আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 65)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 65)



হরকত ছাড়া:

هو الحي لا إله إلا هو فادعوه مخلصين له الدين الحمد لله رب العالمين ﴿٦٥﴾




হরকত সহ:

هُوَ الْحَیُّ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ فَادْعُوْهُ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ؕ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۶۵﴾




উচ্চারণ: হুওয়াল হাইয়ুলাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাদ‘ঊহু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা আলহামদু লিল্লা হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।




আল বায়ান: তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা দীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাক। সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি সৃষ্টিকুলের রব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৫. তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা তাঁকেই ডাক, তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই।




তাইসীরুল ক্বুরআন: চিরঞ্জীব তিনি, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই তাঁকে ডাক আনুগত্যকে একমাত্র তাঁরই জন্য বিশুদ্ধ করে। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।




আহসানুল বায়ান: (৬৫) তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন (সত্যিকার) উপাস্য নেই, সুতরাং তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাঁকে ডাক।[1] সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য।



মুজিবুর রহমান: তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। সুতরাং তোমরা তাঁকেই ডাক, তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহর প্রাপ্য।



ফযলুর রহমান: তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকেই ডাক, দ্বীনকে কেবল তাঁরই জন্য নিবেদিত করে। সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নিখিল জগতের প্রভু।



মুহিউদ্দিন খান: তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর।



জহুরুল হক: তিনি সদাজীবিত, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং ধর্মে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠচিত্তে তাঁকেই ডাকো। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি বিশ্বজগতের প্রভু।



Sahih International: He is the Ever-Living; there is no deity except Him, so call upon Him, [being] sincere to Him in religion. [All] praise is [due] to Allah, Lord of the worlds.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৫. তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা তাঁকেই ডাক, তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৫) তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন (সত্যিকার) উপাস্য নেই, সুতরাং তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাঁকে ডাক।[1] সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যখন সব কিছু তিনিই করেন এবং তিনিই দেন, অন্য কেউ না সৃষ্টিতে তাঁর শরীক আছে, আর না এখতিয়ারাদিতে, তাহলে ইবাদতের যোগ্যও তিনি একাই। অন্য কেউ এতে শরীক হতে পারে না। সাহায্য প্রার্থনা এবং ফরিয়াদও তাঁরই কাছে কর। তিনিই সকলের ফরিয়াদ ও দরখাস্ত শোনার ক্ষমতা রাখেন। কারণ-ঘটিত নয় এমন অস্বাভাবিক প্রার্থনা শোনার ক্ষমতা অন্য কেউ রাখে না। ব্যাপার যখন এ রকম, তখন অন্যরা বিপদ দূর এবং প্রয়োজন পূরণ কিভাবে করতে পারে?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬০-৬৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। পূর্বোক্ত আয়াতে যেহেতু মহান আল্লাহ কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা আলোচনা করেছেন, তাই এখন এ আয়াতে এমন পথের দিশা দেয়া হচ্ছে যা অবলম্বন করলে মানুষ পরকালের সৌভাগ্য লাভ করতে পারবে। বেশির ভাগ তাফসীরবিদগণ আয়াতে দু‘আর অর্থ করেছেন ইবাদত। অর্থাৎ কেবল এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করো। যেমন হাদীসেও দু‘আকে একটি ইবাদত বলা হয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :



الدعاء هوالعبادة



দু‘আ, সেটি হলো ইবাদত। (মুসনাদ আহমাদ ৪/২৭১, মিশকাত হা. ২২৩০)



এ ছাড়াও পরে উল্লিখিত



(يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِيْ)



থেকে পরিস্কার হয়ে যায় যে, এর অর্থ ইবাদত। কেউ কেউ বলেন, দু‘আ বলতে দু‘আ করাই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মঙ্গল অর্জন ও অমঙ্গল দূরীভূত করার জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করা। তবে প্রথম অর্থটাই অধিক সঠিক ।



( اَللّٰهُ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ.... مُبْصِرًا)



এ সম্পর্কে সূরা ফুরক্বান-এর ৪৭ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



( اَللّٰهُ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ.....)



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতা এবং তিনি বান্দার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন সে কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি পৃথিবীকে করেছেন মানবজাতির জন্য বসবাস উপযোগী। যেখানে মানুষ বসবাস, চলাফেরা, কাজকর্ম এবং জীবন-যাপন করছে। পরিশেষে মৃত্যুবরণ করে কিয়ামত পর্যন্ত এরই মধ্যে সমাধিস্থ থাকবে। আর এ জমিনের ওপর তিনি আকাশকে করেছেন ছাদস্বরূপ। এবং তিনি তাদের সৃষ্টিকার্য সম্পন্ন করার পর তাদেরকে জীবিকা হিসেবে দিয়েছেন এমন সব খাদ্য যা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(يٰٓأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ لا-‏ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَّالسَّمَا۬ءَ بِنَا۬ءً ص وَّأَنْزَلَ مِنَ السَّمَا۬ٓءِ مَآءً فَأَخْرَجَ بِه۪ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ ج فَلَا تَجْعَلُوْا لِلّٰهِ أَنْدَادًا وَّأَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ)



“হে মানবমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বনকারী হও। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা ও আকাশকে ছাদস্বরূপ করেছেন এবং যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার দ্বারা তোমাদের জন্য জীবিকাস্বরূপ ফল উৎপাদন করেন, অতএব তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক কর না।” (সূরা বাকারাহ্ ২ : ২১-২২)



এবং তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সর্বোত্তম আকৃতিতে। জমিনে যত প্রকার সৃষ্টিজীব রয়েছে তার মধ্যে মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ অবয়ব দান করেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِيْ۬ أَحْسَنِ تَقْوِيْمٍ)‏



“আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে”। (সূরা আত্ তীন ৯৫ : ৪)



এগুলো এটা প্রমাণ করে যে, স্রষ্টা হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই উপাস্য, অন্য কেউ নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকলে তিনি বান্দার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন- এ কথা জানা গেল।

২. আল্লাহ তা‘আলার কতিপয় নেয়ামতের কথা জানতে পারলাম।

৩. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে, তার প্রশংসা করতে হবে এবং তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬১-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি রাত্রিকে সৃষ্টি করেছেন বিশ্রামের জন্যে, আর দিবসকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল, যাতে মানুষ তাদের কাজে-কর্মে, সফরে এবং জীবিকা উপার্জনে সুবিধা লাভ করতে পারে এবং সারা দিনের ক্লান্তি রাত্রির বিশ্রামের মাধ্যমে দূর হতে পারে। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টজীবের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই মহান আল্লাহর নিয়ামতরাজির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। এই সমুদয় জিনিসের সৃষ্টিকর্তা এবং এই শান্তি ও বিশ্রামের ব্যবস্থাপক একমাত্র আল্লাহ। তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি ছাড়া সৃষ্টজীবের পালনকর্তা আর কেউ নেই। তাই তো মহান আল্লাহ বলেনঃ এই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক, সবকিছুর স্রষ্টা; তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই! সুতরাং তোমরা কিভাবে বিপদগামী হচ্ছ? আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত করছে তারা তো নিজেরাই সষ্ট। সুতরাং তারা কোন কিছুই সৃষ্টি করেনি। বরং তোমরা যেসব মূর্তির উপাসনা করছো সেগুলো তো তোমরা নিজেদের হাতেই তৈরী করেছে। এদের পূর্ববর্তী মুশরিকরাও এভাবেই বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং বিনা দলীলে তারা গায়রুল্লাহর ইবাদত করতো। নিজেদের কুপ্রবৃত্তিকে সামনে রেখে তারা আল্লাহর দলীল প্রমাণকে অস্বীকার করতো। নিজেদের অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতাকে সামনে করে তারা বিভ্রান্ত হতো।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহই তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী। অর্থাৎ পৃথিবীকে তিনি তোমাদের জন্যে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন, যাতে আরাম-আয়েশে তোমরা এখানে জীবন যাপন করতে পার, চলো, ফিরো এবং গমনাগমন কর। যমীনের উপর পাহাড়-পর্বত স্থাপন করে তিনি যমীনকে হেলা দোলা হতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আসমানকে তিনি ছাদ স্বরূপ বানিয়েছেন যা সব দিক দিয়েই রক্ষিত রয়েছে। তিনিই তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন এবং ঐ আকৃতি করেছেন খুবই উৎকৃষ্ট। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তিনি সঠিকভাবে সজ্জিত করেছেন। মানানসই দেহ এবং সেই মুতাবেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সুন্দর চেহারা দান করেছেন। আর তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন উৎকৃষ্ট রিযক বা আহার্য। সৃষ্টি করেছেন তিনি, বসতি দান করেছেন তিনি, পানাহার করাচ্ছেন তিনি এবং পোশাক পরিচ্ছদ দান করেছেন তিনি। সুতরাং সঠিক অর্থে তিনিই হলেন সৃষ্টিকর্তা, আহার্যদাতা। তিনিই জগতসমূহের প্রতিপালক। যেমন সূরায়ে বাকারায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে মানবমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে তদ্দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্যে ফল-মূল উৎপাদন করেন। সুতরাং জেনে শুনে কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না।”(২:২১-২২)।

আল্লাহ তা'আলা এখানেও এ সমুদয় সৃষ্টির বর্ণনা দেয়ার পর বলেনঃ “এই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক! কত মহান জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্! তিনি চিরঞ্জীব। তিনি শুরু হতেই আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন। তাঁর লয় নেই, ক্ষয় নেই। তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ। তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত। তার কোন গুণ অন্য কারো মধ্যে নেই। তাঁর সমতুল্য কেউই নেই। সুতরাং তোমাদের উচিত তোমরা তাঁর তাওহীদকে মেনে নিয়ে তাঁরই কাছে প্রার্থনা জানাতে থাকবে এবং তাঁরই ইবাদতে লিপ্ত থাকবে। সমুদয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য।

ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, আহলে ইলমের একটি দলের উক্তি হলোঃ “যে ব্যক্তি (আরবী) ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে তার এর সাথে সাথে (আরবী) পড়ে নেয়াও উচিত, যাতে এই আয়াতের উপর আমল হয়ে যায়।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতেও এটা বর্ণিত আছে। হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর (রঃ) বলেনঃ “যখন তুমি (আরবী) পাঠ করবে তখন পড়ে নিবে এবং সাথে সাথে (আরবী) এটাও পাঠ করবে।”

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ) প্রত্যেক নামাযের সালামের পরে নিম্নলিখিত কালেমাগুলো পাঠ করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, রাজ্য তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া পাপ হতে বিরত থাকা যায় না এবং ইবাদত করার শক্তিও থাকে না। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি। নিয়ামত তাঁরই, অনুগ্রহ তাঁরই এবং উত্তম প্রশংসাও তারই প্রাপ্য। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আমরা একনিষ্ঠভাবে তারই আনুগত্য করি, যদিও কাফিররা অসন্তুষ্ট হয়। আর তিনি বলতেন যে, রাসূলুল্লাহও (সঃ) ঐ কালেমাগুলো প্রত্যেক নামাযের পরে পাঠ করতেন। (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।