সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 3)
হরকত ছাড়া:
كتاب فصلت آياته قرآنا عربيا لقوم يعلمون ﴿٣﴾
হরকত সহ:
کِتٰبٌ فُصِّلَتْ اٰیٰتُهٗ قُرْاٰنًا عَرَبِیًّا لِّقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ ۙ﴿۳﴾
উচ্চারণ: কিতা-বুন ফুসসিলাত আ-য়া-তুহূকুরআ-নান ‘আরাবিইয়াল লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: এমন এক কিতাব, যার আয়াতগুলো জ্ঞানী কওমের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, কুরআনরূপে আরবী ভাষায়।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩. এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ, কুরআনরূপে আরবী ভাষায়, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য,
তাইসীরুল ক্বুরআন: এক কিতাব, যার আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাকৃত, আরবী ভাষার কুরআন, জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের জন্য।
আহসানুল বায়ান: (৩) এমন এক গ্রন্থ যা আরবী কুরআনরূপে[1] এর বাক্যসমূহকে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য[2] বিশদভাবে বিবৃত করা হয়েছে। [3]
মুজিবুর রহমান: এটা এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ আরাবী ভাষায়, কুরআনরূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য –
ফযলুর রহমান: (এ) এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে, এক আরবী কোরআন হিসেবে, জ্ঞানী লোকদের জন্য,
মুহিউদ্দিন খান: এটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে জ্ঞানী লোকদের জন্য।
জহুরুল হক: একটি গ্রন্থ যার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত, আরবী কুরআন সেই লোকদের জন্য যারা জানে --
Sahih International: A Book whose verses have been detailed, an Arabic Qur'an for a people who know,
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩. এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ, কুরআনরূপে আরবী ভাষায়, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩) এমন এক গ্রন্থ যা আরবী কুরআনরূপে[1] এর বাক্যসমূহকে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য[2] বিশদভাবে বিবৃত করা হয়েছে। [3]
তাফসীর:
[1] এটা ‘হাল’ (যা পূর্বোক্তের অবস্থা বর্ণনা করে) অর্থাৎ, এর শব্দগুলো আরবী ভাষায়। যার অর্থ বিশ্লেষিত ও সুস্পষ্ট।
[2] অর্থাৎ, যারা আরবী ভাষা, তার অর্থ ও ভাবার্থ এবং তার রহস্য ও বাচনভঙ্গি ইত্যাদি জানে।
[3] অর্থাৎ, হালাল কি এবং হারাম কি? অথবা আনুগত্য কি এবং অবাধ্যতা কি? কিংবা নেকীর কাজ কোন্গুলো এবং শাস্তি পেতে হয় এমন কাজ কোনগুলো?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ ও প্রেক্ষাপট :
এ সূরার দ্বিতীয় আরেকটি নাম রয়েছে সেটি হলো “ফুস্সিলাত”। এ সূরার তৃতীয় আয়াতে যে “ফুস্সিলাত” শব্দটি রয়েছে সেই শব্দ থেকেই এ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
সূরাটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, একদা কুরাইশ সর্দারগণ আপোষে পরামর্শ করল যে, মুহাম্মাদের অনুসারীদের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। অতএব এ পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের কিছু একটা করা দরকার। তাই তারা তাদের মধ্যে সবচেয়ে বাক্পটু শুদ্ধভাষী উতবা ইবনু রাবী‘-কে নির্বাচন করল যে, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কথা বলবে। সুতরাং সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর ওপর আরবদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং অনৈক্য সৃষ্টির অপবাদ দিয়ে প্রস্তাব পেশ করল যে, এ নতুন ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য যদি ধন-মাল অর্জন করা হয়, তবে আমরা তোমার জন্য তা সঞ্চয় করে দিচ্ছি। আর যদি এর উদ্দেশ্য হয় নেতা বা সর্দার হওয়া, তবে আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বা সর্দার মেনে নিচ্ছি। যদি কোন সুন্দরী নারীকে বিবাহ করতে চাও, তবে একজন নয়, বরং তোমার জন্য দশজন সুন্দরী নারীর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আর যদি তোমাকে জিন পেয়ে থাকে, যার কারণে তুমি আমাদের উপাস্যদের নিন্দা করো, তবে আমরা আমাদের খরচে তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। তিনি সমস্ত কথা শুনে চুপ রইলেন। যখন সে তার কথা শেষ করল, তিনি বললেন : হে আবুল ওয়ালিদ! তুমি কি শেষ করেছ? সে বলল : হ্যাঁ, শেষ করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : হে ভাইপো! তুমি শোন, সে বলল : আপনি বলুন, আমি শুনব। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম, তারপর এ সূরা পাঠ করলেন। এতে সে বড়ই প্রভাবিত হলো এবং ফিরে গিয়ে কুরাইশ সর্দারদেরকে বলল : যে জিনিস তিনি পেশ করেন তা জাদুবিদ্যা নয়, তিনি জ্যোতিষী নন এবং তাঁর কথা কবিতাও নয়। তার উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দা‘ওয়াতের ব্যাপারে কুরাইশদেরকে চিন্তা-ভাবনা করার প্রতি আহ্বান জানানো। কিন্তু তারা চিন্তা-ভাবনা করা তো দূরের কথা বরং তাকে উল্টো অপবাদ দিলো যে, তুমি তার জাদুর জালে বন্দী হয়ে গেছ। (মুসতাদরাক হাকিম ২/২৫৩, সহীহ)
১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
حٰم۬ (হা-মীম) এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর সম্পর্কে সূরা আল বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর সঠিক অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
অত্র সূরায় প্রথমত সম্বোধন করা হয়েছে আরবের কুরাইশ গোত্রকে, কারণ তাদের সামনে কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। তারা কুরআনের অলৌকিকতা প্রত্যক্ষ করেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসংখ্য মু‘জিযাহ দেখেছে। এতদসত্ত্বেও তারা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং উপলব্ধি তো দূরের কথা শ্রবণ করাও পছন্দ করেনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শুভেচ্ছামূলক উপদেশের জবাবস্বরূপ অবশেষে তারা বলে দিয়েছে, আপনার কথাবার্তা আমাদের বুঝে আসে না। আমাদের অন্তর এগুলো কবুল করে না এবং আমাদের কানও এগুলো শুনতে প্রস্তুত নয়। আপনার ও আমাদের মাঝখানে অন্তরাল আছে। সুতরাং এখন আপনি আপনার কাজ করুন এবং আমাদেরকে আমাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দিন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন : এ কুরআন দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এর আয়াতসমূহ বর্ণনার দিক দিয়ে, অর্থের দিক দিয়ে এবং বিধি-বিধানের দিক দিয়েও বিশদভাবে বিবৃত। এতে কোন প্রকার অস্পষ্টতা নেই। কোন্টি হালাল, কোন্টি হারাম, কোন কাজ করলে শাস্তি পেতে হবে আর কোন্ কাজ করলে শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এর প্রত্যেকটি বিষয়ই স্পষ্টভাবে বর্ণনা দেয়া আছে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَلَقَدْ جِئْنٰهُمْ بِكِتٰبٍ فَصَّلْنٰهُ عَلٰي عِلْمٍ هُدًي وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ)
