সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 84)
হরকত ছাড়া:
قل آمنا بالله وما أنزل علينا وما أنزل على إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى والنبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون ﴿٨٤﴾
হরকত সহ:
قُلْ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَ مَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا وَ مَاۤ اُنْزِلَ عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ وَ الْاَسْبَاطِ وَ مَاۤ اُوْتِیَ مُوْسٰی وَ عِیْسٰی وَ النَّبِیُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ ۪ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ ۫ وَ نَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ ﴿۸۴﴾
উচ্চারণ: কুলআ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়ামাউনযিলা ‘আলাইনা-ওয়ামা-উনযিলা ‘আলাইবরা-হীমা ওয়া ইছমা-‘ঈলা ওয়া ইছহা-কা ওয়া ইয়া‘কূবা ওয়াল আছবা-তিওয়ামাঊতিইয়া মূছা-ওয়া ‘ঈছা-ওয়ান্নাবিইয়ূনা মির রাব্বিহিম লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মিনহুম ওয়া নাহনূ লাহূমূছলিমূন।
আল বায়ান: বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের উপর, আর যা নাযিল হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানদের উপর। আর যা দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না এবং আমরা তারই প্রতি আত্মসমর্পণকারী’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. বলুন, আমরা আল্লাহতে ও আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরগণের প্রতি যা নাযিল হয়েছিল এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছিল তাতে ঈমান এনেছি, আমরা তাদের কারও মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর আমরা তারই কাছে আত্মসমর্পণকারী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘আমরা আল্লাহর উপর এবং আমাদের প্রতি ও ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁর বংশধরের প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে এবং মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নাবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা কিছু দেয়া হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছি; আমরা তাঁদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পিত।’
আহসানুল বায়ান: (৮৪) বল, ‘আমরা আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রদান করা হয়েছে, তাতে বিশ্বাস করি,[1] আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণকারী।’
মুজিবুর রহমান: তুমি বলঃ আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নাবীগণকে তাদের রাব্ব কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম, আমরা তাদের মধ্যে কেহকেও পার্থক্য জ্ঞান করিনা এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী।
ফযলুর রহমান: বল, “আমরা আল্লাহর প্রতি; আমাদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি; ইবরাহীম, ঈসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তার বংশধরদের ওপর যা যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি এবং মূসা, ঈসা ও (অন্যান্য) নবীদেরকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে যা যা দেওয়া হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি। তাদের কারো মধ্যে আমরা পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুন, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের উপর, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁদের সন্তানবর্গের উপর আর যা কিছু পেয়েছেন মূসা ও ঈসা এবং অন্যান্য নবী রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত।
জহুরুল হক: তুমি বলো -- "আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ্তে আর যা আমাদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা নাযিল হয়েছিল ইব্রাহীম ও ইসমাইল ও ইসহাক ও ইয়াকুব ও গোত্রদের কাছে, আর যা দেওয়া হয়েছিল মূসাকে ও ঈসাকে ও নবীদের তাঁদের প্রভুর তরফ থেকে। আমরা তাঁদের কোনো একজনের মধ্যেও পার্থক্য করি না, আর তাঁরই কাছে আমরা আত্মসমর্পণকারী।"
Sahih International: Say, "We have believed in Allah and in what was revealed to us and what was revealed to Abraham, Ishmael, Isaac, Jacob, and the Descendants, and in what was given to Moses and Jesus and to the prophets from their Lord. We make no distinction between any of them, and we are Muslims [submitting] to Him."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৪. বলুন, আমরা আল্লাহতে ও আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরগণের প্রতি যা নাযিল হয়েছিল এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছিল তাতে ঈমান এনেছি, আমরা তাদের কারও মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর আমরা তারই কাছে আত্মসমর্পণকারী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৪) বল, ‘আমরা আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রদান করা হয়েছে, তাতে বিশ্বাস করি,[1] আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণকারী।’
