সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 38)
হরকত ছাড়া:
فإن استكبروا فالذين عند ربك يسبحون له بالليل والنهار وهم لا يسأمون ﴿٣٨﴾
হরকত সহ:
فَاِنِ اسْتَکْبَرُوْا فَالَّذِیْنَ عِنْدَ رَبِّکَ یُسَبِّحُوْنَ لَهٗ بِالَّیْلِ وَ النَّهَارِ وَ هُمْ لَا یَسْـَٔمُوْنَ ﴿ٛ۳۸﴾
উচ্চারণ: ফাইনিছতাকবারূফাল্লাযীনা ‘ইনদা রাব্বিকাইউছাব্বিহূনালাহূবিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়াহুম লা-ইয়াছআমূন (ছিজদাহ-১১)।
আল বায়ান: অতঃপর যদি এরা অহঙ্কার করেও তবে যারা তোমার রবের নিকটে রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁরই তাসবীহ পাঠ করছে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না।[সাজদাহ]
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৮. অতঃপর যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা আপনার রবের নিকটে রয়েছে তারা তো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্ৰতা, মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর তারা যদি অহংকার করে তবে (তারা জেনে নিক যে), তোমার প্রতিপালকের নিকটে যারা রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনায় লিপ্ত আছে, আর তারা কখনও ক্লান্তিবোধ করে না।[সাজদাহ]
আহসানুল বায়ান: (৩৮) ওরা অহংকার করলেও যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তো দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিবোধ করে না। [1]
মুজিবুর রহমান: তারা অহংকার করলেও যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে তারাতো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিও বোধ করেনা। [সাজদাহ]
ফযলুর রহমান: যদি তারা অহংকার করে (এবং এই আদেশ অমান্য করে) তাহলে (জেনে রাখবে) যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা (অর্থাৎ ফেরেশতারা) রাতদিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে এবং তারা (কখনো) ক্লান্ত হয় না।সেজদা
মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর তারা যদি অহংকার করে, তবে যারা আপনার পালনকর্তার কাছে আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।
জহুরুল হক: কিন্ত যদি তারা গর্ববোধ করে, বস্তুতঃ যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর জপতপ করছে দিন ও রাতভর, আর তারা ক্লান্তিবোধ করে না।
Sahih International: But if they are arrogant - then those who are near your Lord exalt Him by night and by day, and they do not become weary.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৮. অতঃপর যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা আপনার রবের নিকটে রয়েছে তারা তো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্ৰতা, মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৮) ওরা অহংকার করলেও যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তো দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিবোধ করে না। [1]
তাফসীর:
[1] (এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন।)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৭-৩৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহর অসংখ্য বড় বড় নির্দশনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো রাত-দিন, চন্দ্র-সূর্য। এ সকল নিদর্শন আল্লাহ তা‘আলার এককত্ব ও রুবুবিয়্যাহর প্রমাণ বহন করে। তাই এ সকল নিদর্শনের সৃষ্টা আল্লাহ তা‘আলার তা‘আলা সকল প্রকার ইবাদত পাওয়ার হকদার। সে জন্য তিনি সকল নিদর্শনের ইবাদত করতে নিষেধ করেছেন। অতত্রব, আল্লাহ তা‘আলার এ সকল বড় বড় নিদর্শনের যদি ইবাদত না করা যায় তাহলে কিভাবে মানুষের হাতের তৈরি জিনিসের ইবাদত করা যাবে!
এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ কথা বলে মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তোমরা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করো। মনে রাখবে, যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে অহঙ্কার পোষণ করো, গর্ব করো, তাঁর ইবাদত থেকে বিরত থাকো তাতে তাঁর কিছুই হবে না। তিনি তোমাদের ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন, তোমরা এমনটি মনে করো না যে, তোমরা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত না করলে অন্য কেউ তাঁর ইবাদত করবে না বরং তাঁর ফেরেশতাগণ দিবা-রাত্রি তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে থাকে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(أُولٰ۬ئِكَ الَّذِيْنَ اٰتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ج فَإِنْ يَّكْفُرْ بِهَا هٰٓؤُلَا۬ءِ فَقَدْ وَكَّلْنَا بِهَا قَوْمًا لَّيْسُوْا بِهَا بِكٰفِرِيْنَ)
“আমি তাদেরকেই কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করেছি, অতঃপর যদি এরা এগুলোকে প্রত্যাখ্যানও করে তবে আমি তো এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি এগুলোর ভার অর্পণ করেছি যারা এগুলো প্রত্যাখ্যান করবে না।” (সূরা আন‘আম ৬ : ৮৯)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আরো একটি নিদর্শনের কথা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মৃত ও শুষ্ক ভূমিকে আকাশ হতে পানি বর্ষণের দ্বারা জীবিত করেন। যার ফলে তা উর্বর ও উৎপাদনশীল হয়ে ওঠে। বৃষ্টি বর্ষণ করে যেভাবে মৃত জমিনকে জীবিত করেন অনুরূপভা্েব মৃত মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা পুনরুজ্জীবিত করবেন। এ সম্পর্কে সূরা আন্ নাহ্ল-এ আলোচনা করা হয়েছে।
يلحدون-এর অর্থ হলো, শুষ্ক-অনাবৃষ্টি, অর্থাৎ মৃত বা উদ্ভিদ শূন্য।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে সিজদা দেয়া যাবে না, করলে র্শিক হবে এবং এর ফলে জাহান্নামে যেতে হবে।
৩. আল্লাহ মানুষের ইবাদত থেকে অমুখাপেক্ষী। বরং তাদের ইবাদত তাদেরই কাজে লাগবে।
৪. কোন প্রকার গর্ব-অহঙ্কার করা যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৭-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় ব্যাপক শক্তি এবং অতুলনীয় ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি যা করার ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন। সূর্য, চন্দ্র এবং দিবস ও রজনী তাঁর পূর্ণ ক্ষমতার নিদর্শন। রাতকে তিনি অন্ধকারময় এবং দিনকে আলোকময় বানিয়েছেন। এগুলো একটির পিছনে আর একটি এসে থাকে। সূর্য এবং ওর রশ্মি ও ঔজ্জ্বল্য এবং চন্দ্র ও ওর জ্যোতি দেখে বিস্মিত হতে হয়। আকাশে এগুলোর কক্ষপথও আল্লাহ্ তা'আলা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এগুলোর উদয় ও অস্তের কারণে দিবস ও রজনীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে থাকে। মাস ও বছরের গণনা করা যায়, যার ফলে ইবাদত-বন্দেগী, পারস্পরিক লেন-দেন ও প্রাপ্য নিয়মিতভাবে আদায় করা সম্ভব হয়।
আসমান ও যমীনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর ও উজ্জ্বল ছিল সূর্য ও চন্দ্র, এজন্যেই এই দুটোকে মাখলুক বলা হয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ তোমরা যদি আল্লাহর বান্দা হয়ে থাকো তবে সূর্য ও চন্দ্রের সামনে তোমরা মাথা নত করো না, কেননা এ দুটো তো মাখলুক বা সৃষ্ট। সৃষ্ট কখনো সিজদার যোগ্য হতে পারে না। সিজদার যোগ্য একমাত্র তিনি যিনি সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তা'আলারই ইবাদত করতে থাকো। কিন্তু যদি তোমরা আল্লাহ ছাড়া তার কোন মাখলুকেরও ইবাদত কর তবে তোমরা তাঁর রহমতের দৃষ্টি হতে সরে যাবে এবং তিনি তোমাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। যারা শুধু আল্লাহরই ইবাদত করে না, বরং তার সাথে অন্যেরও ইবাদত করে তারা যেন এটা ধারণা না করে যে, তারাই শুধু আল্লাহর ইবাদতকারী। সুতরাং তারা যদি তার ইবাদত ছেড়ে দেয় তবে তাঁর কেউ ইবাদতকারী থাকবে না। কখনো নয়। আল্লাহ তাআলা তাদের ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী দিবস ও রজনীতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে রয়েছে এবং তারা ক্লান্তিবোধ করে না। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি এরা কুফরী করে তবে আমি এমন সম্প্রদায়ও ঠিক করে রেখেছি যারা কুফরী করবে না।” (৬:৮৯)
হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা রাত্রি ও দিবসকে, সূর্য ও চন্দ্রকে এবং বাতাসকে মন্দ বলো না। কেননা, এগুলো কতক লোকের জন্যে রহমত স্বরূপ এবং কতক লোকের জন্যে শাস্তি স্বরূপ হয়ে থাকে।” (এ হাদীসটি হাফিয আবূ ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তার ক্ষমতার একটি নিদর্শন অর্থাৎ তিনি যে মৃতকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম তার একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক, উষর, অতঃপর আমি তাতে বারি বর্ষণ করলে তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। যিনি এই মৃত যমীনকে জীবিত করেন তিনিই মৃতের জীবনদানকারী। তিনি তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।