সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 12)
হরকত ছাড়া:
قل للذين كفروا ستغلبون وتحشرون إلى جهنم وبئس المهاد ﴿١٢﴾
হরকত সহ:
قُلْ لِّلَّذِیْنَ کَفَرُوْا سَتُغْلَبُوْنَ وَ تُحْشَرُوْنَ اِلٰی جَهَنَّمَ ؕ وَ بِئْسَ الْمِهَادُ ﴿۱۲﴾
উচ্চারণ: কুল লিল্লাযীনা কাফারু ছাতুগলাবূনা ওয়াতুহশারূনা ইলা-জাহান্নামা ওয়াবি’ছাল মিহা-দ।
আল বায়ান: তুমি কাফিরদেরকে বল, ‘তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল’!
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২. যারা কুফরী করে তাদেরকে বলুন, তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফরী করে তাদেরকে বলে দাও, ‘তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে আর তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকানো হবে, ওটা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থান’!
আহসানুল বায়ান: (১২) যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকে বল, তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে[1] এবং তোমাদেরকে দোযখে একত্রিত করা হবে। আর তা অতি মন্দ শয়নাগার।
মুজিবুর রহমান: যারা অবিশ্বাস করেছে, তুমি তাদেরকে বলঃ অচিরেই তোমরা পরাভূত হবে এবং তোমরা জাহান্নামের দিকে একত্রিত হবে এবং ওটা নিকৃষ্টতর স্থান।
ফযলুর রহমান: অবিশ্বাসীদেরকে বল, “তোমাদেরকে শিগগিরই পরাজিত করা হবে এবং একত্র করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেটা বড় খারাপ ঠিকানা!”
মুহিউদ্দিন খান: কাফেরদিগকে বলে দিন, খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হয়ে দোযখের দিকে হাঁকিয়ে নীত হবে-সেটা কতই না নিকৃষ্টতম অবস্থান।
জহুরুল হক: যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের বলো -- "তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হবে, আর তোমাদের তাড়িয়ে নেয়া হবে জাহান্নামের দিকে, আর মন্দ সেই বিশ্রামস্থান।"
Sahih International: Say to those who disbelieve, "You will be overcome and gathered together to Hell, and wretched is the resting place."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১২. যারা কুফরী করে তাদেরকে বলুন, তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১২) যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকে বল, তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে[1] এবং তোমাদেরকে দোযখে একত্রিত করা হবে। আর তা অতি মন্দ শয়নাগার।
তাফসীর:
[1] এখানে কাফের বা অবিশ্বাসী বলতে ইয়াহুদীদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী খুব শীঘ্রই বাস্তবায়িত হয়েছিল। যেমন, বানু ক্বাইনুক্বা’ ও বানু নাযীরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং বানু ক্বুরায়যাকে হত্যা করা হয়েছিল। অতঃপর খায়বার বিজয়ের পর সমস্ত ইয়াহুদীদের উপর জিযিয়া-কর আরোপ করা হয়েছিল। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১২-১৩ নং আয়াতের তাফসীর:
(قُلْ لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا)
‘যারা কুফরী করেছে তাদেরকে বল’ আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: হে নাবী! তুমি অবিশ্বাসীদেরকে বলে দাও যে, তারা পৃথিবীতেও পরাজিত ও পর্যুদস্ত হবে এবং মুসলিমদের অধীনস্থ থাকতে বাধ্য হবে এবং কিয়ামাতের দিনও তাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। আর এটা হচ্ছে জঘন্যতম স্থান। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَھُمْ لِیَصُدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللہِﺚ فَسَیُنْفِقُوْنَھَا ثُمَّ تَکُوْنُ عَلَیْھِمْ حَسْرَةً ثُمَّ یُغْلَبُوْنَﹽ وَالَّذِیْنَ کَفَرُوْٓا اِلٰی جَھَنَّمَ یُحْشَرُوْنَﭳﺫ)
“আল্লাহর পথ হতে লোকেদের নিবৃত্ত করার জন্য কাফিরগণ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতে থাকবে; অতঃপর তা তাদের (আফসোসের) কারণ হবে, এর পর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরী করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে।” (সূরা আনফাল ৮:৩৬)
