সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 17)
হরকত ছাড়া:
وأما ثمود فهديناهم فاستحبوا العمى على الهدى فأخذتهم صاعقة العذاب الهون بما كانوا يكسبون ﴿١٧﴾
হরকত সহ:
وَ اَمَّا ثَمُوْدُ فَهَدَیْنٰهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمٰی عَلَی الْهُدٰی فَاَخَذَتْهُمْ صٰعِقَۃُ الْعَذَابِ الْهُوْنِ بِمَا کَانُوْا یَکْسِبُوْنَ ﴿ۚ۱۷﴾
উচ্চারণ: ওয়া আম্মা-ছামূদুফাহাদাইনা-হুম ফাছতাহাব্বুল ‘আমা-‘আলাল হুদা-ফাআখাযাতহুম সা-‘ইকাতুল ‘আযা-বিল হূনি বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।
আল বায়ান: আর সামূদ সম্প্রদায়, আমি তাদেরকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা সঠিক পথে চলার পরিবর্তে অন্ধ পথে চলাই পছন্দ করেছিল। ফলে তাদের অর্জনের কারণেই লাঞ্ছনাদায়ক আযাবের বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭. আর সামূদ সম্প্রদায়, আমরা তাদেরকে পথনির্দেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধপথে চলা পছন্দ করেছিল। ফলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদের পাকড়াও করল; তারা যা অর্জন করেছিল তার জন্য।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর সামূদের অবস্থা এই যে, আমি তাদেরকে সঠিক পথে চলার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সঠিক পথে চলার পরিবর্তে অন্ধ হয়ে থাকাকেই পছন্দ করে ছিল। তখন তাদের কৃতকর্মের কারণে অপমানজনক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল।
আহসানুল বায়ান: (১৭) আর সামূদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার তো এই যে, আমি ওদেরকে পথনির্দেশ করেছিলাম;[1] কিন্তু ওরা সৎপথের পরিবর্তে ভ্রান্তপথ অবলম্বন করেছিল।[2] অতঃপর ওদের কৃতকর্মের পরিণামস্বরূপ ওদেরকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আঘাত হানল। [3]
মুজিবুর রহমান: আর সামূদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার এই যে, আমি তাদেরকে পথ নির্দেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা সৎ পথের পরিবর্তে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করেছিল। অতঃপর তাদেরকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আঘাত হানলো তাদের কৃতকর্মের পরিণাম স্বরূপ।
ফযলুর রহমান: আর ছামূদ জাতিকে তো আমি সৎপথ দেখিয়েছিলাম, কিন্তু তারা সৎপথে চলার পরিবর্তে অন্ধ থাকাই পছন্দ করেছিল। তাই তাদেরই কৃতকর্মের ফলে তাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তির বজ্রাঘাত পাকড়াও করেছিল।
মুহিউদ্দিন খান: আর যারা সামূদ, আমি তাদেরকে প্রদর্শন করেছিলাম, অতঃপর তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধ থাকাই পছন্দ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে অবমাননাকর আযাবের বিপদ এসে ধৃত করল।
জহুরুল হক: আর ছামূদের ক্ষেত্রে -- আমরা তো তাদের পথ দেখিয়েছিলাম কিন্ত তারা পথ দেখার পরিবর্তে অন্ধত্ব ভালবেসেছিল, কাজেই তারা যা অর্জন করেছিল সেজন্য এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদের পাকড়াও করেছিল।
Sahih International: And as for Thamud, We guided them, but they preferred blindness over guidance, so the thunderbolt of humiliating punishment seized them for what they used to earn.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৭. আর সামূদ সম্প্রদায়, আমরা তাদেরকে পথনির্দেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধপথে চলা পছন্দ করেছিল। ফলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদের পাকড়াও করল; তারা যা অর্জন করেছিল তার জন্য।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৭) আর সামূদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার তো এই যে, আমি ওদেরকে পথনির্দেশ করেছিলাম;[1] কিন্তু ওরা সৎপথের পরিবর্তে ভ্রান্তপথ অবলম্বন করেছিল।[2] অতঃপর ওদের কৃতকর্মের পরিণামস্বরূপ ওদেরকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আঘাত হানল। [3]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তাদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলাম, তার প্রমাণাদি তাদের সামনে স্পষ্ট করেছিলাম এবং তাদের নবী সালেহ-এর মাধ্যমে তাদের উপর হুজ্জত কায়েম করেছিলাম।
[2] অর্থাৎ, তারা বিরোধিতা করে ও মিথ্যা ভাবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা সেই উটনীকেও যবাই করে দেয়, যাকে মু’জিযা স্বরূপ তাদের দাবী অনুযায়ী পাহাড় থেকে বের করা হয়েছিল এবং তা ছিল নবীর সত্যতার দলীল।
