আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 85)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 85)



হরকত ছাড়া:

فلم يك ينفعهم إيمانهم لما رأوا بأسنا سنت الله التي قد خلت في عباده وخسر هنالك الكافرون ﴿٨٥﴾




হরকত সহ:

فَلَمْ یَکُ یَنْفَعُهُمْ اِیْمَانُهُمْ لَمَّا رَاَوْا بَاْسَنَا ؕ سُنَّتَ اللّٰهِ الَّتِیْ قَدْ خَلَتْ فِیْ عِبَادِهٖ ۚ وَ خَسِرَ هُنَالِکَ الْکٰفِرُوْنَ ﴿۸۵﴾




উচ্চারণ: ফালাম ইয়াকুইয়ানফা‘উহুম ঈমা-নুহুম লাম্মা-রাআও বা’ছানা- ছুন্নাতাল্লা-হিল্লাতী কাদ খালাত ফী ‘ইবা-দিহী ওয়া খাছিরা হুনা-লিকাল কা-ফিরূন।




আল বায়ান: সুতরাং তারা যখন আমার আযাব দেখল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকার করল না। এটা আল্লাহর বিধান, তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে। আর তখনই কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৫. কিন্তু তারা যখন আমার শাস্তি দেখল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না।(১) আল্লাহর এ বিধান পূর্ব থেকেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং তখনই কাফিররা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা যখন আমার শাস্তি দেখল তখন তাদের ঈমান (গ্রহণ) তাদের কোন উপকারে আসল না। আল্লাহর (এ) বিধান তাঁর বান্দাহদের উপর (বহু) পূর্ব হতেই (কার্যকর হয়ে) চলে আসছে। আর এ ক্ষেত্রে কাফিররাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।




আহসানুল বায়ান: (৮৫) কিন্তু ওরা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন ওদের বিশ্বাস ওদের কোন উপকারে এল না। আল্লাহর এ বিধান (পূর্ব হতেই) তাঁর দাসদের মধ্যে অনুসৃত হয়ে আসছে।[1] আর তখন অবিশ্বাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হল। [2]



মুজিবুর রহমান: তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে এলোনা। আল্লাহর এই বিধান পূর্ব হতেই তার বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং সেই ক্ষেত্রে কাফিরেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



ফযলুর রহমান: যখন তারা আমার শাস্তি দেখতে পেল তখন তাদের এই ঈমান তাদের কোন উপকারে এলো না। আল্লাহর এ নিয়মই তাঁর বান্দাদের ক্ষেত্রে চলে এসেছে। আর সেখানেই কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



জহুরুল হক: কিন্ত যখন তারা আমাদের দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করেছে তখন তাদের বিশ্বাসস্থাপনা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহর রীতি যেটি বলবৎ হয়ে রয়েছে তাঁর বান্দাদের মধ্যে, আর অবিশ্বাসীরা তখনই নাস্তানাবুদ হবে।



Sahih International: But never did their faith benefit them once they saw Our punishment. [It is] the established way of Allah which has preceded among His servants. And the disbelievers thereupon lost [all].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৫. কিন্তু তারা যখন আমার শাস্তি দেখল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না।(১) আল্লাহর এ বিধান পূর্ব থেকেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং তখনই কাফিররা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আযাব সম্মুখে আসার পর তারা ঈমান আনছে। এ সময়কার ঈমান আল্লাহর কাছে গ্ৰহনীয় ও ধর্তব্য নয়। হাদীসে আছে- মুমূর্ষ অবস্থা ও মৃত্যু কষ্ট শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবা কবুল করেন। মৃত্যু কষ্ট শুরু হলে আর তাওবা কবুল হয় না। [তিরমিযী: ৩৫৩৭, ইবনে মাজাহঃ ৪২৫৩]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৫) কিন্তু ওরা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন ওদের বিশ্বাস ওদের কোন উপকারে এল না। আল্লাহর এ বিধান (পূর্ব হতেই) তাঁর দাসদের মধ্যে অনুসৃত হয়ে আসছে।[1] আর তখন অবিশ্বাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হল। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এটাই আল্লাহর নিয়ম চলে আসছে যে, আযাব প্রত্যক্ষ করার পর ঈমান অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়টা কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে।

[2] অর্থাৎ, আযাব প্রত্যক্ষ করার পর তাদের কাছে এ কথা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এখন ক্ষতি ও ধ্বংস ছাড়া আমাদের ভাগ্যে অন্য কিছু নেই।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৯-৮৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



(اَللہُ الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمُ .....مَّا کَانُوْا یَکْسِبُوْنَﮡ)



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হচ্ছে- যথা চতুস্পদ জন্তু, এগুলোতে আরোহন করা, এদের গোসত ভক্ষণ করা, আর এদের দ্বারা বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করা, সমুদ্রে নৌযানে আরোহণ করা এগুলো মূলত আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বান্দার প্রতি নিদর্শন ও তাঁর অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে।



(اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ .....وَخَسِرَ ھُنَالِکَ الْکٰفِرُوْنَ)



