সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 68)
হরকত ছাড়া:
هو الذي يحيي ويميت فإذا قضى أمرا فإنما يقول له كن فيكون ﴿٦٨﴾
হরকত সহ:
هُوَ الَّذِیْ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ۚ فَاِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ کُنْ فَیَکُوْنُ ﴿۶۸﴾
উচ্চারণ: হুওয়াল্লাযী ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ফাইযা-কাদাআমরান ফাইন্নামা-ইয়াকূলুলাহূ কুন ফাইয়াকূন।
আল বায়ান: তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। আর তিনি যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি এজন্য বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৮. তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি তার জন্য বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান। যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত করেন, তার জন্য তিনি বলেন- হও, তখন তা হয়ে যায়।
আহসানুল বায়ান: (৬৮) তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান[1] এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন, তখন তিনি বলেন, ‘হও’ এবং তা হয়ে যায়।[2]
মুজিবুর রহমান: তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি বলেনঃ হও, এবং তা হয়ে যায়।
ফযলুর রহমান: তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। আর যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন তাকে বলেন, জ্ঞহওঞ্চ, আর তা হয়ে যায়।
মুহিউদ্দিন খান: তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’-তা হয়ে যায়।
জহুরুল হক: তিনিই সেইজন যিনি জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সুতরাং তিনি যখন কোনো ব্যাপারের বিধান করেন তখন শুধুমাত্র তিনি সে-সন্বন্ধে বলেন -- 'হও’, ফলে তা হয়ে যায়।
Sahih International: He it is who gives life and causes death; and when He decrees a matter, He but says to it, "Be," and it is.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৮. তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি তার জন্য বলেন ‘হও”, ফলে তা হয়ে যায়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৮) তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান[1] এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন, তখন তিনি বলেন, ‘হও” এবং তা হয়ে যায়।[2]
তাফসীর:
[1] জীবিত করা ও মারা তাঁরই এখতিয়ারাধীন ব্যাপার। তিনি প্রাণহীন শুক্রবিন্দুকে বিভিন্ন স্তরের উপর দিয়ে অতিক্রম করিয়ে একজন জীবন্ত মানুষের আকৃতি দান করেন। অতঃপর নির্দিষ্ট এক সময়ে জীবন্ত এই মানুষটির প্রাণ কেড়ে নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঘুম পাড়িয়ে দেন।
[2] তাঁর মহাশক্তির অবস্থা হল এই যে, তাঁর كُنْ (হও) শব্দ দ্বারা সেই জিনিস অস্তিত্বে চলে আসে, যা (হওয়ার) তিনি ইচ্ছা করেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬৬-৬৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
( قُلْ إِنِّيْ نُهِيْتُ أَنْ أَعْبُدَ....)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার একত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং শির্ক থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানবজাতিকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : হে নাবী! তুমি বলে দাও : আল্লাহ তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে আমাদের নিষেধ করেছেন। চাই তা পাথরের মূর্তি হোক, নাবী, ওলী বা কবরে সমাধিস্থ মৃত হোক। তিনি কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। কেননা তিনি হলেন একমাত্র প্রতিপালক যিনি ইবাদতের প্রকৃত হকদার।
(هُوَ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ......)
“তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে, ...” এখানে আল্লাহ তা‘আলা মানবসৃষ্টির স্তরসমূহ উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে সূরা হাজ্জ-এর ৫ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(فَإِذَا قَضٰيٓ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُوْلُ لَه۫ كُنْ فَيَكُوْنُ)
“যখন তিনি কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন তিনি বলেন : হও এবং তা হয়ে যায়।” এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কর্মক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর ৪০ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করতে হবে, কেননা তিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়।
২. মানুষের সৃষ্টি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারলাম।
৩. জীবন-মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬৬-৬৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি এই মুশরিকদেরকে বলে দাও- আল্লাহ তা'আলা নিজের ছাড়া অন্য যে কারো ইবাদত করতে স্বীয় সৃষ্টজীবকে নিষেধ করে দিয়েছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের হকদার নয়। এর বড় দলীল হলো এর পরবর্তী আয়াতটি যাতে বলা হয়েছেঃ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা হতে, পরে শুক্রবিন্দু হতে, তারপর রক্তপিণ্ড হতে, তারপর তোমাদেরকে বের করেন (তোমাদের মায়ের পেট হতে) শিশুরূপে, অতঃপর যেন তোমরা উপনীত হও যৌবনে, তারপর হও বৃদ্ধ। এসব কাজ ঐ এক আল্লাহর নির্দেশক্রমে হয়ে থাকে। সুতরাং এটা কত বড়ই না অকৃতজ্ঞতা যে, তার সাথে অন্য কারো ইবাদত করা হবে। তোমাদের মধ্যে কারো এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে। কেউ পূর্বে নষ্ট হয়ে যায় অর্থাৎ শিশু পরিপুষ্ট হওয়ার পূর্বে গর্ভপাত হয়ে যায়। কেউ শৈশবেই মারা যায়, কেউ মারা যায় যৌবনাবস্থায় এবং বার্ধক্যের পূর্বে প্রৌঢ় অবস্থায় দুনিয়া হতে বিদায় নেয়। কুরআন কারীমের অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার চাহিদামত একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমি মাতৃ গর্ভাশয়ে স্থিতিশীল রাখি।” (২২:৫) আর এখানে মহান আল্লাহ বলেনঃ এটা এই জন্যে যে, তোমরা নির্ধারিত কাল প্রাপ্ত হও এবং যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার। অর্থাৎ তোমাদের অবস্থার এই পরিবর্তন দেখে তোমরা যেন এই বিশ্বাস স্থাপন কর যে, এই দুনিয়ার পরেও তোমাদেরকে নতুন জীবনে একদিন দণ্ডায়মান হতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেনঃ তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তার কোন হুকুমকে, কোন ফায়সালাকে এবং তার ইচ্ছাকে কেউ টলাতে পারে না। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই হয়ে থাকে এবং যা তিনি চান না তা হওয়া সম্ভব নয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।