সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 77)
হরকত ছাড়া:
فاصبر إن وعد الله حق فإما نرينك بعض الذي نعدهم أو نتوفينك فإلينا يرجعون ﴿٧٧﴾
হরকত সহ:
فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ ۚ فَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ ﴿۷۷﴾
উচ্চারণ: ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফাইম্মা-নুরিয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযী না‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইলাইনা-ইউরজা‘ঊন।
আল বায়ান: অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর আমি তাদেরকে যে ওয়াদা দেই, তার কিছু অংশ যদি তোমাকে দেখাই অথবা তোমাকে মৃত্যু দেই, তাহলেও তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৭. সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। অতঃপর আমরা তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি প্ৰদান করি তার কিছু যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার মৃত্যু ঘটাই—তবে তাদের ফিরে আসা তো আমাদেরই কাছে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর, (কেননা) আল্লাহর ওয়া‘দা সত্য। অতঃপর আমি তাদেরকে (শাস্তির) যে ওয়া‘দা দিয়েছি তার কিছু যদি তোমাকে (এ পৃথিবীতেই) দেখিয়ে দেই অথবা (তাদেরকে শাস্তি দেয়ার পূর্বেই) তোমার মৃত্যু ঘটাই, (উভয় অবস্থাতেই) তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। (আমার শাস্তি থেকে তারা রেহাই পাবে না)।
আহসানুল বায়ান: (৭৭) সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।[1] আমি ওদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দিই[2] অথবা তার পূর্বে তোমার মৃত্যু ঘটাই- (সর্বাবস্থায়) ওদের প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট। [3]
মুজিবুর রহমান: সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করি তার কিছু যদি দেখিয়েই দিই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই - তাদের প্রত্যাবর্তনতো আমারই নিকট।
ফযলুর রহমান: অতএব, (হে নবী!) তুমি ধৈর্য ধর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমি তাদেরকে যে (শাস্তির) ওয়াদা করছি তার কিছুটা যদি তোমাকে দেখাই কিংবা তোমার মৃত্যু ঘটাই, তবুও তো তাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।
মুহিউদ্দিন খান: অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে।
জহুরুল হক: কাজেই তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিশ্চয় আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। সুতরাং তাদের যা ওয়াদা করা হয়েছে আমরা যদি তার কিছুটা তোমাকে দেখিয়েই দিই অথবা তোমার মৃত্যুই ঘটাই, সর্বাবস্থায় আমাদেরই কাছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
Sahih International: So be patient, [O Muhammad]; indeed, the promise of Allah is truth. And whether We show you some of what We have promised them or We take you in death, it is to Us they will be returned.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৭. সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। অতঃপর আমরা তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি প্ৰদান করি তার কিছু যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার মৃত্যু ঘটাই—তবে তাদের ফিরে আসা তো আমাদেরই কাছে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৭) সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।[1] আমি ওদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দিই[2] অথবা তার পূর্বে তোমার মৃত্যু ঘটাই- (সর্বাবস্থায়) ওদের প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট। [3]
তাফসীর:
[1] আর তা এই যে, আমি কাফেরদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব। আর এই প্রতিশ্রুতি সত্বরও পূরণ হতে পারে। অর্থাৎ, দুনিয়াতেই আমি তাদেরকে পাকড়াও করব অথবা আমার ইচ্ছানুযায়ী এতে বিলম্বও হতে পারে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, আমার পাকড়াও থেকে রেহাই পেয়ে কোথাও পালাতে পারবে না।
[2] অর্থাৎ, তোমার জীবদ্দশায় তাদেরকে আযাবে পতিত করি। আর হলও তা-ই। আল্লাহ কাফেরদের নিকট থেকে প্রতিশোধ নিয়ে মুসলিমদের চক্ষু শীতল করলেন। বদর যুদ্ধে ৭০ জন কাফের মারা গেল। হিজরী ৮ম সনে মক্কা বিজয় হল এবং নবী করীম (সাঃ)-এর যুগেই সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ মুসলিমদের কব্জায় চলে এল।