এখানে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় বিশ্ব ভ্রমণ করে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিসমূহের ওপর আপতিত শাস্তি প্রত্যক্ষ করে তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করছেন। অতীত জাতিসমূহ তাদের প্রবলশক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে রেহাই পায়নি। তাদেরকে শাস্তি পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল। সুতরাং তোমরাও যদি এরূপ অবাধ্য হও তাহলে তোমাদেরকেও এরূপ শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ বিষয়েও অবগত করে দিচ্ছেন যে, তোমরা শাস্তি আসার পূর্বে ঈমান আনো। কেননা যখন শাস্তি এসে যাবে তখন ঈমান এনে আর কোনই লাভ হবে না। পূর্ববর্তী জাতির লোকেরাও যখন শাস্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছিল তখন বলেছিল আমরা এক আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনলাম এবং যাদেরকে আমরা শরীক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম। যেমন ফির‘আউন বলেছিল-



(وَجٰوَزْنَا بِبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه۫ بَغْيًا وَّعَدْوًا ط حَتّٰيٓ إِذَآ أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّا الَّذِيْٓ اٰمَنَتْ بِه۪ بَنُوْآ إِسْرَا۬ئِيْلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ)



“আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করালাম এবং ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্যসহকারে সীমালঙ্ঘন করে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে ডুবতে শুরু করল তখন বলল : ‘আমি ঈমান এনেছি যে, তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই যাঁর প্রতি ঈমান এনেছে বানী ইসরাঈল এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ৯০)



কিন্তু ঐ সময়ের ঈমান কোনই কাজে আসেনি। ফির‘আউনের কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(آٰلْئٰنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِيْنَ)



‘এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা ইউনুস ১০ : ৯১)



সুতরাং আমাদের সকলকে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ বর্জন করতঃ ঈমানের ওপর বহাল থাকা উচিত।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করে নেয়া উচিত।

২. মৃত্যুর পূর্বেই ঈমান আনতে হবে। যখন মৃত্যুর সময় এসে যাবে তখন ঈমান এনে আর কোন লাভ হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮২-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী উম্মতদের খবর দিচ্ছেন যারা ইতিপূর্বে তাদের রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল। সাথে সাথে তিনি তাদের পরিণামে শাস্তি ভোগ করার কথাও বলেছেন। অথচ তারা এদের চাইতে বহুগুণে শক্তিশালী ছিল। ভূ-পৃষ্ঠে তারা বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করেছিল এবং তারা ছিল প্রচুর ধন-মালের অধিকারী। কিন্তু এগুলোর কোন কিছুই তাদের কোন উপকারে আসেনি। এগুলো তাদের শাস্তি না পেরেছে দূর করতে এবং না পেরেছে হ্রাস করতে। তারা ধ্বংস হওয়ারই যোগ্য ছিল। কেননা, তাদের কাছে যখন রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীলসমূহ সহ আগমন করেছিলেন এবং তাদের কাছে এনেছিলেন মু'জিযা ও পবিত্র তা’লীম, তখন তারা তাদের দিকে চোখ তুলেও দেখেনি, গর্বভরে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং রাসূলদের শিক্ষার প্রতি তারা ঘৃণা প্রদর্শন করেছিল। তারা বলেছিল যে, তারাই বড় আলেম বা বিদ্বান। তাদের মধ্যে বিদ্যার কোন অভাব নেই। হিসাব-নিকাশ এবং শাস্তি ও সওয়াব এগুলো কিছুই নয়। এভাবে নিজেদের অজ্ঞতাকে তারা জ্ঞান মনে করে নিয়েছিল। অতঃপর তাদের উপর এমন শাস্তি এসে পড়ে যা তারা মিথ্যা বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে উড়িয়ে দিতো। ঐ শাস্তি তাদেরকে তচনচ করে দেয়। তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহর শাস্তি আসতে দেখে তারা ঈমান আনয়নের কথা স্বীকার করে এবং একত্ববাদে বিশ্বাসী হয় এবং গায়রুল্লাহকে স্পষ্টভাবে অস্বীকারও করে। কিন্তু ঐ সময়ের তাওবা, ঈমান আনয়ন এবং আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ সবই বৃথা হয়। ফিরাউনও সমুদ্রে নিমজ্জিত হবার সময় বলেছিলঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই যার উপর বানু ইসরাঈল ঈমান এনেছে এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হলাম।` (১০:৯০) তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এখন? অথচ ইতিপূর্বে তুমি অবাধ্যাচরণ করে এসেছে এবং তুমি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।” (১০:৯১) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তার ঈমান কবুল করলেন না। কেননা, তার নবী হযরত মূসা (আঃ) তাদের বিরুদ্ধে যে বদ দু'আ করেছিলেন তা তিনি ককূল করে নিয়েছিলেন। হযরত মূসা (আঃ) ফিরাউন ও তার কওমের বিরুদ্ধে বদ দুআ করেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাদের অন্তরকে কঠিন করে দিন, সুতরাং তারা যেন ঈমান আনয়ন করে যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবলোকন করে।` (১০:৮৮) অনুরূপভাবে এখানেও আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করলো তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসলো না। আল্লাহর এই বিধান পূর্ব হতেই চলে আসছে।” অর্থাৎ এটাই আল্লাহর বিধান যে, যে কেউই শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর তাওবা করবে তার তাওবা গৃহীত হবে না। এজন্যেই হাদীসে এসেছেঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবা কবূল করে থাকেন যে পর্যন্ত না তার ঘড়ঘড়ি শুরু হয়ে যায়। (অর্থাৎ যে পর্যন্ত না প্রাণ কষ্ঠাগত হয়)।” যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়ে যায় তখন তার তাওবা কবূল হয় না। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “সেই ক্ষেত্রে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।