আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 2)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 2)



হরকত ছাড়া:

تنزيل الكتاب من الله العزيز العليم ﴿٢﴾




হরকত সহ:

تَنْزِیْلُ الْکِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الْعَزِیْزِ الْعَلِیْمِ ۙ﴿۲﴾




উচ্চারণ: তানযীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আযীযিল ‘আলীম।




আল বায়ান: মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে এই কিতাব নাযিলকৃত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২. এ কিতাব নাযিল হয়েছে আল্লাহর কাছ থেকে যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ—




তাইসীরুল ক্বুরআন: এ কিতাব নাযিল হয়েছে মহা প্রতাপের অধিকারী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে।




আহসানুল বায়ান: (২) এ গ্রন্থ পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ[1] আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ হয়েছে--[2]



মুজিবুর রহমান: এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে –



ফযলুর রহমান: এই কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে; যিনি পরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী,



মুহিউদ্দিন খান: কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।



জহুরুল হক: এই গ্রন্থের অবতারণ মহাশক্তিশালী, সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে,



Sahih International: The revelation of the Book is from Allah, the Exalted in Might, the Knowing.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২. এ কিতাব নাযিল হয়েছে আল্লাহর কাছ থেকে যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ—


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২) এ গ্রন্থ পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ[1] আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ হয়েছে--[2]


তাফসীর:

[1] তিনি পরাক্রমশালীঃ তাঁর শক্তি ও প্রতাপের সামনে কেউ লেজ হিলাতে পারে না। তিনি সর্বজ্ঞঃ তাঁর নিকটে অণুপরিমাণ কোন বস্তুও গুপ্ত নয়; যদিও তা অতি মোটা কোন পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

[2] تَنْزِيْلٌ হল مُنَزِّلٌ এর অর্থে। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে মিথ্যার কোন অবকাশ নেই।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ :



(الْمُؤْمِنُ) মু’মিন শব্দের অর্থ বিশ্বাস স্থাপনকারী, অর্থাৎ যে ব্যক্তি ঈমানের রুকনগুলো অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও আমলে পরিণত করে সে ব্যক্তি মু’মিন। এ সূরাতে মু’মিন ব্যক্তিদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ মর্যাদার কথা আলোচনা করা হয়েছে বলে সূরাকে সূরা আল মু’মিন নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরার তৃতীয় আয়াতে উল্লেখিত غَافِرِ শব্দের দিকে লক্ষ্য করে একে সূরা আল গাফিরও বলা হয়। আবার সূরা “ত্বাওল”-ও বলা হয়।



১-৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



حٰمٓ (হা-মীম) এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর সম্পর্কে সূরা আল বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর সঠিক অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের কিছু বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা তিনি হলেন বান্দার পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবূলকারী। অর্থাৎ যদি কেউ আল্লাহ তা‘আলার নিকট অপরাধ করার পর ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেন এবং যে কারণে তাওবা করে সে তাওবাকে তিনি কবূল করে নেন। কেউ এর অর্থ করেছেন যে, তাঁর বন্ধুদের জন্য ক্ষমাকারী এবং কাফির ও মুশরিকদের তাওবা কবূলকারী যদি তারা তাওবা করে। আর তাওবা না করলে তিনি হলেন কঠোর শাস্তিদাতা। অর্থাৎ যারা ঈমান বর্জন করে আল্লাহ তা‘আলার সাথে বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘনের পথ অবলম্বন করেছে তাদের জন্য তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। যেমন তিনি অতীব দয়াশীল তেমনি তাঁর শাস্তিও বড় কঠোর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(نَبِّئْ عِبَادِيْٓ أَنِّيْٓ أَنَا الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ لا - وَأَنَّ عَذَابِيْ هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيْمُ)‏



“আমার বান্দাদেরকে বলে দাও যে, আমি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু এবং আমার শাস্তি‎- সে অতি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি‎!” (সূরা হিজ্র ১৫ : ৪৯-৫০)



সুতরাং প্রতিটি মানুষকে স্মরণ রাখা উচিত আল্লাহ তা‘আলা যেমন ক্ষমাশীল তেমনি কঠিন শাস্তিদাতা। তাঁর ক্ষমার আশার পাশাপাশি শাস্তিকেও ভয় করতে হবে।



(ذِي الطَّوْل)-طول)



