আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 37)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 37)



হরকত ছাড়া:

فتقبلها ربها بقبول حسن وأنبتها نباتا حسنا وكفلها زكريا كلما دخل عليها زكريا المحراب وجد عندها رزقا قال يا مريم أنى لك هذا قالت هو من عند الله إن الله يرزق من يشاء بغير حساب ﴿٣٧﴾




হরকত সহ:

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُوْلٍ حَسَنٍ وَّ اَنْۢبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا ۙ وَّ کَفَّلَهَا زَکَرِیَّا ۚؕ کُلَّمَا دَخَلَ عَلَیْهَا زَکَرِیَّا الْمِحْرَابَ ۙ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا ۚ قَالَ یٰمَرْیَمُ اَنّٰی لَکِ هٰذَا ؕ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ ﴿۳۷﴾




উচ্চারণ: ফাতাকাব্বালাহা-রাব্বুহা-বিকাবূলিন হাছানিওঁ ওয়া আম্বাতাহা-নাবাতান হাছানাওঁ ওয়াকাফফালাহা-যাকারিইইয়া-কুল্লামা-দাখালা ‘আলাইহা-যাকারিইইয়াল মিহরা-বা ওয়াজাদা ‘ইনদাহা-রিযকান কা-লা ইয়া-মারইয়ামুআন্না-লাকি হা-যা-কা লাত হুওয়া মিন ‘ইনদিল্লা-হি ইন্নাল্লা-হা ইয়ারযুকুমাইঁ ইয়াশাউ বিগাইরি হিছা-ব।




আল বায়ান: অতঃপর তার রব তাকে উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন। আর তাকে যাকারিয়্যার দায়িত্বে দিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কাছে তার কক্ষে প্রবেশ করত, তখনই তার নিকট খাদ্যসামগ্রী পেত। সে বলত, ‘হে মারইয়াম, কোথা থেকে তোমার জন্য এটি’? সে বলত, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিয্ক দান করেন’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৭. তারপর তার রব তাকে ভালভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করলেন(১) এবং তিনি তাকে যাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন(২)। যখনই যাকারিয়্যা তার কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার নিকট খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেত। তিনি বলতেন, হে মারইয়াম! এ সব তুমি কোথায় পেলে? (মারইয়াম) বলতেন, তা আল্লাহর নিকট হতে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিযক দান করেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তখন তার প্রতিপালক তাকে সন্তুষ্টি সহকারে গ্রহণ করলেন এবং তাকে উত্তমরূপে লালন পালন করলেন এবং যাকারিয়াকে তার তত্ত্বাবধায়ক করলেন। যখনই যাকারিয়া মারইয়ামের কক্ষে প্রবেশ করত, তার কাছে খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেত; জিজ্ঞেস করত- হে মারইয়াম! ‘এসব কোত্থেকে তোমার কাছে আসে’? মারইয়াম বলত, ‘ওসব আল্লাহর নিকট হতে (আসে)’। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বেহিসাব রিযক দান করেন।




আহসানুল বায়ান: (৩৭) অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে উত্তমরূপেই গ্রহণ করলেন এবং উত্তমরূপেই তার প্রতিপালন করলেন এবং তিনি তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখলেন।[1] যখনই যাকারিয়া মিহরাবে (কক্ষে) তার সঙ্গে দেখা করতে যেত, তখনই তার নিকট খাদ্য-সামগ্রী দেখতে পেত।[2] সে বলত, ‘হে মারয়্যাম! এসব তুমি কোথা থেকে পেলে?’ সে বলত, ‘তা আল্লাহর কাছ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপর্যাপ্ত জীবিকা দান করে থাকেন।’



মুজিবুর রহমান: অনন্তর তার রাব্ব তাকে উত্তম রূপে গ্রহণ করলেন এবং তাকে উত্তম প্রবৃদ্ধি দান করলেন এবং যাকারিয়াকে তার ভারার্পন করলেন; যখনই যাকারিয়া তার নিকট উক্ত প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করত তখন তার নিকট খাদ্য সম্ভার দেখতে পেত; সে বলতঃ হে মারইয়াম! এটা কোথা হতে প্রাপ্ত হলে? সে বলতঃ এটা আল্লাহর নিকট হতে, নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ তাকে ভালভাবে কবুল করেন এবং ভালভাবে বড় করে তোলেন। তিনি তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যাকারিয়া যখনই তাকে দেখতে (তার) কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার কাছে খাদ্যসামগ্রী দেখতে পেত। সে তাকে বলত, “মরিয়ম! এগুলো তুমি কোথা থেকে পেলে?” সে বলত, “এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে (এসেছে)।” আসলে আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিযিক দান করেন।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।"



জহুরুল হক: অতএব তার প্রভু তাকে কবুল করলেন সুন্দর স্বীকৃতির সাথে, ফলে তাকে বর্ধিত করলেন সুন্দর বর্ধনে, আর তাকে সমর্পণ করলেন যাকারিয়ার অভিভাকত্বে। যখন যাকারিয়া তাকে দেখতে উপাসনাস্থলে প্রবেশ করতেন তিনি তার কাছে দেখতে পেতেন রিযেক। তিনি বললেন -- "হে মরিয়ম! এ তোমার কাছে কোথা থেকে?" সে বললে -- "এ আল্লাহ্‌র দরবার থেকে।" নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে করেন তাকে বেহিসাব রিযেক দান করেন।



