আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 89)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 89)



হরকত ছাড়া:

إلا الذين تابوا من بعد ذلك وأصلحوا فإن الله غفور رحيم ﴿٨٩﴾




হরকত সহ:

اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِکَ وَ اَصْلَحُوْا ۟ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ﴿۸۹﴾




উচ্চারণ: ইল্লাল্লাযীনা তা-বূ মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়া আসলাহুফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।




আল বায়ান: কিন্তু তারা ছাড়া যারা এরপরে তাওবা করেছে এবং শুধরে নিয়েছে তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৯. কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা এর পরে তাওবাহ করেছে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নিয়েছে। তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কিন্তু এরপর যারা তাওবাহ করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে তারা ব্যতীত। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।




আহসানুল বায়ান: (৮৯) তবে এরপর যারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ অবশ্যই বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [1]



মুজিবুর রহমান: কিন্তু যারা এরপর ক্ষমা প্রার্থনা করে ও সংশোধিত হয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।



ফযলুর রহমান: তবে এর পরেও যারা তওবা করে সৎকাজ করবে তাদের অবস্থা ভিন্ন হবে; কেননা আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।



মুহিউদ্দিন খান: কিন্তু যারা অতঃপর তওবা করে নেবে এবং সৎকাজ করবে তারা ব্যতীত, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালূ।



জহুরুল হক: তারা ছাড়া যারা এরপর তওবা করে ও সংশোধন করে, কাজেই আল্লাহ্ নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।



Sahih International: Except for those who repent after that and correct themselves. For indeed, Allah is Forgiving and Merciful.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৯. কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা এর পরে তাওবাহ করেছে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নিয়েছে। তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৯) তবে এরপর যারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ অবশ্যই বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [1]


তাফসীর:

[1] আনসারদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে মুশরিকদের সাথে মিলে যায়। কিন্তু সত্বর সে অনুতপ্ত হয় এবং লোকদের মাধ্যমে রসূল (সাঃ)-এর কাছে জানতে চায় যে, তার তাওবা কবুল হবে কি না? তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। এই আয়াতগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুর্তাদ্দের শাস্তি যদিও অতি কঠিন, কারণ সে সত্যকে জানার পর বিদ্বেষ, ঔদ্ধত্য এবং অবাধ্যতাবশতঃ তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তবুও সে যদি পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে তওবা করে এবং নিজের সংশোধন করে নেয়, তাহলে মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান; তিনি তার তওবা কবুল করবেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৬-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর:



শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন আনসার ধর্ম ত্যাগ করে মুশরিকদের সাথে মিলিত হয়ে যায়। অতঃপর অনুশোচনা করে স্বগোত্রীয় লোকেদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রেরণ করে, যাতে তারা জিজ্ঞাসা করে তার জন্য কোন তাওবার সুযোগ আছে কিনা? তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়:



(كَيْفَ يَهْدِي اللّٰهُ قَوْمًا كَفَرُوْا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ.... )



(নাসাঈ হা: ৪০৬৮, সহীহ)



আলোচ্য আয়াতগুলোতে ধর্মত্যাগী মুরতাদের পরকালীন বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর স্বজ্ঞানে সেচ্ছায় ইসলাম ত্যাগ করে তারাই মুরতাদ, তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়াত দেন না। তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলা, ফেরেশতা ও সকল মানুষের লা‘নত। তারা জাহান্নামে যাবে, তথায় তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে না। কারণ তারা উত্তম জিনিস গ্রহণ করার পর তা বর্জন করেছে।



তবে যারা সঠিক তাওবাহ করে নিজের আমল সংশোধন করে নেবে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুরতাদদের দুনিয়ার শাস্তি ছাড়াও আখিরাতে তাদের জন্য বেদনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।

২. মুরতাদ হয়ে যাওয়ার পর তাকে তাওবাহ করে ফিরে আসতে বলা হবেন যদি ফিরে আসে তাহলে তাকে মাফ করে দেয়া হবে।

৩. পাপের গভীরে চলে গেলে মানুষ তাওবাহ করতে পারে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৬-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, একজন আনসারী ধর্ম ত্যাগী হয়ে মুশরিকদের সাথে মিলিত হয়। অতঃপর যে অনুশোচনা করতঃ স্বগোত্রীয় লোকের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সঃ) -কে জিজ্ঞেস করে যে, পুনরায় তার তাওবা গৃহীত হবে কি-না? তখন এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। তার গোত্রের লোক তাকে বলে পাঠায়। তখন সে তাওবা করতঃ নতুনভাবে মুসলমান। হয়ে হাযির হয়। (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর) ইমাম নাসাঈ (রঃ), ইমাম হাকিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনে হিব্বান (রঃ)-এর গ্রন্থেও এ বর্ণনাটি বিদ্যমান রয়েছে। ইমাম হাকিম (রঃ) এ ইসনাদর্কে সহীহ বলেছেন। মুসনাদ-ই-আবদুর রাজ্জাকে রয়েছে যে, হযরত হারিস ইবনে সাভীদ (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ইসলাম পরিত্যাগ করতঃ স্বগোত্রের সঙ্গে মিলিত হন। তাঁর সম্বন্ধে এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। তাঁর সম্প্রদায়ের একজন লোক এ আয়াতগুলো তাঁকে পড়ে শোনান। তিনি লোকটিকে বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমার ধারণায় আপনি একজন সত্যবাদী লোক, আর নবী (সঃ) তো আপনার চেয়ে বেশী সত্যবাদী এবং আল্লাহ তাআলা সমস্ত সত্যবাদী অপেক্ষা খুব বেশী সত্যবাদী।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট ফিরে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খুব ভালভাবেই ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন। (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতার উপর দলীল প্রমাণাদি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হওয়া। অতএব যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতা স্বীকার করেছে, দলীল প্রমাণাদি স্বচক্ষে দেখেছে, অতঃপর শিরকের অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে, তারা সুপথ প্রাপ্তির যোগ্য নয়। কেননা, চক্ষু থাকা সত্ত্বেও অন্ধত্বকে তারা পছন্দ করেছে। অবিবেচক লোকদেরকে আল্লাহ তা'আলা সুপথ প্রদর্শন করেন না। তাদের উপর আল্লাহও অভিশাপ দেন এবং তাঁর সৃষ্টজীবও তাদের প্রতি অভিশাপ দিয়ে থাকে। এ অভিশাপ হচ্ছে চিরস্থায়ী অভিশাপ। কোন সময়ের জন্য তাদের শাস্তি না হালকা করা হবে, না বন্ধ করা হবে। তারপর মহান আল্লাহ স্বীয় করুণা ও ক্ষমার কথা বর্ণনা করেছেন যে, এ জঘন্য পাপ কার্যের পরেও যদি কেউ আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হয় এবং সংশোধিত হয়ে যায় তবে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।