অর্থ হলো স্বচ্ছলতা, ধনৈশ্বর্য। অর্থাৎ তিনিই স্বচ্ছলতা ও ধনশ্বৈর্য দানকারী। কেউ কেউ বলেছেন- এর অর্থ পুরস্কার ও অনুগ্রহ। অর্থাৎ তিনি স্বীয় বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন আর তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহকারী।



আল্লাহ তা‘আলার কত অনুগ্রহ! বান্দা অপরাধ করার পরেও তাওবা করলে তিনি ক্ষমা করে দেন, তিনি খুশী হন। প্রতিটি মু’মিন ব্যক্তির উচিত হবে আল্লাহ তা‘আলার কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কুরআন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতারিত জীবন বিধান, একটি মহান গ্রন্থ ।

২. আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য ক্ষমাশীল যারা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, যারা অহংকার প্রকাশ করে তাদের জন্য তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।

৩. আল্লাহ ছাড়া কোন সঠিক মা‘বূদ নেই। মৃত্যুর পর সকলকে তাঁরই নিকট ফিরে যেতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: পূর্বযুগীয় কোন কোন গুরুজনের উক্তি এই যে, যেসব সূরা (আরবী) দ্বারা শুরু করা হয়েছে ওগুলোকে (আরবী) বলা মাকরূহ্, ওগুলোকে (আরবী) বলা উচিত। হযরত মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রঃ)-ও এ কথাই বলেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) হলো কুরআন কারীমের মুখবন্ধ। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, প্রত্যেক জিনিসেরই দরযা রয়েছে, আর (আরবী) অথবা (বলেছেনঃ) (আরবী) হলো কুরআন কারীমের দর। মাসআ’র ইবনে কুদাম (রঃ) বলেন যে, এই সূরাগুলোকে (আরবী) বলা হতো। (আরবী) কলা হয় নব বধূকে। হযরত আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন যে, কুরআন কারীমের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত যে তার পরিবারবর্গের জন্যে কোন একটি ভাল মঞ্জিলের অনুসন্ধানে বের হলো। সে এমন এক জায়গায় পৌছলো যেখানে সবেমাত্র যেন বৃষ্টিপাত হয়েছে। সে আরো একটু অগ্রসর হলো। দেখে যে, সবুজ-শ্যামল কয়েকটি বাগান রয়েছে। সে প্রথমে সিক্ত ভূমি দেখেই তো মুগ্ধ হয়েছিল, এখন সে আরো বেশী মুগ্ধ হলো। তখন তাকে বলা হলোঃ প্রথমটির দৃষ্টান্ত তো হলো কুরআন কারীমের শ্রেষ্ঠত্বের দৃষ্টান্ত এবং ঐ বাগানগুলোর দৃষ্টান্ত হলো এমনই যেমন কুরআন কারীমে (আরবী) যুক্ত সূরাগুলো রয়েছে। (ইমাম বাগাভী (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, প্রত্যেক জিনিসেরই দরযা থাকে, কুরআন কারীমের দরযা হলো (আরবী) যুক্ত সূরাগুলো।

হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “যখন আমি কুরআন কারীম পাঠ করতে করতে যুক্ত সূরাগুলোর উপর পৌছি তখন আমার মনে হয় যে, আমি যেন সবুজ-শ্যামল ফুলে-ফলে ভর্তি বাগানসমূহে ভ্রমণ করছি।”

একটি লোক হযরত আবু দারদা (রাঃ)-কে মসজিদ নির্মাণ করতে দেখে জিজ্ঞেস করেঃ “এটা কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আমি এটা (আরবী) দ্বারা শুরুকৃত সূরাগুলোর জন্যে নির্মাণ করছি।” এটা হলো ঐ মসজিদ যা দামেশকের দূর্গের মধ্যে রয়েছে এবং তাঁরই নামে সম্পর্কিত আছে। এও হতে পারে যে, ওর হিফাযত হযরত আবু দারদা (রাঃ)-এর নেক নিয়তের কারণে হয়েছিল এবং যে উদ্দেশ্যে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল তারই বরকতের কারণে হয়েছিল। এই কথায় শক্রদের উপর জয় লাভ করার দলীলও রয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কোন এক জিহাদে তাঁর সাহাবীদেরকে (রাঃ) বলেনঃ “রাত্রে তোমরা অকস্মাৎ আক্রমণ করলে (আরবী) বল।” আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) বল।”