Sahih International: So her Lord accepted her with good acceptance and caused her to grow in a good manner and put her in the care of Zechariah. Every time Zechariah entered upon her in the prayer chamber, he found with her provision. He said, "O Mary, from where is this [coming] to you?" She said, "It is from Allah. Indeed, Allah provides for whom He wills without account."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৭. তারপর তার রব তাকে ভালভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করলেন(১) এবং তিনি তাকে যাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন(২)। যখনই যাকারিয়্যা তার কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার নিকট খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেত। তিনি বলতেন, হে মারইয়াম! এ সব তুমি কোথায় পেলে? (মারইয়াম) বলতেন, তা আল্লাহর নিকট হতে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিযক দান করেন।


তাফসীর:

(১) এর অর্থ এটাও হতে পারে যে, তিনি তাকে দেহসৌষ্ঠবে মনোমুগ্ধকর বানিয়েছিলেন, ফলে যে কেউ তাকে দেখত তার ভক্ত হয়ে যেত। কাতাদা বলেন, আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে, মারইয়াম ও ঈসা দুনিয়ার অন্যান্য আদম সন্তানের মত গোনাহের কাজে জড়াত না। [আত-তাফসীরুস সহীহ]


(২) কিভাবে মারইয়াম আলাইহাস সালাম যাকারিয়্যা আলাইহিস সালামের তত্ত্বাবধানে আসলেন এখানে বর্ণনা করা হয় নি। পরবর্তী ৪৪ নং আয়াত থেকে সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। যাদেরকে উপাসনালয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা হতো তারা সাধারণত উপাসনালয়েই থাকত। তাদের আর কোন অভিভাবকের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু যেহেতু মারইয়াম আলাইহাস সালাম কন্যা সন্তান ছিলেন, সেহেতু তৎকালীন সবাই চিন্তা করলেন যে, তার তত্ত্বাবধান করার মত লোকের প্রয়োজন। সবাই তার তত্ত্বাবধান চাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তাদের কলম দিয়ে তারা লটারী করেছিল। সে লটারীতে যাকারিয়া আলাইহিস সালামের নাম উঠে এসেছিল।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৭) অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে উত্তমরূপেই গ্রহণ করলেন এবং উত্তমরূপেই তার প্রতিপালন করলেন এবং তিনি তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখলেন।[1] যখনই যাকারিয়া মিহরাবে (কক্ষে) তার সঙ্গে দেখা করতে যেত, তখনই তার নিকট খাদ্য-সামগ্রী দেখতে পেত।[2] সে বলত, ‘হে মারয়্যাম! এসব তুমি কোথা থেকে পেলে?’ সে বলত, ‘তা আল্লাহর কাছ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপর্যাপ্ত জীবিকা দান করে থাকেন।’


তাফসীর:

[1] যাকারিয়া (আঃ) যেহেতু মারয়্যাম (আলাইহাস্ সালাম)-এর খালু ছিলেন এবং সেই সময়কার পয়গম্বরও। তাই সর্বোত্তম অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার জন্য তিনিই ছিলেন উপযুক্ত। মারয়্যাম (আলাইহাস্ সালাম)-এর আর্থিক প্রয়োজন এবং শিক্ষা ও নৈতিক তরবিয়াতের সমূহ দাবী পূরণের সঠিক যত্ন নেওয়া কেবল তাঁরই পক্ষে সম্ভব ছিল।

[2] ‘মিহরাব’ বলতে ছোট একটি ঘর যেখানে মারয়্যাম (আলাইহাস্ সালাম) থাকতেন। ‘রিযক’ (খাদ্য-সামগ্রী) বলতে ফলমূল। প্রথমতঃ এই ফলগুলো হত অসময়ের। গ্রীষেমর ফল শীতে এবং শীতের ফল গ্রীষেমর মৌসুমে তাঁর ঘরে বিদ্যমান থাকত। দ্বিতীয়তঃ এই ফলগুলো না যাকারিয়া (আঃ) এনে দিতেন, না অন্য কেউ। তাই তিনি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো কোত্থেকে এসেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর পক্ষ হতে। এটা আসলে মারয়্যাম (আলাইহাস্ সালাম)এর একটি অলৌকিক ব্যাপার (কারামত) ছিল। অস্বাভাবিক অলৌকিক কার্যকলাপকে মু’জিযা ও কারামত বলা হয়। অর্থাৎ, বাহ্যিক ও সাধারণ কারণ-উপকরণ ছাড়াই যা ঘটে (তাই অতিপ্রাকৃত ও অনৈসর্গিক ঘটনা)। এটা যদি কোন নবীর জন্য সংঘটিত হয়, তাহলে তা হবে মু’জিযা। আর কোন ওলীর জন্য সংঘটিত হলে, তাকে বলা হয় কারামত। দু’টোই সত্য। তবে তা ঘটে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর ইচ্ছাক্রমে। কোন নবী ও ওলীর এখতিয়ারে নেই যে, তাঁরা যখনই চাইবেন, তখনই তা সংঘটিত করতে পারবেন। এই জন্যই মু’জিযা ও কারামত এ কথা অবশ্যই প্রমাণ করে যে, যাঁদের জন্য তা সংঘটিত হয়, তাঁদের আল্লাহর নিকট রয়েছে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা। কিন্তু তার দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় না যে, আল্লাহর নিকট সম্মান লাভকারী এই বান্দারা সার্বভৌমত্বের কর্তৃত্বে কোন এখতিয়ার রাখেন। যেমন, বিদআতীরা আওলিয়াদের কারামতের মাধ্যমে সাধারণ লোকদেরকে এমন কিছু বুঝিয়ে তাদেরকে শিরকীয় আকীদায় লিপ্ত করে। এর আরো বিস্তারিত আলোচনা কোন কোন মু’জিযার বর্ণনার সাথে আসবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৫-৬০ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা ঈসা (আঃ)-এর মা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) ও তাঁর নানী ইমরানের স্ত্রী, যার নাম হান্না বিনতে ফাকুজ ও তাঁর জন্ম, মৃত্যু, মু‘জিযাহ এবং সম্প্রদায়ের সাথে যে কার্যকলাপ ও আচরণ হয়েছিল সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।