[3] صَاعِقَةٌ বলা হয় কঠিন আযাবকে। এই কঠিন আযাব তাদের উপর বিকট শব্দ এবং ভূমিকম্প আকারে আসে। যাতে তাদেরকে লাঞ্ছনা ও অপমান সহ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৩-১৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লক্ষ করে বলেন : তিনি যেন কুরায়শদের জানিয়ে দেন যে, এতসব নিদর্শন দেখার পরেও যদি তারা ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তাদেরকে বল, আমি তোমাদেরকে সে-শাস্তির ভিতি প্রদর্শন করছি যা দ্বারা ‘আদ ও সামুদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল। পরের আয়াতগুলোতে ‘আদ এবং সামূদ জাতির অবাধ্যতার কারণে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : ‘আদ সম্প্রদায় পৃথিবীতে দম্ভ-অহঙ্কার করত এবং বলত : আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কে আছে? তাদের এ সকল গর্ব-অহঙ্কারের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এক ঝঞ্ঝাবায়ু প্রেরণ করে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوْا بِرِيْحٍ صَرْصَرٍ عٰتِيَةٍ)
“আর আ‘দ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় দ্বারা।” (সূরা হা-ক্কাহ ৬৯ : ৬)
এ ঝঞ্ঝাপূর্ণ আযাব তাদের ওপর অনবরতভাবে সাত রাত ও আট অব্যাহত দিন ছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَّثَمٰنِيَةَ أَيَّامٍ لا حُسُوْمًا فَتَرَي الْقَوْمَ فِيْهَا صَرْعٰي لا كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ)
“যা তিনি তাদের ওপর প্রবাহিত করেছিলেন বিরামহীনভাবে সাত রাত ও আট দিন, তুমি (উপস্থিত থাকলে) সেই সম্প্রদায়কে দেখতে খেজুর কান্ডের ন্যায় সেখানে ছিন্ন ভিন্নভাবে পড়ে আছে।” (সূরা হা-ক্কাহ ৬৯ : ৭)
আর এ বাতাস প্রেরণ করা হয়েছিল এক অশুভ দিনে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيْحًا صَرْصَرًا فِيْ يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ)
“আমি তাদের ওপর প্রেরণ করেছিলাম ক্রমাগত প্রবাহমান প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন বায়ু, দুর্ভোগের দিনে।” (সূরা কামার ৫৪ : ১৯)
দুনিয়াতে তাদেরকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দেয়া হয়েছে এবং আখিরাতেও তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা দায়ক শাস্তি। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৬৫-৭২ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
فَهَدَيْنٰهُمْ তথা সামূদ সম্প্রদায়ের কাছে হিদায়াতের বাণী প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু তারা ঈমানের ওপর কুফরীকে প্রাধান্য দিয়েছে। আয়াতে الْعَمٰي বা অন্ধ অর্থ হল পথভ্রষ্টতা ও কুফরী। এদেরকেও তাদের কৃতকর্মের ফলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আঘাত হেনেছিল। তারা তাদের নাবী সালেহ (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, এমনকি মু‘জিযাহস্বরূপ যে উটনী প্রদান করা হয়েছিল তাও হত্যা করেছিল ফেলে। সুতরাং এর শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
(الْعَذَابِ الْهُوْنِ) অর্থ অপমানজনক শাস্তি।
(وَنَجَّيْنَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَكَانُوْا يَتَّقُوْنَ)
“আমি তাদেরকে রক্ষা করলাম যারা ঈমান এনেছিল এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে” অর্থাৎ যারা সালেহ (আঃ) এর প্রতি ঈমান এনেছিল তারা শাস্তি থেকে নাজাত পেয়েছিল।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেন :
(فَلَمَّا جَا۬ءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا صٰلِحًا وَّالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَعَه۫ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذٍ ط إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيْز)
“যখন আমার নির্দেশ আসল তখন আমি সালিহ্ ও তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং রক্ষা করলাম সেদিনের লাঞ্ছনা হতে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক শক্তিমান, পরাক্রমশালী।” (সূরা হুদ ১১ : ৬৬) এরূপ সূরা নামলের ৪৫-৫৩ নম্বর আয়াতে তাদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
সুতরাং যারা ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কুফরীর ওপর থেকে অহঙ্কার করবে তাদের উচিত পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। তাদের কাছেও হিদায়াতের বাণী আসার পর তারা ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, ফলে অপমানজনক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করেছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. দুনিয়াতে যারা ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে গর্ব-অহঙ্কার প্রকাশ করেছে তারাই ধ্বংস হয়েছে।
২. পূর্ববর্তী জাতিসমূহের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে যাতে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।
