আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 1)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 1)



হরকত ছাড়া:

الم ﴿١﴾




হরকত সহ:

الٓمَّٓ ۙ﴿۱﴾




উচ্চারণ: আলিফ লাম মীম।




আল বায়ান: আলিফ-লাম-মীম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. আলিফ-লাম-মীম(১),




তাইসীরুল ক্বুরআন: আলিফ-লাম-মীম।




আহসানুল বায়ান: (১) আলিফ লা-ম মী-ম।



মুজিবুর রহমান: আলিফ, লাম, মীম।



ফযলুর রহমান: আলিফ লাম মীম [পবিত্র কোরআনে কোন কোন সূরার শুরুতে শব্দসংক্ষেপের আদলে সন্নিবেশিত এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন হরফমালার প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না]।



মুহিউদ্দিন খান: আলিফ লাম মীম।



জহুরুল হক: আলিফ, লাম, মীম।



Sahih International: Alif, Lam, Meem.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১. আলিফ-লাম-মীম(১),


তাফসীর:

(১) এগুলোকে হুরূফে মুকাত্তা’আত বলে। যার আলোচনা সূরা বাকারার প্রথমে চলে গেছে।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১) আলিফ লা-ম মী-ম।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: সূরার নামকরণ ও ফযীলত:



ইমরান হলেন ঈসা (আঃ)-এর দাদা, মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) এর পিতা। অত্র সূরার ৩৫-৫০ নং আয়াতে ইমরান এর পরিবার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, বিধায় উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কিয়ামাতের দিন কুরআন ও যারা কুরআন অনুযায়ী আমল করত তাদেরকে নিয়ে আসা হবে। সূরা বাকারাহ ও সূরা আলি-ইমরান (তেলাওয়াতকারীদের) অগ্রে অগ্রে চলবে মেঘের ছায়া বা পাখির মত। এরা জোরালোভাবে আল্লাহ তা‘আলার কাছে সুপারিশ করবে। (সহীহ মুসলিম হা: ১৯১২) সূরা আলি-ইমরানের ফযীলত সূরা বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে।



শানে নুযূল:



ইবনু আবী হাতেম রবী‘ থেকে বর্ণনা করেন, একদা খ্রিস্টান সম্প্রদায় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে ঈসা (আঃ) সম্পর্কে ঝগড়া শুরু করল। তখন অত্র সূরার প্রথম থেকে ৮৩ নং আয়াত পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়।



অন্য বর্ণনায় আছে যে, নাজরানের অধিবাসীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে ঈসা বিন মারইয়াম সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে এ সূরার প্রথম থেকে ৮০ নং আয়াত পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়। (লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূল)



১-২ নং আয়াতের তাফসীর:



(ال۬مّ۬) আলিফ-লাম-মীম, এগুলো “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এর আসল উদ্দেশ্য বা অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



(الْحَیُّ الْقَیُّوْمُ)



“চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী” এ দু’টি বৈশিষ্ট্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য নির্দিষ্ট। যা কোন মাখলুকের জন্য প্রযোজ্য নয়। এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আয়াতুল কুরসীতে (সূরা বাকারার ১৫৫ নং আয়াতে) করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: এ সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এর প্রাথমিক তিরাশিটি আয়াত নাজরানের খ্রীষ্টানদের দূত সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়, যে দূত হিজরী নবম সনে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়। এর বিস্তারিত বিবরণ ‘মুবাহালা’র আয়াতের তাফসীরে ইনশাআল্লাহ অতিসত্বরই আসছে। এ সূরার ফযীলত সম্বন্ধে যে হাদীসসমূহ এসেছে ঐগুলো সূরা-ই-বাকারার তাফসীরের প্রারম্ভে বর্ণিত হয়েছে।

১-৪ নং আয়াতের তাফসীর:


পূর্বেই আয়াতুল কুরসীর তাফসীরের বর্ণনায় এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে যে, ইসম-ই-আযম এ আয়াতের মধ্যে ও আয়াতুল কুরসীর মধ্যে রয়েছে। (আরবী)-এর তাফসীর সূরা-ই-বাকারার প্রারম্ভে লিখা হয়েছে। সুতরাং এখানে আর পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। (আরবী)-এর তাফসীরও আয়াতুল কুরসীর তাফসীরে লিখা হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! আল্লাহ তাআলা তোমার উপর সত্যের সঙ্গে কুরআন মাজীদ অবতীর্ণ করেছেন, যার মধ্যে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। বরং নিশ্চয়ই ওটা আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে এসেছে, যা তিনি স্বীয় জ্ঞানের সাথে অবতীর্ণ করেছেন। ফেরেশতাগণ এর উপর সাক্ষী রয়েছেন এবং আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট। কুরআন মাজীদ তার পূর্বের সমস্ত আসমানী কিতাবের সত্যতা স্বীকারকারী এবং ঐ কিতাবগুলো, এ কুরআন কারীমের সত্যতার উপর দলীল স্বরূপ। কেননা, ঐগুলোর মধ্যে নবী (সঃ)-এর আগমন এবং এ কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার যে সংবাদ ছিল তা সত্যরূপে সাব্যস্ত হয়েছে। তিনিই হযরত মূসা ইবনে ইমরান (আঃ)-এর উপর তাওরাত এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)-এর উপর ইঞ্জীল অবতীর্ণ করেছিলেন। এ দু'টোও সে যুগীয় লোকদের জন্যে পথপ্রদর্শক ছিল।

তিনি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যা সত্য ও মিথ্যা, সুপথ ও ভ্রান্ত পথের মধ্যে পার্থক্য আনয়নকারী। ওর স্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলীলগুলো প্রত্যেকের জন্যে যথেষ্ট হয়ে থাকে। হযরত কাতাদাহ্ (রঃ) এবং হযরত রাবী’ ইবনে আনাস (রঃ) বর্ণনা করেন যে, এখানে ফুরকানের ভাবার্থ হচ্ছে কুরআন। যদিও এটা (আরবী) কিন্তু এর পূর্বে কুরআনের বর্ণনা হয়েছে বলে এখানে (আরবী) বলেছেন। হযরত আবু সালিহ (রঃ) হতে এও বর্ণিত আছে যে, ফুরকানের ভাবার্থ হচ্ছে ‘তাওরাত', কিন্তু এটা দুর্বল। কেননা, তাওরাতের বর্ণনা এর পূর্বে হয়েছে। কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসকারী এবং বাতিলপন্থীদের কঠিন শাস্তি হবে। আল্লাহ তা'আলা মহা পরাক্রমশালী ও বিরাট সাম্রাজ্যের অধিকারী। যারা মহা সম্মানিত নবী ও রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আল্লাহ তাআলা পূর্ণভাবে তাদের প্রতিশোধ গ্রহণকারী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।