শাব্দিক ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা:



مُحَرَّرًا একনিষ্ঠভাবে শুধু ইবাদত করার জন্য এবং খিদমত করার জন্য উৎসর্গ করে দেয়া। অর্থাৎ পূর্ববর্তী নাবীদের শরীয়তে প্রচলিত ইবাদত-পদ্ধতির মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার নামে সন্তান উৎসর্গ করার রেওয়াজও চালু ছিল। এসব উৎসর্গিত সন্তানদের পার্থিব কোন কাজকর্মে নিযুক্ত করা হত না। এ পদ্ধতি অনুযায়ী ঈসার নানী অর্থাৎ ইমরানের স্ত্রী নিজের গর্ভস্থ সন্তান সম্পর্কে মানত করলেন যে, তাকে বিশেষভাবে আল্লাহ তা‘আলার ঘর বায়তুল মুক্বাদ্দাসের খেদমতে নিয়োজিত করা হবে।



(وَإِنِّيْ أُعِيْذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا)



‘আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে আপনার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি’ হান্না এ দু‘আ করেছিলেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এ দু‘আ কবূল করেছিলেন। ফলে মারইয়ামকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: প্রত্যেক শিশুকেই তার জন্মের সময় শয়তান আঘাত করে, এর কারণে সে চীৎকার করে কেঁদে উঠে; কিন্তু মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) ও তাঁর ছেলে ঈসা (আঃ) এটা হতে রক্ষা পেয়েছিলেন। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৩১)



অন্য বর্ণনায় রয়েছে শয়তান যখন ঈসা (আঃ)-কে আঘাত করতে গেল তখন ঈসা (আঃ)-কে আঘাত করতে না পেরে পর্দায় আঘাত করল। (সহীহ বুখারী হা: ৩২৮৬)



المحراب মিহরাব বলা হয় ছোট একটি কামরাকে। এ ছোট কক্ষে মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) থাকতেন। আর মাঝে মধ্যে তার খালু যাকারিয়া (আঃ) তাকে দেখতে যেতেন।



(مُصَدِّقًۭا بِکَلِمَةٍ مِّنَ اللہِ وَسَیِّدًا وَّحَصُوْرًا)



‘তিনি হবেন আল্লাহর বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা, প্রবৃত্তি দমনকারী’ ইয়াহইয়া (আঃ) ছিলেন ঈসা (আঃ)-এর সত্যায়নকারী। “কালিমা” দ্বারা ঈসা (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। ইয়াহইয়া (আঃ) ঈসা (আঃ)-এর বড় ছিলেন। হাদীসেও ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে কালিমা শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:



مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنْ الْعَمَلِ



যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্য কোন মা‘বূদ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও রাসূল। ঈসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহ তা‘আলার একটি কালিমা যা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) এর প্রতি ছুড়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর একটি রূহ। জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য। তার (ঈসা (আঃ)-এর যে আমল থাকুক না কেন আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাত দিবেন। (সহীহ বুখারী হা:৩৪৩৫)



سَيِّدٌ এর অর্থ সরদার, নেতা, জননেতা।



حَصُوْرٌ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-সহ প্রমুখ মুফাসসিরগণ বলেন: حَصُوْرٌ অর্থ হল ইয়াহইয়া-এর মহিলাদের প্রতি কোন আগ্রহ ছিল না। কেউ বলেন, তার সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা ছিল না। কেউ বলেন, حَصُوْرٌ অর্থ হল পাপ থেকে মুক্ত, যে পাপকাজের ধারে কাছেও যায় না।



তাফসীর মুয়াসসার-এ বলা হয়েছে: “তিনি পাপ কাজ করেন না এবং কোন ক্ষতিকর প্রবৃত্তির কাজেও জড়িত হন না। (তাফসীর মুয়াসসার পৃ. ৫৫)



সঠিক কথা হল: তিনি পাপ কাজ হতে পূত ও পবিত্র, তার দ্বারা কোন অপরাধ সংঘটিত হবে না। আর যারা এ অর্থ নিয়েছেন যে, তার নারীর প্রতি কোন আসক্তি ছিল না, সন্তান জন্ম দেয়ার কোন ক্ষমতা ছিল না ইত্যাদি, তাদের এ তাফসীর সঠিক নয়; কারণ এটি একটি দোষ, যা প্রশংসার সময় বলা যায় না।



(يٰمَرْيَمُ إِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰكِ)



‘হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যে ক’জন নারীকে পৃথিবীর বুকে মর্যাদাপূর্ণ করেছেন ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তাদের মধ্যে মারইয়াম (আঃ) অন্যতম একজন। সহীহ হাদীসে মারইয়ামের সাথে খাদীজা (রাঃ)-কেও শ্রেষ্ঠ নারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (সিলসিলা সহীহাহ হা: ১৫০৮)



নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: অনেক পুরুষ পরিপূর্ণতা লাভ করেছে, নারীদের মধ্যে কেবল মারইয়াম, আসিয়া (ফির‘আউনের স্ত্রী) পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। আর সকল নারীদের ওপর আয়িশার মর্যাদা তেমন সকল খাবারের ওপর সারীদের মর্যাদা যেমন (সারীদ হল, রুটি, গোশত ও ঝোল মিশিয়ে তৈরি করা এক প্রকার মূল্যবান পুষ্টিকর খাবার)। (ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



(وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُوْنَ أَقْلَامَهُمْ)



‘তুমি তো সে সময় তাদের কাছে ছিলে না যখন মারইয়ামের অভিভাবক কে হবে এজন্য তারা লটারী করেছিল’ অর্থাৎ মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর দায়িত্ব কে নেবে এ নিয়ে লটারী করা হয়েছিল। কারণ সবাই তার লালন-পালনের দায়িত্বভার নিতে আগ্রহী ছিল। আল্লাহ তা‘আলার নামে উৎসর্গিত সন্তান পালন করাকে তখনকার সময়ে খুবই পুণ্যের কাজ মনে করা হত। সে কারণে মারইয়ামকে প্রতিপালনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। তাই সকলে জর্ডান নদীতে গিয়ে তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করল। বিধান ছিল যার কলম স্রোতে ভেসে যাবে না, স্থির থাকবে সেই মারইয়ামের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। কলম নদীতে নিক্ষেপ করার পর শুধু যাকারিয়ার কলম স্থির ছিল। তিনি তার দায়িত্ব নেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন মারইয়ামের খালু। (তাফসীর তাবারী, হা: ৬৯০৯)



আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলছেন: এসব গায়েবের খবর তোমার কাছে ওয়াহী করে জানিয়ে দিয়েছি। এর মাধ্যমে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্য নবুওয়াতের প্রমাণ মেলে এবং এ কথাও প্রমাণিত হয় যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়েব জানেন না; বরং আল্লাহ তা‘আলা যতটুকু গায়েবের খবর ওয়াহীর মাধ্যমে জানান ততটুকুই জানেন।



(بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ)



‘তাঁর পক্ষ থেকে এক কালিমার’ ঈসা (আঃ)-কে কালিমাতুল্লাহ বলা হয়; কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে শুধু “কুন” (হও) কালিমা দ্বারা সৃষ্টি করেন। মানুষ সৃষ্টির সাধারণ নিয়ম বহির্ভূত অর্থাৎ বিনা পিতায়।



ঈসা (আঃ)-কে الْمَسِيْحُ মাসীহ বলা হয়; কারণ ঈসা (আঃ) রোগীদের ওপর হাত দ্বারা মাসাহ বা বুলিয়ে দিলে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে রোগ ভাল হয়ে যেত। অপরপক্ষে দাজ্জালকেও “মাসীহ” বলা হয়। কারণ তার এক চোখ চেহারার সাথে সমান থাকবে।



(الْحَوَارِيُّوْنَ) حَوَارِيْ



শব্দটি حَوَرٌ ধাতু থেকে উৎপত্তি। অর্থ দেয়ালে চুনকাম করার মত ধবধবে সাদা। পারিভাষিক অর্থে ঈসা (আঃ)-এর খাঁটি অনুসারী শীর্ষস্থানীয় ভক্ত ও সাহায্যকারী ব্যক্তিগণকে ‘হাওয়ারী’ বলা হত। কোন কোন তাফসীরবিদ বলেন, তাদের সংখ্যা ছিল ১২ জন। ঈসা (আঃ)্-এর অনুসারী ও সাহায্যকারী সহচরদেরকে ‘হাওয়ারী’ বলা হয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: প্রত্যেক নাবীর একজন বিশেষ সাহায্যকারী (হাওয়ারী) ছিল। আমার বিশেষ সাহায্যকারী হল যুবাইর (রাঃ)। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৪৭, সহীহ মুসলিম হা: ২৪১৫)



ঘটনার সারসংক্ষেপ:



ঈসা (আঃ)-এর নানী হান্না গর্ভাবস্থায় মানত করেছিলেন যে, আমার গর্ভে যে সন্তান হবে তাকে উপাসনালয়ের জন্য উৎসর্গ করে দেব। তাঁর আশা ছিল নিশ্চয়ই আমার একটি ছেলে হবে। আল্লাহ তা‘আলা তাকে দিলেন একজন কন্যা। তখন তিনি আফসোস করে বললেন, হে আল্লাহ! চাইলাম কী আর হল কী! কেননা কন্যা সন্তান তো উপাসনালয়ে দেয়া যাবে না।



আল্লাহ তা‘আলা সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: কন্যা সন্তানের মত কোন পুত্রই যে হয় না। আমি এ কন্যা সন্তানের নাম রাখলাম মারইয়াম।



আল্লাহ তা‘আলা তাকে উত্তমভাবে লালন-পালন করার জন্য তার খালু যাকারিয়া (আঃ)-এর তত্ত্বাবধানে দিলেন। মারইয়াম মিহরাবের নিজ কক্ষে থাকতেন। যাকারিয়া (আঃ) যখনই মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর কক্ষে প্রবেশ করতেন তখন তার কাছে বিভিন্ন অমৌসুমী ফল-ফলাদি দেখতে পেতেন।



গ্রীষ্মের ফল শীতকালে আর শীতকালের ফল গ্রীষ্মে। এ ফলমূল দেখে জাকারিয়া (আঃ) আশ্চর্য হয়ে যেতেন; কারণ তিনি নিজে এ ফল এনে দিতেন না এবং অন্য কেউও এনে দিত না।



মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) বললেন: এসব ফলাদি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আসে।



মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) এর এরূপ অমৌসুমী ফলমূল দেখে যাকারিয়া (আঃ) বুঝতে পারলেন, আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। যাকারিয়া (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করলেন: “হে আল্লাহ! আমাকে একজন সৎ সন্তান দাও।”



যাকারিয়া (আঃ) এ দু‘আ করার পর যখন সালাতরত অবস্থায় মিহরাবে ছিলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতার মাধ্যমে তাঁকে সন্তান ইয়াহইয়া (আঃ)-এর শুভ সংবাদ দিলেন। যাকারিয়া (আঃ) বললেন: হে আল্লাহ! আমি বৃদ্ধ আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। কিভাবে আমাদের সন্তান হবে। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করতে সক্ষম।



যাকারিয়া (আঃ) বললেন: আমাকে একটি নিদর্শন দিন। আল্লাহ তা‘আলা বললেন: তোমার নিদর্শন হল তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলতে পারবে না। তুমি সুস্থ সবল থাকবে বটে কিন্তু মুখ দিয়ে কথা বের হবে না। শুধু ইশারা- ইঙ্গিতে কাজ চালাতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(قَالَ اٰیَتُکَ اَلَّا تُکَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَیَالٍ سَوِیًّا)



“তিনি বললেন: ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কারও সাথে তিন রাত বাক্যালাপ করবে না।’’ (সূরা মারইয়াম ১৯:১০) আর আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ ও যিকির কর।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-কে সুসংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে চয়ণ করেছেন, পবিত্র করেছেন, বিশ্ববাসীর ওপর নির্বাচিত করেছেন, তাই আল্লাহ তা‘আলা তাকে বেশি বেশি রুকু-সিজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন।



ফেরেশতা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-কে বললেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদ দিচ্ছেন। মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-বললেন, আশ্চর্য! কিভাবে আমার সন্তান হবে? আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি। ফেরেশতা বলল, এভাবেই হবে, আল্লাহ তা‘আলা যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যা সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন শুধু বলেন, হয়ে যাও, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।



এভাবে পিতা ছাড়াই ঈসা (আঃ)-এর জন্ম হয়। ঈসা (আঃ)-কে যখন হত্যা করার ষড়যন্ত্র করল, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে তুলে নেন। ঈসা (আঃ) এখনো জীবিত অবস্থায় আকাশে আছেন। কিয়ামতের পূর্বে মুহাম্মাদী শরীয়তের শাসক হিসেবে পৃথিবীর বুকে আগমন করবেন এবং বেশ কিছু দিন থাকার পর মৃত্যুবরণ করবেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায়পরায়ণ শাসকরূপে ঈসা বিন মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর উঠিয়ে দিবেন। মানুষের ধন-সম্পদ তখন এতো বেড়ে যাবে যে, তা গ্রহণ করার মত কেউ থাকবে না। তখন আল্লাহ তা‘আলার জন্য একটি সিজদা দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৪৮, সহীহ মুসলিম হা:১৫৫)



ঈসা (আঃ) যেসব নিদর্শন নিয়ে বানী ইসরাঈলের কাছে আগমন করেছিলেন:



(১) শিশু ও অপরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَاَشَارَتْ اِلَیْھِ ﺤ قَالُوْا کَیْفَ نُکَلِّمُ مَنْ کَانَ فِی الْمَھْدِ صَبِیًّاﭬقَالَ اِنِّیْ عَبْدُ اللہِﺨ اٰتٰٿنِیَ الْکِتٰبَ وَجَعَلَنِیْ نَبِیًّاﭭ)



“অতঃপর মারইয়াম সন্তানের প্রতি ইঙ্গিত করল। তারা বলল: ‘যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?’ সে বলল: ‘আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নাবী করেছেন” (সূরা মারইয়াম ১৯:২৯-৩০)



সহীহ হাদীসে এসেছে, তিনটি শিশু মায়ের কোলে থাকাবস্থায় কথা বলেছে: ১. ঈসা (আঃ), ২. বানী ইসরাঈলের জনৈক মহিলার সাথে একজন রাখাল ব্যভিচার করার ফলে সন্তান হয়েছিল কিন্তু মানুষ জুরাইয নামক একজন সৎ ব্যক্তির সাথে সে অপবাদ জড়িয়ে দেয় তখন জুরাইয ওযূ করে নফল সালাত আদায় করার পর মহিলার সন্তানকে তার বাবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে সন্তান কথা বলে। ৩. বানী ইসরাঈলের জনৈক মহিলা তার বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছিলেন এমন সময় একজন আরোহী পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে মহিলা বলল: হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এ পুরুষের মত করিও। তখন সে বাচ্চা বলল, হে আল্লাহ! আমাকে এরূপ বানাইওনা। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৩৬)



এছাড়াও অন্যান্য বর্ণনায় পাওয়া যায় ইউসুফ (আঃ)-এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিল একটি বাচ্চা এবং ফির‘আউনের স্ত্রীর খাদেমার বাচ্চা ছোট থাকতে কথা বলেছিল। (ইবনু কাসীর ৪/৩৯৩, তাবারী ১২/১১৫)



(২) কাদা-মাটি দ্বারা পাখি তৈরি করা: ঈসা (আঃ) মাটি দ্বারা পাখির মত আকৃতি তৈরি করে আল্লাহ তা‘আলার নামে ফুঁক দিতেন; ফলে আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিক্রমে তা পাখি হয়ে উড়ে যেত। (সূরা আলি ইমরান ৩:৪৯)