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, প্রত্যেক সত্য নবীদের প্রতি এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, তাঁরা সব সব সময়ে আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত ছিলেন। অনুরূপ তাঁদের উপর যে কিতাব ও সহীফা নাযিল হয়েছিল, তা সবই আসমানী কিতাব এবং বাস্তবিকই তা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ। আর এ কথাও বিশ্বাস করতে হবে যে, সমূহ আসমানী কিতাবের মধ্যে কুরআন কারীম হল সর্বোত্তম কিতাব। এখন কেবল এই কিতাবের উপরই আমল হবে। কারণ, কুরআন পূর্বের সমস্ত কিতাবকে রহিত করে দিয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৪-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:
৮১ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ তা‘আলা সকল নাবীর নিকট থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তাদের কাছে যখনই কোন নাবী আগমন করবে তারা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সহযোগিতা করবে। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে স্বীকৃতি নিচ্ছেন যে, বল, আমি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমার প্রতি ও পূর্ববর্তী সকল নাবীর প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনলাম এবং এ ঈমানে কোন পার্থক্য করিনি। অতএব সকল নাবী ও তাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের ওপর কোনরূপ পার্থক্য ছাড়াই ঈমান আনতে হবে।
যে দীনসহ নাবী-রাসূল দুনিয়াতে এসেছেন, সে দীন ব্যতীত অন্য কোন দীন অন্বেষণকারীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে সবাই আল্লাহ তা‘আলার কাছে সেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে তথা আত্মসমর্পণ করেছে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَّكَرْهًا وَّظِلٰلُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ)
“আল্লাহর প্রতি সিজ্দাবনত হয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায় (মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন)।” (সূরা রা‘দ ১৩:১৫) অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَا۬بَّةٍ وَّالْمَلٰ۬ئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ)
“আল্লাহকেই সিজদাহ করে যত জীবজন্তু আছে আকাশমণ্ডলীতে এবং পৃথিবীতে, অনুরূপ ফেরেশতাগণও, তারা অহংকার করে না।” (সূরা নাহল ১৬:৪৯)
সুতরাং তোমরা মানব জাতি কেন আমার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না? বরং তোমাদের সকলের উচিত সবকিছুর মত আমার কাছে আত্মসমর্পণ করা।
الْأَسْبٰطِ শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে বানী ইসরাঈলের বারটি গোত্র যারা ইয়া‘কূব (আঃ)-এর বংশোদ্ভুত ছিল। এরা ছিল ইয়া‘কূব (আঃ)-এর বারোটি পুত্রের সন্তান।
উল্লেখ্য যে, আয়াতে ইসমাঈল (আঃ)-এর পরে ইসহাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসহাক (আঃ) ইসমাঈল (আঃ) থেকে বয়সে ছোট, সূরা সফফাতে বর্ণিত কুরবানীর ঘটনা ইসমাঈল (আঃ)-এর সাথে জড়িত, ইসহাকের সাথে নয়।
দীন ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম মেনে চললে আল্লাহ তা‘আলার কাছে তা গৃহীত হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কিয়ামতের দিন আমলনামা আগমন করবে। সালাত এসে বলবে, হে আল্লাহ! আমি সালাত। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি ভাল জিনিস। সাদাকা এসে বলবে, হে প্রভু আমি সাদাকা। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি ভাল। তারপর সিয়াম এসে বলবে: হে প্রভু! আমি সিয়াম। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি ভাল। এভাবে সব আমল আসবে। প্রত্যেকের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি ভাল। তারপর ইসলাম আসবে এবং বলবে, হে প্রভু তুমি সালাম আর আমি ইসলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তুমি ভাল। আজ তোমার কারণেই পাকড়াও করব এবং তোমার কারণেই পুরস্কৃত করব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَمَنْ یَّبْتَغِ غَیْرَ الْاِسْلَامِ دِیْنًا فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْھُﺆ وَھُوَ فِی الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ)
“আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন জীবন ব্যবস্থা তালাশ করবে তার কাছ থেকে তার কিছুই কবূল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:৮৫) (মুসনাদ আহমাদ হা: ৮৭২৭, সহীহ)
সুতরাং প্রতিটি ব্যক্তি ধর্ম হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মেনে চলার সাথে সাথে অন্যান্য সকল ধর্ম অস্বীকার করতে হবে, তাহলেই আল্লাহ তা‘আলার কাছে একজন প্রকৃত আত্মসমর্পণকারী হওয়া সম্ভব এবং এতেই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি নিহিত।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ইসলাম ছাড়া সকল ধর্ম ও মতবাদ আল্লাহ তা‘আলার কাছে অগ্রহণযোগ্য।
