আল কুরআন


সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 7)

সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 7)



হরকত ছাড়া:

الذين لا يؤتون الزكاة وهم بالآخرة هم كافرون ﴿٧﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْنَ لَا یُؤْتُوْنَ الزَّکٰوۃَ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَۃِ هُمْ کٰفِرُوْنَ ﴿۷﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা লা-ইউ’তূনাযযাকা-তা ওয়া হুম বিলআ-খিরাতি হুম কা-ফিরূন।




আল বায়ান: যারা যাকাত দেয় না। আর তারাই আখিরাতের অস্বীকারকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. যারা যাকাত প্ৰদান করে না এবং তারাই আখিরাতের সাথে কুফরিকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা যাকাত দেয় না, আর তারা আখিরাত অমান্য করে।




আহসানুল বায়ান: (৭) যারা যাকাত প্রদান করে না[1] এবং ওরা পরকালে অবিশ্বাসী।



মুজিবুর রহমান: যারা যাকাত প্রদান করেনা এবং তারা আখিরাতেও অবিশ্বাসী।



ফযলুর রহমান: যারা যাকাত দেয় না; আর তারাই পরকালকে অস্বীকার করে।



মুহিউদ্দিন খান: যারা যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে।



জহুরুল হক: যারা যাকাত প্রদান করে না, আর আখেরাত সম্পর্কে তারা স্বয়ং অবিশ্বাসী।



Sahih International: Those who do not give zakah, and in the Hereafter they are disbelievers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭. যারা যাকাত প্ৰদান করে না এবং তারাই আখিরাতের সাথে কুফরিকারী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭) যারা যাকাত প্রদান করে না[1] এবং ওরা পরকালে অবিশ্বাসী।


তাফসীর:

[1] এটা হল মক্কী সূরা। যাকাত হিজরী ২য় সনে মদীনায় ফরয হয়। কাজেই এ থেকে হয় (সাধারণ) সাদাকা বুঝানো হয়েছে, যার নির্দেশ মক্কাতেই মুসলিমদেরকে দেওয়া হয়েছিল। যেমন, শুরুতে কেবল সকাল ও সন্ধ্যায় নামায পড়ার নির্দেশ ছিল। অতঃপর হিজরতের দেড় বছর পূর্বে পাঁচওয়াক্ত নামায পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অথবা যাকাতের ব্যাপক নির্দেশ মক্কায় ছিল। অতপর মদীনায় তার নিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ হয়। অথবা এখানে ‘যাকাত’ বলতে (আভিধানিক অর্থে পবিত্রতা) কালেমা শাহাদত বুঝানো হয়েছে, যার দ্বারা মানুষের অন্তর শিরকের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হয়ে যায়। (ইবনে কাসীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গঠনগত দিক দিয়ে সকল মানুষের মতই একজন মানুষ, তিনি নূরের তৈরি নন, অথবা আগুনের তৈরি জিনও নন।



তবে সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর পার্থক্য শুধু মর্যাদায় আর তা হলো এই যে, তাঁর প্রতি ওয়াহী করা হয় আর সাধারণ লোকদের প্রতি ওয়াহী করা হয় না। এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা আল কাহ্ফ-এর শেষের দিকে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। তবে যখন আমি দীনের ব্যাপারে কোন নির্দেশ দেব তখন তা গ্রহণ কর। (সহীহ মুসলিম হা. ২৩৬২)



(فَاسْتَقِيْمُوْآ إِلَيْهِ)



‘তাঁরই পথ দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর’ অর্থাৎ যে পথ আল্লাহ তা‘আলার কাছে পৌঁছে দেয় সে পথে চল, আল্লাহ তা‘আলা যে সংবাদ দিয়েছেন তা বিশ্বাস করা, যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। এটাই হল প্রকৃত ইসতিকামাহ বা আল্লাহ তা‘আলার পথে অটল থাকা।



(وَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِيْنَ الَّذِيْنَ لَا يُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ)



‘দুর্ভোগ অংশীবাদীদের জন্য- যারা যাকাত প্রদান করে না’ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : মুশরিকরা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর সাক্ষ্য দেয় না। এটাই হল নাফসের যাকাত। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন : যাকাতকে ওয়াজিব হিসেবে স্বীকার করে না। এ আয়াতের আলোকে অনেকে বলেছেন : কাফিররাও ইসলামী শরীয়তের শাখা-প্রশাখা পালন করতে বাধ্য। কেউ বলেছেন তারা তা পালন করতে বাধ্য নয় কারণ তারা তো ঈমানই আনে নাই। এ নিয়ে অনেক দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যা এখানে আলোচনা করা সম্ভব নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণ মানুষের মতই গঠনগত দিক দিয়ে মাটির তৈরী একজন মানুষ, তিনি নূরের তৈরী নন, তবে নবুওয়াত লাভের মাধ্যমে তিনি অন্যদের চেয়ে সম্মানীত ও মর্যাদাশীল।

২. সঠিক পথ দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে, বিরত হওয়া যাবে না।