আর তথায় তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনা ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيْمٍ وَّعَذَابٌ أَلِيْمٌ)
“এবং যারা কাফির তারা কুফরী করত বলে তাদের জন্য রয়েছে উত্তপ্ত পানীয় ও মর্মান্তিক শাস্তি।” (সূরা ইউনূস ১০:৪) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَكَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَا فَأُولٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ)
“আর যারা কুফরী করে ও আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তাদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরা হজ্জ ২২:৫৭)
(قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ)
‘তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে’ এখানে বদর যুদ্ধে অংশ নেয়া দু’টি দলের কথা বলা হয়েছে। একটি হল: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবা-ই কিরামের দল। দ্বিতীয়টি হল মুশরিক কুরাইশদের দল। সাহাবাগণ সেদিন যুদ্ধ করেছিলেন আল্লাহ তা‘আলার দীন ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য। আর কাফির-মুশরিকরা যুদ্ধ করেছিল ইসলামকে চিরতরে বিদায় করে দিয়ে বাতিলকে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেদিন আল্লাহ তা‘আলা সত্য-মিথ্যার স্পষ্ট মীমাংসা করেদেন। যেন কুফর ও ঔদ্ধত্যের ওপর ঈমানের বিজয় লাভ ঘটে এবং মুসলিমরা সম্মানিত, আর কাফিররা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়।
যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللّٰهُ بِبَدْرٍ وَّأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ)
“আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছিলেন যখন তোমরা দুর্বল ছিলে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১২৩)
সেদিন আল্লাহ তা‘আলা বাতিলের বিরুদ্ধে সত্যকে বিজয় দান করেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(لِّيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْم بَيِّنَةٍ)
“যাতে যে কেউ ধ্বংস হবে সে যেন সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর ধ্বংস হয়।” (সূরা আনফাল ৮:৪২) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَمَآ أَنْزَلْنَا عَلٰي عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ)
“তাতে যা মীমাংসার দিন আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছিলাম।’ (সূরা আনফাল ৮:৪১)
(يَّرَوْنَهُمْ مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ)
“তাদেরকে (মু’মিনদেরকে) বাহ্যিক দৃষ্টিতে দিগুণ দেখেছিল” অর্থাৎ কাফিররা মুসলিমদের বাহ্য দৃষ্টিতে তাদের দ্বিগুণ দেখেছিল। আবার বলা হয় প্রত্যেক দল অপর দলকে নিজেদের দ্বিগুণ দেখেছিল। কাফিরদের সংখ্যা এক হাজার, মুসলিমদের চোখে নিজেদের দ্বিগুণ তথা মাত্র ছয়শত দেখানো হয়েছিল। আবার মুসলিমদের সংখ্যা তিনশত কিছু বেশি হলেও কাফিরদের সংখ্যার দ্বিগুণ তথা দু’ হাজার দেখানো হয়েছিল। এর কারণ হলো মুসলিমরা সংখ্যাায় কম, তারা যদি তাদের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যা দেখে তাহলে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যেত। আর কাফিরদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য তাদের দৃষ্টিতে তাদের দ্বিগুণ দেখানো হয়েছিল।
এ দু’ দলের মধ্যে রয়েছে বর্তমান ও ভবিষ্যতের মুসলিমদের জন্য শিক্ষা। কাফিররা সংখ্যায় যত বেশি হোক না কেন তা দেখে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই; কারণ আল্লাহ তা‘আলা যেমন বদর যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ও অস্ত্র কম থাকা সত্ত্বেও বিজয় দান করেছেন, ঠিক তেমনি তারাও সত্য মু’মিন হয়ে জিহাদ করলে বিজয়ী লাভ করবে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কাফিররা দুনিয়াতে সংখ্যায় ও অস্ত্রে অধিক হলেও মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।