২. আকাশ-জমিন ও তার মাঝে যা কিছু আছে সব আল্লাহ তা‘আলার কাছে আত্মসমর্পণকারী।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৩-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থ ও রাসূলদের মাধ্যমে যে সত্য ধর্ম অবতীর্ণ করেছেন অর্থাৎ শুধুমাত্র এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহরই ইবাদত করা, এছাড়া যদি কোন ব্যক্তি অন্য ধর্ম অনুসন্ধান করে তবে তা কখনই গৃহীত হবে না। একথাই এখানে বলা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন যে, আকাশ ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু খুশী মনেই হোক বা অসন্তুষ্ট চিত্তেই হোক, তাঁর বাধ্য রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (সেজদার আয়াত) (আরবী) অর্থাৎ ‘আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত মখলুক আল্লাহর সামনে খুশী মনে বা বাধ্য হয়ে সিজদা করে থাকে। (১৩:১৫) অন্য জায়গায় রয়েছে- তারা কি দেখে না যে, সমস্ত সৃষ্টজীবের ছায়া ডানে ও বামে ঝুঁকে পড়ে আল্লাহকে সিজদা করে থাকে এবং আকাশসমূহের সমস্ত জিনিস ও পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী এবং সমস্ত ফেরেশতা আল্লাহরই জন্যে সিজদা করে থাকে, কেউ অহংকার করে না এবং তারা সবাই স্বীয় প্রভুকে ভয় করে থাকে ও তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তারা পালন করে। সুতরাং মুমিনদের ভেতর ও বাহির দু'টোই আল্লাহ তা'আলার অনুগত ও বাধ্য হয়ে থাকে। আর কাফিরেরাও তাঁর মুষ্টির মধ্যে রয়েছে এবং বাধ্য হয়ে তাঁর সামনে নত হয়ে আছে। সর্বদিক দিয়েই তারা আল্লাহ তা'আলার ক্ষমতা ও ইচ্ছার অধীনে রয়েছে। কোন কিছুই তার প্রতাপ ও ক্ষমতার বাইরে নেই। এ আয়াতের তাফসীরে একটি গারীব হাদীসও এসেছে। হাদীসটি এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘আকাশবাসী তো হচ্ছেন ফেরেশতাগণ। তারা সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ পালনে নিয়োজিত রয়েছেন। আর পৃথিবীবাসী ওরাই যারা ইসলামের উপর সৃষ্ট হয়েছে। এরাও খুশী মনে আল্লাহর অনুগত নিরানন্দ অধীন তারাই যারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে মুসলমান সৈনিকদের হাতে বন্দী হয় এবং শৃংখলিত অবস্থায় আনীত হয়। এ লোকদেরকেই জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার হয় কিন্তু তারা তা চায় না। একটি বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছেঃ “তোমার প্রভু ঐ লোকদের জন্যে বিস্ময়বোধ। করেন যাদেরকে শৃংখল ও রশিতে বেঁধে জান্নাতের দিকে টেনে আনা হয়। এ হাদীসের আরও সনদ রয়েছে। কিন্তু এ আয়াতের অর্থ ওটাই বেশী দৃঢ় যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি নিম্নের আয়াতটির মতঃ (আরবী) অর্থাৎ 'যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, আকাশসমূহ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে যে আল্লাহ।' (৩৯:৩৮) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর দ্বারা ঐ প্রথম দিন বুঝানো হয়েছে যেদিন তাদের সবারই নিকট হতে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছিল।
‘সবাই তার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সকলকেই আল্লাহ তা'আলা তাদের কার্যের পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা বল, আমরা আল্লাহর উপর, কুরআন কারীমের উপর, ইবরাহীম (আঃ), ইসমাঈল (আঃ), ইসহাক ও ইয়াকূব (আঃ)-এর উপর যে পুস্তিকাসমূহ ও অহী অবতীর্ণ হয়েছিল ঐগুলোর উপর, আর তাঁদের সন্তানদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি।' (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে বানী ইসরাঈলের গোত্র যারা হযরত ইয়াকূব (আঃ)-এর বংশোদ্ভূত ছিল। এরা ছিল হযরত ইয়াকূবের বারোটি পুত্রের সন্তান। হযরত মূসা (আঃ)-কে দেয়া হয়েছিল তাওরাত এবং হযরত ঈসা (আঃ)-কে দেয়া হয়েছিল ইঞ্জীল। আরও যত নবী (আঃ) স্বীয় প্রভুর নিকট হতে যা কিছু এনেছেন ঐগুলোর উপরও আমাদের বিশ্বাস রয়েছে। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য আনয়ন করি না। অর্থাৎ কাউকে মানবো এবং কাউকে মানবো না, এ কাজ আমরা করি না, বরং সকলের উপরেই আমাদের ঈমান রয়েছে, আমরা আল্লাহ তা'আলার অনুগত। সুতরাং এ উম্মতের মুমিনগণ সমস্ত নবী (আঃ) ও গ্রন্থ মেনে থাকে। তারা কোন নবীকে অস্বীকার করে না এবং তারা প্রত্যেক নবীর সত্যতা প্রতিপাদনকারী।
অতঃপর আল্লাহ পাক বলেনঃ “আল্লাহর দ্বীন-ই-ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের অনুসন্ধানে যে লেগে থাকে তা কখনও গৃহীত হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতির মধ্যে পতিত হবে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কাজ করে যা আমার নির্দেশের বহির্ভূত, তা প্রত্যাখ্যাত। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন কার্যাবলী আগমন করবে। নামায এসে বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি নামায। আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তুমি ভাল জিনিস।' সাদকা এসে বলবে- হে প্রভু! আমি সাদকা। উত্তর হবে- তুমিও মঙ্গলের উপর রয়েছে। রোযা এসে বলবে- ‘আমি রোযা। আল্লাহ তা'আলা বলবেন- তুমিও মঙ্গলের উপর আছ। তারপর আরও আমলসমূহ আসবে এবং সবকেই এ উত্তরই দেয়া হবে। অতঃপর ইসলাম এসে বলবে-“হে আল্লাহ! আপনি সালাম এবং আমি ইসলাম। আল্লাহ তা'আলা বলবেন- তুমি মঙ্গলের উপর রয়েছে। আজ আমি তোমার কারণেই ধরবো এবং তোমার কারণেই পুরস্কৃত করবো। আল্লাহ তাআলা স্বীয় গ্রন্থে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অন্বেষণ করে তা কখনই তার নিকট হতে গৃহীত হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ হাদীসটি শুধুমাত্র মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে এবং বর্ণনাকারী হাসানের হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে এটা শুনা প্রমাণিত নয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।