৩. যারা সম্পদের অস্বীকারবশত যাকাত আদায় করে না তারা কাফির বলে গণ্য।

৪. সৎ আমল ব্যতীত জান্নাত লাভ করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! এই মিথ্যা প্রশ্নকারী মুশরিকদেরকে বলে দাও- আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমাকে অহীর মাধ্যমে বলে দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের সবারই মা'বুদ এক আল্লাহ। তোমরা যে কতকগুলো মা'বূদ বানিয়ে নিয়েছো এটা সরাসরি বিভ্রান্তিকর পন্থা। তোমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত কর এবং ঠিক ঐভাবে কর যেভাবে তোমরা তাঁর রাসূল (সঃ)-এর মাধ্যমে জানতে পেরেছে। আর তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী গুনাহ্ হতে তাওবা কর এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। বিশ্বাস রেখো যে, আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপনকারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে।

মহান আল্লাহর উক্তিঃ যারা যাকাত প্রদান করে না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর মতে এর ভাবার্থ হলোঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই’ এই সাক্ষ্য যারা প্রদান করে না। ইকরামাও (রঃ) এ কথাই বলেন। এই উক্তিটি আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিম্নের উক্তির মতইঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেই সফলকাম হবে, যে নিজেকে পবিত্র করবে এবং সেই ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কলুষাচ্ছন্ন করবে।”(৯২:৯-১০) নিমের উক্তিটিও অনুরূপঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে যে পবিত্রতা অর্জন করে এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামায পড়ে।”(৮৭:১৪-১৫) আল্লাহ্ তাআলার নিম্নের এ উক্তিটিও ঐরূপঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমার পবিত্রতা অর্জন করার খেয়াল আছে কি?”(৭৯:১৮) এ আয়াতগুলোতে যাকাত অর্থাৎ পবিত্রতা দ্বারা নফকে বাজে চরিত্র হতে মুক্ত রাখা উদ্দেশ্য। আর এর সবচেয়ে বড় ও প্রথম প্রকার হচ্ছে শিরূক হতে পবিত্র হওয়া। অনুরূপভাবে উপরোক্ত আয়াতে যাকাত না দেয়া দ্বারা তাওহীদকে অমান্য করা বুঝানো হয়েছে। মালের যাকাতকে যাকাত বলার কারণ এই যে, এটা মালকে অবৈধতা হতে পবিত্র করে এবং মালের বৃদ্ধি ও বরকতের কারণ হয়। আর আল্লাহর পথে ঐ মাল হতে কিছু খরচ করার তাওফীক লাভ হয়। কিন্তু ইমাম সুদ্দী (রঃ), মুআবিয়া ইবনে কুরুরা (রঃ), কাতাদা (রঃ) এবং অন্যান্য তাফসীরকারগণ এর অর্থ করেছেন মালের যাকাত না দেয়া এবং বাহ্যতঃ এটাই বুঝা যাচ্ছে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-ও এটাকেই পছন্দ করেছেন। কিন্তু এ উক্তিটির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কেননা, যাকাত ফরয হয়। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর মদীনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছরে। আর এ আয়াত অবতীর্ণ হয় মক্কায়। বড় জোর এই তাফসীরকে মেনে নিয়ে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, সাদকা ও যাকাতের আসল হুকুম তো নবুওয়াতের শুরুতেই ছিল। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ফসল কাটার দিন তোমরা তার হক দিয়ে দাও।”(৬:১৪১) হ্যা, তবে ঐ যাকাত, যার নিসাব ও পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে নির্ধারিত হয় তা হয় মদীনায়। এটি এমন একটি উক্তি যে, এর দ্বারা দু’টি উক্তির মধ্যে সামঞ্জস্য এসে যায়।

নামাযের ব্যাপারেও এটা দেখা যায় যে, নামায সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নবুওয়াতের শুরুতেই ফরয হয়েছিল। কিন্তু মিরাজের রাত্রে হিজরতের দেড় বছর পূর্বে পাঁচ ওয়াক্ত নামায নিয়মিতভাবে শর্ত ও আরকানসহ নির্ধারিত হয়। আর ধীরে ধীরে এর সমুদয় সম্পর্কিত বিষয় পুরো করে দেয়া হয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।” এটা কখনো শেষ হবার নয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যাতে তারা হবে চিরস্থায়ী।”(১৮:৩) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাদেরকে যে ইনআ'ম দেয়া হবে তা কখনো ভাঙ্গবার বা শেষ হবার নয়, বরং অনবরতই থাকবে।”(১১:১০৮) সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাদেরকে যেন এটা তাদের প্রাপ্য হিসেবে দেয়া হবে, অনুগ্রহ হিসেবে নয়। কিন্তু কতক ইমাম তাঁর এ উক্তি খণ্ডন করেছেন। কেননা, জান্নাতবাসীর উপরও নিশ্চিতরূপে আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে, এ কথা বলতে হবে। স্বয়ং আল্লাহ্ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “বরং আল্লাহ্ই ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন বা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।”(৪৯:১৭) জান্নাতবাসীদের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ্ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা করেছেন।”(৫২:২৭) রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ কিন্তু এই যে, আল্লাহ্ আমাকে স্বীয় রহমত, অনুগ্রহ ও ইহসানের মধ্যে নিয়ে নিবেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।