“অবশ্যই আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম এমন এক কিতাব যা পূর্ণ জ্ঞান দ্বারা বিশদ ব্যাখ্যা করেছিলাম এবং যা ছিল মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও দয়া।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ৫২)
আল্লাহ অন্যত্র বলেন,
(كِتٰبٌ أُحْكِمَتْ اٰيٰتُه۫ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَّدُنْ حَكِيْمٍ خَبِيْرٍ)
“এটা এমন গ্রন্থ যার আয়াতগুলো সুদৃঢ়, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে।” (সূরা হূদ ১১ : ১)
আর এ কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। যেহেতু কুরআন প্রথমত আরবদের উদ্দেশ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে তাই তাদের ভাষাতেই এটি অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে এটা বুঝতে সহজ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(قُرْاٰنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِيْ عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ)
“এ কুরআন আরবি ভাষায়, এতে বিন্দুমাত্রও বক্রতা নেই, যাতে তারা সাবধানতা অবলম্বন করে।” (সূরা যুমার ৩৯ : ২৮)
أَكِنَّةٍ হলো كنان-এর বহুবচন। অর্থ হলো- আবরণ, পর্দা, অর্থাৎ আমাদের অন্তর আবৃত ও ঢাকা আছে। এ ক্ষেত্রে কাফিরদের তিনটি উক্তি উদ্ধৃত হয়েছে।
(এক) আমাদের অন্তরে পর্দা পড়ে আছে, ফলে আমরা তোমার কথা বুঝতে পারি না। (দুই) আমাদের কান বধির, ফলে তোমার কথা আমাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না এবং (তিন) আমাদের ও তোমার মাঝে অন্তরাল রয়েছে। আমরা তোমার ঈমান ও তাওহীদের দা‘ওয়াত বুঝতে পারি না। কাজেই তোমার কাজ তুমি করে যাও আর আমাদের কাজ আমরা করে যাই। কুরআন এসব উক্তি নিন্দার ছলে উদ্ধৃত করেছে, যেন এসব যুক্তি অর্থহীন হিসাবে প্রকাশ পায়। কিন্তু অন্যত্র কুরআন নিজেই তাদের এরূপ অবস্থা বর্ণনা করেছে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَجَعَلْنَا عَلٰي قُلُوْبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَّفْقَهُوْهُ وَفِيْٓ اٰذَانِهِمْ وَقْرًا)
“আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে এবং তাদের কানে সৃষ্টি করেছি বধিরতা” (সূরা ইসরা ১৭ : ৪৬)
وَقْر অর্থ হলো, বোঝা। এখানে বধিরতা বুঝানো হয়েছে, যা সত্য শোনার ক্ষেত্রে অন্তরাল সৃষ্টি করে।
কাফিররা এরূপ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেননি এবং দাওয়াতী ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেননি। বরং তাদেরকে নরম কথা ও কোমল আচরণ দ্বারাই দাওয়াত দিয়েছেন। সুতরাং যার কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যাওয়া হবে সে দাওয়াত কবূল না করলে খারাপ আচরণ করতে হবে এমন নয়, হতে পারে ভাল ব্যবহার পেলে আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তর উন্মুক্ত করে দেবেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. নিঃসন্দেহে কুরআন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতারিত।
২. কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ, আর এর বিধি-বিধানগুলো স্পষ্টভাবে বিবৃত।
৩. সত্যের দা‘ওয়াত থেকে বিমুখ হলে জাহান্নামে যেতে হবে।