(৩) জন্মান্ধ ও কুষ্ঠব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করা: জন্মান্ধ ও কুষ্ঠব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তির চোখে ও গায়ে আল্লাহ তা‘আলার নামে হাত বুলিয়ে দিলে আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিতে ভাল হয়ে যেত। (সূরা আলি ইমরান ৩:৪৯)

(৪) মৃতকে জীবিতকরণ: আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিক্রমে মৃতকে তিনি জীবিত করতে পারতেন। (সূরা আলি ইমরান ৩:৪৯)

(৫) মানুষ যা আহার করে ও যা সঞ্চয় করে রাখে তা বলে দিতেন। (সূরা আলি ইমরান ৩:৪৯)

(৬) পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাত সত্যায়নকারী এবং তাদের ওপর যেসব জিনিস হারাম করা হয়েছিল (তাদের শাস্তিস্বরূপ বা নিজেরা ইজতিহাদ করে হারাম করে নিয়েছিল) তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হালাল করেছেন। (সূরা আলি ইমরান ৩:৫০)



(فَلَمَّآ أَحَسَّ عِيْسٰي)



যখন ঈসা (আঃ) বনু ইসরাঈলের স্বার্থবাদী নেতাদের বিরোধিতা ও চক্রান্ত বুঝতে পারলেন, তখন নিজের একনিষ্ঠ সাথীদের বাছাই করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এবং সবাইকে একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে আমার সত্যিকারের ভক্ত ও অনুসারী কারা? কারা আল্লাহ তা‘আলার ওয়াস্তে আমাকে দীনের দাওয়াতী কাজে সাহায্য করবে?



বস্তুতঃ শত্র“দের উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে ঈসা (আঃ) তাঁর অনুসারীগণের প্রতি উপরোক্ত আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। সাথে সাথে বারজন ভক্ত অনুসারী তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন। এরপর ঈসা (আঃ)-কে আকাশে তুলে নেয়া হলে তারাই ঈসায়ী ধর্ম প্রচারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। যদিও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বহু দল-উপদল সৃষ্টি হয়েছে। আজও খ্রিস্টানরা রোমান ক্যাথলিক ও প্রটেষ্ট্যান্ট নামে প্রধান দু’দলে বিভক্ত।



(إِذْ قَالَ اللّٰهُ يٰعِيْسٰٓي إِنِّيْ مُتَوَفِّيْكَ)



‘স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দেব’ ঈসা (আঃ)-এর যামানায় শাম (সিরিয়া) অঞ্চল রোমানদের শাসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখানে তাদের যে শাসক নির্বাচিত হয়েছিল সে কাফির ছিল। ইমাম ইবনু কাসীর (রহঃ) যে বর্ণনা নিয়ে এসেছেন তাতে বলা হয়েছে, তিনি দামেস্কের বাদশা ছিলেন। সে বাদশা তারকাপূজক ছিল। (ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



ইয়াহূদীরা ঈসা (আঃ)-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বানোয়াট কথাবার্তা বলে এ শাসকের কানভারী করল। যেমন, তিনি বিনা বাপের সন্তান, ফাসাদকারী, জনগণকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে ও জনগণের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন প্রজ্জ্বলিত করছে। শাসক তাদের দাবী অনুযায়ী তাকে শূলিতে চড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শাসকের নির্দেশে একটি ইয়াহূদী দল ঈসা (আঃ) যে ঘরে ছিলেন তা ঘেরাও করল। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে নেন এবং তাঁকে ঐ ঘরের ছিদ্র দিয়ে আকাশে তুলে নেন। আর তাঁর সদৃশ একজন লোককে তথায় নিক্ষেপ করে দেন যে সে ঘরেই অবস্থান করছিল। ঐ লোকগুলো রাত্রির অন্ধকারে তাকেই ঈসা (আঃ) মনে করে ধরে নিয়ে যায়। তাকে তারা কঠিন শাস্তি এবং তার মস্তকোপরি কাঁটার টুপি রেখে দিয়ে শূলে চড়িয়ে দেয়। এটাই ছিল তাদের সাথে মহান আল্লাহ তা‘আলার কৌশল। তাই আল্লাহ তা‘আলা বললেন:



(وَمَا قَتَلُوْهُ وَمَا صَلَبُوْهُ وَلٰكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ)



“অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, ক্রশবিদ্ধও করেনি; কিন্তু তাদের জন্য (একলোককে) সাদৃশ্য করে দেয়া হয়েছিল।” (সূরা নিসা ৪:১৫৭) সুতরাং ঈসা (আঃ)-কে ক্রশবিদ্ধ করতে পারেনি এবং হত্যাও করতে পারেনি। তিনি এখনো আকাশে জীবিত অবস্থায় রয়েছেন। শেষ যুগে তিনি আগমন করবেন, সকল দীন বাতিল করে ইসলামের প্রচার করবেন। (ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: নাবীগণ পরস্পর সৎ ভাই। তাদের মা ভিন্ন। র্ধম এক ও অভিন্ন। আর আমিই ঈসা বিন মারইয়াম (আঃ)-এর সব চাইতে নিকটবর্তী ব্যক্তি। কারণ, আমি ও তাঁর মাঝে আর কোন নাবী নেই। তিনি নিশ্চয়ই (কিয়ামতের পূর্বে) দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। তোমরা যখন তাঁকে দেখবে অতিসত্বর চিনতে পারবে। (মুসনাদ আহমাদ হা: ৯২৭০, সহীহ)



