আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 34)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 34)



হরকত ছাড়া:

ذرية بعضها من بعض والله سميع عليم ﴿٣٤﴾




হরকত সহ:

ذُرِّیَّۃًۢ بَعْضُهَا مِنْۢ بَعْضٍ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ ﴿ۚ۳۴﴾




উচ্চারণ: যুররিইইয়াতাম বা‘দুহা-মিম বা‘দিন ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।




আল বায়ান: তারা একে অপরের বংশধর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৪. তারা একে অপরের বংশধর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এরা একে অন্যের বংশধর এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।




আহসানুল বায়ান: (৩৪) এরা হল পরস্পর পরস্পরের বংশধর[1] এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।



মুজিবুর রহমান: তারা একে অপরের বংশধর এবং আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।



ফযলুর রহমান: এদের কতক কতকের বংশধর ছিল। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।



মুহিউদ্দিন খান: যারা বংশধর ছিলেন পরস্পরের। আল্লাহ শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী।



জহুরুল হক: এক বংশ পরম্পরা -- একের থেকে তাদের অন্যরা। আর আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।



Sahih International: Descendants, some of them from others. And Allah is Hearing and Knowing.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৪. তারা একে অপরের বংশধর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৪) এরা হল পরস্পর পরস্পরের বংশধর[1] এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।


তাফসীর:

[1] অথবা এর দ্বিতীয় অর্থ হল, দ্বীনের ব্যাপারে একে অপরের সহযোগী ও সাহায্যকারী।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৩-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা আদম, নূহ, ইবরাহীমের (আঃ) বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে চয়ন করে তৎকালীন সময়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন। আদম (আঃ)-কে স্বয়ং নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, ফেরেশতাদের দ্বারা সিজদাহ করিয়েছেন এবং জান্নাতে বসবাস করিয়েছেন।



নূহ (আঃ)-কে নবুওয়াত দান করেছেন। তিনি মানুষকে একাধারে ৯৫০ বছর এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং মূর্তিপূজা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁকেসহ তাঁর অনুসারী এবং প্রত্যেক প্রাণীর জোড়াসহ রক্ষা করে বাকি সবাইকে বন্যায় ডুবিয়ে মেরেছিলেন।



ইবরাহীম (আঃ)-কে এবং তাঁর বংশে বিভিন্ন সময় নাবী-রাসূল (যেমন: ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়া‘কূব (আঃ) ইত্যাদি) হিসেবে প্রেরণ করে সম্মানিত করেছেন।



ইমরান নামে দু’জন ব্যক্তি ছিলেন: ১. মূসা (আঃ) ও হারুন (আঃ)-এর পিতা। ২. মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর পিতা। এখানে মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর পিতাকে বুঝানো হয়েছে। এরা সবাই পরস্পর বংশধর এবং দীনের ব্যাপারে একে অন্যের সম্পূরক ও সহযোগী।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. নাবী-রাসূলগণ আদম সন্তান হলেও সাধারণ মানুষ থেকে শ্রেষ্ঠতর।

২. সকল নাবীর দীনের মূল বিষয় ছিল আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও তাগুত বর্জন।

৩. নাবীগণ পরস্পর দীনী ভাই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৩-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর:

অর্থাৎ এ মহামানবগণকে আল্লাহ তা'আলা সারা বিশ্বের উপর মনোনীত করেছেন। হযরত আদম (আঃ)-কে তিনি স্বহস্তে সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে স্বীয় রূহ প্রবেশ করিয়েছেন, তাঁকে সমস্ত জিনিসের নাম বলে দিয়েছেন, তাঁকে জান্নাতে বাস করিয়েছেন এবং স্বীয় নৈপুণ্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে আঁকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেন। যখন সারা জগত প্রতিমা পূজায় ছেয়ে যায় তখন হযরত নূহ (আঃ)-কে প্রথম রাসূল রূপে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। অতঃপর যখন তার গোত্র তাঁর অবাধ্য হয়ে যায় এবং তাঁর হিদায়াতের উপর আমল করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে তখন তিনি রাতদিন প্রকাশ্য ও গোপনে তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার দিকে আহ্বান করতে থাকেন, কিন্তু তারা কোনমতেই তাঁর কথায় কর্ণপাত করে না। তখন আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ (আঃ)-এর অনুসারীগণ ছাড়া অন্য সকলকে স্বীয় পানির শাস্তি অর্থাৎ বিখ্যাত নূহের তুফানে’ ডুবিয়ে দেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশকে আল্লাহ তা'আলা মনোনয়ন দান করেন। তারশংশেই মানব জাতির নেতা এবং নবীদের (আঃ) সমাপ্তকারী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) জন্মগ্রহণ করেন। ইমরান (আঃ)-এর বংশকেও তিনি মনোনীত করেন। ইমরান হযরত ঈসা (আঃ)-এর জননী হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর পিতার নাম। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রঃ)-এর উক্তি অনুসারে তার বংশলতা নিম্নরূপঃ ইমরান ইবনে হাশিম ইবনে মীশা ইবনে হিযকিয়া ইবনে ইবরাহীম ইবনে গারইয়া ইবনে নাওশ ইবনে আযর ইবনে বাহওয়া ইবনে মুকাসিত ইবনে আয়শা ইবনে আইয়াম ইবনে সুলায়মান (আঃ) ইবনে দাউদ (আঃ)। সুতরাং হযরত ঈসা (আঃ) হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধর। এর বিস্তারিত বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সূরা-ই-আনআমের তাফসীরে আসবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।