আল কুরআন


সূরা আয-যুমার (আয়াত: 11)

সূরা আয-যুমার (আয়াত: 11)



হরকত ছাড়া:

قل إني أمرت أن أعبد الله مخلصا له الدين ﴿١١﴾




হরকত সহ:

قُلْ اِنِّیْۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ اللّٰهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّیْنَ ﴿ۙ۱۱﴾




উচ্চারণ: কুল ইন্নীউমিরতুআন আ‘বুদাল্লা-হা মুখলিসাল্লাহুদ্দীন।




আল বায়ান: বল, ‘নিশ্চয় আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেন আল্লাহর ইবাদাত করি তাঁর-ই জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১. বলুন, আমি তো আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি, আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ‘ইবাদাত করতে;




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল- আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে আল্লাহর ‘ইবাদাত করতে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।




আহসানুল বায়ান: (১১) বল, ‘আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাঁর ইবাদত (দাসত্ব) করতে;



মুজিবুর রহমান: বলঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ইবাদাত করতে।



ফযলুর রহমান: বল, “আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন দ্বীনকে কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত করে তাঁর ইবাদত করি।



মুহিউদ্দিন খান: বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।



জহুরুল হক: বলো -- "নিঃসন্দেহ আমাকে আদেশ করা হয়েছে আমি যেন আল্লাহ্‌র উপাসনা করি তাঁর প্রতি ধর্মকে পূতপবিত্র করে,



Sahih International: Say, [O Muhammad], "Indeed, I have been commanded to worship Allah, [being] sincere to Him in religion.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১. বলুন, আমি তো আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি, আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ‘ইবাদাত করতে;


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১) বল, ‘আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাঁর ইবাদত (দাসত্ব) করতে;


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০-১২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে নির্দেশ প্রদান করছেন যে, তারা যেন আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করার মাধ্যমে এবং তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাঁকে যথাযথ ভয় করে। মনে রাখবে যারা এ দুনিয়াতে ভাল কাজ করে তাদের জন্য দুনিয়া ও পরকাল উভয় অবস্থাতেই রয়েছে কল্যাণ। পরকালে রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত আর দুনিয়াতে তারা আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত সুস্থতা, নিরাপত্তা, বিজয়, সাহায্য, গনিমত ইত্যাদি প্রাপ্ত হবে। কেননা সৎ কর্মের প্রতিদান ভালই হয়ে থাকে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(هَلْ جَزَا۬ءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ)‏



“উত্তম কাজের পুরস্কার উত্তম (জান্নাত) ব্যতীত আর কী হতে পারে?” (সূরা র্আ রহমান ৫৫ : ৬০)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আল্লাহ তা‘আলার পৃথিবী সঙ্কীর্ণ নয়, বরং তা প্রশস্ত। যদি আল্লাহ তা‘আলার দীন পালন করতে গিয়ে তোমরা কোথাও বাধাগ্রস্ত হও তাহলে সেখান থেকে হিজরত করে অন্যত্র চলে যাও, যেখানে গিয়ে তোমরা নিরাপদে আল্লাহ তা‘আলার দীন পালন করতে পারবে। যেখানে তোমাদেরকে ধর্ম পালনে কেউ কখনো বাধা দেবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ قَالُوْا فِيْمَ كُنْتُمْ ط قَالُوْا كُنَّا مُسْتَضْعَفِيْنَ فِي الْأَرْضِ ط قَالُوْآ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللّٰهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوْا فِيْهَا)



“যারা নিজেদের ওপর জুলুম করে, তাদের প্রাণ হরণের সময় ফেরেশতাগণ বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম।’



তারা বলে, ‘আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যেখানে তোমরা হিজরত করতে?’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৯৭)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْآ إِنَّ أَرْضِيْ وَاسِعَةٌ فَإِيَّايَ فَاعْبُدُوْنِ)‏



“হে আমার মু’মিন বান্দাগণ! নিশ্চয় আমার পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর।” (সূরা ‘আনকাবূত ২৯ : ৫৬)



সুতরাং পরবর্তীতে কোন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না যে, আমরা জমিনে ইবাদত করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। তাই যেখানে ইবাদত করতে বাধা আসবে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে হিজরত করতে হবে। তথাপি সঠিক ধর্ম ত্যাগ করা যাবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. সৎ কর্মের প্রতিদান ভাল-ই হয়ে থাকে।

২. ইবাদত করতে বাধা আসলে নিরাপদ স্থানে হিজরত করতে হবে।

৩. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০-১২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় মুমিন বান্দাদেরকে স্বীয় প্রতিপালকের আনুগত্যের উপর অটল ও স্থির থাকার এবং প্রতিটি কাজে ঐ পবিত্র সত্তার খেয়াল রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং বলছেন যে, যারা এই দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্যে আছে কল্যাণ। অর্থাৎ তাদের জন্যে ইহজগত ও পরজগত উভয় জায়গাতেই কল্যাণ রয়েছে।

এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। সুতরাং এক জায়গায় যদি স্থিরতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে সক্ষম না হও তবে অন্য জায়গায় চলে যাও। আল্লাহর অবাধ্যতার কাজ হতে বাঁচবার চেষ্টা কর। শিককে কোনক্রমেই স্বীকার করে নিয়ো না। ধৈর্যশীলদেরকে বিনা মাপে ও ওযনে এবং বিনা হিসাবে প্রতিদান প্রদান করা হয়। জান্নাত তাদেরই বাসস্থান।

মহান আল্লাহ্ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ তুমি বলে দাও আমাকে আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমাকে এটাও আদেশ করা হয়েছে যে, আমি যেন আত্মসমর্পণকারীদের অগ্রণী হই। অর্থাৎ আমি যেন আমার সমস্ত উম্মতের পূর্বে নিজেই আত্মসমর্পণকারী হই এবং আমার প্রতিপালকের অনুগত এবং তাঁর নির্দেশাবলী পালনকারী হই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।