সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 49)
হরকত ছাড়া:
وقال الذين في النار لخزنة جهنم ادعوا ربكم يخفف عنا يوما من العذاب ﴿٤٩﴾
হরকত সহ:
وَ قَالَ الَّذِیْنَ فِی النَّارِ لِخَزَنَۃِ جَهَنَّمَ ادْعُوْا رَبَّکُمْ یُخَفِّفْ عَنَّا یَوْمًا مِّنَ الْعَذَابِ ﴿۴۹﴾
উচ্চারণ: ওয়া কা-লাল্লাযীনা ফিন্না-রি লিখাযানাতি জাহান্নামাদ‘ঊ রাব্বাকুম ইউখাফফিফ ‘আন্নাইয়াওমাম মিনাল ‘আযা-ব।
আল বায়ান: আর যারা আগুনে থাকবে তারা আগুনের দারোয়ানদেরকে বলবে, ‘তোমাদের রবকে একটু ডাকো না! তিনি যেন একটি দিন আমাদের আযাব লাঘব করে দেন।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৯. আর যারা আগুনের অধিবাসী হবে তারা জাহান্নমের প্রহরীদেরকে বলবে, তোমাদের রবকে ডাক, তিনি যেন আমাদের থেকে শাস্তি লাঘব করেন এক দিনের জন্য।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আগুনের বাসিন্দারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে- তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দু‘আ কর, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের শাস্তি কমিয়ে দেন।
আহসানুল বায়ান: (৪৯) জাহান্নামীরা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রতিপালককে বল, তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে একদিনের শাস্তি লাঘব করেন।’
মুজিবুর রহমান: জাহান্নামীরা ওর প্রহরীদেরকে বলবেঃ তোমাদের রবের নিকট প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের হতে লাঘব করেন শাস্তি, এক দিনের জন্য।
ফযলুর রহমান: যারা আগুনের মধ্যে থাকবে তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, “তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে একটু দোয়া করো, তিনি যেন আমাদের (অন্তত) একদিনের শাস্তি লাঘব করে দেন।”
মুহিউদ্দিন খান: যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।
জহুরুল হক: আর যারা আগুনের মধ্যে রয়েছে তারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে -- "তোমাদের প্রভুকে ডেকে বল তিনি যেন একটা দিন আমাদের থেকে শাস্তির কিছুটা লাঘব করে দেন।"
Sahih International: And those in the Fire will say to the keepers of Hell, "Supplicate your Lord to lighten for us a day from the punishment."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৯. আর যারা আগুনের অধিবাসী হবে তারা জাহান্নমের প্রহরীদেরকে বলবে, তোমাদের রবকে ডাক, তিনি যেন আমাদের থেকে শাস্তি লাঘব করেন এক দিনের জন্য।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৯) জাহান্নামীরা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রতিপালককে বল, তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে একদিনের শাস্তি লাঘব করেন।”
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৭-৫০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
জাহান্নামীরা জাহান্নামে পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করবে এবং একজন অপরজনকে দোষারোপ করবে- সে সম্পর্কেই উক্ত আয়াতগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে। যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করবেন তখন একদল প্রবেশ করবে জান্নাতে, আর অন্যদল প্রবেশ করবে জাহান্নামে। জাহান্নামীরা জাহান্নামে পরস্পর ঝগড়া করবে এবং একে অপরকে দোষারোপ করবে। যারা দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলাকে ব্যতীত অন্যের ইবাদত করত তারা তাদের নেতাদেরকে বলবে : আমরা তো দুনিয়াতে তোমাদেরই অনুসরণ করতাম। আজ তোমরা আমাদের থেকে কিছু শাস্তি রহিত করো। তখন তারা তা করতে অস্বীকার করবে। এমনকি তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে : তারা যেন আল্লাহর নিকট আবেদন করে একদিনের জন্য হলেও শাস্তিকে হালকা করার জন্য। তখন প্রহরীরা বলবে! তোমরা নিজেরাই প্রার্থনা করো। পরিশেষে তারা নিজেরাই প্রার্থনা করবে কিন্তু সেখানে তাদের প্রার্থনা শোনা হবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(قَالَ اخْسَئُوْا فِيْهَا وَلَا تُكَلِّمُوْنِ)