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী এবং হা-মীম-আল মুমিনের প্রথম অংশ পাঠ করে নেয়, সে ঐ দিনের সর্বপ্রকারের অনিষ্ট হতে রক্ষা পায়।” (এ হাদীসটি হাফিয আবু বকর আল বার (রঃ) এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তির ব্যাপারে কিছু সমালোচনা রয়েছে)

১-৩ নং আয়াতের তাফসীর:

সূরাসমূহের শুরুতে যে হুরূফে মুকাত্তাআ'ত বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলো এসে থাকে সেগুলোর পূর্ণ আলোচনা সূরায়ে বাকারার তাফসীরের শুরুতে গত হয়েছে। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। কারো কারো উক্তি আছে যে, আল্লাহ তা'আলার একটি নাম এবং এর দলীল হিসেবে তাঁরা নিম্নের কবিতাংশটুকু পেশ করে থাকেনঃ (আরবী)

অর্থাৎ “সে আমাকে (আরবী)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এবং বর্শা নিক্ষিপ্ত হয়েছে, সুতরাং কেন সে এর পূর্বেই (আরবী) পাঠ করেনি?”

হযরত মিহলাব ইবনে আবু সার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যদি তোমরা রাত্রে আকস্মিকভাবে আক্রান্ত হয়ে পড় তবে তোমরা (আরবী) বল।” হযরত আবু উবায়েদ (রাঃ) বলেন যে, তার নিকট পছন্দনীয় হলো হাদীসটিকে এভাবে রিওয়াইয়াত করা যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “তোমরা বলঃ (আরবী) অর্থাৎ (আরবী) ছাড়াই। তাহলে তার নিকট যেন (আরবী)-এর (আরবী) হলো (আরবী) ক্রিয়াটি। অর্থাৎ “তোমরা যদি এটা বল তবে তোমরা পরাজিত হবে না।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

মহান আল্লাহ বলেনঃ এই কিতাব অর্থাৎ কুরআন মাজীদ আল্লাহর নিকট হতে অবতারিত যিনি পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ। যিনি পবিত্র মর্যাদার অধিকারী, যার কাছে অণু পরিমাণ জিনিসও গোপন নেই যদিও তা বহু পর্দার মধ্যে লুক্কায়িত থাকে। তিনি পাপ ক্ষমাকারী। যে তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ে তিনিও তার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। পক্ষান্তরে, যে তার থেকে বেপরোয়া হয় তাঁর সামনে অহংকার ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে, দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয় এবং আল্লাহর হুকুম অমান্য করে তাকে তিনি কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। যেমন মহান আল্লাহ্ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী সঃ)! আমার বান্দাদেরকে তুমি (আমার সম্পর্কে) খবর দাও যে, আমি হলাম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু, আবার আমার শাস্তিও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। (১৫:৪৯-৫০) কুরআন কারীমের মধ্যে এই ধরনের বহু আয়াত। রয়েছে, যেগুলোতে রহম ও করমের সাথে সাথে আযাব ও শাস্তির কথাও রয়েছে, যাতে বান্দা ভয় ও আশা এই উভয় অবস্থার মধ্যে থাকে। তিনি অভাবমুক্ত ও প্রশংসাৰ্হ। তিনি বড় মর্যাদাবান, অত্যন্ত অনুগ্রহশীল, সীমাহীন নিয়ামত ও করুণার আধার। বান্দাদের উপর তার ইনআ'ম ও ইহসান এতো বেশী রয়েছে। যে, কেউ ওগুলো গণনা করতে পারে না। মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার একটি নিয়ামতেরও শুকরিয়া আদায় করতে সক্ষম নয়। তাঁর মত কেউই নেই। তাঁর একটি গুণও কারো মধ্যে নেই। তিনি ছাড়া কেউই ইবাদতের যোগ্য নয়। তিনি ছাড়া কেউ কারো পালনকর্তা হতে পারে না। সবারই প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট। ঐ সময় তিনি প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী পুরস্কার ও শাস্তি প্রদান করবেন। তিনি তাড়াতাড়ি হিসাব গ্রহণকারী।