সাহাবী জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করে যাবে। কিয়ামত পর্যন্ত তারা বিশ্বের বুকে নিজেদের মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে জীবন যাপন করবে। ইতোমধ্যে ঈসা বিন মারইয়াম (আঃ) দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। তখন তাদের আমীর ঈসা (আঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলবেন: আসুন, আমাদেরকে সালাত পড়িয়ে দিন। তখন তিনি বলবেন: না, আমি সালাত পড়াব না। তোমরা একে অপরের আমীর। এটি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে এ উম্মতের জন্য এক বিশেষ সম্মান। (সহীহ মুসলিম হা: ১৫৬)



(وَجَاعِلُ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْكَ)



‘তোমার অনুসারীদেরকে কাফিরদের উপরে স্থান দেব’ অর্থাৎ যারা ঈসা (আঃ)-এর খাটি অনুসারী ছিল, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপরে স্থান দেবেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগমন করলে তারাই তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল।



অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ঈসা আদম-এর মতই মানুষ। আদম যেমন পিতা-মাতা ছাড়া সৃষ্টি। ঈসা (আঃ)-কেও তেমনি পিতা ছাড়া সৃষ্টি করা হয়েছে। অতএব সন্দেহের কিছু নেই। তাঁকে আল্লাহ তা‘আলার সন্তান বা তিনিই আল্লাহ তা‘আলা বলার কোন যৌক্তিকতা নেই।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মানত করা শরীয়ত সিদ্ধ; কিন্তু তা হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা জন্য।

২. কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যে কোন মহিলা কোন পুরুষ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে।

৩. আল্লাহ তা‘আলার অলীদের কারামত প্রমাণিত হল, যেমন মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) এর অমৌসুমী ফল প্রাপ্তি।

৪. কোন কল্যাণকর বস্তু হারিয়ে গেলে বা ছুটে গেলে আফসোস করা জায়েয। তবে ‘যদি এরূপ করতাম তাহলে এরূপ হত’ এ জাতীয় কথা বলা যাবে না বরং বিশ্বাস করতে হবে যে, এটাই তার তাকদীরে ছিল।

৫. আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা বৃদ্ধা ও বন্ধ্যা হওয়া সত্ত্বেও সন্তান দিতে পারেন। তাই একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছেই সন্তান চাইতে হবে।

৬. ঈসা (আঃ)-এর মু‘জিযাহসমূহ জানতে পারলাম।

৭. যা মানুষের সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত তার ব্যাখ্যা চাওয়া জায়েয।

৮. গায়েব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা জানেন। কোন নাবী-রাসূল তা জানেন না; তবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যেটুকু জানিয়েছেন তারা সেটুকু জানতেন।

৯. ঈসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার একজন নাবী। তিনি আল্লাহ তা‘আলাও নন, আল্লাহ তা‘আলার সন্তানও নন।

১০. প্রত্যেক নাবীর সহচর ছিল। আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহচর হল তাঁর সাহাবীগণ।

১১. ঈসা (আঃ) এখনো আকাশে জীবিত আছেন; তিনি শেষ যামানায় দুনিয়াতে পুনরায় আগমন করবেন।

১২. ঈসা (আঃ)-কে শূলিতে চড়ানো হয়নি এবং হত্যাও করেনি।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হিন্নার নযর’ তিনি সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে উত্তমরূপে বর্ধিত করেন। তাঁকে তিনি বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক উভয় সৌন্দর্যই দান করেন এবং সৎ বান্দাদের মধ্যে তাঁর লালন-পালনের ব্যবস্থা করেন যেন তিনি চরিত্রবান লোকদের সংস্পর্শে থেকে তাঁদের নিকট ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কে তিনি হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর দায়িত্বভার অর্পণ করেন। ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেনঃ হযরত মারইয়াম (আঃ) পিতৃহীনা হয়েছিলেন বলে হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কে তাঁর লালন-পালনের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। কিন্তু অন্যান্য মনীষীগণ বলেন যে, সে সময় দেশে দুর্ভিক্ষ পড়েছিল বলে হযরত যাকারিয়া (আঃ) তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। হয়তো দু'টি কারণই ছিল। হযরত ইবনে ইসহাক (রঃ) প্রভৃতি মনীষীর বর্ণনানুযায়ী জানা যায় যে, হযরত যাকারিয়া (আঃ) হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর খালু ছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, তিনি তার ভগ্নিপতি ছিলেন। যেমন মিরাজ সম্বলিত বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত ইয়াহইয়া ও হযরত ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যারা পরস্পর খালোতো ভাই ছিলেন। হযরত ইবনে ইসহাক (রঃ)-এর উক্তি অনুসারে এ হাদীসটি বিশুদ্ধ। কেননা, আরবের পরিভাষায় মায়ের খালার ছেলেকেও খালাতো ভাই বলা হয়ে থাকে। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, হযরত মারইয়াম (আঃ) স্বীয় খালার নিকট লালিত-পালিত হন। বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হামযা (রাঃ) -এর পিতৃহীনা কন্যা উমরা (রাঃ)-কে তার খালা হযরত জাফর ইবনে আবু তালিব (রাঃ)-এর স্ত্রীর নিকট সমর্পণ করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ “খালা হচ্ছেন মায়ের স্থলাভিষিক্ত।