আল্লাহ বলবেন, “তোরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক্ এবং আমার সাথে কোন কথা বলিস্ না।’ (সূরা মু’মিনূন ২৩ : ১০৮)
এভাবেই তারা প্রতিনিয়ত চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। যে শাস্তির কোনই ঘাটতি বা হ্রাস করা হবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. জাহান্নামীরা জাহান্নামে ঝগড়া করবে- এ কথা জানা গেল।
২. জাহান্নামীরা শাস্তি কমানোর জন্য প্রার্থনা করবে, কিন্তু তাদের প্রার্থনা কবূল করা হবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৭-৫০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, জাহান্নামীরা জাহান্নামের মধ্যে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদে ও তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়ে পড়বে। ছোটরা বড়দের সাথে বাক-বিতণ্ডা করবে। অর্থাৎ অনুসারীরা যাদের অনুসরণ করতো এবং বড় বলে মানতো ও তাদের কথা মত চলতো তাদেরকে বলবেঃ “দুনিয়ায় আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা আমাদেরকে যা করার আদেশ করতে আমরা তা পালন করতাম। তোমাদের কুফরী ও বিভ্রান্তিমূলক হুকুমও আমরা মেনে চলতাম। তোমাদের পবিত্রতা, জ্ঞান, মর্যাদা এবং নেতৃত্বের ভিত্তিতে আমরা সবই মানতাম। এখন এই ভয়াবহ অবস্থায় তোমরা আমাদের কোন উপকার করতে পারবে কি? এখন আমাদের শাস্তির কিছু অংশ তোমরা নিজেদের উপর উঠিয়ে নাও তো।” তাদের এ কথার জবাবে ঐ নেতারা বলবেঃ “আমরা নিজেরাও তো তোমাদের সাথে জ্বলতে পুড়তে রয়েছি। আমাদের উপর যে শাস্তি হচ্ছে তা কি কিছু কম? মোটেই কম বা হালকা নয়। সুতরাং কি করে আমরা তোমাদের শাস্তির কিছু অংশ আমাদের উপর উঠাতে পারি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তো বান্দাদের বিচার করে ফেলেছেন। প্রত্যেককেই তিনি তার অসৎ আমল অনুযায়ী শাস্তি দিয়েছেন। এটা কম করা সম্ভব নয়।` যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি বলবেনঃ প্রত্যেকের জন্যে দ্বিগুণ (শাস্তি), কিন্তু তোমরা জান না।' (৭:৩৮)
মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “জাহান্নামীরা ওর প্রহরীদেরকে বলবেঃ তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের হতে লাঘব করেন শাস্তি এক দিনের। অর্থাৎ জাহান্নামীরা যখন বুঝে নিবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের দু'আ কবুল করবেন না, বরং তিনি তাদের কথার দিকে কানও দেন না। এমনকি তাদেরকে ধমকের সুরে বলে দিয়েছেনঃ “তোমরা এখানেই পড়ে থাকো এবং আমার সাথে কথা বলো না, তখন তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, যারা দুনিয়ার জেলখানার রক্ষক ও প্রহরীর মত জাহান্নামের প্রহরী হিসেবে রয়েছেনঃ ‘তোমরাই আমাদের জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট একটু প্রার্থনা কর যে, তিনি যেন এক দিনের জন্যে হলেও আমাদের শাস্তি লাঘব করেন। তারা উত্তরে বলবেনঃ “তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট নিদর্শনসহ তোমাদের রাসূলগণ আগমন করেননি?' তারা জবাবে বলবেঃ ‘হ্যা, আমাদের নিকট রাসূলদের (আঃ) আগমন ঘটেছিল বটে।' তখন ফেরেশতাগণ বলবেনঃ তাহলে তোমরা নিজেরাই আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ কর। আমরা তোমাদের পক্ষ হতে তার কাছে কোনই আবেদন করতে পারবো না। বরং আমরা নিজেরাও আজ তোমাদের হা-হুতাশের প্রতি কোনই দৃকপাত করবো না। আমরা নিজেরাও তো। তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট রয়েছি। আমরা আজ তোমাদের শত্রু। আমরা তোমাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি যে, তোমরা হয় নিজেরাই দু'আ কর অথবা অন্য কেউ তোমাদের জন্যে দু'আ করুক, তোমাদের শাস্তি হালকা হওয়া অসম্ভব। কাফিরদের প্রার্থনা প্রত্যাখ্যাত ও ব্যর্থই হয়ে থাকে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।