আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 158)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 158)



হরকত ছাড়া:

ولئن متم أو قتلتم لإلى الله تحشرون ﴿١٥٨﴾




হরকত সহ:

وَ لَئِنْ مُّتُّمْ اَوْ قُتِلْتُمْ لَاِالَی اللّٰهِ تُحْشَرُوْنَ ﴿۱۵۸﴾




উচ্চারণ: ওয়ালাইম মুততুম আও কুতিলতুম লা ইলাল্লা-হি তুহশারূন।




আল বায়ান: আর যদি তোমরা মারা যাও অথবা তোমাদেরকে হত্যা করা হয়, তবে তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটই সমবেত করা হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৫৮. আর তোমাদের মৃত্যু হলে অথবা তোমরা নিহত হলে আল্লাহরই কাছে তোমাদেরকে একত্র করা হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা মারা গেলে বা নিহত হলে অবশ্যই আল্লাহর নিকট তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।




আহসানুল বায়ান: (১৫৮) আর তোমাদের মৃত্যু হলে অথবা তোমরা নিহত হলে, তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটেই একত্রিত করা হবে।



মুজিবুর রহমান: আর যদি তোমরা মৃত্যুবরণ কর কিংবা নিহত হও তাহলে তোমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর দিকে একত্রিত করা হবে।



ফযলুর রহমান: তোমরা মরে যাও কিংবা নিহত হও (যা-ই হোক না কেন), আল্লাহর কাছেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।



মুহিউদ্দিন খান: আর তোমরা মৃত্যুই বরণ কর অথবা নিহতই হও, অবশ্য আল্লাহ তা’আলার সামনেই সমবেত হবে।



জহুরুল হক: আর যদি তোমরা মারাই যাও বা তোমাদের কাতল করা হয়, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।



Sahih International: And whether you die or are killed, unto Allah you will be gathered.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৫৮. আর তোমাদের মৃত্যু হলে অথবা তোমরা নিহত হলে আল্লাহরই কাছে তোমাদেরকে একত্র করা হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৫৮) আর তোমাদের মৃত্যু হলে অথবা তোমরা নিহত হলে, তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটেই একত্রিত করা হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৫৬-১৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে মুনাফিকদের ভ্রান্ত বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে নিষেধ করছেন। তাদের বিশ্বাস ছিল আমরা যুদ্ধে না গেলে মারা যাব না। তাই তারা তাদের ভাই তথা অন্যান্য মুনাফিকদের সম্বন্ধে বলেছিল, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে যদি তারা আমাদের কথা শুনে যুদ্ধে না যেত তাহলে মারা যেত না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَلَّذِيْنَ قَالُوْا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوْا لَوْ أَطَاعُوْنَا مَا قُتِلُوْا)



“যারা গৃহে বসে স্বীয় ভাইদের সম্পর্কে বলছিল, যদি তারা আমাদের কথা মান্য করত তবে নিহত হত না।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১৬৮)



পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যদি তোমরা মৃত্যু বরণ কর অথবা শহীদ হও উভয় অবস্থাতেই তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰي مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ط يُقَاتِلُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ فَيَقْتُلُوْنَ وَيُقْتَلُوْنَ)



“নিশ্চয়ই আল্লাহ মু’মিনদের নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে তার বিনিময়ে। তারা আল্লাহর পথে স্বসস্ত্র যুদ্ধ করে, হত্যা করে ও নিহত হয়।” (সূরা তাওবাহ ৯:১১১)



সুতরাং মুনাফিকদের মত মৃত্যুর ভয়ে জিহাদ থেকে পিছনে থাকার কোন সুযোগ নেই। বরং একজন মু’মিন সর্বদা বিশ্বাস করবে আল্লাহ তা‘আলা জীবন-মৃত্যুর মালিক, আমার ভাগ্যে মৃত্যু থাকলে ঘরে থাকলেও হবে, জিহাদে গেলেও হবে। অতএব মৃত্যুর ভয় না করে মুসলিম দলনেতা জিহাদে আহ্বান করলে তাতে শরীক হওয়া আবশ্যক।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাফিরদের সাথে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সকল অবস্থায় সাদৃশ্য রাখা হারাম।

২. অতীতের বিষয়ে অনুশোচনা কেবল দুঃখ-কষ্ট বৃদ্ধি করে, সুতরাং ভবিষ্যত জীবনে কল্যাণের চেষ্টা করবে এবং আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য চাইবে।

৩. শহীদদের অনেক মর্যাদা রয়েছে, অন্যতম হল প্রথমেই তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৫৬-১৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ পাক স্বীয় মুমিন বান্দাদেরকে কাফিরদের ন্যায় অসৎ ও জঘন্য বিশ্বাস রাখতে নিষেধ করছেন। এ কাফিরেরা মনে করতো যে, তাদের বন্ধু-বান্ধব যদি পৃথিবী পৃষ্ঠে ভ্রমণ না করতো বা যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত না হতো তবে তারা মৃত্যুমুখে পতিত হতো না। তাই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “এ বাজে ও ভিত্তিহীন ধারণা তাদের দুঃখ ও অনুশোচনা আরও বৃদ্ধি করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর হাতেই রয়েছে। তাঁর ইচ্ছানুসারেই মানুষ মরে থাকে এবং তার চাহিদা হিসেবেই তারা জীবন লাভ করে। তাহলে তার ইচ্ছাক্রমে সমস্ত কাজ চালু করা তাঁরই অধিকার। তিনি ভাগ্যে যা লিখে দিয়েছেন টলবার নয়। তার জ্ঞান হতে ও দৃষ্টি হতে কোন কিছু বাইরে নেই। সমস্ত সৃষ্টজীবের প্রত্যেক কাজ তিনি খুব ভাল করেই জানেন। দ্বিতীয় আয়াতে বলা হচ্ছে- ‘আল্লাহর পথে নিহত হওয়া বা মরে যাওয়া তাঁর ক্ষমা ও করুণা লাভেরই মাধ্যম এবং এটা নিশ্চিতরূপে দুনিয়া ও ওর সমুদয় জিনিস হতে উত্তম। কেননা, এটা ক্ষণস্থায়ী এবং ওটা চিরস্থায়ী।' এরপরে বলা হচ্ছে যে, মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করুক বা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে শহীদই হোক, যেভাবেই ইহজগত হতে বিদায় গ্রহণ করুক না কেন আল্লাহর নিকটই সকলে একত্রিত হবে। অতঃপর তারা তথায় তাদের কৃতকর্মের ফল স্বচক্ষে দর্শন করবে-কাজ ভালই হোক আর মন্দই হোক।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।