[3] অর্থাৎ, কাফেররা যদি পার্থিব শাস্তি থেকে বেঁচেও যায়, তবুও শেষে যাবে কোথায়? অবশেষে আমার কাছেই আসবে। আর এখানে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত আছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৫-৭৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ....)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তিনি যেন অস্বীকারকারীদের দেয়া কষ্টের ওপর বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার দেয়া প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত হবে। আর তা হলো এই যে, আমি কাফিরদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব। আর এটা আমি ইহজগতেও করতে পারি অথবা মৃত্যুর পরও তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারি।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যখন নির্ধারিত সময় এসে যাবে অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে সেদিন যারা অবিশ্বাসী ও মিথ্যাবাদী তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(اَمْرُ اللہِ) আল্লাহ তা‘আলার আদেশ বলতে কিয়ামতকে বুঝানো হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, অধৈর্য হওয়া যাবে না।
২. কোন রাসূল-এর পক্ষে মু‘জিযাহ নিয়ে আসা সম্ভব নয়, যদি তাতে আল্লাহর অনুমতি না থাকে।
৩. কিয়ামতের মাঠে পাপীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৭-৭৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে কাফিরদের তাঁকে অবিশ্বাস করার উপর ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি বলেনঃ হে রাসূল (সঃ)! যারা তোমার কথা মানছে না, বরং তোমাকে মিথ্যাবাদী বলছে এবং তোমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছে, তুমি এতে ধৈর্য ধর। তাদের উপর আল্লাহ তোমাকে জয়যুক্ত করবেন। পরিণামে সব দিক দিয়ে তোমারই মঙ্গল হবে। তুমি এবং তোমার অনুসারীরা সারা বিশ্বের উপর বিজয়ী থাকবে। আর আখিরাতের কল্যাণ তো শুধু তোমাদেরই জন্যে। জেনে রেখো যে, আমি তোমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছি তার কিছুটা আমি তোমার জীবদ্দশাতেই পূর্ণ করে দেখিয়ে দিবো। আর হয়েছিলও তাই। বদরের যুদ্ধের দিন কাফিরদের মস্তক দেহ হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। কুরায়েশদের বড় বড় নেতা মারা গিয়েছিল। পরিশেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ)-এর জীবদ্দশাতেই মক্কা বিজিত হয়। তিনি দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণ করেননি যে পর্যন্ত না সারা আরব উপদ্বীপ তাঁর পদানত হয় এবং তার শত্রুরা তাঁর সামনে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয় এবং মহান আল্লাহ তাঁর চক্ষু ঠাণ্ডা করেন। আর যদি আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে মৃত্যুদান করে নিজের নিকট উঠিয়েও নেন তবুও তাদের এটা জেনে রাখা উচিত যে, তাদেরকে তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাবেন।
এরপর আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে আরো সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেনঃ ‘আমি তো তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম; তাদের কারো কারো কথা আমি তোমার নিকট বিবৃত করেছি আর কারো কারো কথা তোমার নিকট বিবৃত করিনি। যেমন সূরায়ে নিসাতেও এটা বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং যাদের ঘটনা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি তাদের সাথে তাদের কওম কি দুর্ব্যবহার করেছিল এবং কিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তা তুমি দেখে নাও ও বুঝে নাও! আর তাদের কারো কারো ঘটনা আমি তোমার নিকট বিবৃত করিনি।” এদের সংখ্যা তাদের তুলনায় অনেক বেশী। যেমন আমরা সূরায়ে নিসার তাফসীরে বর্ণনা করেছি। সুতরাং প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই প্রাপ্য।
অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন বা মুজিযা দেখানো কোন রাসূলের কাজ নয়। হ্যা, তবে আল্লাহর হুকুম ও অনুমতির পর তারা তা দেখাতে পারেন। কেননা, নবীদের অধিকারে কোন কিছুই নেই। যখন আল্লাহর আযাব কাফিরদের উপর এসে পড়ে তখন তারা আর রক্ষা পেতে পারে না। মুমিন পরিত্রাণ পেয়ে যায় এবং মিথ্যাশ্রয়ীরা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।