৪. কুরআন সতর্ককারী ও সুসংবাদ দানকারী গ্রন্থ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১-৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আরবী ভাষার এই কুরআন পরম দয়ালু আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তুমি বল- এটা (আল-কুরআন) তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে পবিত্র আত্মা (হযরত জিবরাঈল আঃ) সত্যের সাথে অবতীর্ণ করেছেন।”(১৬:১০২) আর এ জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ। এটা বিশ্বস্ত আত্মা (হযরত জিবরাঈল আঃ) তোমার অন্তরে অবতীর্ণ করেছে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।”(২৬:১৯২-১৯৪)
মহান আল্লাহ বলেনঃ এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বিবৃত। এর অর্থ প্রকাশমান এবং আহকাম মযবূত। এর শব্দগুলোও স্পষ্ট এবং পাঠ করতে সহজ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) (১০:১) অর্থাৎ “এটা এমন কিতাব যার আয়াতসমূহ দৃঢ় ও সুরক্ষিত, অতঃপর ওগুলো বিশদভাবে বিবৃত, এটা হচ্ছে ঐ আল্লাহর কালাম যিনি বিজ্ঞানময় এবং যিনি সবকিছুরই খবর রাখেন। অর্থাৎ এটা শব্দ ও অর্থের দিক দিয়ে অলৌকিক। মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওর কাছে ওর সামনে এবং ওর পিছন হতে বাতিল আসতে পারে না। এটা বিজ্ঞানময় প্রশংসিত আল্লাহর নিকট হতে অবতারিত।” (৪১:৪২)
আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ “জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে।” অর্থাৎ এই বর্ণনা ও বিশদ ব্যাখ্যা জ্ঞানী সম্প্রদায়ই অনুধাবন করে থাকে। এই কুরআন একদিকে মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় এবং অপরদিকে কাফিরদেরকে ভয় প্রদর্শন করে।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তাদের অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে। সুতরাং তারা শুনবে না। অর্থাৎ কুরআন কারীমের এমন গুণাবলী থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ কুরায়েশ এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা বলেঃ তুমি যার প্রতি আমাদেরকে আহ্বান করছে সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণ-আচ্ছাদিত এবং আমাদের কর্ণে আছে বধিরতা, আর তোমার ও আমাদের মধ্যে আছে অন্তরাল। সুতরাং তুমি যা বলছে তার কিছুই আমাদের বোধগম্য হয় না। সুতরাং তুমি তোমার কাজ কর এবং আমরা আমাদের কাজ করি। অর্থাৎ তোমার পন্থায় তুমি কাজ করে যাও এবং আমরা আমাদের পন্থায় কাজ করে যাই। আমরা কখনো আমাদের নীতি পরিত্যাগ করে তোমার নীতি গ্রহণ করতে পারি না।
হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা কুরায়েশরা সমবেত হয়ে পরস্পর পরামর্শ করলোঃ “যে ব্যক্তি যাদু ও কাব্য কবিতায় সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, চল আমরা তাকে নিয়ে ঐ লোকটির নিকট অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নিকট গমন করি, যে আমাদের দলের মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে দিয়েছে এবং আমাদের সমস্ত কাজের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করেছে। ও আমাদের দ্বীনের উপর দোষারোপ করতে শুরু করেছে। একে যেন ঐ ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্ন করে নিরুত্তর করে দিতে পারে। তারা সবাই বললোঃ “আমাদের মধ্যে উবা ইবনে রাবীআ' ছাড়া এরূপ লোক আর কেউ নেই। সুতরাং তারা উবার নিকট গেল এবং তার সামনে তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করলো। সে তার কওমের কথা মেনে নিলো এবং প্রস্তুতি নিয়ে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নিকট গমন করলো। অতঃপর সে তাকে বললোঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আচ্ছা, বলতোঃ তুমি ভাল, না আবদুল্লাহ (তার পিতা) ভাল?” তিনি কোন উত্তর দিলেন না। সে আবার প্রশ্ন করলোঃ “তুমি ভাল, না (তোমার দাদা) আবদুল মুত্তালিব ভাল?