর্যাদায় মহত্তর ও গুণে শ্রেষ্ঠতর!” (সূরা ইসরা ১৭ : ১৮-২১)



(أَمْ لَهُمْ شُرَكَا۬ءُ شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَأْذَنْۭ بِهِ اللّٰه)



‘তাদের কি এমন কতকগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য দীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা অনুমতি দেননি এমন কোন ধর্ম, বিধান ও ইবাদত কেউ বিধান হিসেবে জারি করলে আর তা মাথা পেতে মেনে নিলে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অংশী স্থাপন করা হয়। যেমন ইসলাম ছাড়া যত ধর্ম রয়েছে, আ্ল্লাহর বিধান ছাড়া মানবরচিত যত বিধান রয়েছে ইত্যাদি। মূলত এভাবে বলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তিরস্কার করছেন যারা আল্লাহ তা‘আলার দেয়া ধর্ম ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম মেনে চলে, আল্লাহ তা‘আলার দেয়া বিধান ছাড়া অন্যের বিধান মেনে চলে এবং আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করে।



আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, যদি কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি না দেয়া থাকত তাহলে দুনিয়াতেই জালিমদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি দিয়ে দেয়া হত। কিন্তু আখিরাতে জালিমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করা আছে। এ সকল জালিমরা আখিরাতে চিন্তিত থাকবে যে, এখন তাদের কী হবে। কিন্তু মু’মিনরা থাকবে আরাম-আয়েশে জান্নাতে।



সুতরাং প্রতিটি মানুষের সতর্ক হওয়া উচিত, আমি কার দেয়া ধর্ম অনুসরণ করছি, কার তৈরী করা বিধান মানছি। কারণ আমার সকল কাজের হিসাব দিতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. মু’মিনরা দুনিয়ায় আমলের মাধ্যমে আখিরাত অর্জন করে, কাফিররা কেবল দুনিয়াই অর্জন করে।

২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত দ্বিতীয় আর কোনই সঠিক মা‘বূদ নেই ও বিধান দাতা নেই।

৩. অপরাধীরা কিয়ামতের মাঠে তাদের কর্মের জন্য ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৯-২২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি বড়ই দয়ালু। তিনি একজনকে অপরজনের মাধ্যমে রিযক পৌঁছিয়ে থাকেন। একজনও এমন নেই যাকে তিনি ভুলে যান। সৎ ও অসৎ সবাই তাঁর নিকট হতে আহার্য পেয়ে থাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই; তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্পর্কে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে সব কিছুই আছে।”(১১:৬)

তিনি যার জন্যে ইচ্ছা করেন প্রশস্ত ও অপরিমিত জীবিকা নির্ধারণ করে থাকেন। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী। কেউই তাঁর উপর বিজয়ী হতে পারে না।

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ যে কেউ আখিরাতের আমলের প্রতি মনোযোগী হয়, আমি স্বয়ং তাকে সাহায্য করি এবং তাকে শক্তি সামর্থ্য দান করি। তার পুণ্য আমি বৃদ্ধি করতে থাকি। কারো পুণ্য দশগুণ, কারো সাতশ’ গুণ এবং কারো আরো বেশী বৃদ্ধি করে দিই। মোটকথা, আখিরাতের চাহিদা যার অন্তরে থাকে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে তাকে ভাল কাজ করার তাওফীক দান করা হয়। পক্ষান্তরে, যার সমুদয় চেষ্টা দুনিয়া লাভের জন্যে হয় এবং আখিরাতের প্রতি যে মোটেই মনোযোগ দেয় না, সে উভয় জগতেই ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। খুব সম্ভব যে, শত চেষ্টা সত্ত্বেও সে দুনিয়া লাভে বঞ্চিত হবে। মন্দ নিয়তের কারণে পরকাল তো পূর্বেই নষ্ট হয়ে গেছে, এখন দুনিয়াও সে লাভ করতে পারলো না। সুতরাং উভয় জগতকেই সে নষ্ট করে দিলো। আর যদি দুনিয়ার সুখ কিছু ভোগও করে তাতেই বা কি হলো? অন্য জায়গায় যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কেউ আশু সুখ-সম্ভোগ কামনা করলে আমি যাকে যা ইচ্ছা এখানেই সত্বর দিয়ে থাকি; পরে তার জন্যে জাহান্নাম নির্ধারিত করি যেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত ও অনুগ্রহ হতে দূরীকৃত অবস্থায়। যারা মুমিন হয়ে পরলোক কামনা করে এবং ওর জন্যে যথাযথ চেষ্টা করে তাদেরই চেষ্টা স্বীকৃত হয়ে থাকে। তোমার প্রতিপালক তাঁর দান দ্বারা এদেরকে আর ওদেরকে সাহায্য করেন এবং তোমার প্রতিপালকের দান অবারিত। লক্ষ্য কর, আমি কিভাবে তাদের একদলকে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম, আখিরাত তো নিশ্চয়ই মর্যাদায় মহত্তর ও গুণে শ্রেষ্ঠতর।”(১৭:১৮-২১)।

হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব, উচ্চতা, সাহায্য এবং রাজত্বের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরকালের কাজ করবে দুনিয়া (লাভের) জন্য, পরকালে সে কিছুই লাভ করবে না।” (এ হাদীসটি হ্যরত সাওরী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই মুশরিকরা তো আল্লাহর দ্বীনের অনুসরণ করে না, বরং তারা জ্বিন, শয়তান ও মানবদেরকে নিজেদের পূজনীয় হিসেবে মেনে নিয়েছে। ওরা যে আহকাম এদেরকে বাতলিয়ে দেয় এগুলোর সমষ্টিকেই এরা দ্বীন মনে করে। ওরা যেগুলোকে হারাম বা হালাল বলে, এরা সেগুলোকেই হারাম বা হালাল মনে করে থাকে। তাদের ইবাদতের পন্থা এদেরই আবিষ্কৃত। মোটকথা, এই জ্বিন ও মানুষ যেটাকে শরীয়ত বলেছে সেটাকেই এই মুশরিকরা শরীয়ত বলে মেনে নিয়েছে। যেমন অজ্ঞতার যুগে তারা কতকগুলো জন্তুকে নিজেরাই হারাম করে নিয়েছিল। যেমন কোন কোন জন্তুর কান কেটে নিয়ে তারা ওটাকে তাদের বাতিল দেবতাদের নামে ছেড়ে দিতো। দাগ দিয়ে তারা ষাঁড় ছেড়ে দিতো এবং মাদীর বাচ্চাকে গর্ভাবস্থাতেই ঐ দেবতাদের নামে রেখে দিতো। যে উষ্ট্রীর তারা দশটি বাচ্চা লাভ করতো ওটাকেও তাদের নামে ছেড়ে দিতো। অতঃপর ওগুলোকে সম্মানিত মনে করে নিজেদের উপর হারাম করে নিতো। আর কতকগুলো জিনিসকে নিজেরাই হালাল করে নিতো। যেমন মৃত, রক্ত, জুয়া ইত্যাদি। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি আমর ইবনে লুহাই ইবনে কামআহকে দেখি যে, সে নিজের নাড়িভূড়ি জাহান্নামের মধ্যে টানতে রয়েছে।” সে ঐ ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম গায়রুল্লাহর নামে জন্তু ছেড়ে দেয়ার প্রথা চালু করেছিল। সে ছিল খুযাআ’র বাদশাহদের একজন। সেই সর্বপ্রথম এসব কাজের সূচনা করেছিল। সেই কুরায়েশদেরকে প্রতিমা পূজায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অভিসম্পাত নাযিল করুন!

প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ফায়সালার ঘোষণা না থাকলে এদের বিষয়ে তো সিদ্ধান্ত হয়েই যেতো। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা যদি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে থাকতেন যে, তিনি পাপীদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিবেন, তবে তৎক্ষণাৎ তাদের প্রতি তার শাস্তি আপতিত হতো। নিশ্চয়ই এই যালিমদেরকে কিয়ামতের দিন কঠিন বেদনাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে।

প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ তুমি এই যালিমদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবে। আর এটাই তাদের উপর আপতিত হবে। সেদিন এমন কেউ থাকবে না যে তাদেরকে এই শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারে। সেদিন তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করবেই। পক্ষান্তরে, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা থাকবে জান্নাতের মনোরম স্থানে। তারা সেথায় চরম সুখে অবস্থান করবে। সেখানে তাদের মোটেই কোন দুঃখ কষ্ট হবে না। তারা যা কিছু চাইবে তাই তাদের প্রতিপালকের নিকট পাবে। তারা এমন সুখ ভোগ করবে যা কল্পনাও করা যায় না।

হযরত আবু তায়বাহ (রঃ) বলেন যে, জান্নাতীদের মাথার উপর মেঘমালা আনয়ন করা হবে এবং তাদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা এই মেঘমালা হতে কি বর্ষণ কামনা কর?” তারা তখন যে জিনিসের বর্ষণ কামনা করবে তা-ই তাদের উপর বর্ষিত হবে। এমনকি তারা বলবেঃ “আমাদের উপর সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণী বর্ষিত হোক।” তখন তাদের উপর তা-ই বর্ষিত হবে। এজন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ এটাই তো মহা অনুগ্রহ। পূর্ণ সফলতা এটাই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।