৩. যারা ঈমান ও তাকওয়ার পথ অবলম্বন করবে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হেফাযত করবেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৩-১৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমাকে যারা অবিশ্বাস করছে। এবং আল্লাহর সাথে কুফরী করছে তাদেরকে বলে দাও- তোমরা যদি শিক্ষা ও উপদেশমূলক কথা হতে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের পরিণাম ভাল হবে না। জেনে রেখো যে, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা তাদের নবীদেরকে (আঃ) অমান্য করার কারণে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে, তোমাদের কৃতকর্ম যেন তোমাদেরকে তাদের মত না করে দেয়। আ’দ, সামূদ এবং তাদের মত অন্যান্য সম্প্রদায়ের অবস্থা তোমাদের সামনে রয়েছে। তাদের কাছে পর্যায়ক্রমে রাসূলদের আগমন ঘটেছিল। তারা এই গ্রামে, ঐ গ্রামে, এই বস্তীতে, সেই বস্তীতে এসে তাদেরকে আল্লাহর বাণী শুনাতে থাকতেন। কিন্তু তারা গর্বভরে তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করে। তারা রাসূলদেরকে (আঃ) বলেঃ আমাদের প্রতিপালকের এইরূপ ইচ্ছা হলে তিনি অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অতএব, তোমরা যা সহ প্রেরিত হয়েছে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম।
আ’দ সম্প্রদায়ের ব্যাপার এই যে, তারা পৃথিবীতে অযথা দম্ভ করতো। ভূ-পৃষ্ঠে তারা বিপর্যয় সৃষ্টি করতো। তাদের গর্ব ও হঠকারিতা চরমে পৌঁছে। গিয়েছিল। তাদের ঔদ্ধত্য ও অগ্রাহ্যতা এমন শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল যে, তারা বলে উঠেছিলঃ “আমাদের অপেক্ষা শক্তিশালী আর কে আছে?” অর্থাৎ আমাদের মত শক্তিশালী, দৃঢ় ও মযবূত আর কেউ নেই। সুতরাং আল্লাহর আযাব আমাদের কি ক্ষতি করতে পারে?
তারা এতো বেশী ফুলে উঠে যে, আল্লাহকে সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হয়। তারা কি তবে লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ, যিনি তাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনি তাদের চেয়ে বহু গুণে শক্তিশালী? তার শক্তির অনুমানও করা যায় না। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি আমার হাতে আকাশ সৃষ্টি করেছি এবং আমি ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী।”(৫১:৪৭)।
প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাবার জন্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম ঝঞাবায়ু অশুভ দিনে, যাতে তাদের দর্প চূর্ণ হয়ে যায় এবং তারা সমূলে ধ্বংস হয়।
(আরবী) বলা হয় ভীষণ শব্দ বিশিষ্ট বায়ুকে। পূর্বদিকে একটি নদী রয়েছে, যা ভীষণ শব্দ করে প্রবাহিত হয়। এ জন্যে আরববাসী ওটাকেও (আরবী) বলে থাকে। দ্বারা পর্যায়ক্রমে বা অনবরত চলা বুঝানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(ঐ ঝঞাবায়ু তাদের উপর) সপ্তরাত্রি ও অষ্টদিবস বিরামহীন ভাবে (প্রবাহিত হয়েছিল)।”(৬৯:৭) মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(তাদের উপর আমি প্রেরণ করেছিলাম ঝঞাবায়ু) নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে।”(৫৪:১৯) যে শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল সাত রাত এবং আট দিন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে ছিল। ফলে সবাই তারা ধ্বংসের ঘাটে এসে পতিত হয়েছিল এবং তাদের বীজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর পরকালের শাস্তি তো অধিকতর লাঞ্ছনাদায়ক এবং তাদেরকে সাহায্য করা হবে না। না দুনিয়ায় কেউ তাদের সাহায্য করতে পারলো, না পরকালে কেউ তাদের সাহায্য করতে পারবে। উভয় জগতেই তারা বন্ধনহীন রয়ে গেল।
প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ আর সামূদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার তো এই যে, আমি তাদেরকে পথ-নির্দেশ করেছিলাম। হিদায়াত তাদের কাছে খুলে দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে সৎপথে আহ্বান করেছিলাম। হযরত সালেহ (আঃ) তাদের কাছে সত্যকে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তারা বিরোধিতা ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং হযরত সালেহ (আঃ)-এর সত্যবাদিতার। প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ্ তা'আলা যে উষ্ট্ৰীটি পাঠিয়েছিলেন তারা তার পা কেটে ফেলে। ফলে তাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে। তাদেরকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আঘাত হানলো, অর্থাৎ তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হলো এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা। এটা ছিল তাদের কৃতকর্মেরই প্রতিফল।
তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান এনেছিল এবং নবীদের (আঃ) সত্যতা স্বীকার করেছিল এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখতো তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা বাঁচিয়ে নেন। তাদের মোটেই কষ্ট হয়নি। তারা তাদের নবী (আঃ)-এর সাথে আল্লাহ তা'আলার লাঞ্ছনাজনক শাস্তি হতে পরিত্রাণ লাভ করে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।