আল কুরআন


সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 46)

সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 46)



হরকত ছাড়া:

من عمل صالحا فلنفسه ومن أساء فعليها وما ربك بظلام للعبيد ﴿٤٦﴾




হরকত সহ:

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهٖ وَ مَنْ اَسَآءَ فَعَلَیْهَا ؕ وَ مَا رَبُّکَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ ﴿۴۶﴾




উচ্চারণ: মান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিনাফছিহী ওয়ামান আছাআ ফা‘আলাইহা- ওয়ামারাব্বুকা বিজাল্লা-মিল লিল‘আবীদ।




আল বায়ান: যে সৎকর্ম করে সে তার নিজের জন্যই তা করে। আর যে অসৎকর্ম করে তা তার উপরই বর্তাবে। তোমার রব তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেই যালিম নন।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. যে সৎকাজ করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। আর আপনার রব তার বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুমকারী নন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যে সৎকাজ করবে নিজের কল্যাণেই করবে. যে অসৎ কাজ করবে তার পরিণতি তাকেই ভোগ করতে হবে। তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি যালিম নন।




আহসানুল বায়ান: (৪৬) যে সৎকাজ করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। আর তোমার প্রতিপালক তাঁর দাসদের প্রতি কোন যুলুম করেন না। [1]



মুজিবুর রহমান: যে সৎ কাজ করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেহ মন্দ কাজ করলে ওর প্রতিফল সে’ই ভোগ করবে। তোমার রাব্ব বান্দাদের প্রতি কোন যুলম করেন না।



ফযলুর রহমান: যে সৎকাজ করে তার সুফল সে-ই পাবে এবং যে খারাপ কাজ করে তার কুফল তার ওপরই পড়বে। আর তোমার প্রভু তো (তাঁর) বান্দাদের জন্য জুলুমকারী নন।



মুহিউদ্দিন খান: যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।



জহুরুল হক: যে কেউ সৎকর্ম করে থাকে, সেটি তো তার নিজের জন্যেই, আর যে কেউ মন্দকাজ করে সেটি তো তারই বিরুদ্ধে। আর তোমার প্রভু দাসদের প্রতি আদৌ অন্যায়কারী নন।



Sahih International: Whoever does righteousness - it is for his [own] soul; and whoever does evil [does so] against it. And your Lord is not ever unjust to [His] servants.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৬. যে সৎকাজ করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। আর আপনার রব তার বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুমকারী নন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৬) যে সৎকাজ করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। আর তোমার প্রতিপালক তাঁর দাসদের প্রতি কোন যুলুম করেন না। [1]


তাফসীর:

[1] সুতরাং তিনি শাস্তি কেবল সেই বান্দাকেই দেন, যে পাপী হয়। এমন নয় যে, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই শাস্তি দিয়ে থাকেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা ভাল কাজ করে তার প্রতিদান তারা পাবে আর যারা মন্দ আমল করে তার পরিণাম তাকেই ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ قف وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا)



তোমরা সৎকর্ম করলে সৎকর্ম নিজেদের (কল্যাণের) জন্য করবে এবং মন্দ কর্ম করলে তাও করবে নিজেদের (ক্ষতির) জন্য। (সূরা ইসরা ১৭ : ৭)



আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি বিন্দু পরিমাণ জুলুম করবেন না। এ সম্পর্কে সূরা জাসিয়াহ্র ১৫ নম্বর আয়াত, আলি ইমরানের ১৮২ ও ১৮৩ নম্বর আয়াত, সূরা হাজ্জের ১০ও ১১ নম্বর আয়াতসহ অনেক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَي نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا



হে আমার বান্দা! আমি নিজের প্রতি জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মাঝেও হারাম করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা পরস্পর জুলুম করো না। (সহীহ মুসলিম হা. ২৫৭৭)



কিয়ামতের মাঠে মানুষ ভাল-মন্দ যে ফলাফল পাবে তা তার কৃতকর্মের কারণে, আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর বিন্দু পরিমাণ জুলুম করবেন না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. প্রত্যেককে তার নিজ নিজ কৃতকর্মের ফলাফল দেয়া হবে।

২. আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য জুলুম করা হারাম করে নিয়েছেন এবং বান্দাদের মাঝেও তা হারাম করে দিয়েছেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: এই আয়াতের ভাবার্থ খুবই পরিষ্কার। যে ব্যক্তি ভাল কাজ করে তার সুফল সেই লাভ করে। পক্ষান্তরে, যে মন্দ কাজ করে, ওর কুফলও তাকেই ভোগ করতে হয়। মহান প্রতিপালক আল্লাহ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র যুলুম করেন না। যুলুম করা হতে তাঁর সত্তা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। একজনের পাপের কারণে তিনি অন্যজনকে কখনো পাকড়াও করেন না। যে পাপ করে না তাকে তিনি কখনো শাস্তি প্রদান করেন না। প্রথমে তিনি রাসূল প্রেরণ করেন এবং কিতাব অবতীর্ণ করেন। এভাবে তিনি স্বীয় যুক্তি-প্রমাণ শেষ করে দেন। সবারই কাছে তিনি নিজের বাণী পৌঁছিয়ে থাকেন। এর পরেও যারা মানে না তারাই শাস্তির যোগ্য হয়ে যায়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।