আল কুরআন


সূরা আয-যুমার (আয়াত: 61)

সূরা আয-যুমার (আয়াত: 61)



হরকত ছাড়া:

وينجي الله الذين اتقوا بمفازتهم لا يمسهم السوء ولا هم يحزنون ﴿٦١﴾




হরকত সহ:

وَ یُنَجِّی اللّٰهُ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ ۫ لَا یَمَسُّهُمُ السُّوْٓءُ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ﴿۶۱﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইউনাজ্জিল্লা-হুল্লাযীনাত্তাকাও বিমাফা-যাতিহিম লা-ইয়ামাছছুহুমুছ ছূউ ওয়ালাহুম ইয়াহযানূন।




আল বায়ান: আর আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে তাদের সাফল্যসহ নাজাত দেবেন। কোন অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না। আর তারা চিন্তিতও হবে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬১. আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ; তাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আল্লাহ মুত্তাক্বীদেরকে রক্ষা করবেন তাদের সফলতার কারণে। কোন খারাবী তাদেরকে স্পর্শ করবে না, আর তারা দুঃখিতও হবে না।




আহসানুল বায়ান: (৬১) আল্লাহ সাবধানীদেরকে তাদের সাফল্য সহ উদ্ধার করবেন;[1] অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তারা দুঃখও পাবে না। [2]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ মুত্তাকীদের উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ; তাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করবেনা এবং তারা দুঃখও পাবেনা।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ মোত্তাকীদেরকে তাদের সাফল্যসহ নাজাত দেবেন। অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তাদের কোন দুঃখও থাকবে না।



মুহিউদ্দিন খান: আর যারা শিরক থেকে বেঁচে থাকত, আল্লাহ তাদেরকে সাফল্যের সাথে মুক্তি দেবেন, তাদেরকে অনিষ্ট স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।



জহুরুল হক: আর যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে তাদের আল্লাহ্ উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যময় স্থানসমূহে, মন্দ তাদের স্পর্শ করবে না, আর তারা দুঃখও করবে না।



Sahih International: And Allah will save those who feared Him by their attainment; no evil will touch them, nor will they grieve.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬১. আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ; তাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬১) আল্লাহ সাবধানীদেরকে তাদের সাফল্য সহ উদ্ধার করবেন;[1] অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তারা দুঃখও পাবে না। [2]


তাফসীর:

[1] مَفَازَةٌ শব্দটি হল ‘মাসদার মীমী’ (ক্রিয়ামূল)। অর্থাৎ, فَوْزٌ (সাফল্য) হল, অকল্যাণ থেকে বেঁচে যাওয়া এবং কল্যাণ ও সৌভাগ্য লাভ করা। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা আল্লাহভীরুদেরকে সেই সফলতা ও সৌভাগ্যের কারণে মুক্তি দেবেন, যা পূর্ব থেকেই তাঁর নিকটে তাদের জন্য সাব্যস্ত হয়ে আছে।

[2] তারা দুনিয়াতে যা কিছু ছেড়ে এসেছে, তার জন্য তাদের কোন দুঃখ হবে না। আর যেহেতু তারা কিয়ামতের ভয়াবহতা হতে সুরক্ষিত থাকবে, তাই তারা কোন ব্যাপারে চিন্তিত ও দুঃখিত হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬০-৬১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা এখানে দু শ্রেণির মানুষের কথা বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ কিয়ামতের মাঠে দু শ্রেণির লোক হবে। এক শ্রেণির লোকের মুখ হবে কালো আর এক শ্রেণির লোকের চেহারা হবে উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(يَّوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوْهٌ وَّتَسْوَدُّ وُجُوْهٌ)



“সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল এবং কিছু চেহারা হবে কালো।” (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১০৬)



যারা কাফির-মুশরিক তাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। আর যারা ঈমান এনেছে, কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছে তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল।



কালো হওয়ার কারণ, আযাবের ভয়াবহতা এবং আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধের প্রত্যক্ষ দর্শন। পক্ষান্তরে যাদের চেহারা উজ্জ্বল তারা মূলত আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ বান্দা এবং তারা দুনিয়াতে তাঁরই ইবাদত করত। যার ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সাফল্যসহ উদ্ধার করবেন। অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তারা দুঃখও পাবে না।



(بِمَفَازَتِهِمْ) অর্থাৎ অকল্যাণ থেকে বেঁচে যাওয়া এবং কল্যাণ ও সৌভাগ্য লাভ করা।



তাই কিয়ামতের মাঠে উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী হতে হলে আমাদেরকে সঠিক ঈমান ও সুন্নাতী তরীকায় আমল করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কিয়ামতের মাঠে দু’ শ্রেণির লোক হবে। এক শ্রেণি নাজাত পাবে, আরেক শ্রেণি বিপদগ্রস্ত হবে।

২. গর্ব-অহঙ্কার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নচেৎ জাহান্নামে যেতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬০-৬১ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, কিয়ামতের দিন দুই শ্রেণীর লোক হবে। এক শ্রেণীর লোকের মুখ হবে কালো, কালিমাযুক্ত এবং আর এক শ্রেণীর মুখ হবে উজ্জ্বল জ্যোতির্ময়। বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারীদের চেহারা হবে কালো ও মলিন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেহারা হবে উজ্জ্বল ও সৌন্দর্যময়। আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপনকারীদের এবং তার সন্তান সাব্যস্তকারীদেরকে দেখা যাবে যে, মিথ্যা ও অপবাদ আরোপের কারণে তাদের মুখ কালো হয়ে গেছে। সত্যকে অস্বীকার করার এবং অহংকার প্রদর্শনের কারণে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা বড়ই লাঞ্ছনার সাথে কঠিন ও জঘন্য শাস্তি ভোগ করবে।

হযরত আমর ইবনে শুআয়েব (রাঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে মানুষের রূপ পিপড়ার সাথে সাদৃশ্যযুক্ত (অতি ক্ষুদ্র) অবস্থায় একত্রিত করা হবে। ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম প্রাণীও তাদেরকে মাড়াতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে জাহান্নামের জেলখানায় বন্দী করে দেয়া হবে, সেটা এমন এক উপত্যকা যার নাম বুলাস। ওর আগুন হবে অত্যন্ত দগ্ধকারক ও যন্ত্রণাদায়ক। তাদেরকে জাহান্নামীদের ক্ষত স্থানের রক্ত-পুঁজ পান করানো হবে।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হ্যাঁ, তবে আল্লাহ তা'আলা মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ। তারা ঐ সব আযাব, লাঞ্ছনা এবং মারপিট হতে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা পেয়ে যাবে। তাদেরকে অমঙ্গল মোটেই স্পর্শ করবে না। কিয়ামতের দিন যে ভীতি-বিহ্বলতা ও দুঃখ-দুর্দশা সাধারণ হবে, তা থেকে এসব তোক সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে। তারা চিন্তা হতে নিশ্চিন্ত, ভয় হতে নির্ভয় এবং শাস্তি হতে শাস্তিমুক্ত থাকবে। তাদের প্রতি কোন প্রকারের শাসন-গর্জন ও ধমক থাকবে না। তারা সম্পূর্ণরূপে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। এভাবে তারা পরম সুখে কালাতিপাত করবে এবং মহান আল্লাহর সর্বপ্রকারের নিয়ামত ভোগ করতে থাকবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।