এখন আল্লাহ তা'আলা হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর মাহাত্ম্য ও অলৌকিকতা বর্ণনা করছেন যে, হযরত যাকারিয়া (আঃ) যখনই হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করতেন তখনই তাঁর নিকট অসময়ের ফল দেখতে পেতেন। যেমন শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফল। হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত ইকরামা (রাঃ), হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রঃ), হযরত আবুশ শাশা (রঃ), হযরত ইবরাহীম নাখঈ (রঃ), হযরত যহহাক (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত রাবী' ইবনে আনাস (রঃ), হযরত আতিয়া আওফী (রঃ) এবং হযরত সুদ্দী (রঃ) এ আয়াতের তাফসীরে একথাই বলেন। হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, এখানে রিক -এর ভাবার্থ হচ্ছে জ্ঞান ও ঐ পুস্তিকা যার মধ্যে জ্ঞানপূর্ণ কথা লিপিবদ্ধ থাকতো। কিন্তু প্রথম উক্তিটি অধিকতর সঠিক। এ আয়াত আল্লাহর অলীদের কারামতের দলীল। এটা সাব্যস্ত করণে বহু হাদীসও এসেছে।

হযরত যাকারিয়া (আঃ) একদিন জিজ্ঞেস করেনঃ “হে মারইয়াম! তোমার নিকট এ আহার্যগুলো কোথা হতে আসে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ ‘এগুলো আল্লাহ তাআলার নিকট হতে এসে থাকে। তিনি যাকে ইচ্ছে অপরিমিত জীবিকা দান করে থাকেন। মুসনাদ-ই-হাফিয আবু ইয়ালা’র মধ্যে হাদীস রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কয়েকদিন কিছু না খেয়েই কেটে যায়। ক্ষুধায় তার কষ্ট হতে থাকে। তিনি তাঁর সমস্ত সহধর্মিণীর বাড়ীতে গমন করেন। কিন্তু সব জায়গা থেকেই তাঁকে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে আসতে হয়। অবশেষে তিনি হযরত ফাতিমা (রাঃ)-এর নিকট গমন করেন এবং বলেনঃ “হে কন্যা আমার! তোমার নিকট আমার খাওয়ার মত কিছু আছে কি? আমি ক্ষুধার্ত। তিনি বলেনঃ “আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান হোন, আল্লাহর শপথ! আমার নিকট কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর নিকট থেকে বের হয়েছেন এমন সময় হযরত ফাতিমা (রাঃ)-এর দাসী তার নিকট দু’টি রুটি ও এক টুকরা গোশত পাঠিয়ে দেন। হযরত ফাতিমা (রাঃ) ঐগুলো একটি বাসনে রেখে বলেনঃ আমি, আমার স্বামী ও সন্তানাদি সবাই ক্ষুধার্ত রয়েছি। কিন্তু আমরা সবাই ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই কাটিয়ে দেবো এবং আল্লাহর শপথ! আজ এগুলো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কেই দিয়ে দেবো। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে ডেকে আনার জন্যে হযরত হাসান (রাঃ) ও হযরত হুসাইন (রাঃ)-কে তাঁর খিদমতে পাঠিয়ে দেন। তিনি পথেই ছিলেন, সুতরাং ফিরে আসলেন।

হযরত ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ ‘আমার পিতা-মাতা আপনার উপর উৎসর্গ হোন, আল্লাহ পাক কিছু পাঠিয়ে দিয়েছেন যা আমি আপনার জন্যে লুকিয়ে রেখেছি'। তিনি বলেনঃ হে আমার প্রিয় মেয়ে। নিয়ে এসো। হযরত ফাতিমা (রাঃ) পাত্র খুলেই দেখেন যে, তা রুটি ও গোশতে পরিপূর্ণ রয়েছে। এ দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে পড়েন। কিন্তু সাথে সাথেই তিনি বুঝে নেন যে, মহান আল্লাহর পক্ষ হতে এতে বরকত দান করা হয়েছে। অতএব তিনি আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও নবী (সঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ করতঃ ঐগুলো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে এনে হাযির করেন। তিনিও ঐগুলো দেখে। আল্লাহ পাকের প্রশংসা করেন এবং জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আমার প্রিয় মেয়ে! এগুলো কোথা হতে এলো’? তিনি বলেনঃ “হে পিতঃ! এগুলো আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে এসেছে। তিনি যাকে ইচ্ছে অপরিমিত জীবিকা দান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ হে আমার প্রিয় কন্যা! আল্লাহ তা'আলার সমুদয় প্রশংসা যে, তিনি তোমাকে বানী ইসরাঈলের সমস্ত নারীর নেত্রীর মত করেছেন। যখন আল্লাহ তা'আলা তাকে কোন কিছু দান করতেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হতো তখন তিনি একথাই বলতেনঃ ‘এটা আল্লাহ তাআলার নিকট হতে এসেছে। তিনি যাকে ইচ্ছে অপরিমিত জীবিকা দান করে থাকেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আলী (রাঃ)-কে ডেকে নেন এবং তিনি, হযরত আলী (রাঃ), হযরত ফাতিমা (রাঃ), হযরত হাসান (রাঃ), হযরত হুসাইন (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সমস্ত সহধর্মিণী (রাঃ) ও আহলে বায়েত (রাঃ) পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করেন। তবুও আরও ততোটা বেঁচে গেলো যতটা পূর্বে ছিল। সেগুলো আশে-পাশের প্রতিবেশীদের নিকট পাঠিয়ে দেয়া হলো। এই ছিলো আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে চরম বরকত ও দান।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।