একটি লোক হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেঃ “হে আমীরুল মুমিনীন! আমি একজনকে হত্যা করে ফেলেছি, এমতাবস্থায় আমার তাওবা কবুল হবে কি?” তিনি তখন (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত তাকে পাঠ করে শুনান এবং বলেনঃ “তুমি কাজ করে যাও এবং নিরাশ হয়ো না।` (এটা ইমাম ইবনে হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

সিরিয়ার একজন প্রভাবশালী লোক মাঝে মাঝে হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসতো। একবার দীর্ঘদিন পর্যন্ত সে তাঁর নিকট আগমন করেনি। আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার (রাঃ) জনগণকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তর দেয় যে, সে এখন খুব বেশী মদ্য পান করতে শুরু করে দিয়েছে। হযরত উমার (রাঃ) তখন তাঁর লেখককে ডেকে নিয়ে বলেনঃ “লিখো, এই পত্রটি হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর পক্ষ হতে অমুকের পুত্র অমুকের নিকট। সালামের পর আমি তোমার সামনে ঐ আল্লাহর প্রশংসা করছি। যিনি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, যিনি পাপ ক্ষমা করেন, তওবা কবুল করেন, যিনি শাস্তি দানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। প্রত্যাবর্তন তারই নিকট।” ঐ লোকটির নিকট পত্রটি পাঠিয়ে দিয়ে হযরত উমার (রাঃ) স্বীয় সহচরদেরকে বলেনঃ “তোমরা তোমাদের এই (মুসলমান) ভাইটির জন্যে প্রার্থনা কর যে, আল্লাহ্ তা'আলা যেন তার অন্তর তার দিকে ফিরিয়ে দেন এবং তার তাওবা কবূল করেন।” লোকটির নিকট পত্রটি পৌছলে সে বারবার তা পড়তে থাকে এবং বলতে শুরু করেঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার শাস্তির ভয়ও দেখিয়েছেন এবং এর সাথে আমাকে তাঁর রহমতের আশা দিয়ে আমার পাপ ক্ষমা করে দেয়ার ওয়াদাও দিয়েছেন। কয়েকবার ওটা পাঠ করে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং খাটি অন্তরে তাওবা করে, যখন হযরত উমার (রাঃ) এ খবর জানতে পারেন তখন তিনি অত্যন্ত খুশী হন এবং স্বীয় সাথীদেরকে বলেনঃ “দেখো, তোমরা তোমাদের কোন মুসলমান ভাই-এর পদস্খলন ঘটতে দেখলে তাকে সোজা করে দিবে ও সুদৃঢ় করবে এবং তার জন্যে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করবে। তোমরা শয়তানের সাহায্যকারী হবে না।` (এ ঘটনাটিও ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত সাবিত বানাঈ (রঃ) বলেনঃ “আমি হযরত মুসআব ইবনে যুবায়ের (রাঃ)-এর সাথে কূফার আশেপাশে ছিলাম। একদা আমি একটি বাগানে গিয়ে দুই রাকআত নামায শুরু করি এবং এই সূরায়ে মুমিন তিলাওয়াত করতে থাকি। আমি যেই মাত্র (আরবী) পর্যন্ত পৌছেছি এমতাবস্থায় একটি লোক, যিনি আমার পিছনে সাদা খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলেন এবং যার গায়ে ইয়ামনী চাদর ছিল, আমাকে বললেনঃ “যখন (আরবী) পড়বে তখন (আরবী) বলো, যখন (আরবী) পড়বে তখন (আরবী) বলো এবং যখন (আরবী) পড়বে তখন (আরবী) বলো।” আমি চোখ ফিরিয়ে দেখলাম, কিন্তু কাউকেও দেখতে পেলাম না। নামায শেষ করে দরযার উপর পৌছলে দেখি যে, সেখানে কতকগুলো লোক বসে রয়েছে। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলামঃ ইয়ামনী চাদর পরিহিত একটি লোককে তোমাদের এখান দিয়ে যেতে দেখেছো কি? তারা উত্তরে বললোঃ “না তো, এখান দিয়ে কোন লোককে তো যেতে আসতে দেখিনি।” তখন লোকেরা এ ধারণ করলো যে, তিনি হযরত ইলিয়াস (আঃ) ছিলেন। (এ ঘটনাটিও ইমাম ইবনে হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এ রিওয়াইয়াতটি অন্য সনদেও বর্ণিত আছে। কিন্তু তাতে হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর উল্লেখ নেই। মহান আল্লাহই এসব ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল জানেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।