২. সঠিক ঈমান ও আমল থাকলে মু’মিনরাই বিজয় লাভ করবে।
৩. বদরের দু’ বাহিনীর যুদ্ধের মধ্যে আমাদের জন্য শিক্ষা হল- সত্যের বিজয় হবেই, মিথ্যা পরাজিত হবেই, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১২-১৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি অবিশ্বাসীদেরকে বলে দাও যে, তারা পৃথিবীতেও পরাজিত ও পর্যদস্ত হবে এবং মুসলমানদের অধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হবে এবং কিয়ামতের দিনও তাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে, আর ওটা হচ্ছে জঘন্যতম স্থান। সীরাত-ই-ইবনে ইসহাক’ গ্রন্থে রয়েছে, হযরত আমর ইবনে কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বদর যুদ্ধে বিজয় লাভের পর যখন মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন তখন তিনি বানূ কাইনুকার বাজারে ইয়াহুদীদেরকে একত্রিত করেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে ইয়াহুদীর দল! কুরাইশদের লাঞ্ছিত ও অপদস্ত হওয়ার ন্যায় তোমরাও লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হওয়ার পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ কর।' এ কথা শুনে ঐ উদ্ধত ও অবাধ্য দলটি উত্তর দেয়ঃ ‘যুদ্ধবিদ্যায় অনভিজ্ঞ কয়েকজন কুরাইশকে পরাজিত করেই বুঝি আপনি অহংকারে ফেটে পড়েছেন? আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ হলে জানতে পারবেন যুদ্ধ কাকে বলে! এখনও আমাদের সাথে আপনার যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এতে বলা হয়- মক্কা বিজয়ই এটা প্রমাণ করেছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সত্য, উত্তম ও পছন্দনীয় দ্বীনকে ও ঐ দ্বীনধারীদেরকে সম্মান দানকারী। তিনি তাঁর রাসূলের ও তাঁর অনুসারীদের স্বয়ং সাহায্যকারী'।
দু’টি দল যুদ্ধে পরস্পর সম্মুখীন হয়। একটি সাহাবা-ই-কিরামের দল এবং অপরটি মুশরিক কুরাইশদের দল। এটা বদর যুদ্ধের ঘটনা। সেদিন মুশরিকদের উপর এমন প্রভাব পড়ে (মুসলমানদের) এবং মহান আল্লাহ মুসলমানদেরকে এমনভাবে সাহায্য করেন যে, যদিও মুসলমানেরা সংখ্যায় মুশরিকদের অপেক্ষা বহু কম ছিল, কিন্তু মুশরিকরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলমানদেরকে দ্বিগুণ দেখছিল। যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বে মুশরিকরা উমায়ের ইবনে সাদকে গোয়েন্দাগিরির জন্যে প্রেরণ করেছিল। সে এসে সংবাদ দেয় যে, মুসলমানদের সংখ্যা কিছু কম বেশী তিনশ জন। আসলেও তাই ছিল। তাদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশ এবং আর কয়েকজন বেশী। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্রই আল্লাহ তা'আলা তাঁর বিশিষ্ট ও নির্বাচিত এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন। একটি অর্থ তো এই। দ্বিতীয় ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, কাফিরদের সংখ্যা মুসলমানদের দ্বিগুণ ছিল, এটা মুসলমানেরা জানতো এবং প্রত্যক্ষও করছিল। তথাপি আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সাহায্য করতঃ কাফিরদের উপর জয়যুক্ত করেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, বদরী সাহাবীরা (রাঃ) ছিলেন তিনশ তেরোজন এবং মুশরিকরা ছিল দু’শ ষোল জন। কিন্তু ইতিহাসের পুস্তকগুলোতে মুশরিকদের ন’শ হতে এক হাজার বর্ণনা করা হয়েছে। তাহলে সম্ভবতঃ হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাস (রাঃ) কুরআন শরীফের শব্দ দ্বারাই দলীল গ্রহণ করে থাকবেন। বানূ হাজ্জাজ গোত্রের একটি কৃষ্ণ বর্ণের ক্রীতদাস যে ধৃত হয়ে এসেছিল, তাকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কুরাইশদের সংখ্যা জিজ্ঞেস করলে সে বলেঃ ‘অনেক। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেনঃ “তারা দৈনিক কতটি উট যবেহ করছে?' সে বলেঃ ‘একদিন নয়টি এবং আর একদিন দশটি। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ তাহলে মুশরিকদের সংখ্যা নয়শ এবং এক হাজারের মধ্যবর্তী।' সুতরাং জানা যাচ্ছে যে, মুশরিকরা মুসলমানদের তিনগুণ ছিল। কিন্তু এটা স্মরণ রাখবার বিষয় যে, আরববাসী বলে থাকে, আমার নিকট এক হাজার তো রয়েছে কিন্তু আমার আরও এর দ্বিগুণ প্রয়োজন এবং তার তিন হাজারের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাহলে কোন অসুবিধা থাকলো না কিন্তু প্রশ্ন আরও একটি রয়েছে, তা এই যে, কুরআন কারীমের মধ্যে অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ যখন তোমরা মুখোমুখী হয়ে গেলে তখন আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের চোখে কম দেখালেন যেন আল্লাহ যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা হয়ে যায়। (৮:৪৪) সুতরাং এ পবিত্র আয়াতের দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, প্রকৃত সংখ্যার চেয়েও অল্প পরিলক্ষিত হয়। আর উপরোক্ত আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে। যে, বেশী এমন কি দ্বিগুণ পরিলক্ষিত হয়। তাহলে আয়াতদ্বয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য কিরূপে হতে পারে? উত্তর এই যে, ঐ আয়াতে অবস্থা ছিল এক রকম এবং এ আয়াতে অবস্থা ছিল অন্য রকম। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ বদরের দিন মুশরিকদের সংখ্যা আমাদের চোখে মোটেই বেশী দেখায়নি। আমরা আবার গভীরভাবে দৃষ্টিপতি করেও বুঝতে পারি যে, তাদের সংখ্যা আমাদের অপেক্ষা বেশী নয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘মুশরিকদের সংখ্যা আমাদের নিকট এত অল্প মনে হলো যে, আমি আমার পাশ্ববর্তী একজনকে বললাম-এরা সত্তরজন হবে। ঐ লোকটি তখন বললোঃ না না,একশজন হবে। তাদের একজন লোক ধৃত হলে আমরা তাকে মুশরিকদের সংখ্যা জিজ্ঞেস করি। সে বলেঃ এক হাজার। অতঃপর যখন উভয় পক্ষ সারিবদ্ধভাবে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায় তখন মুসলমাদের মনে হয় যে, মুশরিকরা তাদের দ্বিগুণ হবে। এটা এ জন্যই যে, যেন তারা নিজেদের দুর্বলতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতঃ মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে, সমস্ত মনোযোগ তারই দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং তারই নিকট সাহায্যের জন্য প্রার্থনা জানায়। অনুরূপভাবে মুশরিকদের নিকটও মুসলমানদের সংখ্যা তাদের দ্বিগুণ অনুভূত হয়, যেন তাদের অন্তরে ভয় ও সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয় এবং তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। অতঃপর যখন যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে যায় তখন প্রত্যেক দলের দৃষ্টিতে নিজেদের তুলনায় অন্য দলের সংখ্যা কম পরিলক্ষিত হয় যেন উভয় দলই উদ্যমের সাথে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহ তাআলা সত্য ও মিথ্যার স্পষ্ট মীমাংসা করে দেন। যেন কুফর ও ঔদ্ধত্যের উপর ঈমানের বিজয় লাভ ঘটে এবং যেন মুসলমানেরা সম্মানিত হয় এবং কাফিরেরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ বদরের দিন তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা সে সময় দুর্বল ছিলে।' (৩:১২৩) এ জন্যেই এখানেও বলেছেন- “আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তদীয় সাহায্যদানে শক্তিশালী করে থাকেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “নিশ্চয়ই এর মধ্যে চক্ষুষ্মনদের জন্যে শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। অর্থাৎ যারা স্থির মস্তিষ্ক বিশিষ্ট তারা আল্লাহ তা'আলার আদেশ পালনে উঠেপড়ে লেগে যাবে এবং বুঝে নেবে যে, আল্লাহ পাক তাঁর মনোনীত বান্দাদেরকে এ ইহলৌকিক জগতেও সাহায্য করবেন এবং কিয়ামতের দিনও তাদেরকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি হতে রক্ষা করবেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।