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবারও নীরব থাকলেন। তখন সে বললোঃ “দেখো, তুমি যদি তোমার বাপ-দাদাকে ভাল মনে করে থাকো তবে জেনে নাও যে, তারা ঐ সব মা'বুদেরই পূজা করতেন যেগুলোর পূজা আমরা করে থাকি, আর তুমি সেগুলোর উপর দোষারোপ করে থাকো। আর যদি তুমি নিজেকে তাঁদের চেয়ে ভাল মনে করে থাকো তবে তুমি তোমার কথা বলঃ আমরা শুনি। আল্লাহর শপথ! দুনিয়ায় কোন কওমের জন্যে তোমার চেয়ে বেশী ক্ষতিকারক মানুষ সৃষ্ট হয়নি। তুমি আমাদের জামাআতের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছো। তুমি আমাদের দ্বীন সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছো। সারা আরবের মধ্যে তুমি আমাদের বদনাম করেছে এবং আমাদেরকে অপদস্থ করেছে। এখন তো সব জায়গাতেই এই আলোচনা চলছে যে, কুরায়েশদের মধ্যে একজন যাদুকর রয়েছে, একজন গণক রয়েছে। এখন শুধু এটুকুই বাকী রয়েছে যে, আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি এবং একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করি। এই ভাবে আমাদেরকে পরস্পরে লড়িয়ে দিয়ে তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চাও। শুন, তোমার ধন-মালের প্রতি যদি লোভ থাকে তবে বল, আমরা সবাই মিলে তোমাকে এমন ধন-দৌলতের মালিক করে দিবো যে, সারা আরবে তোমার চেয়ে বড় ধনী আর কেউ থাকবে না। আর যদি তুমি স্ত্রী লোকদের সাথে কাম-বাসনা চরিতার্থ করতে চাও তবে বল, আমাদের মধ্যে যার মেয়ে তোমার পছন্দ হয়, আমরা একটা কেন, তোমার দশটা বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেনঃ “তোমার কথা বলা শেষ হয়েছে কি?” উত্তরে সে বললোঃ “হ্যা।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ (আরবী) অবশেষে তিনি নিম্নের আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তবুও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল- আমি তো তোমাদেরকে সতর্ক করছি এক ধ্বংসকর শাস্তির, আ’দ ও সামূদের শাস্তির অনুরূপ।” এটুকু শুনেই উৎবা বলে উঠলোঃ “আচ্ছা, থামো। তোমার কাছে তাহলে এ ছাড়া আর কিছুই নেই?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তর দিলেনঃ “না।” তখন সে সেখান হতে চলে গেল। কুরায়েশরা তো তার জন্যে অধীরভাবে অপেক্ষা করছিল। তাদের কাছে সে পৌঁছা মাত্রই তারা তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ “ব্যাপার কি, তাড়াতাড়ি বল।” সে উত্তর দিলোঃ “দেখো, তোমরা সবাই মিলে তাকে যত কিছু বলতে পারতে আমি একাই তার সবই বলেছি। তারা জিজ্ঞেস করলোঃ “সে তোমার কথার উত্তরে কিছু বলেছে কি?” উবা জবাবে বললোঃ “হ্যা, সে জবাব দিয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমি তার কথার একটি অক্ষরও বুঝতে পারিনি। শুধু এটুকু বুঝেছি যে, সে আমাদেরকে আসমানী আযাব হতে সতর্ক করছে যে আযাব আ’দ ও সামূদ জাতির উপর আপতিত হয়েছিল। তারা তখন তাকে বললোঃ তোমার অকল্যাণ হোক! একটি লোক তোমার সাথে তোমার নিজেরই ভাষা আরবীতে কথা বলছে অথচ তুমি বলছো যে, তুমি তার কথার একটি অক্ষরও বুঝতে পারনি?” উৎবা উত্তরে বললোঃ “আমি সত্যিই বলছি যে, শাস্তির বর্ণনা ছাড়া আমি আর কিছুই বুঝিনি।” (এটা ইমাম আব ইবনে হুমায়েদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
