আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 17)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 17)



হরকত ছাড়া:

اليوم تجزى كل نفس بما كسبت لا ظلم اليوم إن الله سريع الحساب ﴿١٧﴾




হরকত সহ:

اَلْیَوْمَ تُجْزٰی کُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا کَسَبَتْ ؕ لَا ظُلْمَ الْیَوْمَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ ﴿۱۷﴾




উচ্চারণ: আল ইয়াওমা তুজযা-কুল্লুনাফছিম বিমা-কাছাবাত লা- জু ল মাল ইয়াওমা ইন্নাল্লাহা ছারী‘উল হিছা-ব।




আল বায়ান: আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জন অনুসারে প্রতিদান দেয়া হবে। আজ কোন যুল্ম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭. আজ প্রত্যেককে তার অর্জন অনুসারে প্রতিফল দেয়া হবে; আজ কোন যুলুম নেই।(১) নিশ্চয় আল্লাহ্ দ্রুত হিসেব গ্রহনকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: প্রত্যেক ব্যক্তি যে কর্ম করেছে আজ তার প্রতিফল দেয়া হবে। আজ নেই কোন যুলম। আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।




আহসানুল বায়ান: (১৭) আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে; আজ কারও প্রতি যুলুম করা হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর। [1]



মুজিবুর রহমান: এদিন প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেয়া হবে; কারও প্রতি যুলম করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।



ফযলুর রহমান: আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে। আজ (কারো প্রতি) কোন অবিচার নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।



মুহিউদ্দিন খান: আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।



জহুরুল হক: সেইদিন প্রত্যেক সত্ত্বাকে প্রতিদান দেওয়া হবে যা সে অর্জন করেছে তার দ্বারা। সেইদিন কোনো অবিচার হবে না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হিসাব গ্রহণে তৎপর।



Sahih International: This Day every soul will be recompensed for what it earned. No injustice today! Indeed, Allah is swift in account.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৭. আজ প্রত্যেককে তার অর্জন অনুসারে প্রতিফল দেয়া হবে; আজ কোন যুলুম নেই।(১) নিশ্চয় আল্লাহ্ দ্রুত হিসেব গ্রহনকারী।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ কোন ধরনের যুলুমই হবে না। প্রতিদানের ক্ষেত্রে যুলুমের কয়েকটি রূপ হতে পারে। এক, প্রতিদানের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রতিদান না দেয়া। দুই, সে যতটা প্রতিদান লাভের উপযুক্ত তার চেয়ে কম দেয়া। তিন, শাস্তি যোগ্য না হলেও শাস্তি দেয়া। চার, যে শাস্তির উপযুক্ত তাকে শাস্তি না দেয়া। পাঁচ, যে কম শাস্তির উপযুক্ত তাকে বেশী শাস্তি দেয়া। ছয়, যালেমের নির্দোষ মুক্তি পাওয়া এবং মযলুমের তা চেয়ে দেখতে থাকা। সাত, একজনের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেয়া। আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাঁর আদালতে এ ধরনের কোন যুলুমই হতে পারবে না। এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে নগ্ন পা, খৎনাবিহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায় হাশির করবেন।

তারপর তাদেরকে এমনভাবে ডেকে বলবেন যে, দূরের ও কাছের সবাই তা শুনতে পাবে। তিনি বলবেন, আমিই বিচারক। সুতরাং কোন জান্নাতী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, অনুরূপ কোন জাহান্নামী জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ তার কাছে কোন যুলুমের পাওনা অবশিষ্ট থাকবে আর আমি তার বদলা নেব না। এমনকি যদি তা একটি চড়ও হয়। সাহাবাগণ বললেন, আমরা বললাম, কিভাবে তা সম্ভব হবে অথচ আমরা সেখানে নিঃস্ব অবস্থায় হাযির হব। তিনি বললেন, সওয়াব ও গোনাহর মাধ্যমে সেসবের বদলা নেয়া হবে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন। [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৩৭–৪৩৮]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৭) আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে; আজ কারও প্রতি যুলুম করা হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর। [1]


তাফসীর:

[1] এই জন্য যে, বান্দাদের মত তাঁর চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজন নেই।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৫-১৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার পাশাপাশি ওয়াহী প্রেরণ করার উদ্দেশ্য আলোচনা করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা তার প্রতি ওয়াহী করেন, উদ্দেশ্য হলো তাঁর সেই মনোনীত বান্দা এ ওয়াহী দ্বারা যেন জনসাধারণকে সতর্ক করতে পারে ঐ-দিন সম্পর্কে যে-দিন মানুষ কবর থেকে বেরিয়ে সবাই আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে দণ্ডায়মান হবে। আর সে-দিন কোন কিছুই আল্লাহ তা‘আলার নিকট গোপন থাকবে না। সকল কিছুই প্রকাশ হয়ে পড়বে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(يُنَزِّلُ الْمَلٰ۬ئِكَةَ بِالرُّوْحِ مِنْ أَمْرِه۪ عَلٰي مَنْ يَّشَا۬ءُ مِنْ عِبَادِه۪ٓ أَنْ أَنْذِرُوْآ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا فَاتَّقُوْنِ)



“ তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় নির্দেশে ওয়াহীসহ ফেরেশতা প্রেরণ করেন এ বলে যে, তোমরা সতর্ক কর‎, নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; সুতরাং আমাকেই ভয় কর‎।” (সূরা আন্ নাহ্ল ১৬ : ২)



আর সেদিন কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব সকল কিছু হবে আল্লাহ তা‘আলার জন্য। সেদিন আর কারো কোন ক্ষমতা চলবে না। যেমন হাদীসে বলা হয়েছে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। (কিয়ামতের দিবসে) আল্লাহ তা‘আলা জমিনকে কবজায়ত্ব করে নেবেন এবং আকাশকে ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেন, আমিই বাদশা, (আজ) দুনিয়ার বাদশারা কোথায়? (সহীহ বুখারী হা. ৪৮১২, সহীহ মুসলিম হা. ২৭৮৭)



আর সেদিন প্রত্যেককেই তার কৃত-কর্মের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। কারো ওপর বিন্দু পরিমাণও জুলুম করা হবে না। যেমন হাদীসে বলা হয়েছে, আবূ যার (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন : হে আমার বান্দারা! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের ওপর জুলুম হারাম করে নিয়েছি, (অর্থাৎ কারো প্রতি জুলুম করি না) এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কারো ওপর জুলুম না করে। হে আমার বান্দারা! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আমলগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখছি। আমি এগুলোর পূর্ণ প্রতিফল দান করব। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ পাবে সে যেন আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি এটা ছাড়া অন্য কিছু পাবে সে যেন নিজেকেই ভর্ৎসনা করে। (সহীহ মুসলিম হা. ১৯৯৪) সুতরাং কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না। সবাই তার কর্মের পূর্ণ প্রতিফল পাবে।



الرُّوْحَ দ্বারা আয়াতে “ওয়াহী” বুঝানো হয়েছে। (يَوْمَ التَّلَاقِ) এটি কিয়ামতের নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. ওয়াহী প্রেরণ করার উদ্দেশ্য হলো মানব জাতিকে সতর্ক করা।

২. কিয়ামতের দিন কর্তৃত্ব চলবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার।

৩. কিয়ামতের মাঠে মানুষের সকল আমল আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ করে দেবেন।

৪. আল্লাহ তা‘আলা জালিম নন, তাই তিনি কারো প্রতি কোন প্রকার জুলুম করবেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৫-১৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গৌরব, শ্রেষ্ঠত্ব এবং নিজের আরশের বড়ত্ব ও প্রশস্ততার বর্ণনা দিচ্ছেন যা সমস্ত মাখলুককে ছাদের মত আচ্ছাদন করে রয়েছে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(এই শাস্তি আসবে) আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী। ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে যা পার্থিব পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান।” (৭০:৩-৪) এর বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে যে, এই দূরত্ব হলো সাত আসমান ও যমীন হতে নিয়ে আরশ পর্যন্ত স্থানের। যেমন পূর্বযুগীয় ও পরযুগীয় মনীষীদের একটি দলের উক্তি এটাই এবং সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত এটাই বটে।

বহু তাফসীরকার হতে বর্ণিত আছে যে, আরশ রক্তিম বর্ণের মণি-মাণিক্য দ্বারা নির্মিত। যার দু'টি প্রান্তের প্রশস্ততা পঞ্চাশ হাজার বছরের পথের দূরত্বের সমান। আর যার উচ্চতা সপ্তম যমীন হতে পঞ্চাশ হাজার বছরের পথ। ইতিপূর্বে যে হাদীসে ফেরেশতাদের আরশ বহন করার কথা বর্ণিত হয়েছে তাতে এও রয়েছে যে, ওটা সপ্ত আকাশ হতেও উঁচু।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অহী প্রেরণ করেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি ফেরেশতাদেরকে অহীসহ স্বীয় নির্দেশে স্বীয় বান্দাদের মধ্যে। যাদের নিকট ইচ্ছা প্রেরণ করেন (এই বলে) যে, তোমরা তাদেরকে (আমার ব্যাপারে) সতর্ক করে দাও যে, আমি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর।” (১৬:২) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতারিত। এটা নিয়ে বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল আঃ) অবতরণ করে এবং তা তোমার (মুহাম্মাদ সঃ) অন্তরে অবতীর্ণ করে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।” (২৬:১৯২-১৯৪) এ জন্যেই মহামহিমান্বিত আল্লাহ এখানে বলেনঃ যাতে সে সতর্ক করতে পারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) কিয়ামতের নামসমূহের মধ্যে একটি নাম, যা হতে আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদেরকে ভয় প্রদর্শন করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) একথাও বলেন যে, এই দিনে হযরত আদম (আঃ) এবং তাঁর সর্বশেষ সন্তানেরও মিলন ঘটবে। হযরত ইবনে যায়েদ (রঃ) বলেন যে, বান্দা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে মিলিত হবে। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আসমানবাসী ও যমীনবাসী পরস্পর মিলিত হবে। সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টজীবের মধ্যে মিলন ঘটবে। মায়মূন ইবনে মাহরান (রঃ) বলেন যে, অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের মধ্যে মিলন হবে। ভাবার্থ এই যে, প্রত্যেকেই অন্যের সঙ্গে মিলিত হবে। এমনকি আমলকারীর সাথে তার আমল মিলিত হবে, যেমন অন্যান্য গুরুজন বলেছেন।

মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। অর্থাৎ সবাই আল্লাহ তা'আলার সামনে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা হতে কিছুই তাদেরকে গোপন রাখতে পারবে না। এমন কি কোন ছায়ার স্থানও থাকবে না। ঐ দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “আজ রাজত্ব ও কর্তৃত্ব কার?` সেই দিন কার এমন ক্ষমতা হবে যে, তাঁর এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারে? সুতরাং নিজেই তার এই প্রশ্নের জবাবে বলবেনঃ “আজ কর্তৃত্ব ও রাজত্ব হলো এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।” এ হাদীস গত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমান ও যমীনকে জড়িয়ে নিয়ে স্বীয় দক্ষিণ হস্তে রাখবেন এবং বলবেনঃ “(আজ) আমিই বাদশাহ, আমিই গর্বকারী। দুনিয়ার বাদশাহ, প্রতাপশালী ও অহংকারীরা আজ কোথায়?”

শিংগায় ফুৎকার দেয়ার হাদীসে রয়েছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টজীবের রূহ কবয করে নিবেন এবং ঐ এক অংশীবিহীন আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জীবিত থাকবে না। ঐ সময় তিনি তিনবার বলবেনঃ “আজ রাজত্ব কার?” অতঃপর তিনি নিজেই জবাব দিবেনঃ “আজ রাজত্ব ও কর্তৃত্ব এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই।” অর্থাৎ আজ ঐ আল্লাহর কর্তৃত্ব যিনি এক, সর্ববিজয়ী এবং যার হাতে রয়েছে সব কিছুরই আধিপত্য।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় একজন ঘোষক ঘোষণা করবেনঃ “হে লোক সকল! কিয়ামত এসে গেছে। এ ঘোষণা জীবিত ও মৃত সবাই শুনবে। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশের উপর অবতরণ করবেন এবং বলবেনঃ “আজ কর্তৃত্ব কার?” অতঃপর তিনি নিজেই জবাব দিবেনঃ “(আজ কতৃত্ব) এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।”

এরপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় ন্যায় ও ইনসাফের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেয়া হবে; আজ কারো প্রতি যুলুম করা হবে না। অর্থাৎ “আজ আল্লাহ তা'আলা কারো প্রতি অণু পরিমাণও যুলুম করবেন না। এমন কি পুণ্যগুলো দশগুণ করে বাড়িয়ে দেয়া হবে, আর পাপরাশি ঠিকই রেখে দেয়া হবে, তিল পরিমাণও বেশী করা হবে না। যেমন হযরত আবু যার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “হে আমার বান্দারা! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের উপর যুলুমকে হারাম করে দিয়েছি (অর্থাৎ আমি বান্দার উপর যুলুম করাকে নিজের উপর হারাম করে দিয়েছি)। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কারো উপর যুলুম না করে। শেষের দিকে রয়েছেঃ “হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আমলগুলো গণে গণে রাখছি (অর্থাৎ তোমাদের আমলগুলোর উপর পূর্ণভাবে দৃষ্টি রাখছি), আমি এগুলোর পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ পাবে সে যেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি এটা ছাড়া অন্য কিছু পাবে সে যেন নিজেকেই ভৎসনা করে (কেননা ওটা তার নিজেরই কৃতকর্মের ফল)।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

অতঃপর মহান আল্লাহ তাড়াতাড়ি হিসাব গ্রহণের বর্ণনা দিচ্ছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর। সমস্ত সৃষ্টজীবের হিসাব গ্রহণ তাঁর কাছে একজনের হিসাব গ্রহণের মতই সহজ। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদের সকলকে সৃষ্টি করা এবং মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করা আমার নিকট একটি লোককে সৃষ্টি করা এবং তার মৃত্যুর পর তাকে পুনর্জীবিত করার মতই (সহজ)।” (৩১:২৮) মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার হুকুমের সাথে সাথেই কাজ হয়ে যায়, যেমন কেউ চক্ষু বন্ধ করেই খুলে দেয় (এটুকু সময় লাগে মাত্র)।” (৫৪:৫০)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।