ইমাম বাগাভীও (রঃ) এ রিওয়াইয়াতটি আনয়ন করেছেন, তাতে এও রয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আয়াতগুলো পাঠ করতে করতে ... (আরবী)-এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন উবা তাঁর পবিত্র মুখের উপর হাত রেখে দিলো এবং তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে ও আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা স্মরণ করাতে লাগলো। অতঃপর সে সেখান হতে সরাসরি বাড়ীতে ফিরে গেল এবং বাড়ীতেই থাকতে লাগলো ও কুরায়েশদের সমাবেশে উঠাবসা ও যাতায়াত পরিত্যাগ করলো। এ দেখে আবু জেহেল কুরায়েশদেরকে সম্বোধন করে বললোঃ “হে কুরায়েশদের দল! আমার ধারণা যে, উত্বও মুহাম্মাদ (সঃ)-এর দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং তথাকার পানাহারে মজে গেছে। সে তো অভাবীও ছিল। চলো, আমরা তার কাছে যাই।” অতঃপর তারা তার কাছে গমন করলো। আবু জেহেল তাকে বললোঃ “তুমি যে আমাদের কাছে যাতায়াত ছেড়ে দিয়েছো এর কারণ কি? আমার মনে হয় এর কারণ শুধু একটিই। তা এই যে, মুহাম্মাদ (সঃ)-এর দস্তরখানা তোমার পছন্দ হয়ে গেছে এবং তুমিও তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। অভাব খুবই খারাপ জিনিস। আমি মনে করছি যে, আমরা পরস্পরের মধ্যে চাঁদা উঠিয়ে তোমার আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল করে দিবো, যাতে তুমি এই বিপদ ও লাঞ্ছনা হতে মুক্তি পেতে পারো এবং মুহাম্মাদ (সঃ)-এর ও তার নতুন মাযহাবের তোমার কোন প্রয়োজন না হয়। তার একথা শুনে উবা ভীষণ রাগান্বিত হয় এবং বলে ওঠেঃ “মুহাম্মাদ (সঃ)-এর আমার কি প্রয়োজন? আল্লাহর শপথ! আমি তার সাথে আর কখনো কথা বলতে যাবো না। তুমি আমার সম্পর্কে এমন অপমানকর মন্তব্য করলে? অথচ তুমি তো জান যে, কুরায়েশদের মধ্যে আমার চেয়ে বড় ধনী আর কেউ নেই! ব্যাপার এই যে, তোমাদের সবারই কথায় আমি তার কাছে গিয়েছিলাম এবং সব ঘটনা খুলে বলেছিলাম। আমার কথার জবাবে সে যে কালাম পাঠ করেছে, আল্লাহর কসম! তা কবিতা নয়, গণকের কথা নয় এবং যাদু ইত্যাদিও নয়। যখন সে পড়তে পড়তে ... (আরবী) পর্যন্ত পৌঁছে তখন আমি তার মুখে হাত রেখে দিই এবং তাকে আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে থেমে যেতে বলি। আমার ভয় হয় যে, না জানি হয়তো তখনই আমার উপর ঐ শাস্তি আপতিত হয় যে শাস্তি আ’দ ও সামূদ সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। আর এটা সর্বজন বিদিত যে, মুহাম্মাদ (সঃ) মিথ্যাবাদী নয়।”
সীরাতে আবি ইসহাক গ্রন্থে এ ঘটনাটি অন্য ধারায় রয়েছে। তাতে রয়েছে যে, একদা কুরয়েশরা এক জায়গায় একত্রিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) খানায়ে কা’বার এক প্রান্তে বসেছিলেন। উত্বা কুরায়েশদেরকে বললোঃ “তোমাদের পরামর্শ হলে আমি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নিকট গমন করবো। তাকে বুঝাবো এবং কিছু লোভ দেখাবো। যদি সে লোভের বশবর্তী হয়ে কিছু চেয়ে বসে তবে আমরা তাকে তা দিয়ে দিবো এবং তার এ কাজ হতে তাকে বিরত রাখবো।” এটা হলো ঐ সময়ের ঘটনা, যখন হযরত হামযা (রাঃ) মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন এবং মুসলমানদের সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছিল ও দিন দিন বাড়তেই ছিল। উবার কথায় কুরায়েশরা সম্মত হয়ে যায়। সুতরাং সে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিকট এসে বলতে শুরু করেঃ “হে আমার ভ্রাতুস্পুত্র! তুমি সম্ভ্রান্ত বংশের লোক। তুমি আমাদেরই একজন। তুমি হলে আমাদের চোখের তারা এবং আমাদের কলিজার টুকরা। বড়ই দুঃখের বিষয় যে, তুমি তোমার কওমের কাছে একটি নতুন বিস্ময়কর জিনিস আনয়ন করেছে এবং তাদের দলে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে দিয়েছে। তাদের জ্ঞানীদেরকে নির্বোধ বলছে, তাদের মা’বৃদদের প্রতি দোষারোপ করছে এবং তাদের দ্বীনকে খারাপ বলতে শুরু করেছে। আর তাদের বুড়োদেরকে কাফির বলছো। এখন জেনে রেখো যে, আজ আমি তোমার কাছে একটা শেষ ফায়সালার জন্যে এসেছি। তোমার কাছে আমি কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করছি। এগুলোর মধ্যে যেটা ইচ্ছা তুমি গ্রহণ কর এবং আল্লাহর ওয়াস্তে এই হাঙ্গামার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দাও।” তার একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেন:“তুমি যা বলতে চাও বল, আমি শুনছি।” সে বলতে শুরু করলোঃ “দেখো, তোমার এই চাল দ্বারা যদি মাল জমা করার ইচ্ছা থাকে তবে আমরা সবাই মিলে তোমার জন্যে এতো বেশী মাল জমা করে দিচ্ছি যে, সমস্ত কুরায়েশের মধ্যে তোমার চেয়ে বড় মালদার আর কেউ হবে না। আর যদি নেতৃত্বের ইচ্ছা করে থাকো তবে আমরা সবাই মিলে তোমার নেতৃত্ব মেনে নিচ্ছি। যদি তোমার বাদশাহ্ হওয়ার ইচ্ছা থাকে তবে সারা রাজ্য আমরা তোমাকে সমর্পণ করছি এবং আমরা সবাই তোমার প্রজা হয়ে যাচ্ছি। আর যদি তোমাকে জ্বিনে ধরে থাকে তবে আমরা আমাদের মাল খরচ করে বড় বড় ডাক্তার ও ঝাড়-ফুককারীদের ডেকে তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। অনেক সময় এমন ঘটে থাকে যে, অনুগত জ্বিন তার আমলকারীর উপর বিজয়ী হয়ে যায়। তখন এই ভাবে তার থেকে মুক্তি লাভ করতে হয়।”
অতঃপর উত্বা নীরব হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেনঃ “তোমার কথা বলা শেষ হয়েছে কি?” সে জবাব দিলোঃ “হ্যা।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “তাহলে এখন আমার কথা শুন।” সে তাঁর কথায় কান লাগিয়ে দিলো। তিনি (আরবী) বলে এই সূরাটি তিলাওয়াত শুরু করলেন এবং উত্বা আদবের সাথে শুনতে থাকলো। শেষ পর্যন্ত তিনি সিজদার আয়াত পাঠ করলেন এবং সিজদা করলেন। অতঃপর বললেনঃ “হে আবুল ওয়ালীদ।
আমার যা বলার ছিল তা আমি বললাম। এখন তোমার মনে যা হয় তাই তুমি কর।” উবা সেখান হতে উঠে তার সাথীদের কাছে চলে গেল। তারা তার চেহারা দেখেই বলতে লাগলো যে, উহ্বার অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ “ব্যাপার কি?” উত্তরে সে বললোঃ “আল্লাহর শপথ! আমি এমন কথা শুনেছি যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। কসম আল্লাহর! ওটা যাদুও নয়, কবিতাও নয় এবং গণকদের কথাও নয়। হে কুরায়েশদের দল! শুনো, তোমরা আমার কথা মেনে নাও। তাকে তার ধারণার উপর ছেড়ে দাও। তার আনুকূল্যও করো না এবং বিরোধিতাও করো না। সে যা কিছু বলছে ও দাবী করছে সে ব্যাপারে সারা আরব তার বিরোধী হয়ে গেছে। তারা তার বিরুদ্ধে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। তারা যদি তার উপর বিজয় লাভ করে তবে তো। সহজেই তোমরা তার থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যাবে। আর যদি সে-ই তাদের উপর। বিজয়ী হয়ে যায় তবে তার রাজ্যকে তোমাদেরই রাজ্য বলা হবে এবং তার মর্যাদা হবে তোমাদেরই মর্যাদা। আর তোমরাই হবে তার নিকট সবেচেয়ে বেশী গৃহীত।” তার এই কথা শুনে কুরায়েশরা বললোঃ “হে আবুল ওয়ালীদ! আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ (সঃ) তোমার উপর যাদু করে ফেলেছে।” সে জবাব দিলোঃ “দেখো, আমার অভিমত আমি তোমাদের নিকট পেশ করে দিলাম। এখন তোমাদের যা ইচ্ছা হয় তা-ই কর।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।